সুকানি বনাম সুকানী এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর

খুরশেদ আহমেদ
সংযোগ: https://draminbd.com/সুকানি-বনাম-সুকানী-এবং-প্/

‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_১

১.০। ‘সুকানি’  ‘সুকানী’ আমি পেয়েছি ও জেনেছি কেবলই অতি সম্প্রতি যখন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর বিভিন্ন পিলারে অল্প ক-দিনের ব্যবধানে একের পর এক ধাক্কা খেতে (বা ধাক্কা দিতে) থাকে এবং এ-ঘটনা বা দুর্ঘটনাগুলোর জন্য ওই ফেরির মাস্টার ও সুকানি বা সুকানীদের দায়ী করে তাঁদের ‘সাময়িকভাবে বরখাস্ত’ করার খবর প্রকাশিত হতে থাকে।

১.১। ১৩ আগস্ট ২০২১ বাংলা ট্রিবিউন লেখে, “পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেওয়া ‘কাকলী ফেরি’র মাস্টার মো. বাদল হোসেন ও হুইল সুকানি আব্দুর রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।”

১.২। একই তারিখ অর্থাৎ ১৩ আগস্ট ২০২১ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, “৯ আগস্ট রাতে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর খুঁটিতে আঘাত করে। … এ ঘটনায় পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ লৌহজং থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করে এবং ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার ও হুইল সুকানীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। … আরো আগে ২৩ জুলাই নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ‘শাহজালাল’ নামে রো রো ফেরির সংঘর্ষ হয়। … সে ঘটনার পরও ফেরির ইনচার্জ ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমান ও সুকানী সাইফুল ইসলামকে বরখাস্ত করে বিআইডব্লিউটিসি।”

১.৩। ২৫ জুলাই ২০২১ jagonews24.com লেখে, “নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেয়ার জন্য ফেরি শাহজালালের মাস্টার ও সুকানিকে দায়ী করেছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। মাস্টার ও সুকানির ‘অদক্ষতা ও অসতর্কতা’য় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে কমিটি।”

১.৪। ‘সুকানি’  ‘সুকানী’ বানানের বহুরূপতা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান আগামী পর্বগুলোতে চলমান থাকবে বলে আশা করি।

‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_২

২.০। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে লিখছে ‘সুকানি’ বা ‘সুকানী’ পদটির বানান?

২.১। ২৮ এপ্রিল ২০১৪ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড লিখেছে:
‘ক্যাটাগরীর নাম ও বেতন স্কেল’
সুকানী
বেতন স্কেল: টাকা ৪৪০০-২২০x৭-৫৯৪০-ইবি ২৪০x১১-৮৫৮০”।

২.২। ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের অফিস আদেশে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ‘পদবী’ কলামে লিখেছে ‘সুকানী’

২.৩। “আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯” জানিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার বিজ্ঞপ্তিতে “পদের নাম, গ্রেড ও বেতন স্কেল (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)”-শীর্ষক কলামে লিখেছে:
সুকানি, (গ্রেড ১৬,
বেতন স্কেল : ৯৩০০-২২৪৯০)”।

২.৪। ১৬ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ২২ জানুয়ারি ২০২১-এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তার বিজ্ঞপ্তিতে ‘পদের নাম’ লিখেছে “সুকানী (পুরুষ)“।

২.৫। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিসি ২৪ জুলাই ২০২১ তারিখে তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছে:
“বিআইডব্লিউটিসির স্টাফ ফেরী গোলাম মাওলার হুইল সুকানী জনাব শাহ আলম আজ সকাল ৬.০০ ঘটিকায় সময় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।”

২.৬। সংযোজিত উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই ‘সুকানি’, ‘সুকানী’ ইত্যাদি বানান রূপের ব্যবহারে সমতাবিধানের কোনো সমন্বিত প্রয়াস নেই।

‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_৩
৩.০। ‘সুকানি’ মানে কী? অভিধান কী বলে?
৩.১। বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, পঞ্চম পুনর্মুদ্রণ জুন ২০০৮] লিখেছে:
“সুকনি, সুকানি বি কর্ণধার; নৌকা বা জাহাজের হাল ধরে যে। [আ.]”
৩.২। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান [দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৯২-এর পরিমার্জিত সংস্করণ ডিসেম্বর ২০০০লিখেছে:
“সুকানি, সুকনি, সুখানী [সুকানি, -ক-, -খা-] বি কর্ণধার; নৌকা বা জাহাজের হাল ধরে যে (সারেঙ থেকে সুকনি খালাসি—অঠা)। {আ. সুক্কানী ســكــانــي}”
৩.৩। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬লিখেছে:
সুকানি /শুকানি/ [ফা.] বি নদীপথে চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত জাহাজের সারেং বা কর্ণধার।

৩.৪। লক্ষ করে থাকবেন, বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছিল দুটি রূপ: “সুকনি, সুকানি”; বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান তিনটি রূপ: “সুকানি, সুকনি, সুখানী”; অবশেষে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান বানান-ব্যবহারে সমতাবিধানের লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবলই একটি রূপ, যথা, ‘সুকানি’
‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_৪

৪.০। ‘সুকানি’ ও তার রূপভেদগুলো এলো কোত্থেকে? ওদের ব্যুৎপত্তি কী?

৪.১। বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান(১৯৯৬) লিখেছে:

“সুকনি, সুকানি … [আ.]” অর্থাৎ আরবি (দেখুন ৩.১)।

৪.২। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০০০) অনুযায়ীও ওদের ব্যুৎপত্তি আরবি:

“সুকানি, সুকনি, সুখানী [সুকানি, -ক-, -খা-] … {আ. সুক্কানী ســكــانــي}” (দেখুন ৩.২)।

৪.৩। কিন্তু, ২০১৬ সালে, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান লিখল:

“সুকানি /শুকানি/ [ফা.]” অর্থাৎ ফারসি (দেখুন ৩.৩)।

৪.৪। অথচ, বহু আগে, Bangla Academy Perso-Arabic Elements in Bengali (বাঙ্‌লায় ফারসী-আরবী উপাদান) [by Dr. SHAIKH GHULAM MAQSUD HILALI; First Published: January 1967; First Reprint: December 2002] জানিয়েছে:

“সুকান—[ Ar. sukkān ] helm.
“সুকানী—[ Pers. ‘i’ for agency ] helmsman ; captain of a ship ; work of a helmsman.”

স্পষ্টতই, আরবি sukkān ও ফারসি ‘i’ মিলে নির্মিত হয়েছে সুকানি ও তার রূপভেদগুলো।

৪.৫। bibliomania.com/2/3/260/1286/20214/1/frameset.html থেকে পাই:
“SEACUNNY, s. This is, in the phraseology of the Anglo-Indian marine, a steersman or quartermaster. The word is the Pers. sukkani, from Ar. sukkan, ‘a helm.’

“c. 1580.—“Aos Mocadões, Socões, e Vogas.”—Primor e Honra, &c. f. 68v. (“To the Mocuddums, Seacunnies, and oarsmen.”)
“c. 1590.—“Sukkangir, or helmsman. He steers the ship according to the orders of the Mu’allim.”—Ain, i. 280.

