সৈয়দ মুজতবা আলীর উত্তর

ড. মোহাম্মদ আমীন

সৈয়দ মুজতবা আলীর উত্তর

তখন লেখক হিসেবে সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রচুর নামডাক। প্রতিদিন অনেক ভক্ত এবং কবিসাহিত্যিক তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য আসছেন।
একদিন এক নতুন লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর সঙ্গে দেখা করতে এসে বললেন, আপনি কোন বই কীভাবে লিখেন?
এটি জেনে আপনি কী করবেন? সৈয়দ মুজতবা আলী বললেন।
আমি ওভাবে লেখার চেষ্টা করব।
এটা তো বলা যাবে না।
কেন?
সৈয়দ মুজতবা আলী বললেন, সুইস মনস্তত্ত্ববিদ কার্ল গুসতাফজাং-এর নাম শুনেছেন?
শুনেছি।
আপনার প্রশ্নের উত্তর তাঁর ডায়ারিতে পাবেন।
ওই ডায়ারি তো আমার কাছে নেই। তিনি ডায়ারিতে কী লিখেছেন?
সৈয়দ মুজতবা আলী বললেন, কিছু লোক আমার কাছে জানতে চান আমি কীভাবে লিখি। এর উত্তরে আমাকে একটা কথা বলতে হয়— কেউ চাইলে আমরা তাকে আমাদের সন্তানগুলো দেখাতে পারি, কিন্তু সন্তানগুলোর উৎপাদন পদ্ধতি তো দেখাতে পারি না।
দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ একবার নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি আবার ভালো সাঁতার জানতেন না। জলে ডুবে যাচ্ছিলেন। মৃত্যু যেন তার নাকের ডগায় ঘুরছে। স্থানীয় এক যুবক নদীতে ঝাঁপ দিলেন এবং সম্পাদক সাগরময় ঘোষকে নদী থেকে তুলে আনলেন। সাগরময় ঘোষ খুশী হয়ে যুবকটির সাহস আর মানবতাবোধের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন।
একদিন যুবক তার লেখা একটি কবিতা দেশ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য সাগরময় ঘোষের হাতে দিয়ে বললেন, আমি আপনার জীবন বাঁচিয়েছি। বিনিময়ে কিছু চাই না। আপনি আমার কবিতটা আপনার পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করুন।
সাগরময় ঘোষ কবিতাটি পড়ে বললেন, বরং তুমি আমাকে যেখান থেকে উদ্ধার করেছিলে সেখানে ফেলে দিয়ে এস।
সূত্র: বিখ্যাতদের কৌতুক হাস্যরস ও প্রজ্ঞাযশ, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়।

সাতকাহন

“সাতকাহন এর অর্থ কি?”
উত্তর: সাতকাহন বাংলা শব্দ। এর অর্থ (বিশেষণে) ষোলো পণসংখ্যক অর্থাৎ ৭x১২৮০=৮৯৬০টি। আলংকারিক ও প্রায়োগিক অর্থ: অসংখ্য, অন্তহীন, অশেষ।
error: Content is protected !!