সোমনাথের অভিশাপ : এই বাগ্‌ধারার অর্থ, গজনি, সুলতান মাহমুদ, সোমনাথ মন্দির

ড. মোহাম্মদ আমীন
ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/সোমনাথের-অভিশাপ-এই-বাগ্‌/
সোমনাথের অভিশাপ:  এটি একটি বাগ্‌ধারা। বাগ্‌ধারাটির অর্থ হলো: কৃতকর্মের মারাত্মক পরিণতি বা অভিশাপ, অভিশপ্ত, কৃতকর্মের পরিণতি ভোগকারী, অনন্ত প্রায়শ্চিত্ত। গজনির সুলতান মাহমুদ সতেরো বার সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন করেন। কথিত হয়, সোমনাথ অভিশাপ দিয়েছিলেন, যে লোক আমার মন্দির সতেরো বার লুণ্ঠন করেছে সেই লোকের দেশ হাজার বার লুণ্ঠিত হবে এবং লুণ্ঠিত হতে থাকবে যুগের পর যুগ। সেই দেশ কখনও উন্নত হবে না। মধ্যযুগে ঘুরপাক খাবে। নিজেদের রক্ত নিজের খাবে। বাইরের লোকে খাবে। যে অবস্থানে আছে সে অবস্থান হতে কখনও এগিয়ে যেতে পারবে না। বরং পিছিয়ে যাবে।
সোমনাথ মন্দির আক্রমণ বা অভিযান সুলতান মাহমুদের মোট সতেরোটি অভিযানের মধ্যে অন্যতম‌। ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে  এই অভিযান তাঁর সতেরোটি অভিযানের মধ্যে ষোলতম অভিযান। বলা হয় , সুলতান মাহমুদ  সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে দুইশত মণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গিয়েছিলেন।  অনেকে মনে করতেন, সোমনাথ মন্দির লুট করা সুলতান মাহমুদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
গজনি: গজনি বা গাজ্‌নি পূর্ব আফগানিস্তানে সমুদ্র সমতল থেকে ২২২০ মিটার উচ্চতার একটি মালভূমির উপর অবস্থিত গাজ্‌নি প্রদেশে রাজধানী শহর। শহরটি ইরান ও ভারতের মধ্যকার প্রাচীন বাণিজ্যপথের উপর অবস্থিত। তাই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পূর্বে শহরটি ছিল কৌশলগত দিক হতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজনির উত্তর-পূর্বের অদূরে পুরাতন গাজনি শহরের এর ধ্বংসাবশেষ অবস্থিত। এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দুইটি মিনার গুরুত্বপূর্ণ। মিনার দুইটি প্রায় ৪৩ মিটার উঁচু এবং পরস্পর থেকে ৩৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত।  মিনারে খোদিত লিপি হতে জানা যায়, সুলতান মাহমুদ মিনার দুটি নির্মাণ করেন। ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আফগান যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনারা বর্তমান গজনি শহরটি দখল করে নেয়।
সুলতান মাহমুদ:  সুলতান মাহমুদ (‎২রা নভেম্বর ৯৭১ – ৩০শে এপ্রিল ১০৩০) মাহমুদে জাবুলির ও মাহমুদ গজনভি নামেও পরিচিত। তাঁর আসল নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন।  বাংলাদেশ ও ভারতে তিনি  সুলতান মাহমুদ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি  ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী  শাসক। ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০৩০ খ্রিষ্টাব্দ মৃত্যু অবধি তিনি পূর্ব ইরানীয় ভূমি এবং ভারত উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিমাংশ (বর্তমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) দখল করে নেন। সুলতান মাহমুদ সাবেক প্রাদেশিক রাজধানী গজনিকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধশালী রাজধানীতে পরিণত করেন। তাঁর সাম্রাজ্য বর্তমান আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান ও পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। তিনি সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক যিনি আব্বাসীয় খিলাফতের আনুগত্য স্বীকার করে নিজের শাসন চালু রাখেন। নিজ শাসনামলে তিনি ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।  ইসমাইল গজনভি তাঁর পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরি হলেন মুহাম্মদ গজনভি ।
সুলতান মাহমুদ ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে বর্তমান আফগানিস্তানের (সাবেক জাবালিস্তান) গজনি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সবুক্তগিন ছিলেন তুর্কি ক্রীতদাস এবং সেনাপতি যিনি ৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি খোরাসান এবং ট্রান্সঅক্সিয়ানার সামানি রাজবংশের প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকাজ পরিচালনা করেন।
সোমনাথ মন্দির: সোমনাথ মন্দির ভারতের একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির। গুজরাট রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে সৌরাষ্ট্র   এলাকার বেরাবলের নিকটবর্তী প্রভাস ক্ষেত্রে এই মন্দির অবস্থিত। এটি হিন্দু দেবতা শিবের দ্বাদশ লিঙ্গের মধ্যে পবিত্রতম। সোমনাথ কথার অর্থ “চন্দ্র দেবতার রক্ষাকর্তা”। সোমনাথ মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামে পরিচিত। কারণ অতীতে ছয় বার ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মন্দিরটি সত্বর পুনর্নিমিত হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে জুনাগড়ের ভারতভুক্তির সময় এই অঞ্চল পরিদর্শন করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মন্দিরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান ভারত সরকারের প্রভাবশালী  মন্ত্রী কে. এম. মুন্সি। কথিত হয়, সোমনাথের প্রথম মন্দিরটি খ্রিষ্টের জন্মের হাজার হাজার বছর পূর্ব হতে বিদ্যমান ছিল।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
error: Content is protected !!