শুবাচ বাংলা বিসিএস প্রিলিমিনারি, বিসিএস বাংলা

ড. মোহাম্মদ আমীন

শুবাচ বাংলা বিসিএস প্রিলিমিনারি, বিসিএস বাংলা

সংযোগ:  https://draminbd.com/শুবাচ-বাংলা-বিসিএস-প্রিল/ ‎

১০. ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ?
ক. মীর মশাররফ হোসেন। খ. মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজুদ্দীন আহমদ।
গ. মোজাম্মেল হক। ঘ. রেয়াজুদ্দীন আহমদ মাশহাদী।
উত্তর: গ. মোজাম্মেল হক।
মোসলেম ভারত মাসিক সাহিত্য সাময়িকী। এটি ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নাম মুদ্রিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন তাঁর পুত্র এবং নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক। পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল-মে, ১৯২০) এবং সর্বশেষ সংখ্যা ১৩২৮ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি, ১৯২১-২২) প্রকাশিত হয়। কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এর চতুর্থ সংখ্যায় তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘খেয়াপারের তরণী’ মুদ্রিত হয়। নজরুলের মোট ৪০টি লেখা মোসলেম ভারতে প্রকাশিত হয়।

৮.  সওগাত পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। খ. আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
গ. কাজী আব্দুল ওদুদ। ঘ. সিকান্দার আবু জাফর।
উত্তর: ক. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর/ডিসেম্বরে (১৩২৫ বঙ্গাব্দ, অগ্রহায়ণ) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে সওগাত প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল (১৩২৭ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত এটি চালু ছিল। এরপর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় প্রকাশ হয়। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পত্রিকা নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৫০ এর পর তিন বছর প্রকাশিত হয়নি। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে ঢাকা থেকে পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে।
কাজী নজরুল ইসলাম করাচিতে সৈনিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সওগাতে প্রথম লেখা হিসেবে বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী নামে ছোটগল্প পাঠান। যা ১৩২৬ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশ হয়। তাঁর লেখা মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস সওগাতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। সওগাতের অন্যান্য লেখকদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল ফজল, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

৭. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
ক. প্যারীচাঁদ মিত্র। খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঘ. প্রমথ চৌধুরী
উত্তর: খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই এপ্রিল মোতাবেক ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ থেকে ১২৮২ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস অবধি এর সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১২৮৩ বঙ্গাব্দে এর প্রকাশ স্থগিত থাকে। ১২৮৪ বঙ্গাব্দ থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হয়। শ্রীশচন্দ্র মজুমদার ১২৯০ বঙ্গাব্দের কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত ৪টি সংখ্যার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় পত্রিকাটি ১৩০৮ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩১২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৫ বৎসর প্রকাশিত হয়।

৬. সাপ্তাহিক ‘সুধাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন ?
ক. মুন্সি মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন আহমদ। খ. মুন্সি মোহাম্মদ মেহের উল্লা
গ. শেখ আব্দুর রহিম। ঘ. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর: গ. শেখ আব্দুর রহিম।
সুধাকর কলকাতা থেকে ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই নভেম্বর (১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৩ কার্তিক) প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। রেয়াজুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ ও শেখ আবদুর রহিমের প্রচেষ্টায় এটি প্রকাশিত হয়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম (মতান্তরে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ)। এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়। ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

৫. কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাতি পত্রিকা কোনটি ?
ক. মাহে নও। খ. সওগাত।
গ. ধূমকেতু। ঘ. কালি-কলম।
উত্তর: গ. ধূমকেতু।
ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ই আগস্ট ১৯২২) প্রথম প্রকাশিত হয় । প্রথম সংখ্যায় নজরুলের ‘ধূমকেতু’ কবিতা প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো। পত্রিকায় বিপ্লবী বক্তব্য প্রচারের কারণে নজরুল রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে জানুয়ারি এক বছরের জন্য দণ্ডিত হন। এর পর ২৭শে জানুয়ারি সংখ্যাটি ‘নজরুল সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিনের জন্য বন্ধ থেকে বীরেন সেনগুপ্ত ও অমরেশ কাঞ্জিলালের সম্পাদনায় পুনরায় প্রকাশিত হয়। তবে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

৪. বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি ?
ক. দিগ্‌দর্শন। খ. সংবাদ প্রভাকর।
গ. তত্ত্ববোধিনী। ঘ. বঙ্গদর্শন।
উত্তর: ক. দিগ্‌দর্শন।
দিগ্‌দর্শন বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক (মাসিক) পত্রিকা। শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রকাশিত এবং বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান-এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত এই মাসিক পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়। ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর দিগ্‌দর্শন বন্ধ হয়ে যায়।

৩. বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান সবচেয়ে বেশি?
ক. কল্লোল। খ. সবুজপত্র।
গ. বঙ্গদর্শন। ঘ. সবুজ পত্র।
উত্তর : ঘ. সবুজ পত্র।
সবুজ পত্র একটি মাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশিত বৈশাখ ১৩২১ (১৯১৪ খ্রি.)। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী। কোলকাতার ৩ নং হেস্টিংস স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত হতো। বার্ষিক মূল্য ছিলো দুই টাকা ছয় আনা। মনে রাখবেন পত্রিকাটির নাম ছিল ‘সবুজ পত্র‘, ‘সবুজপত্র’ নয়। পত্রিকাটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে) বন্ধ হয়ে যায়।

২. ‘পূর্ব্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক. মুন্সী মেহেরুল্লা। খ. সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
গ. কামিনী রায়। ঘ. মোজাম্মেল হক।
উত্তর: খ. সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য ১৯৩০ এর দশকে তাঁর জন্মস্থান কুমিল্লা থেকে এ পত্রিকা প্রকাশ করতেন। কিছু সময় পর বুদ্ধদেব বসুর অনুরোধে কলকাতা থেকে প্রকাশ শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ তৎকালীন বিখ্যাত কবিসাহিত্যিকগণের লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। পূর্ব্বাশা নামটি ঋগ্‌বেদ-এর একটি সূক্ত থেকে গ্রহণ করা হয়। এর অর্থ পূর্ব দিক। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই পত্রিকা চালু ছিল।

১. ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন ?
ক. অক্ষয়কুমার দত্ত। খ. প্যারীচাঁদ মিত্র।
গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
উত্তর: ক. অক্ষয়কুমার দত্ত।
তত্ত্ববোধিনী ছিল ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই আগস্ট (১লা ভাদ্র, ১৭৬৫ শক) অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, বিসিএস বাংলা।

 

error: Content is protected !!