শুবাচ-জিজ্ঞাসা: শুবাচ সাধারণ জ্ঞান: কোনটি সঠিক কোনটি ভুল: জানতে চাই

ড. মোহাম্মদ আমীন

শুবাচ-জিজ্ঞাসা: শুবাচ সাধারণ জ্ঞান: কোনটি সঠিক কোনটি ভুল: জানতে চাই

বাংলা ভাষা আান্দোলনের পথিকৃৎ
উত্তর: ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর রসিককৃষ্ণ মল্লিক (১৮১০-১৮৫৮) বাংলা ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ। ভারতে আধুনিকতার পথিকৃৎ ডিরোজিওর ভাব শিষ্য রসিককৃষ্ণ মল্লিক ছিলেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারমুক্ত একজন উদার মনের মানুষ। দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি তার মত দরদ সেকালে আর কারও ছিল না। তিনি আদালতে ফারসি ভাষার পরিবর্তে বাংলা ভাষা প্রচলনের আন্দোলন শুরু করেন। তার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে ফারসির পরিবর্তে আদালতের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ হিসেবে তিনি বাংলাভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ।
 
যে কবিতায়  বঙ্গদেশে বসবাসকারী কিন্তু বাংলা ভাষা অবহেলাকারীদের জারজ বলা হয়েছে
মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি আবদুল হাকিম ( ১৬২০ – ১৬৯০) ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় বঙ্গদেশে বসবাস করে বাংলা ভাষা অবহেলাকারীদের জারজ বলে গালি দিয়েছেন।
বঙ্গবাণী
আবদুল হাকিম
কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে মনে হবিলাষ॥
তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন॥
আরবি ফারসি শাস্ত্রে নাই কোন রাগ।
দেশী ভাষা বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ॥
আরবি ফারসি হিন্দে নাই দুই মত।
যদি বা লিখয়ে আল্লা নবীর ছিফত॥
যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ।
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন॥
সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা হিন্দুয়ানী।
বঙ্গদেশী বাক্য কিবা যত ইতি বাণী॥
মারফত ভেদে যার নাহিক গমন।
হিন্দুর অক্ষর হিংসে সে সবের গণ॥
যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি॥
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি॥
 
 বাংলাদেশে বাস করে বাংলাভাষা অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে রচিত প্রথম কবিতা ‘বঙ্গবাণী’। এর লেখক; মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি আবদুল হাকিম ( ১৬২০ – ১৬৯০) ।
 
সাধারণ জ্ঞান: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
১. তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয় গঠিত হয় ৪ ডিসেম্বর ২০১১।
২. বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু হয়: ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে।
৩. বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে।
৪. বাংলাদেশে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বনানীতে প্রথম সাইবার ক্যাফে চালু হয়।
৫. ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম খরচে ফোন করার প্রযুক্তির নাম – ভিওআইপি।
৬. বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন কোম্পানির নাম কি- সিটিসেল, ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।
৭. বিশ্বের প্রথম ডাক টিকেট চালু হয় ব্রিটেনে।
৮. ভারতবর্ষে ডাক টিকেট চালু হয় ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে।
৯. বাংলাদেশে প্রথম ডাক টিকেট চালু হয়- ২০ জুলাই, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।
১০. বাংলাদেশে প্রথম ই-পোস্ট সার্ভিস চালু হয়- ১৬ আগস্ট, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
১১. বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিসের নাম – ইজি-পোস্ট।
১২. বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু হয়- ৪ জানুয়ারি, ১৯৯০।
 
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল
উত্তর: উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জ্ঞানতাপস, সাবেক এমএনএ এবং বিকেবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও একুশে পদক বিজয়ী সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ। ইবরাহীম খাঁ টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সাদত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা এবং সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
বানান ভুলের পরিসংখ্যান
বাংলা বানানে ভুল করেন না এমন বাঙালি খুব কম আছেন। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যে ৯৬.৫৪ ভাগ বাঙালি বাংলা বানানে প্রচুর ভুল করেন।  বাংলা বানান শুদ্ধ করার দুটি কৌশল দিলাম:
১. কোন বিদেশি শব্দে ঈ-কার হবে না, হ্রস্ব-ই কার হবে। যেমন: জাপানি, সরকারি, আরবি, চিন (চীন নয়)।
২. কোন বিদেশে শব্দে মূর্ধণ্য-ষ হবে না, দন্ত্য-স হবে। যেমন: ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যারিস্টার, স্কুল ইত্যাদি।
এ দুটি নিয়ম মেনে চললে বাংলা বানানের ভুল ৫০ শতাংশ কমে যাবে।
 
