শ্রীমতীর পরকীয়া: এক মলাটে শ্রীমতীর পরকীয়া উপন্যাস

 

শ্রীমতীর পরকীয়া

শ্রীমতীর পরকীয়া: এক মলাটে শ্রীমতীর পরকীয়া উপন্যাস

শ্রীমতীর পরকীয়া: https://draminbd.com/শ্রীমতীর-পরকীয়া-এক-মলাটে/

ড. মোহাম্মদ আমীন

ড. মোহাম্মদ আমীন

শ্রীমতীর পরকীয়া:  প্রথম পর্ব

গাড়ি থামাও।

শ্রীমতীর কথা কানে যাওয়া মাত্র নজরুল গাড়ি থামানোর প্রস্তুতিপর্ব শুরু করে দিল। মাথা থেকে পাছা এবং পাছা থেকে পা অবধি মেয়র নির্বাচনের পোস্টারে পোস্টারে সারা শহর সয়লাব। মিছিল নয়, মাইকের চিৎকার আর প্রার্থীদের সপক্ষে নানা রকম পর্নগানে নিরীহ মানুষের বেখসুর কান জাম্বো জেটের ইঞ্জিন।
চলমান গাড়িকে হঠাৎ থামানো যায় না। নজরুল ব্রেকে চাপ দিল ধীরে এমন ধীরে যে, টেরই পাওয়া গেল না গাড়ি থেমে গেছে কখন। নজরুলের পরের কাজ কোনো সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গাড়িটি দাঁড় করানো। অবিশ্বাস্য রকমের ভালো ড্রাইভার সে; বিশ্বস্তও। তার মুখ আছে কথা নেই। চোখ আছে দৃষ্টি নেই। কান আছে, শোনার শক্তি নেই অন্তত যতক্ষণ গাড়িতে থাকে।
সবচেয়ে বড়ো কথা গাড়ি থেকে নামলে সে গাড়ির সব কথা ভুলে যায়। এটা নাকি তার শপুথে অভ্যেসের সুফল। তাই তাকে কোনো কিছু বললে গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে বলতে হয়। নইলে ভুলে যায়।
অ্যানি প্রবলেম? রিদওয়ান প্রশ্ন করল শ্রীমতীকে।
না।
তবে, গাড়ি থামাতে বললে যে?
একজন পরিচিত লোক দেখলাম বলে মনে হলো। তিনি এদিকেই আসছিলেন। কাছে আসুক। চলো গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াই।
দুজন গাড়ি থেকে নেমে পাশের ভবনের ছায়ায় দাঁড়াল।
কাকে দেখলে?
“আমার এক পরিচিত লোক।” শ্রীমতী বলল, “ঠিক পরিচিত বললে ভুল হবে, পরিচিতের অধিক এবং ঘনিষ্ঠের একটু নিম্নে। তুমি তো জানো, বাংলা একাডেমির হালনাগাদ অভিধানে নিচে শব্দটা নেই, জামিল চৌধুরী নিচে শব্দটাকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। 
তুমি তাঁকে চিন?
চিনব না মানে?  জনাব সামশুজ্জামান খানের বন্ধু, পদার্থবিদ। আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার বলেন, পদার্থবিদকে দিয়ে অভিধান করলে অভিধান হয় না, অবিধান হয়। যেমন, বৈয়াকরণ দিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান করলে সব পদার্থ বানান হয়ে যায়। 
পরিচিত আর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাঝামাঝি লোকটা কে? রিদওয়ান বাংলা একাডেমি বাদ দিয়ে গাড়িতে ফিরে এল।
