সরকারি বেসরকারি ও প্রাত্যহিক কাজে প্রমিত বাংলা লিখনবিধি

ড. মোহাম্মদ আমীন

১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০১.০৬.২০১১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের ০৪.২২২.০৪৫.০০.০১.০০৭.২০১০-৩১ নম্বর প্রজ্ঞাপন অনুসারে কম্পিউটারে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে ইউনিকোডভিত্তিক সফটওয়্যার (যেমন— অভ্র) ও ফন্টসমূহ (যেমন— নিকস, সোলায়মানলিপি, বৃন্দা) ব্যবহার করতে হবে। তবে এ ফন্ট বা সফটওয়্যার ব্যবহারের বড়ো অসুবিধা হচ্ছে ছাপানো। এ ফন্ট বা সফটওয়্যার দিয়ে কিছু লেখা হলে তা পুনরায় বিজয় বা অন্য উপযুক্ত ফন্টে পরিবর্তন করা না-হলে ছাপাখানায় ব্যবহার করা যায় না।

২. অত্যাবশ্যক না-হলে এবং বিকল্প শব্দ থাকলে বাক্যে, বিশেষ করে ক্রিয়া ও অব্যয় পদের তৎসমরূপ পরিত্যাগ করা সমীচীন। যেমন— করত, অত্র, ঢাকাস্থ, পর্যালোচনান্তে প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা আধুনিক বাংলায় সমীচীন নয়।

৩. ক্রিয়াপদে ঊর্ধ্বকমা দেবেন না। অনেকে লেখেন— ক’রে, হ’ল, যা’বে প্রভৃতি। এমন লেখা সমীচীন নয়, লিখুন— করে, হল, যাবে প্রভৃতি।

৪. বিকল্প-সিদ্ধ বানানের ক্ষেত্রে একই পত্রে বা একই প্রতিবেদনে শব্দের বানান অভিন্ন রাখা উচিত। তবে সর্বদা প্রমিত বানানটি ব্যবহার করা উত্তম। সাধারণত অভিধানের প্রথম-ভুক্তিটি সমধিক গ্রহণযোগ্য এবং প্রমিত হিসাবে গণ্য।

৫. বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত দাপ্তরিক পত্র সাধারণত চলিত রীতিতে লেখা সমীচীন। সাধু রীতির ব্যবহার এখন এতই কম যে, অনেকে সাধুভাষা লিখতে ও পড়তে কিছুটা হলেও জটিলতার সম্মুখীন হন। যে-কোনো লেখায় যাতে সাধু-চলিত মিশ্রণ না-হয় সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অনেকে কিছু কিছু ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে সাধু-চলিতের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলেন। এমন কয়েকটি শব্দ নিচে উদাহরণ হিসাবে দেওয়া হলো :

সাধু রীতি         চলিত রীতি      সাধু রীতি      চলিত রীতি
ইহা              এটি             দিবে          দেবে
উপর           ওপর            নিবে          নেবে
জুতা             জুতো            ভাঙিয়া        ভেঙে

৬. কোনো শব্দে হ্রস্ব ই-কার হবে না দীর্ঘ ঈ-কার হবে সে বিষয়ে সন্দেহ থাকলে এবং হাতের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য অভিধানও না-থাকলে সেক্ষেত্রে হ্রস্ব ই-কার ব্যবহার করুন। তা হলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমবে। মূর্ধন্য-ষ ও দন্ত্য-স এবং মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ক্ষেত্রেও  এমন জটিলতা সৃষ্টি হলে যথাক্রমে দন্ত্য-স ও দন্ত্য-ন ব্যবহার করুন। বানান জটিল মনে হলে ঈ-কার, ণ ষ দিন। তাহলেও ভুল কিছুটা হলেও কম হওয়ার আশা করতে পারেন। এ উপদেশ কেবল অন্য কোনো উপায় যখন থাকে না তখনকার জন্য।

৭. কথ্যরূপ ও লেখ্যরূপের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। তাই কখনো কথ্যরূপের সঙ্গে লেখ্যরূপের কোনো শব্দ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা উচিত নয়। কথোপকথন, উদ্ধৃতি, প্রবাদ-প্রবচন কিংবা কথাসাহিত্যে নির্দিষ্ট কথ্যরীতির কোনো সংলাপ ছাড়া সাধারণ লেখালেখি বা চিঠিপত্রে কথ্যরূপ লেখা বিধেয় নয়। ইচ্ছে, জন্যে, নেয়া, দেয়া, মধ্যে, সন্ধে, হিসেব প্রভৃতি কথ্যরূপ হলেও অনেকে চিঠিপত্রে  এগুলো চলিতরূপ হিসাবে লিখে যাচ্ছেন। এটি আদৌ উচিত নয়। শব্দগুলোর লেখ্যরূপ হচ্ছে যথাক্রমে : ইচ্ছা, জন্য, নেওয়া, দেওয়া, মধ্য, সন্ধ্যা, হিসাব প্রভৃতি। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা সমীচীন।

