সুইজারল্যান্ড (Switzerland) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

সুইজারল্যান্ড (Switzerland)

সুইস বা সুইজারল্যান্ড ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত একটি স্থলবন্দি রাষ্ট্র। সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণে ইতালি, পশ্চিমে ফ্রান্স, উত্তরে জার্মানি এবং পূর্বে অস্ট্রিয়া ও লিচটেনস্টেইন। আল্পস পর্বতমালা ও প্রশস্ত হ্রদ সুইজারল্যান্ডকে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভূষিত করেছে। বিশ্বের পর্যটকদের জন্য এটি অন্যতম আকর্ষণীয় একটি দেশ।

সুইজারল্যান্ড অর্থ সুইস জাতিগোষ্ঠীর দেশ। অ্যালাম্যানিক নামবাচক শব্দ সুইটো (Suito) থেকে সুইটেস (Suittes) নামের উদ্ভব। এটি ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

প্রথম Schwyz  নামে পরিচিতি পায়। সুইস জাতি গোষ্ঠীর লোকজন যে ভূমিতে বসবাস করে, সেটি সুইজারল্যান্ড। এর জার্মান নাম Schweiz, ফ্রেঞ্চ নাম Suisse, ইতালিয়ান নাম Svizzera এবং ল্যাটিন নাম Helvetia হেলভেটিয়া। সেলেটিক লোকেরা রোমানদের হেলভেটি বলত। এ হেলভিটি হতে হেলভিটিয়া নামের উৎপত্তি।

সুইজারল্যান্ডের আয়তন ৪১,২৮৫ বর্গকিলোমিটার বা ১৫,৯৪০ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ৪.২%। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে  ৮২,১১,৭০০ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ১৯৮ জন। আয়তন বিবেচনায় সুইজারল্যান্ড পৃথিবীর ১৩৫-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ৯৬-তম। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ৬৫-তম জনবহুল দেশ। সরকারিভাবে সুইজাল্যান্ডের অধিবাসীরা সুইস নামে পরিচিত। জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও রোমান্স এখানকার সরকারি ভাষা। বার্ন দেশের রাজধানী এবং জুরিখ বৃহত্তম শহর। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের বর্তমান পতাকা গৃহীত হয়।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে সুইজারল্যান্ডের জিডিপি (পিপিপি) ৪৮০.৯৩৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৫৮,৭৩১। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ৬৮৮.৪৩৪ এবং মাথাপিছু আয় ৮৪,০৭০ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম সুইস ফ্রাঙ্ক। এটি পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশ।

সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি, ট্রেন এবং চকলেট খ্যাতি বিশ্বজোড়া। দেশটির কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই। রাজনীতিক অবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ়। প্রতিবছর ১ জানুযারি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তিত হয়। ছয় বৎসরের জন্য গঠিত মন্ত্রীপরিষদের একজন পালাক্রমে এক বৎসরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়েত্ব পালন করেন। সুইজারল্যান্ডে মোট ২৬টি ক্যান্টন রয়েছে। ঐতিহাসিক কনফেডারেশনের সময় এর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল যাদের পৃথক সীমানা ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও ছিল। বর্তমানে এর সবগুলো সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত।

চকললেট সুইজারল্যান্ডের প্রথম রপ্তানি পণ্য। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে  মাত্র ১২টি চকলেট কোম্পানি ১,৭২,৩৭৬ টন চকলেট উৎপাদন করেছিল। ভক্সওয়াগন ও অডি সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত গাড়ি-প্রস্তুত কোম্পানি। সুইজারল্যান্ডের ৭০% পর্বতে আবৃত। এখানে ৩০০০ মিটারের উঁচু ২০৮টি পর্বত রয়েছে। তন্মধ্যে ২৪টির উচ্চতা ৪,০০০ মিটার এর অধিক।  সুইস-ইতালিয়ান সীমান্তে অবস্থিত ৪,৬৩৪ মিটার উঁচু মাউন্ট রোসা  দেশের সর্বোচ্চ পর্বত। পর্বতময় হলেও

