ষষ্ঠী বিভক্তির প্রয়োগ

এবি ছিদ্দিক

বাক্যের মধ্যে একপদের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে বিভক্তি ব্যবহার করতে হয়। বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তিকে সাত ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়। সাত প্রকার বিভক্তির একটি প্রকার হচ্ছে ‘ষষ্ঠী’ বিভক্তি। বৈয়াকরণরা ‘-র’, ‘-এর’ আর ‘-য়ের’-কে ষষ্ঠী বিভক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অধিকাংশ বাংলাভাষী শব্দভেদে শব্দের সঙ্গে এই বিভক্তি কটি বিনা সংশয়ে সংগতভাবে যুক্ত করতে পারলেও অনেকে মাঝেমধ্যে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। যাঁরা শব্দের শেষে এই বিভক্তি কটি যুক্ত করার সময় দ্বিধায় ভোগেন, তাঁরা নিম্নোল্লিখিত নিয়মগুলো অনুধাবন করতে পারলে আগামীতে বিভ্রান্তি অনেকটা কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস—

১. -য়ের:
ক. সাধারণত একাক্ষর শব্দের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে, ওই শব্দের সঙ্গে ‘-য়ের’ বিভক্তি যুক্ত করতে হবে। অক্ষরের ঝামেলায় না-গিয়ে সহজভাবে বললে, কেবল একটি বর্ণ দিয়ে গঠিত শব্দের সঙ্গে ‘-য়ের’ বিভক্তি যুক্ত করতে হবে; তা, বর্ণটির (শব্দটির) সঙ্গে কোনো কার-চিহ্ন থাকুক কিংবা না-থাকুক। যেমন: মা > মায়ের; চা > চায়ের; পা > পায়ের; ভূ > ভূয়ের; ঝি > ঝিয়ের; খ (আকাশ) > খয়ের; ড > ডয়ের ইত্যাদি।

খ. কোনো শব্দের শেষে যে-কোনো স্বরবর্ণ পূর্ণ রূপে (ই, ঈ, উ, ঊ প্রভৃতি রূপে) থাকলে, ওই শব্দের সঙ্গে ‘-য়ের’ যুক্ত করতে হবে। যেমন: বই > বইয়ের; বরই > বরইয়ের; বউ > বউয়ের; দই > দইয়ের প্রভৃতি।

২. -র: একের অধিক অক্ষর বিশিষ্ট কোনো শব্দের বানানের শেষে যে-কোনো কার-চিহ্ন ( া, ি, ী, ু প্রভৃতি) থাকলে, ওই শব্দের সঙ্গে ‘-র’ বিভক্তি যুক্ত করতে হবে। যেমন: মামা > মামার; দাদি > দাদির; ভালো > ভালোর; সুন্দরী > সুন্দরীর; ছাফিয়া > ছাফিয়ার; বাড়ি > বাড়ির; বড়ো > বড়োর; গোরু > গোরুর ইত্যাদি।

৩. -এর: কোনো শব্দের শেষে ‘অ’ ধ্বনি (উচ্চারণ অনুসারে ‘ও’) থাকলে কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, ওই শব্দের সঙ্গে ‘-এর’ বিভক্তি যুক্ত করতে হবে। আরও সহজভাবে বললে, কোনো শব্দের শেষ বর্ণের সঙ্গে কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত না-থাকলে, ওই শব্দের সঙ্গে ‘-এর’ বিভক্তি যুক্ত করতে হবে। যেমন:
বল > বলের;
সৌন্দর্য > সৌন্দর্যের;
টম > টমের;
শক্ত > শক্তের, ব্যাঙ (ব্যাং) > ব্যাঙের; শুবাচ > শুবাচের ইত্যাদি।

৪. ‘-য়ের’ পরিবর্তে ‘-এর’: কোনো শব্দ উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে রাখা হলে, এক নম্বরে উল্লেখ-করা নিয়ম অনুসরণ করে ওই শব্দের শেষে ‘-য়ের’ যুক্ত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে ‘-য়ের’-এর পরিবর্তে ‘-এর’ যুক্ত করতে হবে। যেমন:
অসংগত — সংগত

‘মা’-য়ের — ‘মা’-এর
‘চা’-য়ের — ‘চা’-এর
‘ড’-য়ের — ‘ড’-এর
‘পা’-য়ের — ‘পা’-এর
‘খ’-য়ের — ‘খ’-এর

 সূত্র: ষষ্ঠী বিভক্তির প্রয়োগ, এবি ছিদ্দিক, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।

——————-

All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

error: Content is protected !!