বাংলা সাহিত্যের পাঁচু ঠাকুর’ বা পঞ্চানন্দ; বাঙালার জীবন ও সাহিত্যাকাশে ‘হেলির ধূমকেতু’
মুন্সেফ ও সাহিত্যিক ইন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় (১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দ -১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে পাঁচু-ঠাকুর’ বা পঞ্চানন্দ নামে খ্যাত। বঙ্কিমচন্দ্র ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে বাংলার জীবন ও সাহিত্যাকাশে ‘হেলির ধূমকেতু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
 
বাংলা সাহিত্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পৃথিবীর আদিকবি: রামায়ণ রচয়িতা মহর্ষি বাল্মিকি পৃথিবীর আদিকবি। রামায়ণে ২৪ হাজার শ্লোক ও ৫ শত অধ্যায় রয়েছে। ‘রামায়ণ’ই পৃথিবীর একমাত্র প্রথম গ্রন্থ যা সাধারণ একটি কাব্যগ্রন্থ হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের প্রথম বঅনুবাদক – ভাই গিরিশচন্দ্র সেন অনুবাদকাল – ১৮৮১-১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ।
বাংলা ভাষার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম বাংলা গদ্য লেখক – শামসুদ্দিন মুহম্মদ সিদ্দিকী।
বাংলা ভাষার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম বাংলা গদ্য লেখিকা -বিবি তাহেরন নেছা।
বাংলা ভাষার ইতিহাসে বাংলা দৈনিকের প্রথম মহিলা সাংবাদিক – লায়লা সামাদ।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক নাট্যকার -মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
বাংলাভাষায় প্রথম সনেট রচয়িতা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান নাট্যকার – মীর মোশাররফ হোসেন।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীত কবি -বিহারীলাল চক্রবর্তী।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতি চিহ্ন ব্যবহারকারী – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম চলিত রীতি ব্যবহারকারী – প্রমথ চৌধুরী।
 
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী হল আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় সর্বত্র স্বীকৃত বর্ষপঞ্জী।এটি পাশ্চাত্য বর্ষপঞ্জী ও খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জী হিসেবেও পরিচিত। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রোগোরির এক আদেশানুসারে এই বর্ষপঞ্জীর প্রচলন ঘটে। সেই বছর কয়েকটি রোমান ক্যাথলিক দেশ গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য দেশসমূহেও এটি গৃহীত হয়।
 
পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি কর্তৃক বর্ষপঞ্জী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ছিল কারণ পূর্ববর্তী জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর গণনা অনুসারে একটি মহাবিষুব থেকে আরেকটি মহাবিষুব পর্যন্ত সময়কাল ধরা হয়েছিল ৩৬৫.২৫ দিন, যা প্রকৃত সময়কাল থেকে প্রায় ১১ মিনিট কম। এ ১১ মিনিটের পার্থক্যের ফলে প্রতি ৪০০ বছর অন্তর মূল ঋতু থেকে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর প্রায় তিন দিনের ব্যবধান ঘটত। পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির সময়ে এই ব্যবধান ক্রমশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১০ দিনের। এর ফলস্বরূপ মহাবিষুব ২১ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চ পড়েছিল। যেহেতু খ্রিস্টীয় উৎসব ইস্টারের দিন নির্ণয়ের সাথে মহাবিষুব জড়িত সেহেতু মহাবিষুবের সাথে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর এই ব্যবধান রোমান ক্যাথলিক গির্জার কাছে অনভিপ্রেত ছিল।
গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জীর সংস্কার দু’টি ভাগে বিভক্ত ছিল: পূর্ববর্তী জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর সংস্কার এবং ইস্টারের তারিখ নির্ণয়ের জন্য গির্জায় ব্যবহৃত চান্দ্র পঞ্জিকার সংস্কার। জনৈক চিকিৎসক অ্যালয়সিয়াস লিলিয়াস কর্তৃক দেয় প্রস্তাবের সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে এই সংস্কার চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হয়। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জী একাধারে সৌর পঞ্জিকা ও গাণিতিক বর্ষ পঞ্জিকা। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জীকাতে ১২টি মাস রয়েছে।
 