“1805.—“I proposed concealing myself with 5 men among the bales of cloth, till it should be night, when the Frenchmen being necessarily divided into two watches might be easily overpowered. This was agreed to … till daybreak, when unfortunately descrying the masts of a vessel on our weather beam, which was immediately supposed to be our old friend, the sentiments of every person underwent a most unfortunate alteration, and the Nakhoda, and the Soucan, as well as the Supercargo, informed me that they would not tell a lie for all the world, even to save their lives; and in …”

৪.৬। বাংলায় যা ‘সুকানি’ বা অন্য কোনো রূপভেদ, এবং ইংরেজিতে যা seacunny, তা যে বিদেশি শব্দ, তথা, সংগততরভাবে, বিদেশি মিশ্র শব্দ, তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_৫
৫.০। আপনি কীভাবে উচ্চারণ করেন বা করবেন ‘সুকানি’?
৫.১। বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৯৯)] লিখেছে:
“সুকানি (কর্ণধার, যে জাহাজাদির হাল ধরে) শুকানি” অর্থাৎ ‘সু’ উচ্চারণ শ-দিয়ে ‘শু’; ‘সু’ নয়।
৫.২। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০০০) লিখেছে:
“সুকানি, সুকনি, সুখানী [সুকানি, -ক-, -খা-]” অর্থাৎ ‘সু’ উচ্চারণ স-দিয়ে ‘সু’; ‘শু’ নয় (দেখুন ৩.২)।
৫.৩। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২০১৬) লিখেছে:
“সুকানি /শুকানি/” অর্থাৎ ‘সু’ উচ্চারণ শ-দিয়ে ‘শু’; ‘সু’ নয় (দেখুন ৩.৩)।
৫.৪। একই বাংলা একাডেমি থেকে ‘সুকানি’ উচ্চারণ ১৯৯৯ সালে ‘শুকানি’, ২০০০ সালে ‘সুকানি’, আবার ২০১৬ সালে ‘/শুকানি/’!
৫.৫। ‘সুকানি’-র ব্যুৎপত্তিতে আছে আরবি ســكــانــي (দেখুন ৩.২) বা Ar. sukkān (দেখুন ৪.৪) বা Pers. sukkani, from Ar. sukkan (দেখুন ৪.৫), যেখানে মূল আরবি বর্ণটি س, এবং নিশ্চয়ই নয় ش।
মূলে س থাকলে ভাষাভেদে বাংলায় ওই বর্ণের উচ্চারণ পরিবর্তিত হয়ে ‘শ’ হতে পারবে না, এমন কথা নিশ্চয়ই নেই।
তবে সেসঙ্গে এটাও গ্রহণযোগ্য নয় যে একই ‘সুকানি’ বাংলা একাডেমিতে বছরভেদে দোলাচলে শুকানি-সুকানি-শুকানি উচ্চারণে নির্দেশিত হতে থাকবে এবং আমরা – বাংলা একাডেমিকে অনুসরণকারী শিক্ষার্থীরা – বাংলা একাডেমির বারবার সরিয়ে নেওয়া গোলপোস্টের দিকে ছুটতেই থাকব।
‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_৬
৬.০। বাংলা সাহিত্যে ‘সুকানি’ বা তার রূপভেদের দেখা মেলে কি?
৬.১। ১৯১৯ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশ করেছেন তাঁর পথে-বিপথে; ওই বইয়ের শেমুষী গল্পে তিনি লিখেছেন:
“অবিন আমাকে সঙ্গে নিয়ে জাহাজের এধার থেকে ওধার নীচের তলার কামরা মায় ইঞ্জিন-ঘরটা পর্য্যন্ত তন্ন-তন্ন করে খুঁজে এসে, সারেং থেকে সুক্‌নী খালাসী এবং সকল-যাত্রীদের একে-একে সেই লোকটার হুবহু বর্ণনা দিয়া জেরা করে দেখলে সে-লোকটাকে এ-জাহাজে উঠতেও কেউ দেখেনি, বসে থাকতেও কেউ দেখেনি, এবং কোনো ঘাটে নেমে যেতেও কেউ দেখেছে কিনা তাও জানা গেল না।“
