সন্মিত্রা: সন্মিত্রাবাণীর সুনির্বাচিত সম্ভার-০২

 ড.  মোহাম্মদ আমীন

  সন্মিত্রা: সন্মিত্রাবাণীর সুনির্বাচিত সম্ভার-০২

সংযোগ: https://draminbd.com/সন্মিত্রা-সন্মিত্রাবাণ-2/

মৌটুসকি
বিশ্ববিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভাষাবিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিক্ষক সমাজসেবক প্রভৃতি একই সভায় উপস্থিত হয়ে মহল মাতিয়ে রাখছেন; উভয় বাংলার খ্যাতনামাসব কবি-সাহিত্যিক একই বৈঠকে বসে আলোচনায়-সমালোচনায়, তর্কে-বিতর্কে পরিবেশ উপভোগ্য করে তুলছেন কিংবা বিষিয়ে দিচ্ছেন; পাঠক পড়তে পড়তে নিজেও সেসব আলোচনায় মগ্ন হচ্ছেন, তর্কে যোগ দিচ্ছেন, বিতর্কে দ্বিমত পোষণ করছেন— ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা স্যমন্তক সিরিজের উপন্যাসত্রয়পড়তে বসলে পাঠককে এমন অলৌকিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে। এই স্যমন্তক সিরিজের তৃতীয় গ্রন্থ হচ্ছে ‘সন্মিত্রা‘। প্রায় তিনশ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসে লেখক পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বৈশ্বিক নানান বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন। সেসব বিষয়ের বিবরণের প্রয়োজনে উচ্চারণ করেছেন অনেক কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত বাণী, যেসবের পাঠে নিরপেক্ষ পাঠকমনমাত্রই আন্দোলিত হবে। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঘটনার বর্ণনায় কিছু মন্তব্য আমার জোর সমর্থন পেয়েছে, আবার কিছু মন্তব্য হয়েছে মন খারাপের কারণ। কিন্তু মন খারাপের কারণ হওয়া মন্তব্যের একটিও অপ্রাসঙ্গিক-অবান্তর বলে রায় দেওয়াটাও আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সেসব ভালো লাগা-না-লাগা মন্তব্য নিয়েই দুই পর্বের ‘সন্মিত্রাবাণীর সুনির্বাচিত সম্ভার’ সাজানো হয়েছে। আজ তবে শেষ পর্বে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক—
‘অপেক্ষমাণ বাঙালির চিত্ত কেবল অপেক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বাতাসে দোদুল্যমান চিকন তেঁতুল পাতার মতো অস্থির থাকে। কোনো প্রস্তুতি থাকে না। অর্ধেক জীবন শেষ হয়ে যায় অস্থিরতায়। তাই তাদের সিংহভাগ অপেক্ষা বিফলে যায়।’
‘ভালো ভালোই। তবে সবসময় ভালো ভালো লাগে না। কৃষ্ণচূড়ার মাথা যদি সারা বছর লাল থাকত, তাহলে ওই লাল সাধারণ হয়ে যেত। এমন লাল কাউকে লালাভ করতে পারত না।’
মাদার্স পাবলিকেশন্স

‘নিজের মায়ের অভাব যেমন অন্য কারও মা দিয়ে পূরণ করা যায় না, তেমনি কোনো বিদেশি ভাষা দিয়ে পূরণ করা যায় না মাতৃভাষার অভাব। যত দামি দুগ্ধই হোক না, তা কি মাতৃদুগ্ধের তুল্য হয়?’

