স্বভাব চরিত্র: স্বভাবচরিত্র স্বভাব বনাম চরিত্র

ড. মোহাম্মদ আমীন 
সংযোগ: https://draminbd.com/স্বভাব-চরিত্র-স্বভাবচরি/
চরিত্র (উচ্চারণ: চোরিত্‌ত্রো): তৎসম চরিত্র (√চর্‌+ইত্র) অর্থ— (বিশেষ্যে) কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যসূচক গুণাবলি; চালচলন। বাংলায় শব্দটির  অর্থ— উপন্যাস নাটক প্রভৃতি গ্রন্থের পাত্রপাত্রী। ব্যক্তির  ক্ষেত্রে চরিত্র কথাটি দিয়ে  সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির  বৈশিষ্ট্যসূচক গুণাবলী ও চালচলন নির্দেশ করা হয়।  যেমন: সদাচারনিষ্ঠদের বলা হয়— চরিত্রবান। চরিত্রের মহানুভবতাকে বলা হয়— চরিত্রমাহাত্ম্য। অন্যদিকে, ভ্রষ্ট ও বিপথগামীদের বলা হয় চরিত্রহীন। চরিত্রের ত্রুটি, অসচ্চরিত্রতা ও লাম্পট্য প্রভৃতিকে বলা হয় চরিত্রদোষ।
স্বভাব (শভাব্‌): তৎসম স্বভাব (স্ব+ভাব) অর্থ (বিশেষ্যে)— (১) স্বরূপ, আত্মভাব, স্বপ্রকৃতি;  (২) জন্মগত অথবা অভ্যাসদ্বারা লব্ধ গুণ বা বৈশিষ্ট্য (স্বভাব কবি); (৩) চরিত্র, আচরণ (সৎস্বভাব); (৪) প্রকৃতিগত ধর্ম বা গুণ;  (৫) প্রকৃতি নিসর্গ;  (৬) স্বাভাবিক অবস্থা। স্বভাবজাত বা প্রাকৃতিক  বৈশিষ্ট্য স্বভাব শব্দের মূল্য অর্থ দ্যোতিত করে।
স্বভাব বনাম চরিত্র:  চরিত্র ও  স্বভাব শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চরিত্র কথাটি স্বভাব শব্দের অনেকগুলো অর্থের মধ্যে কেবল বিশেষ কিছু আচরণগত দিক অর্থ বা ক্ষেত্র নির্দেশ করে। ওই বিশেষ ক্ষেত্রে বা ক্ষেত্রসমূহে চরিত্র আর স্বভাব সমার্থক। অন্যথায় পৃথক।
যেমন: “করিম  মিথ্য বলে।” এটি করিমের আচরণ। মিথ্যা গুণের বিপরীত সত্য।  এক্ষেত্রে বলা যায়: “করিমের স্বভাব ভালো নয়।” একই সঙ্গে বলা যায়: “করিমের চরিত্র ভালো নয়।” সত্য বললে বলা হতো, “করিমের স্বভাব/চরিত্র ভালো। এখানে স্বভাব আর চরিত্র সমার্থক।

 স্বভাব অর্থ যখন— প্রকৃতিগত ধর্ম বা গুণ বা প্রকৃতি নিসর্গ বা স্বাভাবিক অবস্থা; তখন ‘স্বভাব’ শব্দকে ‘চরিত্র’ শব্দের সমার্থক বলা যায় না। “বইপড়া তার স্বভাব” বলা যায়;

ড. মোহাম্মদ আমীন

কিন্ত “বইপড়া তার চরিত্র” বলা সমীচীন হবে না। স্বভাবের যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক অর্থাৎ বিপরীত গুণাবলির  হতে পারে সেটিই স্বভাবের অন্তর্গত চরিত্র। আচরণে এমন বিপরীত গুণ দেখা যায়। তাই আচরণ একসঙ্গে স্বভাব ও চরিত্র উভয় কথা দ্বার দ্যোতিত করা যায়।  স্বভাব অর্থ যখন— আচরণ, স্বরূপ, আত্মভাব বা স্বপ্রকৃতি তখন স্বভাব আর চরিত্র মৌলিক অর্থে সমার্থক। আবার জন্মগত অথবা অভ্যাসদ্বারা লব্ধ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের বিপরীতার্থক বৈশিষ্ট্য যখন সুস্পষ্ট হয়, তখন স্বভাব আর চরিত্র সমার্থক। অনথ্যায় স্বভাব আর চরিত্র সমার্থক নয়। যেমন: একজন লোক কোনো পূর্ব-প্রস্তুতি ছাড়া  যে-কোনো সময়  কবিতা লিখে ফেলতে পারে।  এটি তার চরিত্র নয়, স্বভাব। কারণ এর সুস্পষ্ট নেতিবাচক দিক নেই। তাকে ‘স্বভাবকবি’ বলা যায়; ‘চরিত্রকবি’ বলা যায় না। অর্থাৎ সকল চরিত্র স্বভাব, কিন্তু সকল স্বভাব চরিত্র নয়। এখানে চরিত্র শব্দের বাংলা অর্থ বিবেচ্য নয়। কারণ বাংলায় চরিত্র শব্দের অর্থ: উপন্যাস নাটক প্রভৃতি গ্রন্থের পাত্রপাত্রী।

এটি ভাষা-বিবরণ। ব্যতিক্রমই স্বাভাবিক।  অতএব,  আমার বর্ণনাকে চূড়ান্ত বা অভ্রান্ত কিংবা  স্বয়ংসম্পূর্ণ মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং আপনার মন্তব্য যুক্ত করলে আমার লেখার অসম্পূর্ণতা দূর হবে।
স্বভাবচরিত্র (শভাব্‌চোরিত্‌ত্রো): স্বভাব ও চরিত্র মিলে স্বভাবচরিত্র। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত স্বভাবচরিত্র (স্বভাব+চরিত্র) শব্দের অর্থ— আচার-আচরণ, চালচলন।
— √ — √ — √ — √  — √ — √ — √  — √ — √ — √ — √  — √ — √ — √  — √ — √ — √ — √  — √ — √ — √ 
error: Content is protected !!