“গ্রামীণ বন্ধু”, শ্রীমতী বলল, “তবে বাল্যবন্ধু নয়, সিনিয়র। ছেলেমেয়ে পরস্পর বন্ধু হতে পারে না। খাদ্য আর খাদকে কীসের বন্ধুত্ব? আমার শিক্ষকও ছিলেন কিছু দিন।
কলেজ শিক্ষক?
না।
তবে?
বাবার অনুরোধে বাসায় এসে পড়িয়ে যেতেন। খুব আসক্ত ছিলেন আমার প্রতি। ছোঁয়ার জন্য এডিশ মশার মতো বিবেচনাহীন হয়ে যেতেন। বেশ হ্যান্ডসাম। দুষ্টও ছিল সাংঘাতিক। কলম-খাতা নেওয়ার ছলে হাত ছুঁইয়ে দিতেন। মনে করতেন, আমাকেই ছুঁয়ে দিতে পারলেন। নারীকে ছোঁয়া এত সহজ নয়। শালা! স্পর্শের রকমফের আমি বুঝতাম। নারীকে ছুঁতে পারা মানে নারীর হৃদয় ছুঁতে পারা, শরীর ছোঁয়া নয়। শরীর ধর্ষকেরাও ছোঁয়, ডোমরাও ছোঁয়। হৃদয় ছুঁতে পারলেই তবে নারীকে ছোঁয়া হয়। শরীর তো ধর্ষক আরো বেশি করে ছোঁয়, তাই না?
তুমি কিছু বলতে না? রিদওয়ান প্রশ্ন করল।
মাথা খারাপ!
কেন?
বুঝেও না-বোঝার ভান করতাম। লোভীদের অসহায়ত্ব আমার ভালোই লাগত উপভোগ করতে বলতে পার, আমি নিষ্ঠুর। মা-বাবা বলেন স্যাডিস্ট। পুরুষদের ক্ষেত্রে একটু বেশি।
তারপর?
তিনি মনে করতেন আমি কিছু টের পাচ্ছি না। দুধের শিশু। আরে বাবা আজকালকার ছেলেমেয়েরা মায়ের পেট থেকেই সব শিখে আসে। পেটের ভেতর থেকে দেখে নিত মা-বাবার কাণ্ড, দুনিয়াদারির কারখানা। আগে মনে করতাম পুরুষে কেবল তিনিই বোকা। তাই আমি তার উদ্দেশ্য যে বুঝতে পারছি এটি তিনি বুঝতে পারতেন না।
এখন কী দেখ?
এখন দেখি সব পুরুষই একই টাইপের ইডিয়ট। কাকের মতো শুধু নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবে। ছাগল সবসময় ছাগলই হয়। আমেরিকার গোরুকে কি আর বাংলাদেশের মানুষ বলা যায়? আল্লাহর সৃষ্টিতে আমি তিনটি জঘন্য ইডিয়ট দেখেছি। এক নম্বর ইডিয়ট অবিবাহিত পুরুষ।
দুই নম্বর, দুই নম্বর ইডিয়ট? রিদওয়ান জানতে চাইল।
বিবাহিত পুরষ।
তৃতীয় ইডিয়ট?
পুরুষ।
মেয়েরা?
মেয়েরা বিয়ের পর হয় বুদ্ধিমতী আর স্বার্থপর। ছেলেরা হয়ে যায় ইডিয়ট নয়ত বা ধূর্ত বলদ। ইনফ্যাক্ট সবপুুরুষই স্ত্রৈণ। এজন্য অভিধানে স্ত্রৈণ শব্দের পুংলিঙ্গ নেই।
বিবাহিত পুরুষ ইডিয়ট? 
এই যেমন তুমি। শুধু তুমি নও সব নারীর স্বামীই একই রকম ইডিয়ট। একই রকম গর্দভ। কেউ বউ-মারা গর্দভ আবার কেউ বউয়ে-মরা গর্দভ। একটা শোলক আছে
“পাড়া গাঁয়ের ছমদ আর ব্রাজিল দেশের পেলে,
সব পুরুষই উলঙ্গ হয় যদি নারী মেলে।
জ্যাকব পিটার গান্ধী চার্চিল মদন কিংবা কৃষ্ণ
সব পুরুষের পুরো শরীর, ভয়ংকর এক শিশ্ন  “

error: Content is protected !!