ষত্ববিধান সংক্ষেপে

Jêrry ÑÃñ,

সংক্ষেপে ষত্ববিধান শিখি

১. অ আ এবং অ-কার ছাড়া অন্যান্য স্বরবর্ণের পরে বহু ক্ষেত্রে ষ হয়ে থাকে। অর্থাৎ ই ঈ উ ঊ এ ঐ ও ঔ এবং ি ী ু ূ ে ৈ ো ৌ -এদের পরে ষ হয়।
যেমন:বিষয়, ভীষণ, তুষার, দূষণ, বিশেষ, বৈষ্ণব, ওষুধ, পৌষ।

২. ক খ প ফ- এদের আগে ইঃ (বা িঃ) অথবা উঃ (বা ুঃ) থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গের জায়গায় সর্বদা মূর্ধান্য-ষ বসবে।
যেমন: আবিঃ+কার= আবিষ্কার।
আয়ুঃ + কাল= আয়ুষ্কাল।

৩. রেফ্ বা ঋ বা ঋ-কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমন: বর্ষা, ঋষি, তৃষা।
৪. ট ঠ__ এই দুটি মূর্ধন্য বর্ণের পূর্বে সর্বদা ষ হবে; অর্থাৎ, যুক্তাক্ষরের রূপ হবে ষ্ট/ষ্ঠ। যেমন: অনিষ্ট, অনুষ্ঠান।

৫. বাংলা ভাষায় দেশী-বিদেশী শব্দ মিলে পঞ্চাশটিরও বেশি উপসর্গ আছে।
যেমন : অধি, অনু, অভি, উপ, পরা, পরি, পুর, প্রতি, সু ইত্যাদি। এসব উপসর্গের মধ্যে ই-কারান্ত (অর্থাৎ ি দিয়ে শেষ হচ্ছে যেগুলা-অধি অতি প্রতি পরি ইত্যাদি)
এবং উ-কারান্ত (যেমন অনু সু ইত্যাদি) উপসর্গের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন : অধিষদ (অথচ সভাসদ, সংসদ)
অনুষঙ্গ (অথচ সঙ্গ, অসিঙ্গ)

৬. কোনো নিয়মে ফেলা যাবে না, অথচ স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়—এমন শব্দও আছে।
মনে রাখার জন্যে পুরোনো একটা ছড়া উদ্ধৃত করা গেল।
“ভাষা মাষা ষট্‌ আষাঢ় ষণ্ড
কষিত পাষাণ ইষু পাষণ্ড
কষায় কষায় কাষ্ঠ কষ্ট
আভাষ বাষ্প মুষিক অষ্ট
পৌষ পুষ্প শষ্প ভাষ্য
ষত্ববিধির করে না দাস্য”।

৭. আরবি, ফার্সি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশী শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ষ হবে না। এ-সব শব্দের মূল উচ্চারণ অনুযায়ী দন্ত্য-স অথবা তালব্য-শ হবে। যেমন :
আরবি : নকশা, মুশকিল, শয়তান।
ইংরেজি : কমিশন, ব্রিটিশ, মেশিন।
ফার্সি :চশমা; আসর, রসিদ

উৎস: Jêrry ÑÃñ,সংক্ষেপে ষত্ব-বিধান শিখি, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)


শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক
error: Content is protected !!