৮. বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার এবং প্রচলিত শব্দ প্রয়োগে আরও পারদর্শী হওয়ার জন্য প্রতিদিন বাংলা ভাষায় লেখা আধুনিক লেখকের গ্রন্থ, বানান সংক্রান্ত বিধি বা ব্যাকরণ গ্রন্থ পাঠ করা আবশ্যক। বাংলা পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে সহজবোধ্য ভাষা ব্যবহার ও

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

প্রচলিত শব্দ প্রয়োগ এবং ইংরেজি পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে দৈনন্দিন ইংরেজি চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। তবে বাংলা পত্রিকা পাঠে বানান সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক। অনেক বাংলা পত্রিকায় প্রচুর ভুল-বানান দেখা যায়। অধিকন্তু অনেক পত্রিকা প্রমিত বানানের অশুদ্ধ ব্যবহার করে থাকে। আবার অনেক পত্রিকা নিজস্ব বানান রীতির আড়ালে বানানে যথেচ্ছাচার করে থাকে। এসব বিষয়ে সতর্কতা আবশ্যক। এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হলে বাংলা একাডেমি  প্রণীত প্রমিত বানানবিধি অনুসরণ করুন।

৯. কোনো শব্দের বানান কেমন হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিলে বাংলা একাডেমি-প্রণীত অভিধান থেকে প্রমিত বানানটি দেখে নেওয়া উচিত। লক্ষ রাখতে হবে, কেবল অভিধানে ভুক্তির জন্য কোনো শব্দের বানান শুদ্ধ বা প্রমিত বলা যায় না। অভিধানে কোনো ভুক্তির শীর্ষে যে বানানটি রয়েছে সাধারণত সেটিই প্রমিত। বাকিগুলো সাধারণত প্রচলনের কারণে ভুক্ত করা হয়। এগুলো শুধু অভিধানভুক্তির জন্য শুদ্ধ গণ্য করা সমীচীন নয়।

১০. আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পত্র-যোগাযোগে উদ্দেশ্যগত ও প্রায়োগিক পার্থক্য থাকে। তাই উভয়ের ভাষা ও গঠন এবং বাহ্যিক ও অন্তর্নিহিত অর্থের বিষয়ে লেখকের পরিপূর্ণ সচেতনতা বাঞ্ছনীয়। দাপ্তরিক পত্র বা সার-সংক্ষেপে যথাসম্ভব আনুষ্ঠানিক ভাষার ব্যবহার সমীচীন। এ ক্ষেত্রে অনাবশ্যক আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উত্তম। বরং আবেগ বাদ দিয়ে তথ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রকৃত ঘটনা বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় উপস্থাপন করা সমীচীন।

১১. কোনো বিষয় নথিতে উপস্থাপনের পূর্বে বিবেচ্যপত্র মনোযোগ সহকারে পাঠ করে বক্তব্য পুরোপুরি অনুধাবনপূর্বক উপস্থাপন করা আবশ্যক। অনেকে বিবেচ্যপত্রকে এতই গুরুত্ব দেন যে, বিবেচ্যপত্রে কোনো বানান বা ব্যাকরণগত ভুল থাকলে তাও আগ্রাহ্য করেন না। এমনটি করা সমীচীন নয়, তা হলে তা মাছিমারা কেরানির কাজ হয়ে যাবে। একজন অফিসার কখনো এমনটি করেন না।