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

এখানে রয়েছে ১৫০০ এর অধিক হ্রদ। এক হ্রদ হতে ১০ মাইল গেলে নতুন আর এক হ্রদের দেখা মেলে। তাই সুইজারল্যান্ডের ৬০% জলবিদ্যুৎ। রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩,১০০ মাইল। রেলপথের দৈর্ঘ্য বিবেচনায় জাপানের পর সুইজারল্যান্ডের স্থান। শুধু গাড়ি নয়, বাইসাইকেল চালাতে হলেও ইনসুরেন্স স্টিকার লাগাতে হয়। প্রতি ১০০০ অধিবাসীর জন্য রয়েছে ৫.৮টি হাসপাতাল বেড। গুণগত মান বিবেচনায় সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি বিশ্বে খ্যাত। ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে  সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে রেডক্রসের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুইজারল্যান্ডের মোট জনগনের ৬% এর বয় ৬৫ বছরের অধিক। পুরুষের গড় বিয়ের বয়স ৩১.৮  বছর এবং মেয়েদের ২৯.৫ বছর। বিবাহ-বিচ্ছেদের হার ৪৩%। কর্মে নিয়োজিতদের ৮৫% পুরুষ ও ৪১% মহিলা। নারী-পুরুষের মধ্যে বেতন বৈষম্য ১৭%। বিয়ের পর অনেক মহিলা শিশুদের যত্ন করার জন্য চাকরি ছেড়ে দেয়। পুরুষ ও নারীদের ধুমপানের হার যথাক্রমে ২১% ও ১৭%।

সুইজারল্যান্ডের জনগণের ৪২% রোমান ক্যাথলিক, ৩৫% প্রটেস্ট্যান্ট, ৪% মুসলিন, ০.৩% ইহুদি এবং০.২% ইহুদি

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

এবং ১১% উদার বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী নন। ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান ও রায়েটো রোমান্স সুইজারল্যান্ডের দাপ্তরিক ভাষা। গড়ে প্রতিবছর সুইজারল্যান্ডের একজন নাগরিক ৫৬.৫ লিটার বিয়ার এবং ৩৫ লিটার মদ পান করে। সুইজারল্যান্ডে প্রস্তুত মদের মাত্র ২% রপ্তানি হয়। ৯৮% নিজেরাই পান করে ফেলে। ভাঙ গ্রহণে সুইজারল্যান্ড বিশ্বের প্রধান কয়েকটি দেশের অন্যতম। সুইজারল্যান্ডের ৬ লাখ লোক বছরে ১০০ টন সিদ্ধি ও মারিজুয়ানা ব্যবহার করে।

এখানে অপরাধের হার খুবই কম। বন্দুকের লাইসেন্স প্রদানে সুইস সরকার খুব উদার। ৮ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ৪.৫ মিলিয়ন লোকের লাইসেন্স করা বন্ধুক আছে। তবু ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী প্রতি ১ লাখে বন্দুকজনিত খুনের হার মাত্র ০.৫। যা অবিশ্বাস্য রকমের কম।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবহাওয়া, পরিবেশ, অপরাধের নিম্নতম মাত্রা, জনগণের ব্যবহার, রাজনীতিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় উদারতা, লিঙ্গসমতা, গুণগত পারিবারিক জীবন, সরকারি সংস্থার বিশ্বস্ততা, উন্নত জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সহজলভ্যতা, কর্মসংস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবাধিকার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রভৃতি বিবেচনায় সুইজারল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম দেশ।


সার্বিয়া (Serbia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্লোভাকিয়া (Slovakia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্লোভেনিয়া (Slovenia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্পেন (Spain) : ইতিহাস ও নামকরণ

সুইডেন (Sweden) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!