‘প্রকৃতিই জীবের লালনভূমি এবং প্রকৃতিকে লালন করার জন্য ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের একমাত্র ইবাদত প্রকৃতির সেবা। কারণ প্রকৃতি ঈশ্বরের প্রতিভূ এবং প্রকৃতির দাসত্ব করার জন্য মানবজাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। দাস যদি প্রভুর ওপর প্রভুত্ব ফলাতে চায় তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য।’
‘যদি কোনো মানুষ হাজার জন্ম পাপের পর পাপ করে তাহলে ঈশ্বর তাকে শাস্তিস্বরূপ প্রেমে ফেলে বিয়ে করিয়ে দেন।’
‘মৃত্যু প্রকৃতির অনিবার্য অংশ৷ কেউ এটাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রকৃতির সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হচ্ছে বিনাশ। প্রকৃতি সবসময় রূপসি, সবুজ এবং সজীব থাকতে চায়। তাই সে পাণ্ডুর আর পাংশুটেদের বিনাশ করে দেয়।’
‘সুন্দরকে যাতে দীর্ঘ সময় উপভোগ করা যায় তার সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত। সুন্দর থেকে সুস্থ থেকে প্রকৃতিকে খুশি রেখে তা করতে হবে। অসুন্দর প্রকৃতিবিরুদ্ধ। প্রকৃতি এদের রাখবে কেন?’
‘কান্না কিন্তু শোক নয়। প্রকৃতির অজেয় শক্তির স্বীকৃতি। মানুষ যে প্রকৃতির কাছে অসহায়, কান্না এটাই প্রমাণ করে।’
‘লোভ জেগে থাকে। লোভ যতক্ষণ জেগে থাকে সুখ ততক্ষণ ভয়ে কাছে আসে না, দূরে সরে থাকে। লোভ হায়েনা এবং হরিণ সুখ।’
‘মানুষ যে বলে, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব? আমি আমাকে শ্রেষ্ঠ বললে হবে? তবে যদি আমি নিজেকে পাগল বলি– এটি সবাই মেনে নেবে। কারণ পাগলকে মানুষ হেয় চোখে দেখে। হেয় প্রাণীরা সবসময় অন্যকে হেয় বানাতে চায়, হেয় দেখতে চায়।’
‘সত্য জানলে আপনি পাগল না হয়ে পারবেন না এবং সত্য যদি বলেন তাহলে যারা সত্য জানে না তারা আপনাকে পাগল বলবে। কেউ কেউ মেরেও ফেলতে চাইবে।’
‘তোমরা চাও শিশুরা সব বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠুক, তাই তারা কোনো বিষয়ে দক্ষ হতে পারে না। এখন বিজ্ঞানের যুগ, বিশেষজ্ঞের যুগ। ডান চোখের চিকিৎসা যিনি করবেন, তিনি বাম চোখের চিকিৎসা করতে পারবেন না। কাণ্ডজ্ঞান থাকলে হয়। তোমরা চাও বৃক্ষজ্ঞান। তোমরা চাও সব একজনকে শিখিয়ে দিতে। তাই তারা কিছুই শিখতে পারে না। পক্ষান্তরে, শেখাটা বোঝা হয়ে যায় বলে শিখতেও চায় না। এজন্য তাদের শিক্ষাটা হয়ে যায় অন্ধের হস্তীদর্শন।’
‘জ্ঞান, সত্য আর শুদ্ধতার ভাইরাস। এটি প্রবল হলে জ্ঞান দুর্বল হয়ে পড়ে।’
‘মনে করো তুমি বিড়ালকে ভালোবাস।
মনে করলাম।
সেক্ষেত্রে বিড়ালকে বাঘ বানিয়ে দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাকে ভালোবাসা বলে। দরো তুমি ইঁদুরকে ভালোবাস।
ধরলাম।
ভালোবাসার ইঁদুর দিয়ে বৈদূর্যলোচন ধরানোর প্রত্যয়কে ভালোবাসা বলে।’
‘প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন মূলত আইন আর সামাজিক রেওয়াজে বাঁধা একটি অস্থিতিস্থাপক রশি। টানলে বাড়ে না, বেশি টানলে ছিঁড়ে যায়। ওই সীমানার বাইরে গেলে বলবে– আপনি কিছুই জানেন না কিংবা যা জানেন তা পাগলামি।’
‘সাধারণ মানের লেখা সাধারণ লোকের জন্য, পৃথিবীতে সাধারণ লোকের সংখ্যাই তো অধিক, না? বেশি জন আগ্রহ নিয়ে পড়বে এবং পড়ে বুঝবে– এমন লেখা লিখতে জ্ঞান লাগে না। লেখা যত উচ্চমার্গের হবে পাঠক তত কমবে।’
‘ঐশ্বরিক মতবাদ অশান্তির মূল কারণ।’
‘প্রতিপক্ষ যতই ক্ষুদ্র হোক না, আক্রমণ হতে বাঁচতে হলে শক্তি, ঐক্য, বন্ধু আর বুদ্ধি প্রয়োজন, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের নেই। পৃথিবীতে এখন ধর্ম কেবল দুটি– এক মুসলিম দুই বিধর্মী বা ননমুসলিম।’