৬.২। ১৯৬৩ সালে আল মাহমুদ প্রকাশ করেছেন তাঁর লোক লোকান্তর; ওই বইয়ের ড্রেজার বালেশ্বরে কবিতায় তিনি লিখেছেন:
“নিঃশব্দে যন্ত্রণা সয় তিতাসের বুকচেরা পানি
যখন এগোতে থাকে অতিকায় লোহার কাছিম ;
ময়লা দু’হাতে ধরে কত শক্তি, বোঝে না সুখানি
ধাতব কোদাল শুধু টানে, ছেঁড়ে, জলের জাজিম।“
৬.৩। ২০১২ সালে olpokotha.wordpress-এ মিতা লিখেছেন:
“সেই লঞ্চের ভেতরে ঢোকাটাই তার জন্যে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। লঞ্চের সুখানি তাকে থির হয়ে বসতে বলে। বইয়েন তো আপনে! সেই বসা। আর সেই সুখানির প্রশ্নের উত্তরেই সে বলে, আমি চাকরির তালাশে এসে এই বিপদে পড়লাম!
শুটিং এরপর হয়। যুবকের পার্ট করবার খুচরো অভিনেতাটি ততক্ষণে এসে গেছে। নির্বিঘ্নে শুটিং চলে। জনতাও আমাদের কেরানির কথা ভুলে যায়। তারা মশগুল হয়ে থাকে নায়িকা নিয়ে। সুখানি বলে, সিনেমার ফাট না পারেন আসল ফাট আপনাকে দিয়া চলিৎ ফারে! লঞ্চে কেরানির চাকরি খালি আছে। করিবেন? আগে যে শালা ছিলো, তাঁই ভাগি গেইছে!”
৬.৪। সুতরাং, আমরা দেখছি, বাংলা সাহিত্যে শতবর্ষের ব্যাপ্তিতে ছড়িয়ে আছে সুক্‌নী-সুখানি।
‘সুকানি’ বনাম ‘সুকানী’ এবং প্রাসঙ্গিক খোঁজ-খবর_৭
৭.০। বাংলাদেশের আইনে আছে কি ‘সুকানি’? ওই আইনে ‘সুকানি’ মানে কী? ওই আইন কোন বানানে লিখেছে ‘সুকানি’?
৭.১। অক্টোবর ৩১, ২০০১ তারিখে বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ জাহাজ (লোক নিয়োগ, পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদান) বিধিমালা, ২০০১ লিখেছে:
“২। … (ট) “সুকানি” অর্থ জাহাজের হাল ধরিবার যোগ্যতা সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত কোন ডেক নাবিক;”
এবং
“২৬। মাঝি (সুকানি)।—(১) সকল মাঝি (সুকানি)-কে সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত হইতে হইবে।
“(২) কোন ডেক হ্যান্ড অভ্যন্তরীণ জাহাজের একজন সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত মাঝির (সুকানি) তত্ত্বাবধানে ছয় মাস হাল ধরিবার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডেক এ বারো মাস চাকুরী করিবার পর মাঝির সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।”
৭.২। অনুচ্ছেদ ৭.১ থেকে স্পষ্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জাহাজ (লোক নিয়োগ, পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদান) বিধিমালা, ২০০১ অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে:
(১) সুকানির কথা অন্তর্ভুক্ত করেছে;
(২) ‘সুকানি’-র আইনি সংজ্ঞার্থ প্রদান করেছে;
(৩) সুকানির নিয়োগ, পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদানের বিধি বর্ণনা করেছে;
(৪) সুকানি ও মাঝি অভিন্ন বলে বুঝিয়েছে; এবং
(৫) সর্বত্র হ্রস্ব ই-কার দিয়ে সুকানি লিখেছে।
৭.৩। এ-অবস্থায় এটাও স্পষ্ট, ওপরে আলোচিত বিধিমালা, ২০২১ প্রকাশের পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোটির পক্ষেই সুকানি শব্দটিকে অন্য কোনো বানানে বা অন্য কোনো রূপে লেখার আইনি কোনো বৈধতা বা সমর্থন নেই।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!