সলিল চৌধুরী : আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা  এবং গণসংগীত প্রণেতা

ড. মোহাম্মদ আমীন

সলিল চৌধুরী : আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা  এবং গণসংগীত প্রণেতা

সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার এবং গল্পকার সলিল চৌধুরী  ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে নভেম্বর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার রাজপুর সোনারপুর অঞ্চলের গাজিপুরে  জন্মগ্রহণ করেন এবং   ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই সেপ্টেম্বর মারা যান।

পিতামাতার আট ভাইবোনের মধ্যে সলিল চৌধুরী ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বাবা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী ছিলেন আসামের লতাবাড়ি চা বাগানের ডাক্তার। বাবার কাছেই তাঁর সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি। শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছে আসামের চা বাগানে। সলিল চৌধুরী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাষগ্রামে, (প্রাক্তন কোদালিয়া) মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। তিনি হারিনাভি বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন এবং উচ্চ মাধ্যমিক (আইএসসি) পাশ করেন। এরপর কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তিনি মূলত বাংলা, হিন্দি, এবং মালয়ালাম চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। সলিল চৌধুরী আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা  এবং গণসংগীত প্রণেতা হিসেবে খ্যাত। বন্ধুমহলে তিনি সলিলদা নামে পরিচিত ছিলেন। সলিল চৌধুরীর স্ত্রীর নাম সবিতা চৌধুরী। তাঁরা যথাক্রমে  দুই কন্যা এবং এক পুত্রের জনক ও জননী।

১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে  স্নাতক পড়ার জন্য কলকাতায় এলে  ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক দল ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ-এ (Indian Peoples Theater Association) যোগ দেন। এসময় তিনি গণসংগীত লিখতে এবং এর সুর দিতে শুরু করেন।  এসময় লেখা ও সুর করা  বিচারপতি , রানার এবং অবাক পৃথিবীর মতো গানগুলো তখন সাধারণ মানুষের  কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।বিশ বছর  বয়সে সুর করা কোনো এক গাঁয়ের বধু  গানটি বাংলা সংগীতে একটি নতুন ধারা তৈরি করেছিল। এসময়  হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেক খ্যাতিমান শিল্পী তার লেখা ও সুর-করা  এ গানগুলো গেয়েছেন।

 ১৯৪৯ খ্র্রিষ্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত  “পরিবর্তন” সলিল চৌধুরীর প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র।  তিনি সর্বমোট  ৪১টি বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। সর্বশেষ চলচ্চিত্র  “মহাভারতী”। এটি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়।

ড, মোহাম্মদ আমীন

১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বিমল রায় পরিচালিত দো ভিঘা জামিন চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে সলিল চৌধুরীর হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক।  সলিল চৌধুরীর লেখা ছোটোগল্প “রিকশাওয়ালা” অবলম্বনে এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি  প্রথমে ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে।

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সলিল চৌধুরী চিম্মিন শিরোনামের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি মালয়ালাম চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন।  মালয়ালাম চলচ্চিত্রে তার গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

সলিল চৌধুরী প্রায় ৭৫টির বেশি হিন্দি চলচ্চিত্র, ৪১টির মতো বাংলা চলচ্চিত্র, প্রায় ২৬টি মালয়ালাম চলচ্চিত্র এবং বেশ কিছু মারাঠী, তামিল, তেলেগু, কান্নাডা, গুজরাটি, ওড়িয়া এবং অসামীয়া চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

  ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

কিছু প্রয়োজনীয় পোস্ট

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক
এই পোস্টের ওয়েব লিংক: কিছু প্রয়োজনীয় পোস্ট

আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা

error: Content is protected !!