‚শত্রুকে দমন করতে হলে শত্রুর ভাষা আত্মগত করাই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ কৌশল। তাই প্রত্যেক ইসরাইলির জন্য আরবি শেখা বাধ্যতামূলক।’
‘মুসলিমদের বড়ো সমস্যা, সমালোচনা সহ্য করতে না পারা। সবচেয়ে বড়ো সীমাবদ্ধতা সমালোচনার পথ রুদ্ধ করে দেওয়া।’
‘বাকস্বাধীনতা না থাকলে সৃজনশীলতা স্থবির হয়ে যায়।’
‘যারা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না তাদের কোনো হালনাগাদ শিক্ষক থাকতে পারে না। অন্ধকার অতীতই তাদের শিক্ষক। যাদের শিক্ষক অতীত, তাদের ভবিষ্যন্নোয়নের সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।’
‘যতদিন ক্ষমতা, অর্থ আর প্রভাব বিস্তার বিষয়গুলো সক্রিয় থাকে ততদিন অপমানবোধের লক্ষ দরজা খোলা থাকে, কিন্তু ঢোকার কোনো সুযোগ পায় না। ওইগুলো চলে যাওয়ার পর যারা অপমানকে হজম করতে পারে তারা আবার সুসময়ের আশা করতে পারে। দুঃসময়ে যারা অপমানিত হওয়ার জন্য প্রতিবাদ করে তাদের সুসময় কখনো আসে না।’
‘জীবন একটা শিল্প, জীবন একটা কবিতা, জীবন একটি গোছানো সাহিত্যকর্ম। তাই এখানে আনন্দ, দুঃখ-বেদনা সব একটার সঙ্গে একটা জড়াজড়ি করে থাকে।’
‘জীবন আসলেই অনেক সুন্দর। তাই তার প্রতি মৃত্যুর এত লোভ। জীবনের সঙ্গে কেবল মৃত্যু আর সুন্দরের তুলনা চলে, অন্য কারও নয়।’
‘উপমহাদেশে মুসলিমরা এখন সর্বভারতে ক্রীতদাসের চেয়েও তুচ্ছ। সারা বিশ্বে সব ধরনের মানুষের কাছে মুসলিমরা অস্পৃশ্য।’
‘যেখানে জ্ঞান আর প্রেরণা নেই, সেখানে ভালোবাসা নিরর্থক। যে ভালোবাসায় এসব আসার সুযোগ নেই, সেটা ভালোবাসা নয়, ধস্তাধস্তি।’
‘ধর্ম হচ্ছে এমন সত্য যা ব্যক্তির বিশ্বাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা হয়ে যায়। যতবার ধর্ম পরিবর্তন হবে ততবার এমন ঘটবে। এভাবে সব ধর্ম মিথ্যা হয়ে যাবে। আবার গ্রহণ করলে আবার সত্য হয়ে যাবে।’
‘ধনীদের ধন ও সময় দুটোরই বড়ো অভাব।’
‘প্রচন্ড ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রয়োগ না করে কৌশলে কার্য আদায় করাই বাহাদুরি।’
‘আমার রাগ, অহংবোধে বিধ্বস্ত এবং আত্মবোধে অনড় নীচ মনের পুরুষদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। আমার রাগ আমার আত্মরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র। আমার জন্ম লাঞ্ছিত হওয়ার জন্য নয়।’
‘স্বার্থহীন ভালোবাসা, ঈর্ষাহীন শিশু এবং অহংকারহীন নারী প্রকারন্তরে রক্তহীন জীবের মতো অবশ। ক্রীতদাসদের মতো নিজকীয়তাহীন। অহংকার আমার নিজকীয়তার প্রতিরোধ ব্যূহ।’
‘বাঙালি এত নিকৃষ্ট জাতি যে, ব্যক্তিবোধের বাইরে যেতে পারে না। অন্যের কষ্টই তার আনন্দ। এদেশে মৃত্যুর আগে মূল্যায়ন পেতে হলে আপনাকে ডাকাত হতে হবে।’
‘বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো বাংলাদেশিদের আচরণ। দাঁড়ানোর জন্য পা প্রয়োজন। কিন্তু তারা নিজের পা কেটে কোমর বানিয়ে নেয়। জল পান করে না, মাটি পান করে। তাই নদী ভরাট করে। মাতৃস্তন থেকে দুগ্ধ পান করতে অনীহা। তাই স্তনরূপী পাহাড় কেটে মাতৃবক্ষকে সমতল করে দিচ্ছে। ’
‘স্বর্গ এবং নরক যথাক্রমে বোধহীনদের আনুগত্য আদায়ের কৌশল।’
‘ধর্ম যেখানে প্রবল চিন্তা সেখান আড়ষ্ট। চিন্তা যেখান আড়ষ্ট জ্ঞান সেখানে সীমিত। জ্ঞান যেখান সীমিত হানাহানি সেখানে ভয়ংকর তো হবেই।’
‘স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের কথোপকথন একশ শব্দ দিয়ে ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়। বাকি সব শব্দ সৃষ্টি হয়েছে বিবাহপূর্ব আলাপ এবং বিরহের জন্য।’
