সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা  : শেখ মুজিবের প্রতিক্রিয়া

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন বাংলাকে বাদ দিয়ে একমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার তৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিব

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২রা মার্চ, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে শেখ মুজিবের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হড। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই মার্চ, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট আহবানকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই মার্চ বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তিপান।

কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গ্রেফতার

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।  ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ভাগের পরপরই দেশের অভ্যন্তরে ধান-চাল চলাচলে ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়। ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব-বাংলার ১৭টি জেলাতে। যে সমস্ত জেলায় তখন ‘কর্ডন প্রথা’ চালু ছিল সেসব জেলার বাইরে কোনো ধান-চাল বেসরকারিভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

 রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে কারাগারে অনশন

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবীতে কারাগারে অনশন শুরু করেন। একনাগাড় অনশনে অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চলে। শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, অহিদুল্লাহ-সহ  আরো অনেকে। জেল থেকে বঙ্গবন্ধু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন এবং একটানা ৩ দিন বিবৃতি প্রদান অব্যাহত রাখেন। ওই সময় শেখ মুজিব কারাগারে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনশন করছিলেন। 

সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের প্রথম আহবায়ক
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের প্রথম আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব। বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির প্রথম আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন এবং সবর্দলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদের প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ শে ফেব্রুয়ারি নওয়াবপুর রোডে আওয়ামীগ অফিসে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন জনাব আবুল হাসেম।

তমদ্দুন মজলিশ

error: Content is protected !!