শুবাচ-এর উপদেষ্টা আবুল কাসেম ফজলুল হক: মুক্ত মনের আদর্শ মানুষ

ড. মোহাম্মদ আমীন

শুবাচ-এর উপদেষ্টা আবুল কাসেম ফজলুল হক: মুক্ত মনের আদর্শ মানুষ

আজ ৩০ শে সেপ্টেম্বর। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন শুবাচের অন্যতম উপদেষ্টা খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক , লেখক, গবেষক, ইতিহাসবেত্তা, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক. রাষ্ট্রচিন্তাবিদ,

বাম থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‍উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন, শুবাচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মোহাম্মদ আমীন এবং শুবাচের অন্যতম উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সাহিত্য সংসদ (বাসাস)-এর সহসভাপিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

আবুল কাসেম ফজলুল হকের পিতা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মা জাহানারা খাতুন এবং স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তাঁর একমাত্র সন্তান ফয়সল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে অক্টোবর উগ্রবাদী দুর্বৃত্তরা দীপনকে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর প্রকাশনা অফিসে নির্মমভাবে হত্যা করে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বত্রিশটির অধিক গ্রন্থের লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হক নজরুল রচনাবলি সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতি ছিলেন। এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি সংগঠনটি ‘বাংলাদেশের মুক্তি ও উন্নতির কর্মনীতি আটাশ দফা’ শিরোনামের যে

বাম থেকে শুবাচের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ, শুবাচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মোহাম্মদ আমীন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং পুথিনিলয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল।

কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছিল তার রচয়িতা ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুলল হক। তিনি বাংলাদেশ সাহিত্য সংসদ (বাসাস)-এর প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি।

আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
শুবাচের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য নিবেদিত প্রাণ এক নির্ভীক আদর্শ মানুষ। তিনি দেশের  কৃষক, শ্রমিক, ধনী-গরিব, মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণ; এককথায় সর্বস্তরের বিবেকবান জনগণের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির অন্যতম হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক অতুলনীয় সুহৃদ। তাঁর রাজনীতিক সচেতনতায় রয়েছে সর্বজনীন মূল্যবোধের মানবিক দর্শন।আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চল্লিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাশপাশি কর্ম, লেখা ও কথায় জনগণের মাঝে সৎ চিন্তা উৎসরিত করা তাঁর জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই  তিনি মানুষের মধ্যে শুভবোধের জাগরণ কামনা করেন। তিনি জনগণকে শ্রদ্ধা করেন এবং কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হতে বিরত থাকেন এবং অনুরূপ করার জন্য আহ্বান জানান। করেন না। তিনি মনে করেন: যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক ধর্মপ্রাণ। তাই ধর্ম বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত করলে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে হয়, অশ্রদ্ধার ব্যক্তিতে পরিণত হতে হয়; ফলে সমাজ পরিবর্তনের কাজ হয় বিঘ্নিত হয়। এজন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণের বিশ্বাসকে মূল্যায়ন করে প্রগতির পথে অগ্রসর হওয়াকে কার্যকর উপায় মনে করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ: অনুবাদ, সম্পাদনা ও সাময়িকী 

  • মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২);
  • কালের যাত্রার ধ্বনি (১৯৭৩);
  • একুশে ফেব্রআরি আন্দোলন (১৯৭৬);
  • উনিশশতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য (১৯৭৯);
  • নৈতিকতা : শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি (১৯৮১) ;
  • যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা (১৯৮৪);
  • মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব (১৯৮৭);
  • মানুষ ও তার পরিবেশ (১৯৮৮);
  • রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৯);
  • বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য (১৯৮৯);
  • আশা-আকাক্সক্ষার সমর্থনে (১৯৯৩);
  • সাহিত্যচিন্তা (১৯৯৫);
  • বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা(১৯৯৭);
  • অবক্ষয় ও উত্তরণ (১৯৯৮);
  • রাজনীতি ও সংস্কৃতি : সম্ভাবনার নবদিগণ্ত (২০০২);
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে (২০০২);
  • সংস্কৃতির সহজ কথা (২০০২);
  • আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা(২০০৪);
  • মানুষের স্বরূপ (২০০৭);
  • রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ (২০০৮);
  • প্রাচুর্যে রিক্ততা (২০১০);
  • শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ (২০১১)।
  • বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : রাজনৈতিক আদর্শ (১৯৭২); (অনুবাদ)
  • বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : নবযুগের প্রত্যাশায় (১৯৮৯); (অনুবাদ)
  • ইতিহাসের আলোকে বাঙলাদেশের সংস্কৃতি (১৯৭৮); (সম্পাদনা)
  • স্বদেশচিন্তা (১৯৮৫); (সম্পাদনা)
  • বঙ্কিমচন্দ্র : সার্ধশত জন্মবর্শে (১৯৮৯); (সম্পাদনা)
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রণীত : সাম্য (২০০০); (সম্পাদনা)
  • মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী : মানবমুকুট (২০০০); (সম্পাদনা)
  • এস ওয়াজেদ আলি প্রণীত : ভবিষ্যতের বাঙালি(২০০০); (সম্পাদনা)
  • আকবরের রাষ্ট্রসাধনা (২০০২); (সম্পাদনা)
  • সুন্দরম (১৯৬২-৬৩); (সম্পাদিত সাময়িকপত্র)
  • লোকায়ত (১৯৮২ অদ্যাবধি); (সম্পাদিত সাময়িকপত্র)।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!