১২. বাংলা ভাষায় ঋ-কার ( ৃ) একটি প্রতীক চিহ্ন। স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে ঋ-এর উচ্চারণ ‘রি’ বা ‘রী’ এর মতো হয়, যেমন— ঋণ (রিন), ঋতু (রিতু)। আর ব্যঞ্জন ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হলেও ‘র-ফলা + ই-কার-এর মতো হয়। যেমন: মাতৃ (মাত্রি), কৃষ্টি (ক্রিষ্টি)। অর্থাৎ উচ্চারণের দিক থেকে ‘শৃঙ্গ’ ‘শ্রিত’ বা ‘শ্রীমতী’ শব্দে কোনো তফাৎ নেই । তিন ধরনের বানানে একই উচ্চারণ । কিন্তু ‘ঋ-কার’ মূল সংস্কৃতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই বাংলা ভাষায় প্রচলিত তৎসম শব্দে ঋ-কার ব্যবহৃত হয় । যেমন— তৃণ, ঘৃণা, মৃণাল, বৃষ, তৃষ্ণা। কিন্তু তৎসম ব্যতীত বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘ঋ-কার’ ব্যবহার সিদ্ধ নয়। যেমন— ব্রিটিশ (বৃটিশ হবে না), ত্রিনিদাদ (তৃনিদাদ হবে না), ব্রিস্টল (বৃস্টল হবে না) প্রভৃতি।

১৩. পত্রযোগাযোগের ক্ষেত্রে “নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে” দিয়ে বাক্য শুরু করে “অনুরোধ করা গেল” বাগ্‌ভঙ্গি দিয়ে শেষ করলে বাক্য-চয়নে ভুল থেকে যায়। এমন ভুল করা উচিত নয়। প্রথম অংশে জ্ঞাপন করা বা জানাবার কোনো বিষয় থাকলে তা জানিয়ে বাক্য শেষ করতে হবে। অতঃপর অনুরোধ জ্ঞাপনের বিষয় থাকলে তা পৃথক বাক্যে সন্নিবেশিত করা সমীচীন। ছোট বাক্য বক্তার বক্তব্যকে যেমন স্পষ্ট করে তেমনি প্রাপকের অনুধাবনের গতিকেও বিকশিত করে।

১৪. অন্য দপ্তর থেকে প্রাপ্ত কোনো পত্রের উত্তর প্রস্তুত করার সময় পত্রের মূল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট  বিষয়ের মধ্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পত্রের বক্তব্য বাস্তবতার নিরিখে কিছুটা পরিমার্জন করা যেতে পারে। এটি লেখকের সৃজনশীলতার পরিচায়কও বটে। অন্য দপ্তর ভুল বাক্য ব্যবহার করলে কিংবা বিষয় বর্ণনায় ভুল বাক্য দিলে প্রেরকও তেমনটি করবেন, তা হয় না। তুম অধম বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন। প্রেরক বিষয়বস্তু অনুধাবন করে সুন্দরভাবে শুদ্ধ বানানে সহজ ভাষায় বিষয়টি প্রকাশ করবেন।

১৫. আনান ও আনানো/করান ও করানো/দেখান ও দেখানো/ বলান ও বলানো/বানান ও বানানো/জানান ও জানানো প্রতিটি শব্দ জোড়ার প্রথম শব্দের শেষ বর্ণ ‘ও-কার’ বর্জিত কিন্তু দ্বিতীয় শব্দ ‘ও-কার’-যুক্ত। শব্দগুলোর বানানে যেমন ভিন্নতা আছে তেমনি অর্থেও ভিন্নতা রয়েছে। শব্দগুলো ‘ও-কার’-হীন হলে ক্রিয়াপদ এবং ‘ও-কার’-যুক্ত হলে বিশেষণ বা বিশেষ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ : (১) মা রুটি বানান। (২) মায়ের বানানো রুটি যেমন সুন্দর তেমনি নরম। উপরের বাক্যের প্রথম বাক্যটিতে ‘বানান’ ক্রিয়াপদ ও দ্বিতীয় বাক্যে ‘বানানো’ বিশেষ্য/বিশেষণ পদ নির্দেশ করছে। ক্রিয়া হিসাবে ব্যবহার করলে এমন শব্দে ও-কার ন-দিলেও চলে। যেমন— এতদ্দ্বারারা জানান যাচ্ছে- –। তবে এখন  “এতদ্দ্বারা জানানো যাচ্ছে— “ এভাবে লেখা হয়।

১৬. ইংরেজি বাক্যে that শব্দের পরে সাধারণত কমা ব্যবহৃত হয় না। এছাড়া ইংরেজিতে It’s হচ্ছে ‘It is’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অন্যদিকে Its মানে ‘ইহার’। এ বিষয়গুলো পত্র লেখার সময় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

