সাষ্টাঙ্গ প্রণাম অষ্টাঙ্গ প্রণাম এবং কদম গাছে কানাই

ড. মোহাম্মদ আমীন

সাষ্টাঙ্গ প্রণাম অষ্টাঙ্গ প্রণাম এবং কদম গাছে কানাই

সাষ্টাঙ্গ প্রণাম অষ্টাঙ্গ প্রণাম
সাষ্টাঙ্গ সংস্কৃত শব্দ। এটি বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সহ+অষ্টাঙ্গ = সাষ্টাঙ্গ। সুতরাং ‘সাষ্টাঙ্গ’ শব্দকে বলতে পারি অষ্টাঙ্গ-সহ। তাই, অষ্টাঙ্গ দিয়ে যে প্রণাম করা হয় তাকে বলা হয় সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বা অষ্টাঙ্গ প্রণাম।
 
এবার দেখি অষ্টাঙ্গ কী?
পৌরাণিকমতে, জানু, চরণ, হস্ত, বক্ষ, মস্তক, চক্ষু, দৃষ্টি ও বাক্য প্রভৃতিকে একত্রে অষ্টাঙ্গ বলা হয়। ‘সাষ্টাঙ্গ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অষ্ট অঙ্গ দ্বারা করণীয়। যাকে সহজভাবে বলা যায়, কারো প্রতি নিবিড় শ্রদ্ধা প্রকাশ, বিনয়াবনত সম্মান প্রদর্শন প্রভৃতি। যেমন : সাষ্টাঙ্গ প্রণাম। উল্লেখ্য, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম কথাটির অর্থ উপুড় হয়ে শুয়ে প্রণাম।
 
এটি অষ্টাঙ্গ প্রণাম নামেও পরিচিত। শাস্ত্রমতে, চক্ষু দ্বারা মূর্তি দর্শন ও মন দ্বারা চিন্তা, এবং জানুদ্বয়, পদদ্বয়, হস্তদ্বয়, বক্ষ ও মস্তক— এই পাঁচ অঙ্গ ভূমি-লগ্ন করিয়া, বাক্য দ্বারা প্রণাম মন্ত্র পাঠ করিয়া দণ্ডবৎ প্রণামকে অষ্টাঙ্গ বা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
 
 
কদম গাছে কানাই

‘কদম গাছে কানাই’ একটি প্রবচন। এই প্রবচনের অর্থ লম্পট, দুশ্চরিত্র। শ্রীকৃষ্ণ কদম গাছের তলায় বাঁশী বাজাইয়া গোপীদের মন হরণ করিতেন। (সূত্র : শ্রীসুধীরচন্দ্র সরকার, বিবিধার্থ অভিধান, প্রথম প্রকাশ বৈশাখ, ১৮৮৪ শকাব্দ, পৃষ্ঠা ১৬৩। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কো. প্রাইভেট লি., ৯৩ মহাত্মা গান্ধী রোড, কলকাতা -৭।)

পুরাণের শ্রীকৃষ্ণ বংশীবাদক, কিন্তু তিনি কদমগাছের তলায় বাঁশি বজাতেন এটা নিতান্তই বাংলা রূপকল্প। বাংলার কবি চণ্ডীদাস লিখেছেন
হাথে ভাণ্ড মাথে করী চান্দচন্দন চর্চ্চিত গাএ।যমুনার তীরে কদমের তলেকে না বাঁশী বোলাএ ॥
একবার বিবেচনা করুন, ভারতের উত্তরপ্রদেশে স্থিত বৃন্দাবনে কি বাংলাদেশের মত কদমগাছ ছিল?
অনেকের মতে, চণ্ডীদাসের পুরো কাব্যই অশ্লীল ও অশালীন ভঙ্গিতে ভরপুর, যা আদিরসাত্মক সাহিত্যরূপে শিল্পগুণের দাবিদার কিন্তু কৃষ্ণের চরিত্রবিচারের উপযুক্ত গ্রন্থ নয়। রাধা ও কৃষ্ণের পরকীয়া প্রেম নিয়ে সমাজে যা প্রচলিত, তা সম্পূর্ণই সাহিত্যনির্ভর, এর পৌরাণিক ভিত্তি নেই। একমাত্র ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ছাড়া আর কোন পুরাণে রাধার নামই পাওয়া যায় না। পুরাণবিশেষজ্ঞগণ বলেন আদি ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ হারিয়ে গেছে, বর্তমানে প্রাপ্ত সংস্করণটি আধুনিক রচনা এবং এতে রাধার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাবিষয়ক কল্পনা ভারতীয় সাহিত্যের ছায়ায় বিকশিত হয়েছে, পুরাণের শ্রীকৃষ্ণচরিত্র এর সঙ্গে মেলে না।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি
শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান
 
error: Content is protected !!