সতীর্থ ও সহপাঠী

ড. মোহাম্মদ আমীন

সতীর্থ: তৎসম ‘সতীর্থ’ শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে, স+তীর্থ। এর অর্থ একই সময়ে একই গুরুর কাছে শিক্ষাপ্রাপ্ত। অপ্রধান অর্থ হিসেবে অনেক সময় সহপাঠী নির্দেশেও ‘সতীর্থ’ শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। তবে তা কদাচ।সতীর্থ শব্দের একমাত্র গ্রহণযোগ্য অর্থ সহপাঠী, সহাধ্যায়ী অমরকোষে এই শব্দের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া আছে— ‘একো গুরুর্যেষাং তে সতীর্থ্যাঃ’। অর্থাৎ, একই গুরুর কাছে যারা অধ্যয়ন করে তারাই সতীর্থ। যেমন: সামাদ আমার সতীর্থ। আমি ও সে একই স্কুলে একই সময়ে একই শ্রেণিতে একই গুরুর কাছে অধ্যয়ন করতাম।

ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সতীর্থ হচ্ছে এমন একজন যে, একই সময়ে একই শিক্ষকের কাছে অধ্যয়ন করেছে।

যেমন: রফিক, আবদুল্লাহ, ছামাদ এবং বীণা ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে কুমকুম স্যারের কাছে গণিত পড়ত। এখানে রফিক, আবদুল্লাহ, ছামাদ ও বীনা একই সময়ে একই শিক্ষকের (কুমকুম স্যার) কাছে অধ্যয়ন করেছে। তারা পরস্পর সতীর্থ। সতীর্থ হতে হলে একই সময়ে একই শিক্ষকের কাছে অধ্যয়ন করা অত্যাবশ্যক। তবে একই বিদ্যায়তনে কিংবা একই শ্রেণিতে পড়া আবশ্যক নয়।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, শব্দটির অর্থ— একই সময়ে একই গুরুর কাছে শিক্ষাপ্রাপ্ত, সহপাঠী প্রভৃতি। অথচ শব্দটি বর্তমানে নির্বিচারে অন্যসব অর্থ প্রকাশেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কেউ-কেউ একই দলভুক্ত ব্যক্তি, আবার অনেকে সহকর্মী, colleague, অর্থে ‘সতীর্থ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এটি সমীচীন প্রয়োগ নয়। সতীর্থ শব্দের এই অর্থ— কোনো অভিধানে স্বীকৃত নয়।

সহপাঠী: তৎসম ‘সহপাঠী’ শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে, সহ+√পঠ্+ইন্। এর অর্থ— একই বিদ্যায়তনে ও শ্রেণিতে অধ্যয়নকারী, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ক্লাসে অধ্যয়নকারী।

ব্যাখ্য : উপরের বর্ণনায় দেখা যায়, সহপাঠী হতে হলে, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা অত্যাবশ্যক। যেমন: মনির, হাসান, করিম ও রুবি গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে একই শ্রেণিতে অধ্যয়ন করত। অতএব, মনির, হাসান, করিম ও রুবি পরস্পর সহপাঠী। সহপাঠী হতে হলে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ক্লাসে অধ্যয়ন করা অনিবার্য।

তবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই গুরুর কাছে একই সময় অধ্যয়ন অনিবার্য নয়।

  • সকল সতীর্থ সহপাঠী কিন্তু সকল সহপাঠী সতীর্থ নয়।

সূত্র : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ।

শ্রী শব্দের অর্থ

শ্রী (√শ্রি+ক্বিপ্ ) তৎসম শব্দ। শব্দটি বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্য অনেক শব্দের মতো শ্রী শব্দেরও একাধিক অর্থ রয়েছে। তার কয়েকটি দেওয়া হলো—

১. সৌন্দর্য, লাবণ্য: এমন শ্রীমুখ আর দেখিনি, শ্রীমণ্ডিত অবয়ব।

২. ঐশ্বর্য: দিন দিন তোমার শ্রীবৃদ্ধি ঘটুক।

৩. চেহারা : এমন শ্রী নিয়ে সাক্ষাৎকারে গেলে ঢুকতেই দেবে না কক্ষে।

৪. আকৃতি: তার মুখশ্রীটা একদম তোমার মতো।

৫. ঢং, ভঙ্গিমা: কথার কী শ্রী তার!

৬. পুণ্যভূমি বা তীর্থস্থানের নামের পূর্বে ব্যবহৃত আখ্যা: শ্রীক্ষেত্র, শ্রীমন্দির।

৭. দেবী লক্ষ্মী: আগামীকাল শ্রীপূজা।

৮. দেবী সরস্বতী: দেবী বিদ্যা দাও আমায়।

৯. রাত দ্বিপ্রহরে গেয় সংগীতের রাগবিশেষ।

১০. নামের পূর্বে সম্মানজনক পদ হিসেবে ব্যবহৃত। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীমান, শ্রীময়ী। শ্রীযুক্ত বাবু লালনাথ রায়।

বাংলায় শ্রী দিয়ে গঠিত অনেক শব্দ রয়েছে। যেমন—

শ্রীঅঙ্গ, শ্রীকণ্ঠ, শ্রীকর, শ্রীকরণ, শ্রীকান্ত, শ্রীক্ষেত্র, শ্রীখণ্ড, শ্রীঘর, শ্রীচরণ, শ্রীচরণকমল, শ্রীচরণকমলাসু, শ্রীচরণকমলেষু, শ্রীচরণাসু, শ্রীছাঁদ, শ্রীদাম, শ্রীধর, শ্রীনন্দন, শ্রীনাথ, শ্রীনিকেতন, শ্রীনিবাস, শ্রীপঞ্চমী, শ্রীপতি, শ্রীপদ, শ্রীপদপঙ্কজ, শ্রীপদপল্লব, শ্রীপর্ণ, শ্রীপাদ, শ্রীপাদপদ্ম, শ্রীপুষ্প, শ্রীফল, শ্রীবৎস, শ্রীবৃদ্ধি, শ্রীভ্রষ্ট, শ্রীমণ্ডিত, শ্রীমতী, শ্রীমৎ, শ্রীমন্ত, শ্রীময়ী, শ্রীমান, শ্রীমুখ, শ্রীযুক্ত, শ্রীল, শ্রীশ, শ্রীহট্ট, শ্রীহস্ত, শ্রীহীন ইত্যাদি।

অজানা অনেক মজার বিষয়

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com

শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

error: Content is protected !!