১৭. অনেকের অভিমত, পত্রের বিষয় (subject)-শেষে ‘প্রসঙ্গে’ না-লিখে ‘সংক্রান্ত’ লেখা সমীচীন; কারণ ‘বিষয়’ ও ‘প্রসঙ্গ’ শব্দ পরস্পর সমার্থক। প্রকৃত অর্থে বিষয়, প্রসঙ্গে, সংক্রান্ত প্রভৃতি অভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। তাই বিষয়-অনুচ্ছেদের প্রারম্ভে ‘বিষয়:’ উল্লেখ করা হলে প্রসঙ্গ বা সংক্রান্ত দুটোই বাহুল্য। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ লক্ষ করা যায়। বিষয়: ‘মাননীয় মন্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণ প্রসঙ্গে/সংক্রান্তে’ বাক্যটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। লিখুন (বিষয় : মাননীয় মন্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণ)। মনে রাখবেন, পত্রের বিষয় লেখার ক্ষেত্রে সেটির শেষাংশে পুনরায় ‘প্রসঙ্গে’ শব্দটি লেখা বাহুল্য।

১৮. নথিতে বিবেচ্যপত্র উপস্থাপনকালে মূল চিঠির কোনো অংশে underline করা কিংবা মার্কার ব্যবহার করা ঠিক নয়। এমন করলে প্রাপক সতর্ক নন বা চিহ্নিত না করলে গুরুত্ব দেবেন না মনে করার একটি প্রচ্ছন্ন বিষয় থেকে যায়। তবে  পর্যালোচনা বা দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজন হলে ফটোকপির উপর underline করা যেতে পারে।

১৯. ‘হিসেব বা হিসেবে’ শব্দ-দুটো কথ্য। এগুলোর সাধুরূপ হচ্ছে ‘হিসাব বা হিসাবে’। তাই কোনো পত্রযোগাযোগ কিংবা তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ‘হিসেব’ বা ‘হিসেবে’ না লিখে ‘হিসাব’ বা ‘হিসাবে’ লেখা বাঞ্ছনীয়।

২০. সমাসবদ্ধ পদ একসঙ্গে লিখতে হয়— তবে সবসময় নয়? কখন? “উচ্চারণ, অর্থদ্যোতকতা ও শ্রুতিমাধুর্য বিবেচনায় যখন সুবিধে মনে হয়, তখন। নতুবা, ফাঁক রাখায় বিধেয়— এটিই বাংলার বৈশিষ্ট্য।” ব্যবহার ও প্রচলন এবং অর্থ অনুধাবন ও উচ্চারণ প্রভৃতি বিষয়ের দিকে লক্ষ রেখে সমাসবদ্ধ পদ সাধারণভাবে  একসঙ্গে সেঁটে লিখুন।  শব্দ লম্বা হলে কিংবা উচ্চারণ বা অর্থ অনুধাবনে বিভ্রাট হতে পারে এমন মনে হলে  হাইফেন ব্যবহার করা হয়। যেমন: মন্ত্রিপরিষদ, আমদানি-রপ্তানি, পঠিত-প্রতিবেদন, প্রেরিত-পত্র।  সংস্কৃতের মতো বাংলায় সমাসবদ্ধ পদ সর্বদা সেঁটে রাখা অত্যাবশ্যক নয়। উচ্চারণ, অর্থদ্যোতকতা ও শ্রুতিমাধুর্য বিবেচনায় সমাসবদ্ধ পদ  ফাঁক রেখে লেখা যায়।  তাই বাংলায় অসংলগ্ন সমাস নামের একটি সমাস রয়েছে। যাতে সমাসবদ্ধ পদসমূহ ফাঁক রেখে লেখা যায়। যেমন:   জেলা প্রশাসক, বিজয় দিবস, শহিদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়  প্রভৃতি।  এ বিষয়ে আরও জানার জন্য দেখুন: সমাস বাংলা ব্যাকরণের পেঁয়াজ

১. যতই শুদ্ধ বলে মনে করুন না কেন, নতুন মনে হলে কিংবা সংশয় সৃষ্টি হলে অথবা ইতঃপূর্বে প্রামাণ্য কোনো অভিধানে দেখে না-থাকলে ওই শব্দের বানান প্রমিত কিংবা শুদ্ধ কি না অন্তত একবার হলেও অভিধান দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন। অনেকে লেখেন ‘এতদ্বারা’। দীর্ঘদিন হতে প্রায় সব অফিসারই এমন লিখে আসছেন। তাই সবাই মনে করেন এটি শুদ্ধ, আসলে এটি অশুদ্ধ। শুদ্ধ হচ্ছে এতদ্দ্বারা (এতদ্‌+দ্বারা)। তেমনি ভুল করে লেখা হয়: অত্র, যত্র, তত্র, কর্মকর্তাবৃন্দ, শ্রোতাবৃন্দ প্রভৃতি। এগুলোর শুদ্ধরূপ যথাক্রমে: এখানে, যেখানে, সেখানে, কর্মকর্তৃবৃন্দ, শ্রোতৃবৃন্দ প্রভৃতি।

