স্ত্রৈণ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কী

স্ত্রৈণ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 

ড. মোহাম্মদ আমীন

যে পুরুষ, স্ত্রীর একান্ত অনুগত, বউকে ভয় করে, শ্রদ্ধা বা সমীহ করে তাকে বলা হয় স্ত্রৈণ। শব্দটা সবসময় নেতিবাচক এবং নিকৃষ্টতা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষ, স্ত্রীর অনুগত হলে সে আর পুরুষ আর উৎকৃষ্ট থাকে না; কাপুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট হয়ে যায়। অতএব উৎকৃষ্ট পুরুষ কখনো স্ত্রৈণ হতে পারে না। সুতরাং উৎকৃষ্ট পুরুষ হতে হলে তাকে সবসময় তার স্ত্রীর অবাধ্য হতে হবে।

যে নারী, স্বামীর একান্ত অনুগত এবং স্বামীকে ভয় করে, শ্রদ্ধা বা সমীহ করে করে তাকে বলা হয় পতিব্রতা। শব্দটি ইতিবাচক এবং উৎকৃষ্ট নারী প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে নারী স্বামীর একান্ত অনুগত সে উৎকৃষ্ট নারী এবং যে নারী স্বামীর অনুগত নয়, সে নারী নিকৃষ্ট নারী। অতএব অভিধানমতে, কোনো নারীকে উৎকৃষ্ট হতে হলে তাকে পতিব্রতা হতে হবে।তার স্বামীর সর্বাদেশ বিনাবাক্যে মেনে চলতে হবে।

স্ত্রৈণ যদি নেতিবাচক হয় তাহলে পতিব্রতা শব্দও নেতিবাচক হওয়াই ছিল সমীচীন। কিন্তু হয়নি, কারণ কর্তারাই এই কর্মটি করেছে। বস্তুত প্রাত্যহিক জীবনে নারীর ওপর নিজেদের আধিপত্য সৃষ্টির জন্য ধূর্ত পুরুষকর্তারা হীনম্মন্যতার সঙ্গে এমন নিকৃষ্ট-উৎকৃষ্ট অনেক অনেক শব্দ সৃষ্টি করে গেছেন। যা আমাদেরও বহন করে যেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মৎপ্রণীত এবং শুবাচে প্রকাশিত ‘স্ত্রীবাচক শব্দে পুরুষাধিপত্য’ প্রবন্ধে পাওয়া যাবে।

উপরের আলোচনা হতে বোঝা যায়, স্ত্রৈণ শব্দের লিঙ্গাত্বক বিপরীত শব্দ ‘পতিব্রতা’। প্রসঙ্গত, ‘স্ত্রীবশ্য’ এবং ‘স্বীয়া’ স্ত্রৈণ শব্দের দুটি সমার্থক শব্দ।

সূত্র : বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.


একনজরে বাংলা বর্ণমালা : পরিসংখ্যান : ইতিবৃত্ত

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

পঙ্‌ক্তির শেষে শব্দ ভাঙার নিয়ম

স্ত্রীবাচক শব্দে পুরুষাধিপত্য

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

কীভাবে হলো দেশের নাম

error: Content is protected !!