ইহুদি বনাম ইসলাম
এ পর্যন্ত ৮৫৫ জন লোক বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে। তম্মধ্যে ১৯৩ জন ইহুদি। যা মোট নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর ২২.৬ ভাগ ইহুদি। অথচ ইহুদির সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.২ ভাগেরও কম। অর্থাৎ প্রতি ৫০০ জন ইহুদির একজন নোবেল বিজয়ী। নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী ইহুদির মধ্যে ৪০ ভাগ অর্থশাস্ত্রে, ২৮ ভাগ চিকিৎসা শাস্ত্রে, ২৬ ভাগ পদার্থ বিদ্যায়, ১৯ ভাগ রসায়ান শাস্ত্রে, ১৩ ভাগ সাহিত্যে এবং ৯ ভাগ শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। প্রথম নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী প্রথম ইহুদি এডলফ ভন ব্যায়ের। তিনি ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
 
মুসলমানদের মধ্যে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীর সংখ্যা ১০। যা মোট নোবেল পুরষ্কার বিজয়রী মাত্র ১.০ ভাগ। অথচ সারা বিশ্বে মোট মুসলমানের সংখ্যা ১৪০ কোটি। যা মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগ। মুসলমানদের মধ্যে ৬ জন শান্তিতে, ২ জন সাহিত্যে, ১জন পদার্থ বিদ্যায়, ১জন রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনজন মুসলিম এককভাবে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। তারা হলেন: সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী নাগিব মাহফুজ ও ওরহান পামুক এবং রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী মিশরীয়-মার্কিন বিজ্ঞানী আহমেদ জেবিল।
 
বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্র ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধি। ইসরাইলের আয়তন ২০,৭৭০ (১৫৩) বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৮০,৫১,২০০ (৯৬-তম) কিন্তু ইসরাইলকে ঘিরে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের মোট জনসংখ্যা ২২৩,৬০৮,২০৩ বর্গ কিলোমিটার। বিশ্ব বিবেচনায় ১.৪ কোটি ইহুদির কাছে ১৪০ কোটি মুসলিম হাতের পুতুলের মত অসহায় এবং মধ্যপ্রাচ্য বিবেচনায় ২২.৪ কোটি মুসলমান ১.৪ কোটি মুসলমানের কাছে অসহায়। হিসাব করে দেখুন: ১জন ইহুদি সমান কতজন মুসলমান।
 
সম্রট বাহাদুর শাহ জাফর (অক্টোবর ২৪, ১৭৭৫ – নভেম্বর ৭, ১৮৬২)
মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফর বা ২য় বাহাদুর শাহ্ ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর দিল্লির লালকেল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম আবুল মুজাফ্ফার সিরাজুদ্দীন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ গাজী। তিনি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ (১৮০৬-৩৭ খ্রি:) ও সম্রাজ্ঞী লাল বাঈর দ্বিতীয় পুত্র। তার ঊর্ধ্বতন বংশ তালিকা বিশতম স্তরে গিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন মুহাম্মদ বাবুরের সাথে মিলেছে।পিতার মৃত্যুর পর বাহাদুর শাহ (দ্বিতীয়) ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে পিতামহ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৫৯-১৮০৬ খ্রি:) এবং পিতা সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ উভয়ের মতো দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পেনশনভোগী ছিলেন। তিনি বার্ষিক ১ লাখ টাকা ভাতা পেতেন।
 
বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহিদের বিপ্লব তথা ভারতবর্ষের প্রথম সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন¬ এ সংবাদে কানপুর, লখনৌ, বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ববাংলার সর্বত্র সিপাহিরা গর্জে ওঠে ‘খালক-ই খুদা, মুলক ই বাদশাহ, হুকুম ই সিপাহি।’ অর্থাৎ আল্লাহর দুনিয়া, বাদশার রাজ্য, সিপাহির হুকুম। একের পর সেনাছাউনিতে বিদ্রোহ হতে থাকে। ইংরেজরা অতি নির্মমভাবে বিদ্রোহ দমন করে। হাজার হাজার স্বাধীনতাকামীর রক্তে রঞ্জিত হয় ভারতবর্ষের মাটি। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষও বিক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু ভারতীয়দের এই সংগ্রাম সফল হতে পারেনি। ইংরেজরা দিল্লি দখল করে নেয় এবং সম্রাট ২১ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা মীর্জা মোগল, মীর্জা খিজির সুলতান, মীর্জা আবু বকরসহ ২৯ জন মুঘল শাহজাদাসহ বহু আমির ওমরাহ, সেনাপতি ও সৈন্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সম্রাটকে বিচারের নামে প্রহসনের আদালতে দাঁড় করানো হয়। হাজির করা হয় বানোয়াট সাক্ষী। বিচারকরা রায় দেন, দিল্লির সাবেক সম্রাট ১০ মে থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংগঠনের দায়ে অপরাধী। তার শাস্তি চরম অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কিন্তু তার বার্ধক্যের কথা বিবেচনা করে প্রাণ দণ্ডাদেশ না নিয়ে নির্বাসনে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
 
সিপাহী বিপ্লবের শেষে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ৭ অক্টোবর ৮৩ বছরের বৃদ্ধ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, সম্রাজ্ঞী জিনাত মহল, দুই শাহজাদা, শাহজাদী এবং অন্য আত্মীয় ও ভৃত্যদের নিয়ে ইংরেজ গোলন্দাজ ও অশ্বারোহী বাহিনী দিল্লি ত্যাগ করে। ৯ ডিসেম্বর জাহাজ রেঙ্গুনে পৌঁছে। ব্রিটিশ বাহিনীর ক্যাপ্টেন নেলসন ডেভিসের বাসভবনের ছোট গ্যারেজে সম্রাট ও তার পরিবার-পরিজনের বন্দিজীবন শুরু হয়। সম্রাটকে শুতে দেয়া হয় একটা পাটের দড়ির খাটিয়ায়। সম্রাট পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হলেন। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দের ৭ নভেম্বর, শুক্রবার ভোর ৫টায় সম্রাট রেঙ্গুনে মৃত্যুবরণ করেন।সম্রাটকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দাফন করা হয়।
 
ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মায়ানমার সফরে গিয়ে বাহাদুর শাহর সমাধি সৌধ পরিদর্শন করেন।সে সময় তিনি পরিদর্শক বইতে লিখেছিলেন, “দু গজ জমিন তো না মিলি হিন্দুস্তান মে , পার তেরী কোরবানী সে উঠি আজাদী কি আওয়াজ, বদনসীব তো নাহি জাফর, জুড়া হ্যায় তেরা নাম ভারত শান আউর শওকত মে, আজাদী কি পয়গাম সে”।যার বাংলা অনুবাদ;”হিন্দুস্তানে তুমি দু গজ মাটি পাওনি সত্য।তবে তোমার আত্মত্যাগ থেকেই আমাদের স্বাধীনতার আওয়াজ উঠেছিল। দুর্ভাগ্য তোমার নয় জাফর, স্বাধীনতার বার্তার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষের সুনাম ও গৌরবের সঙ্গে তোমার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে”
 
 
প্র শ্ন : সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী Mario Vargas Llosa (মারিও বার্গাস ইয়োসা) কত খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন”
a. 2010
b. 2013
c. 2011
d. 2012
 
ভেক্সিলিলোজি
পতাকাবিষয়ক অধ্যয়নকে ভেক্সিলিলোজি (vexillology) বা পতাকাবিদ্যা বলা হয়। লাতিন ভাষায় ভেক্সিলাম (vexillum) অর্থ পতাকা। ইংরেজি ভাষায় এটাকে বলা হয় ফ্ল্যাগ।
 
 
 
 
 
 
আরও জানার জন্য ক্লিক করুন:
এই পোস্টের সংযোগ
https://draminbd.com/শুবাচ-জিজ্ঞাসা-শুবাচ-সাধ/
error: Content is protected !!