২২. কোনো তথ্য বা প্রতিবেদন তৈরির সময় যাদের উদ্দেশে লেখা হচ্ছে তাঁদের অনুধাবন সক্ষমতার বিষয়টি মনে রেখে ভাষা নির্ধারণ ও বাক্য  তৈরি করা উচিত। যাদের জন্য প্রতিবেদনটি লেখা হচ্ছে, তাঁরা যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন, সেদিকে লক্ষ না রাখলে পত্র প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যহত হতে পারে। বিষয়টির দিকে খেয়াল  রাখা পত্র-প্রেরকের অন্যতম কর্তব্য।

২৩. একটি পত্রে একাধিক বিষয়ের অবতারণা হলে পত্রে ভিন্ন বিষয়ের জন্য পৃথক অনুচ্ছেদ ব্যবহার করা সমীচীন।

২৪. Team Leader এবং Head of Delegation-এর ব্যবহার ভিন্ন। সরকারি আদেশ (জিও) জারির সময় এটি লক্ষ রাখতে হবে। বিদেশি মন্ত্রী বা Ambassador-এর নামের পূর্বে His/Her Excellency লিখতে হবে।২৫. ক্রিয়া পদে অর্থ-বিভ্রাটের

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

আশঙ্কা না-থাকলে অন্ত্যপদে ‘ও-কার’ বিধেয় নয়। যেমন— থাকো নয় থাক; যাবো নয় যাব। তবে অর্থ-বিভ্রাটের সম্ভাবনা থাকলে অন্ত্য শব্দে ‘ও-কার’ বিধেয়। যেমন— হল = বিরাট আয়তনের কক্ষ; হলো = অতীত কালের ক্রিয়া; ভাল = কপাল; (বিশেষ্য), ভালো = উত্তম (বিশেষণ); তৈরি = নির্মাণ, সৃষ্টি (বিশেষ্য), তৈরী = নির্মিত, সৃষ্ট (বিশেষণ); লক্ষ = সংখ্যা, খেয়াল, লক্ষ্য = উদ্দেশ্য; নিচ = নিম্ন, নীচ = হীন, অধম; কোন = প্রশ্নবাচক সর্বনাম। যেমন— কোন লোক, কোন ঘটনা, কোনটি; কোনো = প্রশ্নবাচক সর্বনাম। তবে উচ্চারণ ‘ও’ কারান্ত; মত = অভিমত (বিশেষ্য), মতো = ন্যায়, একই রকম (বিশেষণ)।

২৬. ইংরেজি ‘love’ শব্দের অর্থ ভালবাসা কিন্তু গুড শব্দের অর্থ ভালো। ভালোবাসা মানে ‘good house’ অন্যদিকে ভালবাসা মানে ‘love’। তাই ‘love’ বুঝাতে লিখুন ‘ভালবাসা’ কিন্তু ভালো যে বাসা বাগ্‌ভঙ্গির সমাসবদ্ধ পদ হিসাবে লিখুন ভালোবাসা।

২৭. সাধারণত সরাসরি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে ইনভারটেড  জোড় ঊর্ধ্ব কমা (“ ”) ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সমীচীন নয়। ওই সব ক্ষেত্রে ঊর্ধ্ব-কমা (‘ ’) ব্যবহার করুন।

২৮. পত্রে ‘সূত্রস্থ’ লেখা বাঞ্ছনীয় নয়। এর পরিবর্তে ‘সূত্রে উল্লিখিত’ বাগ্ভঙ্গিটি লিখুন। এটি যেমন শ্রুতিমধুর তেমনি সহজবোধ্য।


২৯. পত্রে প্রয়োজনবোধে বহুল পরিচিত আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নাম উল্লেখই যথেষ্ট। এরূপ সংস্থার নামের শেষে দেশ বা অবস্থান লেখার প্রয়োজন নেই। তবে অপরিচিত সংস্থাসমূহের ক্ষেত্রে দেশ ও অবস্থান লেখা উচিত। এককথায়, পত্র এমনভাবে লেখা উচিত যাতে তা প্রেরকের কাছে এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়। কোনো প্রশ্ন জাগ্রত হলে তার উত্তর যেন পত্রের মধ্যে পাওয়া যায়।

