সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম (তৃতীয় পর্ব)

২৫.  ড্যাশ (―)

ড্যাশ একটি যতিচিহ্ন এবং এটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ।অনেক সময় ড্যাশ, কমা, সেমিকোলন, কোলন একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। আবার একটি বাক্যের মাঝখানে একটি ব্যাখ্যাসূচক খণ্ডবাক্য থাকলে সেই খণ্ডবাক্যের দুইদিকে ড্যাশ বসে।যেমন―‘নদীমাতৃক বাংলাদেশ―নদীবিধৌত দেশ বলে এই নাম―পৃথিবীর অন্যতম উর্বর অঞ্চল।’ ড্যাশের দুইদিকে কোনো ‘স্পেস’ থাকবে না।

২৬. ণ, ন

তৎসম শব্দে ণ-এর ব্যবহার ণত্ব বিধান (ণত্ব বিধান দ্রষ্টব্য) দ্বারা সুনির্দিষ্ট। দেশি ও বিদেশি শব্দে ণ-এর ব্যবহার নেই।

২৭. /

তৎসম শব্দে ‘ৎ’ অক্ষুণ্ন থাকবে। যেমন―আত্মসাৎ, তৎক্ষণাৎ, বিদ্যুৎ। শব্দশেষের ‘ৎ’-এর পর ‘-এ’, ‘-এর’ ইত্যাদি স্বরযুক্ত বিভক্তি থাকলে ‘ৎ’ ‘ত’-এ রূপান্তরিত হবে। যেমন―বিদ্যুতের।

২৮. তৈরি/তৈরী

‘তৈরী’ বানানটি বর্তমানে বর্জন করা হয়েছে। ‘প্রস্তুত’ এবং ‘প্রস্তুত করা’ উভয় অর্থে ‘তৈরি’ শব্দটি ব্যবহৃত হজব। যেমন―‘জামাটা রেশমের তৈরি দ্বতরর।’ ‘কামার লোহা দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করে।’

২৯. দাঁড়ি ( )

বিবৃতিমূলক বাক্যের শেষে দাঁড়ি (।) বসে। এরকম বাক্যে প্রশ্ন বা বিস্ময়ভাব থাকলেও দাঁড়ি বসবে। যেমন―

আসাদ জানতে চাচ্ছে এখন কয়টা বাজে।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

এভাবে আর কতদিন চলবে কে জানে।

 এই দুরিয়ায় যে কতরকম মানুষ আছে, মায়ের মুখে গল্প শুনে সেটা বুঝলাম।

৩০. দু-, দূ

সংস্কৃত ‘দুঃ’ উপসর্গটি দুঃখ, নিষেধ, অভাব, দুষ্ট, মন্দ, কঠিন ইত্যাদি নেতিবাচক অর্থগত ব্যঞ্জনা দেয়। যেমন― দুর্ভিক্ষ, দুর্জন, দুর্দিন, দুঃসাধ্য, দুরূহ ইত্যাদি। তাই এই শব্দগুলোতে  ‘দু’ (উ-কার যুক্ত) ব্যবহৃত হয়।  অন্যদিকে কোনও শব্দে ‘দূর’ থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই ‘দূ০ (ঊ-কার যুক্) দিয়ে লেখা হয়। যেমন―দূরত্ব, দূরীকরণ, দূরীভূত ইত্যাদি। ‘দুই’ অর্থে ‘দু’ ব্যবহৃত হয়, যেমন―দুকথা, দুকূল ইত্যাদি।

৩১.  দুটাকা/দুটাকা, পাঁচশ’/পাঁচশ

দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে পূণরূপ ‘দুই টাকা’, ‘পাঁচশত টাকা’, ‘ছয়টা বাজে’ লেখা সমীচীন।  সেক্ষেত্রে দুটি শব্দকে আলাদাভাবে লিখতে হবে। ‘দুটাকা’ লেখার প্রয়োজন হলে তা একসঙ্গে লিখতে হবে। কোনও ঊর্ধ্বকমার প্রয়োজন নেই। একইভাবে ‘পাঁচশ’, ‘ছদিন’, ‘ছটা বাজে’ লেখা চলবে। তবে দাপ্তরিক এবং অন্য যে-কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে ‘ছদিন’, ‘ছটা’ ইত্যাদির পরিবর্তে এগুলোর পূণরূপ ‘ছয় দিন’, ‘ছয়টা’ ব্যবহার করতে হবে।

৩২. না, -নি, নাই, নেই, নই, নয়

 ‘-নি’ ছাড়া আর সবগুলোই স্বতন্ত্রভাবে লেখা হয়। যেমন―‘কাজল কথা বলে না’, ‘কাজল কথা বজল নাইই’ (‘নাই’ আঞ্চলিক ও সাধু রূপে ব্যবহৃত হয়, চলিত ও প্রমিত রূপে নয়), ‘কাজল কথা বলেনি’, ‘কাজল ঘরে বসে নেই,’ ‘আমি কাজল নই’, ‘কাজল আমার মতো নয়’।

৩৩: -নির্বিশেষে

‘নির্বিশেষে’ অন্য শব্দের পরে যুক্তভাবে (দীর্ঘ শব্দ হলে হাইফেনসহযোগে) বসে। যেমন―বয়সনির্বিশেষে, জাতিধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে

৩৪. নেই/নিই

 ‘নেওয়া’ অর্থে ‘নেই’ ব্যবহৃত হয় না, এটি অনুপস্থিতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন―আরিফ এখানে নেই। অন্যদিকে, উত্তম পুরুষে ‘নেওয়া’ অর্থে ‘নিই’ ব্যবহৃত হয়। যেমন―আমি সবসময় ভালোটাই নিই।

৩৫. প্রতি, -প্রতি, প্রতি-

‘প্রতি’ অর্থ অনুযায়ী মুক্ত ও যুক্তভাবে  (শব্দের শুরুতে ও শেষে)বসে। যেমন―

প্রতি বসন্তে পৃথিবী ফুলে ফুলে সেজে ওঠে।

আমি প্রতিদিন (প্রত্যহ, daily) এক মাইল হাঁটি।

জনপ্রতি একসের চাল পেল গরিবরা।

৩৬. প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?)

 বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের আগে ১টি স্পেস ব্যবহার করা সাংগত।

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম/১— ২

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম/৩

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম/৪

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম/৭—১০

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম/১৩-১৪

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম (১৩—২৪)

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম (২৫―৩৬)

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

error: Content is protected !!