সমাসঘটিত নিয়ম : একটি বিশ্লেষণধর্মী অভিমত

Crispy Arif

“সে দায়িত্ব পালন করতে চায়” নাকি “সে দায়িত্বপালন করতে চায়”?

আমরা জানি, সমাসবদ্ধ শব্দে মাঝে স্পেস দেয়া যাবে না। তবে এটি বাংলা বানানের অন্যতম বিভ্রান্তিকর একটি নিয়ম। কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি জটিলতার জন্ম দেয়। দেখানো হল।

☆স্পেস নিয়ে একটি বিভ্রান্তি হল: আইন, নীতি, সংস্থা ইত্যাদি দীর্ঘ কলেবরের শিরোনামের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমাসবদ্ধ পদকেও সমাস করা হয় না। যেমন: ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়’, ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’…. সমাসের নিয়মানুসারে এখানে হওয়ার কথা ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়’ ‘জাতীয় পরিবেশনীতি’।
কিন্তু এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সাথে এবং আইনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে এত আগে থেকেই এমনভাবে আছে, যখন বাংলা নতুন বানানরীতিই প্রণীত হয়নি। তাছাড়া এগুলো সাধারণত খুব দীর্ঘ শিরোনাম হয়ে থাকে বলে সমাস করলে অস্বাভাবিক ঠেকে। সবকিছু বিবেচনায় এসব ক্ষেত্রে সমাস বর্জন করা যেতে পারে।

☆আরও একটি বড় সমস্যা হল- কারকের শূন্য বিভক্তি এবং সমাস নিয়ে একটু দ্বিধা তৈরি হতে পারে। যেমন-
“তোমার কবি পরিচয়টি আমার ভাল লাগছে না।”- এই বাক্যে ‘কবি’ শব্দটি বিশেষ্য হলেও শূন্য বিভক্তি হিসেবে বসে বিশেষণের ভূমিকা পালন করছে। বিশেষণ পদকে সমাসবদ্ধ করা আবশ্যক নয় বলে এখানে স্পেসহীন ‘কবিপরিচয়টি’ লেখা ভাল দেখায় না।
‘কবিপরিচয়টি’ ভাল না শোনালেও কেউ যদি মনে করে ‘টি’ বাদ দিয়ে ‘কবিপরিচয়’ সমাসবদ্ধ হয়ে ভাল শোনাতে পারে, তবে সে স্বাধীনতা তার আছে। যেমন বলা যেতে পারে- “তোমার কবিপরিচয় আমার ভাল লাগছে না।”
এ ক্ষেত্রে ‘কারক’ নাকি ‘সমাস’ কোনটি ভাল দেখাচ্ছে তা বুঝতে ষষ্ঠেন্দ্রিয় বা কমন সেন্স খাটাতে হবে।

কমন সেন্সের অন্য উদাহরণ : “দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি”… এখানে ‘দায়িত্ব পালন’ স্পেস না দিলেও চলছে কেননা এটি কারকের শুন্য বিভক্তি হিসেবে বসতে পারে, একইভাবে বলা যায় “ভাত খাওয়ার জন্য এসেছি”… এখানে ‘ভাত’ শুন্য বিভক্তি হিসেবে ‘ভাত-খাওয়া’ লিখে সমাস করার দরকার নেই।
কিন্তু ‘দায়িত্বপালনসংক্রান্ত মিটিং’ এখানে সমাস করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে, স্পেস দেয়া চলবে না। ‘দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত’ লিখলে ভুল হবে, কেননা পরবর্তীতে কোন যৌগিক ক্রিয়া বা phrase নেই।

ব্যাখ্যা : আরও সূক্ষ্মভাবে জানুন। সমাসবদ্ধ বা স্পেসহীন করতে গিয়ে যদি দেখা যায় যে দ্বিতীয় শব্দটি পরে কোনও যৌগিক ক্রিয়া বা phrase-এর দিকে বেশি টানছে তবে সেটি সমাসবদ্ধ না করে ছেড়ে দিতে হবে। যেমন-
ভুল : “সে গান-করা ভালবাসে।”
শুদ্ধ : “সে গান করা ভালবাসে।”

‘করা ভালবাসে’ এখানে এমন একটি phrase যা ‘গান’-এর সাথে ‘করা’-কে জয়েন্ট অর্থা সমাস হতে দিচ্ছে না। একইভাবে ‘পালন করার জন্য’ এই phraseটিও ‘দায়িত্ব পালন’ কে সমাসবদ্ধ হতে দেয়নি।

আসলেই এই নিয়মটি জটিল। সাহিত্যের পাঠাভ্যাসের মাধ্যমে নান্দনিকতার সেন্স তৈরি করা ছাড়া এটি আয়ত্ত নাও হতে পারে।

সূত্র:  সমাসঘটিত নিয়ম : একটি বিশ্লেষণধর্মী অভিমত, Crispy Arif, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)


All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

আফসোস নিয়ে আফসোস

লক্ষ বনাম লক্ষ্য : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

ব্যাঘ্র শব্দের অর্থ এবং পাণিনির মৃত্যু

error: Content is protected !!