৩০. বাংলায় কোনো পত্র লেখার সময় যতদূর সম্ভব বাংলা শব্দ ব্যবহার করা উচিত। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলায় প্রচলন ও পরিচিতি লাভ করেছে, সেগুলো বাংলায় লেখা উচিত। প্রয়োজনবোধে বাংলার সঙ্গে ইংরেজি প্রতিশব্দ ব্র্যাকেটে লেখা যেতে পারে। অনেকে বাংলায় লিখিত পত্রে মাঝে মাঝে ইংরেজি শব্দ বসিয়ে দেন। এটি উচিত নয়।

বাম থেকে শুবাচের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ, শুবাচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মোহাম্মদ আমীন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং পুথিনিলয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল।

৩১. বাংলা ভাষায় লেখা কোনো পত্রের বাক্য-সূচনা ইংরেজি শব্দ, figure কিংবা abbreviation দিয়ে করা ঠিক নয়। কোথাও abbreviation ব্যবহার করতে হলে প্রথম ব্যবহারের সময় সম্পূর্ণ নাম এবং ব্র্যাকেটে সংক্ষিপ্তরূপ  বা abbreviation লেখা যেতে পারে।

৩২. কোনো সভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সচিব বা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য প্রণীত খসড়ায় সাদামাটাভাবে ‘এ বিভাগের অনাপত্তি তুলে ধরা যেতে পারে’ না-লিখে সুস্পষ্ট মন্তব্য/সুপারিশ উল্লেখ করা সমীচীন।৩৩. ইংরেজিতে পত্র বা প্রতিবেদন লেখার সময় অনাবশ্যকভাবে রোমান হরফ বা ক্যাপিট্যাল লেটারের (capital letter) ব্যবহার পরিহার করতে হবে। ইংরেজি ভাষায় যে সব ক্ষেত্রে capital letter ব্যবহারের বিধান রয়েছে কেবল সেসব ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করতে হবে।

৩৪. ‘অত্র’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘এখানে’। ‘অত্র’ না লিখে ‘এ’ বা ‘এই’ লিখুন। ইতঃপূর্বে লিখুন, ইতিপূর্বে নয়। এতদ্বারা নয়, লিখুন এতদ্দ্বারা।

৩৫. বচন পরিবর্তনে প্রমিত-রীতি অনুসরণে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকে কর্মকর্তার বহুবচন-প্রকাশে লেখেন ‘কর্মকর্তাগণ, কর্মকর্তাবৃন্দ’ কিন্তু নেতার বহুবচন-প্রকাশে লেখেন: নেত্রীবৃন্দ। এমনটি করা সমীচীন নয়। লিখুন কর্মকর্তৃগণ বা কর্মকর্তৃবৃন্দ, শ্রোতৃবৃন্দ, নেতৃবৃন্দ প্রভৃতি। কোনো শব্দের শেষে তা থাকলে তা বহুবচন করার সময় ‘ত’-এর নিচে র-ফলা যুক্ত হয়। এটাই ব্যাকরণের নিয়ম। অতএব নেতা শব্দের বহুবচন যে কারণে নেতৃবৃন্দ বা নেতৃগণ সে একই কারণে কর্মকর্তা শব্দের বহুবচন কর্মকর্তৃবৃন্দ বা কর্মকর্তৃগণ।

৩৬. একই বাক্যে একই পদের জন্য একাধিক বহুবচনাত্মক পদের প্রয়োগ বাক্যকে হাস্যকর ও বাহুল্যদোষে দুষ্ট করে তোলে। যেমন: সব অফিসারবৃন্দ যথাসময়ে হাজির হয়েছেন। এখানে ‘সব’ যেহেতু বহুবচনাত্মক পদ সুতরাং পুনরায় অফিসার শব্দের সঙ্গে বহুবচনাত্মক পদ যুক্ত করা সমীচীন নয়। এমন নিয়ম ইংরেজিতে চলে, বাংলায় নয়।

৩৭. বিভিন্ন পত্র ও সার-সংক্ষেপে কখনো কখনো ‘সুতারং’, ‘উল্লেখিত’ ও ‘তদানুযায়ী’ ইত্যাদি লেখা হচ্ছে। এগুলো অশুদ্ধ বানান। এ শব্দগুলোর শুদ্ধ বানান হচ্ছে যথাক্রমে সুতরাং, উল্লিখিত, তদনুযায়ী।

৩৮. ‘সফরকালীন সময়ে’ বা ‘মেয়াদকালে’ বা চলাকালীন সময়ে বাগ্‌ভঙ্গির শুদ্ধ রূপ হচ্ছে যথাক্রমে : ‘সফরকালে’ এবং ‘মেয়াদে’ ও চলাকালীন/চলাকালে

