সৈয়দ মুজতবা আলী

সৈয়দ মুজতবা আলী: চল্লিশতম মৃত্যুদিবসে গভীর শ্রদ্ধা

ড. মোহাম্মদ আমীন

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রম্যরচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের  ১৩ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেটের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ সিকান্দার আলী। পিতার পৈতৃক বাড়ি ছিল হবিগঞ্জে। পিতার বদলির চাকরি হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুজতবা আলীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কাটে । ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। এখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও ইটালিয়ান ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বিশ্বভারতী থেকে থেকে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। দর্শনশাস্ত্র পড়ার জন্য বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণার জন্য তিনি ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ডি.ফিল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৪-১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মিশরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মুজতবা আলী কাবুলের একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষার শিক্ষক ছিলেন। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বরোদার মহারাজার আমন্ত্রণে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি আট বছর ছিলেন। এরপর দিল্লীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীকালে তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পঞ্চাশের দশকে কিছুদিন আকাশবাণীর পাটনা, কটক, কলকাতা এবং দিল্লীতে স্টেশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসরগ্রহণ করেন।

শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে সৈয়দ মুজতবা আলী নিয়মিত লিখতেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকায় কলাম লিখেন। ভ্রমনকাহিনী, ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনায় তিনি অনবদ্য কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বিবিধ ভাষা থেকে শ্লোক ও রূপকের যথার্থ ব্যবহার, হাস্যরস সৃষ্টিতে পারদর্শিতা এবং তৎমাধ্যমে গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলার অসামান্য দক্ষতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা ৩০। তিনি ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নরসিং দাস পুরস্কার , ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দ পুরস্কার এবং ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭৪  খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু হয়। 

সৈয়দ মুজতবা আলীর গ্রন্থপঞ্জী
ভ্রমণকাহিনী: দেশে বিদেশে (১৯৪৯), জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০)
উপন্যাস: অবিশ্বাস্য (১৯৫৪), শবনম (১৯৬০), শহরইয়ার (১৯৬৯)
ছোটগল্প: চাচা কাহিনী (১৯৫২), টুনি মেম (১৯৬৪)
রম্যরচনা : পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২), ময়ূরকন্ঠী (১৯৫২)
গল্পমালা: রাজা উজির, ধূপছায়া, বেচে থাক সর্দি-কাশি, পুনশ্চ, পাদটীকা, তীর্থহীনা, কর্ণেল, রাক্ষসী, বিধবা বিবাহ, ক্যাফে-দে-জেনি, মা জননী, বেল তুলে দু-দু’বার, স্বয়ংবরা, রস-গোল্লা (ইংরেজি)

বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান

একনজরে বঙ্গবন্ধু

এককথায় প্রকাশ

error: Content is protected !!