শ্রদ্ধাস্পদা অশুদ্ধ কেন; পুংলিঙ্গে স্নেহবরেষু, স্ত্রীলিঙ্গে স্নেহবরাসু কেন

ড. মোহাম্মদ আমীন

শ্রদ্ধাস্পদা অশুদ্ধ কেন; পুংলিঙ্গে স্নেহবরেষু, স্ত্রীলিঙ্গে স্নেহবরাসু কেন

পুংলিঙ্গে স্নেহবরেষু, স্ত্রীলিঙ্গে স্নেহবরাসু কেন?

সুচরিত (সু+চরিত) অর্থ (বিশেষ্যে) উত্তম চরিত্র; (বিশেষণে) উত্তম চরত্রিবিশিষ্ট; স্ত্রীলিঙ্গে সুচরিতা। সুচরিতেষু (সুচরিত+এষু) অর্থ সুচরিত বা শ্রদ্ধাভাজনকে লিখিত পত্রের সম্বোধনসূচক পাঠ; স্ত্রীলিঙ্গে সুচরিতাসু। সুচরিত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ সুচরিতা। সুচরিতা শব্দের সঙ্গে ‘সু’ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে‘সুচরিতাসু’।
পুরুষে এষু, স্ত্রীবাচকে আসু কেন?
 
ব্যাকরণ বিধিমতে, সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর ষু হয়। যেমন: কল্যাণবরেষু, কল্যাণীয়েষু, প্রীতিভাজনেষু, প্রিয়বরেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহবরেষু, সুচরিতেষু, সুহৃদবরেষু, কল্যাণীয়বরেষু, প্রিয়ভাজনেষু শ্রদ্ধাভাজনেষু, বন্ধুবরেষু, শ্রীচরণেষু, সুজনেষু, স্নেহাস্পদেষু।
অন্যদিকে, সম্ভাষণসূচক স্ত্রীবাচক শব্দে আ-কারের পর সু হয়। যেমন: কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, সুপ্রিয়াসু, স্নেহবরাসু প্রভৃতি।
 
নিমোনিক: পুরুষ শব্দে মূর্ধন্য-ষ আছে কিন্তু আ-কার নেই। তাই পুরুষকে সম্বোধন করতে হলে মূর্ধন্য-ষ দিয়ে -ষু হয়। যেমন: সুচরিতেষু, কল্যাণীয়েষু। স্ত্রী/মহিলায় মূর্ধন্য-ষ নেই কিন্তু স/ আ-কার আছে। তাই মহিলাকে সম্বোধন করতে আ-কারসহ -সু লিখতে হয়। যেমন: সুচরিতাসু, কল্যাণীয়াসু, স্নেহবরাসু, শ্রদ্ধাভাজনাসু প্রভৃতি।
 
 

‘শ্রদ্ধাস্পদা’ শব্দটি অশুদ্ধ কেন?

পুংলিঙ্গে কল্যাণীয়েষু, প্রিয়তমেষু, মাননীয়েষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, প্রিয়বরেষু, বন্ধুবরেষু হয় এবং স্ত্রীলিঙ্গে হয়: কল্যাণীয়াসু, প্রিয়তমাসু, মাননীয়াসু, শ্রদ্ধাভাজনাসু হয়। কিন্তু পদ [চরণ] শব্দটি ক্লীবলিঙ্গ।‘শ্রদ্ধাস্পদ’ [শ্রদ্ধা + আ + পদ] শব্দটি চরণকে বোঝায় বলে তা ক্লীবলিঙ্গ। তার স্ত্রীলিঙ্গ হয় না। তাই ‘শ্রদ্ধাস্পদা’ শব্দটি অশুদ্ধ।
 
———————————————–
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।
error: Content is protected !!