৩৯. ‘যেন’ ও ‘যাতে’ শব্দদ্বয় অনেক সময় অভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে শব্দদ্বয়ের অর্থে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। তাই ‘যেন’ শব্দের পরিবর্তে ‘যাতে’ কিংবা ‘যাতে’ শব্দের পরিবর্তে ‘যেন’ ব্যবহার সমীচীন নয়। দাপ্তরিক পত্রে সার্বিক বিবেচনায় ‘যাতে’ শব্দটির ব্যবহার অধিক যুক্তিযুক্ত।

৪০. ‘সাথে’ শব্দের পরিবর্তে ‘সঙ্গে’, ‘প্রেক্ষিতে’ শব্দের পরিবর্তে ‘পরিপ্রেক্ষিতে’, ‘আর্থিক-সহায়তার’ পরিবর্তে ‘আর্থিক-সহায়তা’ এবং ‘your quick response’ এর পরিবর্তে ‘your early response’ লেখা সমীচীন। তবে এটি কোনো ব্যাকরণ-সিদ্ধ কঠিন বিধি নয়। কিন্তু বাক্যের সৌন্দর্য, এবং শালীন বক্তব্যের জন্য এমন করা সমীচীন।

৪১. গরমিল, বিদ্যুৎ, উচিত, যাবৎ- এ শব্দগুলোর বানানের শুদ্ধতার প্রতি যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়।


৪২. স্মরণ, শরণ, সরণ এ শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন। এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।৪৩. ঘটনোত্তর, যুগোপযোগী, পরিষ্কার, পুরস্কার, রক্ষণ, অসম, সুষম, পরিষেবা, উপর্যুক্ত- এ শব্দগুলোর বানান অনেকে ভুল করে থাকেন। এ সব শব্দের বানান যাতে ভুল না-হয় তদ্বিষয়ে সতর্কতা বাঞ্ছনীয়। বানান মনে রাখার কৌশল: যুগ+উপযোগী=যুগোপযোগী। অর্থাৎ  প্রথম শব্দের শেষ বর্ণে ও-কার হবে।

৪৪. বিশেষণ সর্বদা সংশ্লিষ্ট বিশেষ্যের অব্যবহিত পূর্বে রাখা বাঞ্ছনীয়। যেমন ‘খাটি গরুর দুধ’ নয়, লিখুন : গরুর খাঁটি দুধ। ‘বিজ্ঞ বিরোধীপক্ষের আইনজীবী’ নয়, লিখুন : ‘বিরোধীপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী’ প্রভৃতি।

৪৫. অনেকে ‘ও’ আর ‘এবং’-এর ব্যবহার গুলিয়ে ফেলেন। বস্তুত ‘এবং’ যুক্ত করে দুটি বাক্য বা বাক্যাংশকে। যেমন— কামাল ও জামালের বিরোধ মীমাংসা হয়ে গেছে এবং উভয়ের মধ্যে আবার নতুনভাবে ব্যবসায় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ‘ও’ সংযুক্ত করে দুটি পদ এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুটি বাক্যাংশকে। যেমন— আম, জাম, লিচু ও কলা দেশীয় ফল।

৪৬. ‘এমতাবস্থায়’ শব্দের চেয়ে ‘এ অবস্থায়’ অতএব, তাই প্রভৃতি অনেক শ্রুতিমধুর। ‘এ অবস্থায়’ লিখলে এ কথাটির পর কমা দিতে হবে।

৪৭. ‘উপ-’, ‘সহ-’ ‘যুগ্ম-’ প্রভৃতি বিশেষণবাচক শব্দ পরের শব্দের সঙ্গে সেঁটে  লিখতে হবে। যেমন— উপসচিব, উপপরিচালক, সহসভাপতি, যুগ্মসচিব প্রভৃতি।

৪৮. বাংলা হরফের মধ্যে ব্যবহৃত ইংরেজি হরফ বাংলার চেয়ে ২ পয়েন্ট ছোটো হবে।

৪৯. অনেকে মনে করেন, চিঠিপত্রে বহুল-ব্যবহৃত ‘সবিনয়ে অনুরোধ’ বাগ্‌ভঙ্গিটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। অনুরোধ সবসময় বিনয়পূর্বক করা হয়। তাই অনুরোধের ক্ষেত্রে ‘সবিনয়’ শব্দটি বাহুল্য। এমনটি ভাবা ঠিক নয়। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সবিনয় শব্দটি বাহুল্য নয়। এখন নির্দেশ অর্থেও অনুরোধ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