‘যার মেরুদণ্ড থাকে, কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়ায় না; যার মস্তক থাকে, কিন্তু স্বাধীন চিন্তা করার সাহস থাকে না; যার হাত-পা থাকে, কিন্তু ত্রুীড়নকের মতো অন্যের ইশারায় নাচে– সেসব জীবন্মৃতজড়গণ সচিব হতে পারে।’
‘একাকিত্ব হচ্ছে একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা লালন-পালনের নিরাপদ আলয়। এখানে বাস করে দর্শন, সাহিত্য, যুক্তিতর্ক আর জ্ঞান-বিজ্ঞান।’
‘বউয়ের ভালোবাসা সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু সক্রেটিস হতে হলে জ্যান্তিপির মতো নির্যাতন অনিবার্য। আগুনে না পোড়ালে কোনো কিছু থেকে সার বের হয় না । হোক তরল রস কিংবা কঠিন স্বর্ণ। বউ হচ্ছে আগুন।’
‘: ঈশ্বর কি মারা যায়?
— হ্যাঁ।
: কখন?
— যখন তাকে যারা ভালোবাসে তারা মারা যায়। একদিন এভাবে সব ঈশ্বর মারা যাবে।
: তাহলে ঈশ্বরকে বানিয়েছে কে?
— যারা ভালোবাসে তারা।’
‘শালি আমার কুচকুচে কালো/তবু শালি বউয়ের চেয়ে হাজারটা গুণ ভালো।’
‘যার নেই শালি/ বাড়াভাতে কচকচ সাত সাগরের বালি।’
‘আল্লাহ সারা ব্রহ্মাণ্ড বানিয়েছেন। মানুষকেও বানিয়েছেন। তার আবার নিজের ঘর বানানোর জন্য মানুষের সাহায্য লাগবে কেন?’
‘পথঘটনা কিংবা সুন্দরী মেয়ে দেখলে বাঙালিরা কবর থেকে উঠে মহাসমাবেশ বসিয়ে দেয়।’
‘স্বপ্ন হচ্ছে লোভ আর উচ্চাশার মিশ্রণ। এই মিশ্রণ মনের শান্তি কেড়ে নেয়।’
‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত পাওয়ার সামর্থ্য মানুষের সব স্বাদকে বিস্বাদে ভরিয়ে দেয়। তখন মানুষ স্বাদের জন্য পেছনে ফেলে আসা বিষয়ে ছুটে যেতে চায়। এটাই হাহাকার, অতৃপ্তির চরম কষ্ট।’
‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এরা জলে ভাসমান রুই মাছকে মানুষের লাশ এবং লাশকে রুই মাছ বানিয়ে দিতে পারে।’
‘অপাত্রে কিছু দেওয়া অপরাধ। তাছাড়া দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়াটাও অনিবার্য সত্য হয়ে যায়। আপনি না পেলে দেবেন কীভাবে? নদীতে প্রবাহ থাকে তখনই, যখন পানি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসার সুযোগ থাকে।’
‘প্রতিভা খুব স্পর্শকাতর বিষয়। উর্বর ক্ষেত্রও ঊষর হয়ে যায় যদি পর্যাপ্ত পরিচর্যা না পায়।’
‘বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা জ্ঞানী হওয়ার চেয়ে অভিনেতা হতে বেশি আগ্রহী। তারা উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে উদ্যোক্তার গোলামি করাকে সম্মানজনক মনে করে৷ তারা চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষক হবে না, পাঁচশ টাকা ফি-নেওয়া চিকিৎসক হবে।’
‘বাঙালিদের কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। করবেই বা কেন, তারা তো নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করে না। এদের স্বাজাত্যবোধ নেই, বিজ্ঞানমনস্কতা নেই। আত্নপ্রেম এত বেশি যে, নিজের আত্মা থেকে বের হয়ে দেশের আত্মায় ঢুকতে পারে না।’
‘কল্পনা যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় মন তত সৃষ্টিশীল হয়। মানুষ কল্পনার মাধ্যমে বিজ্ঞানী হয়ে ওঠে। সব সৃষ্টি কল্পনায় কল্পনায় মনগড়া, পা গড়া নয়।’
‘ইচ্ছা যদি একাগ্রতাকে আগলে রাখে তাহলে মানুষ আকাশে ভবন বানাতে পারে।’
‘মনের ওপর কেউ জোর খাটাতে পারে না। তাই মানুষের প্রতি মানুষের অভিযোগ নিরন্তর লেগেই থাকে।’
‘মানুষের সবকিছু যখন বিশ্বাস হয়ে যায়, তখন মানুষের অজ্ঞতা জানোয়ারের কাছাকাছি চলে যায়।’
‘মুসলিমরা কোথাও বেশিদিন টিকতে পারে না। তারা প্রচন্ড শক্তিতে দৌড় শুরু করে, কিন্তু কিছু দূর গিয়ে দম হারিয়ে ফেলে। পথের মাঝে পড়ে যায়। তখন দুকূলই হারিয়ে ফেলে। তাদের গভীরতা ও বিস্তৃতি দুটোই সংকীর্ণ এবং চিন্তারাশি পশ্চাৎপদতায় ভর্তি।’

