সুইডেন (Sweden) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

সুইডেন (Sweden)

সুইডেন ইউরোপ মহাদেশের একটি রাষ্ট্র। এটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত। সুয়েডীয় সুইডেনের রাষ্ট্রভাষা। রাষ্ট্রের

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

উত্তর-পূর্বদিকে রয়েছে ফিনল্যান্ড, পশ্চিমদিকে নরওয়ে ও দক্ষিণ-পশ্চিমদিকে ওরেসুন্দ সেতু। যেটা দিয়ে ডেনমার্ক যাওয়া যায়। সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশেগুলোর বৃহত্তম রাষ্ট্র। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২২ জুন সুইডেনের বর্তমান পতাকা গ্রহণ করা হয়। নরওয়ে ও সুইডেন উভয় দেশের জন্য কিংডম অব সুইডেন ব্যবহার করা হয়।

সুইডিশ (Swedes) হচ্ছে সুইডি( Swede) শব্দের বহুবচন। প্রাচীন ইংরেজি শব্দ ঝবিড়গবড়ফ, প্রাচীন নর্স (Old Nors) ভাষার শব্দ ঝারহ্মলড়ড় হতে শব্দটির উদ্ভব। Svi এর ব্যুৎপত্তি suos এর অর্থ নিজের, নিজের আত্মীয়। দ্বিতীয় অংশ pjoM এর অর্থ people বা জনগণ।

সুইডেনের আয়তন ৪,৫০,২৯৫ বর্গকিলোমিটার বা ১,৭৫,৮৯৬ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ৮.৭ ভাগ। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে সুইডেনের জনসংখ্যা ৯৮,১৬,৬৬৬ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ২১.৫। আয়তন বিবেচনায় সুইডেন পৃথিবীর ৫৫-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায়  ৯০-তম বৃহত্তম দেশ। অন্যদিকে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর  ১৯৪-তম জনবহুল দেশ।

সরকারি ভাষা সুইডিশ। সরকারিভাবে সুইডেনের অধিবাসীদের সুইডিশ বা সুয়েড বলা হয়। সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত। সুইডেনের জনসংখ্যার প্রায় ৮৫% শহরকেন্দ্রিক এবং দেশের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত শহরসমূহে বসবাস করে।

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

সুইডেনের সর্ববৃহৎ শহর এবং রাজধানী হল স্টকহোম। উনবিংশ শতক থেকেই সুইডেন একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং কোনো প্রকার যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থেকেছে।

২০১৫ খ্র্স্টিাব্দের হিসাবমতে, সুইডেনের জিডিপি (পিপিপি) ৪৬৭.৪৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৪৭,৩১৯ ইউএস ডলার। আবার জিডিপি (নমিনাল) ৪৮৩.৭২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৪৮,৯৬৬। মাথাপিছু আয় বিবেচনায় সুইডেন পৃথিবীর ৭ম ধনী দেশ। মুদ্রার নাম সুইডিশ ক্রোনা।

নরওয়ে ও সুইডেনে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সুইডেন প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নিরপেক্ষ ছিল। পৃথিবীর প্রথম আইস হোটেল সুইডেনে প্রস্তুত করা হয়। ইউরোপের বৃহত্তম মল সুইডেনের গোথেনবার্গে অবস্থিত। এর আয়তন ৩,২০,০০০ বর্গমিটার। মাথাপিছু অধিবাসী বিবেচনায় সুইডেনে ম্যাকডোনালন্ড রেস্টুরেন্ট সর্বাধিক। সুইডেনে ১০টি নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর রয়েছে। রাশিয়ার সব জার ছিলেন সুইডিশ ভাইকিং বংশোদ্ভুদ। বেশ্যবৃত্তি সুইডেনে আইনসিদ্ধ তবে প্রচার আইনসিদ্ধ নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিদিন শিক্ষায় ব্যয় করে সুইডিশ। তাদের গড় শিক্ষাকাল বা শিক্ষার্থী বয়স ২৫.৫ বছর।

২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, সুইডেনের জনগণের আয়- বৈষম্য পৃথিবীর সবচেয়ে কম। পুরুষ ও নারীর আয় বৈষম্য সুইডেনে

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

সবচেয়ে কম। এটি মাত্র ৪%। পৃথিবীর কর্মরত মায়েদের হার বিবেচনায়ও সুইডেন প্রথম। সুইডেনে ৭৬% মা কর্মজীবী। সুইডেনে প্রতি ১০০০ মানুষের রয়েছে ৫০০ কম্পিউটার। যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ। মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বিবেচনায় সুইডেন পৃথিবীর সবচেয়ে উদার দেশ। পিতামাতা উভয়ে মিলে ৪৮০দিন বা ১৬ মাস ছুটি নিতে পারে।

ভলভো, স্ক্যানিয়া ট্রাক, সাব প্রভৃতি সুইডেনের কোম্পানি। মাথাপিছু হিসাবে সুইডেনে নিবন্ধিত পেটেন্টের ঘনত্ব  ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুইডেনে। সুইডেনে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য প্যাটেন্টের সংখ্যা ২৭১। দেশের মোট জিডিপির ৫৪.২% আসে কর হতে। জিডিপিতে আয়কর বিবেচনায় এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ হার। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সুইডেনের ইরিকসন কোম্পানি ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম মোবাইল প্রস্তুত কোম্পানি।

স্টকহোম গ্লোভ এরিনা পৃথিবীর বৃহত্তম গোলার্ধ ভবন। এর ব্যাস ১১০ মিটার, অভ্যন্তরীণ উচ্চতা ৮৫ মিটার এবং মোট আয়তন ৬,০০,০০০ ঘনমিটার। এটা সৌরমণ্ডলে পৃথিবীর বৃহত্তম স্কেল মডেল। স্টকহোমের রাজকীয় প্রসাদের মোট আয়তন ৬১,২১০ বর্গমিটার বা ৬,৫৮,৮৫০ বর্গফুট। এটি সেন্ট পিটার্সবার্গের শীতকালীন প্রসাদ থেকে কছুটা বড় এবং ফ্রান্সের ভার্সাই (Versailles) প্রসাদের চেয়ে কিছুটা ছোট। ১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে  স্টকহোম প্রসাদ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।


মোনাকো (Monaco) : ইতিহাস ও নামকরণ

মন্টিনেগ্রো (Montenegro) : ইতিহাস ও নামকরণ

নেদারল্যান্ডস (Netherlands) : ইতিহাস ও নামকরণ

নরওয়ে (Norway) : ইতিহাস ও নামকরণ

পোলান্ড (Poland) : ইতিহাস ও নামকরণ

পর্তুগাল (Portugal) : ইতিহাস ও নামকরণ

রোমানিয়া (Romania) : ইতিহাস ও নামকরণ

রাশিয়া (Russia) : ইতিহাস ও নামকরণ

সান ম্যারিনো (San Marino) : ইতিহাস ও নামকরণ

সার্বিয়া (Serbia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্লোভাকিয়া (Slovakia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্লোভেনিয়া (Slovenia) : ইতিহাস ও নামকরণ

স্পেন (Spain) : ইতিহাস ও নামকরণ

 

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

error: Content is protected !!