৫০. “ইহা মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য প্রেরণ করা হলো”— এ বাক্যে সাধু-চলিতের মিশ্রণ রয়েছে। বাক্যটি লিখবেন এভাবে— “মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য এই পত্র প্রেরণ করা হলো” অথবা লিখুন, “মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য এটি প্রেরণ করা হলো”।

৫১. ‘সাথে’ ও ‘মাঝে’ শব্দ দুটি কবিতা ও পদ্যে বেশি মানায়। গদ্যের ক্ষেত্রে লিখতে হবে ‘সঙ্গে’ ও ‘মধ্যে’। তবে এ বিষয়ে কোনো কঠিন বিধি নেই। কিন্তু লেখার আদর্শমান রক্ষা করার লক্ষ্যে এটি অনুসরণ করা সমীচীন।  

৫২. শব্দের শেষে বিসর্গ দেবেন না। যেমন— সাধারণত, কার্যত, মূলত, বস্তুত, প্রধানত, প্রায়শ প্রভৃতি বাক্যের শেষে অনেকে বিসর্গ দিয়ে লেখেন। যেমন— সাধারণতঃ, কার্যতঃ, মূলতঃ, বস্তুতঃ, প্রধানতঃ, প্রায়শঃ প্রভৃতি। এমন লিখবেন না। লিখুন: সাধারণত, কার্যত, মূলত, বস্তুত, প্রধানত, প্রায়শ প্রভৃতি।

৫৩. না-বাচক অব্যয়সমূহের মধ্যে ‘না’ শব্দটি সংশ্লিষ্ট শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসবে না। যেমন: খাব না, পাব না, দেব না, আমি না ইত্যাদি। তবে না-বাচক ‘নি’ পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসবে। যেমন: খাইনি, পাইনি, যাইনি প্রভৃতি।

৫৪. ‘ভূ’ মানে ভূমি, মাটি, পৃথিবী প্রভৃতি। ভূগোল, ভূমণ্ডল, ভূমিকম্প, ভূপৃষ্ঠ, ভূতল, ভূধর, ভূম, ভূম্যাধিকারী, ভূলোক, ভূর্লোক প্রভৃতি বানানে ‘দীর্ঘ ঊ-কার’ হলেও ‘ভুবন’ বানানে ‘হ্রস্ব উ-কার। ভূগোল, ভূমণ্ডল, ভূমিকম্প, ভূপৃষ্ঠ, ভূতল, ভূধর, ভূম, ভূম্যাধিকারী, ভূলোক, ভূর্লোক প্রভৃতি শব্দের উৎসমূল ‘ভূ’ বা ‘ভূমি’ বা ‘মাটি’ কিন্তু ভুবন শব্দের উৎসমূল ‘ভূ’ বা মাটি নয়। ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত ‘সপ্তস্বর্গ ও সপ্তপাতাল’কে একত্রে ভুবন বলা হয়। ভুবন নিজেই একটি নির্দিষ্ট অর্থ স্বাধীনভাবে ধারণ করে। ‘ভুবন’ এর ‘ভু’ যেমন মাটি নয়, তেমনি এর অন্তর্গত ‘বন’ কোনো জঙ্গলও নয়। কাজেই নজরুল ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ’ গজলে ‘ত্রিভুবন’ বলতে শুধু পৃথিবীকে প্রকাশ করেননি, ‘সপ্তস্বর্গ ও সপ্তপাতাল’ও বুঝিয়েছেন। তবে ‘ভূ’ বা ‘ভূমি’ বা ‘মাটি’ যেহেতু ‘ভুবন’-এর একটি অংশ তাই অনেকে ভুবন শব্দটি ‘পৃথিবী’র একটি সমার্থক শব্দ হিসাবেও ব্যবহার করে থাকেন।


সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, পাঞেরী পাবলিকেশন্স লি.

লিংক: https://draminbd.com/সরকারি-বেসরকারি-ও-প্রাত্/

সরকারি বেসরকারি ও প্রাত্যহিক কাজে প্রমিত বাংলা লিখনবিধি

সরকারি বেসরকারি ও প্রাত্যহিক কাজে প্রমিত বাংলা লিখনবিধি (১ থেকে ৫৩)

সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে পত্র যোগাযোগে প্রমিত বাংলা লিখনবিধি (১-৫৩)

error: Content is protected !!