যে দেশের মানুষ আর পশুতে সম্পর্ক ভালো নেই, সে দেশের মানুষগুলো পশুকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে। আমাদের দেশের চিড়িয়াখানার পশুর শরীর দেখলে দেশের মানুষের

ড. মোহাম্মদ আমীন

দস্যুবৃত্তিক সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।

‘ক্ষমার অপর নাম ভুলে যাওয়া। যারা ভুলতে পারে না তারা ক্ষমাও করতে পারে না। ক্ষমা করলেও তা ক্ষমা হয় না। বরং কমা হয়ে পরবর্তী বাক্যকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে।’
‘সেদিন মানে সেদিন। প্রতিদিন অন্য একটা নতুন দিন৷ নতুন দিন মানে নতুন জীবন।’
‘মেয়েরা হাতির মতো, মানে আয়তনে নয়, কোনো কিছু ভোলে না। যথাসময়ে দুর্বল স্থানে আঘাত করে।’
‘কিছু কিছু মানুষ চিংড়ির মতো, এরা মাছ নয় পোকা। এদের মেরুদণ্ড নেই। মাথায় মগজ থাকে না, থাকে মল। এদের মগজ থাকে লেজে।’
কথা যখন মধুর হয়, জীবন তখন ফুলের বাগান হয়ে ওঠে। জীবন যখন ফুলের বাগান হয়, সংসার তখন শান্তির পারাবার হয়ে যায়। পৃথিবী তখন যে রূপটি ধারণ করে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় সেটিই হচ্ছে স্বর্গ।’
‘যে কাজ করলে ভালো মনে হয়, মনে আনন্দ এবং প্রশান্তি আসে সেটি নৈতিক কাজ কিন্তু যে কাজ করলে খারাপ কাজ করা হয়েছে মনে হয় এবং মনে অনুতাপ এসে ভিড় করে সেটি অনৈতিক কাজ।’
‘প্রয়োজনে অপমান হজম করার শক্তিই হচ্ছে আসল অভিযোজন ক্ষমতা।’

সংকলন: মৌটুসকি

সন্মিত্রা
লেখক: ড মোহাম্মদ আমীন
প্রকাশক: নিরূপ সাহা (মাদার্স পাবিলেশন্স)
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা
সন্মিত্রা নিয়ে এবি ছিদ্দিকের আলোচনা: https://www.facebook.com/…/permalink/4352148338139907/

 

সন্মিত্রা: ন্মিত্রাবাণীর সুনির্বাচিত সম্ভার

সন্মিত্রা: সন্মিত্রাবাণীর সুনির্বাচিত সম্ভার-০২

সন্মিত্রা নিয়ে এবি ছিদ্দিকের আলোচনা: https://www.facebook.com/…/permalink/4352148338139907/
error: Content is protected !!