স্বাগত লকডাউন

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/স্বাগত-লকডাউন/

স্বাগত লকডাউন

কে বলেছে সবকিছু লকডাউন হয়েছে? কিছু লকডাউন হয়নি। প্রতিদিন সূর্য উঠছে। সূর্যোদয় লকডাউন হয়নি। লকডাউন হয়নি বাতাস, প্রকৃতির অবারিত মুগ্ধকর প্রকাশ। লকডাউন হয়নি মননশীল অনুভব। ভালোবাসা লকডাউন হয়নি। লকডাউন হয়নি পরিবার, প্রিয়জনের আদর; লকডাউন হয়নি নিবিড় মমতায় ভরা প্রীতিময় কদর।
 
ড. মোহাম্মদ আমীন
লকডাউন হয়নি কী-বোর্ড।লকডাউন হয়নি হৃদয়। লকডাউন হয়নি দয়া।লকডাউন হয়নি কথা, অনুপম সৃজনশীলতার ছায়া; নান্দনিক বিমূর্ততা।লকডাউন হয়নি শুবাচ, শুবাচের মেধাযুদ্ধ, যযাতি, লাইক, শেয়ার। লকডাউন হয়নি চিন্তা। লকাডাউন হয়নি কলমের কালি, বইয়ের পাতা, ডায়ারির পৃষ্ঠা— লকডাউন হয়নি জীবন সংগ্রাম, মানব-মানবীর চিরন্তন নিষ্ঠা।
 
লকডাউন হয়নি কথোপকথন। লকডাউন হয়নি ফেসবুক।লকডাউন হয়নি সম্পর্ক। লকডাউন হয়নি গান শোনার কান, সিনেমা দেখার চোখ, প্রার্থনার ঝোঁক। লকডাউন হয়নি ধ্যান, নিদ্রা-স্বাদ। লকডাউন হয়নি জায়নামাজ, আজানের সুমধুর আওয়াজ।
 
গৃহকর্ম লকডাউন হয়নি। আশা-প্রত্যাশাও লকডাউন হয়নি। লকডাউন হয়নি লালনপালন। লকডাউন হয়নি বিশ্রাম। লকডাউন হয়নি নিবিড় ঐকান্তিকতায় সময় কাটানোর বিরল সুযোগ— ক্ষণে ক্ষণে অবিরাম।
 
বরং এতদিন যা করতে চাইতেন অথচ করতে পারতেন না— লকডাউন তা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। মাস্ক, ভেন্টিলেটরের চেয়ে উত্তম। গৃহ, উত্তম আইসিইউ-এর চেয়ে। জীবন, উত্তম মৃত্যুর চেয়ে। লকডাউন, উত্তম করোনাভাইরাসের চেয়ে। লকডাউন হয়েছে কেবল অনাবশ্যক কিছু বাড়াবাড়ির।
 
আপনি কি গৃহ ছেড়ে আইসিউ-তে ঢুকতে চান? যদি না চান, যদি পৃথিবীকে আবার আগের মতো উপভোগের সুযোগ চান তাহলে কয়েকদিনের জন্য লকডাউনকে স্বাগত জানান।
Prevention is better than cure.
পৃথিবী আবার ফিরে পাবে চাঞ্চল্য
I am sure.
 
 

লকডাউন লকআউট ধর্মঘট কারফিউ এবং ১৪৪ ধারা

লকডাউন: ভয়ংকর কোনো মহামারি বা দুর্যোগ প্রতিরোধে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা আরোপ অনিবার্য হয়ে পড়লে, সরকার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রের মাধ্যমে জনসাধারণকে নির্ধারিত সময়ের জন্য গৃহে কিংবা নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচল কিংবা নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম ছাড়া অন্য কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করতে পারে। এই নির্দেশকে বলা হয় লকডাউন। লকডাউন দুই প্রকার। যথা: আংশিক লকডাউন ও ফুল লকডাউন।
 
আংশিক লকডাউন চলাকালে মানুষ মৌলিক চাহিদাদি সংগ্রহের জন্য সীমিত সময়ের জন্য সীমিত পরিসরে ঘর থেকে বের হতে পারে। সরকার জনসাধারণের কল্যাণের জন্যই লকডাউন করে। এসময় অনিবার্য না হলে সর্বসাধারণের চলাফেরাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
আংশিক লকডাউনে সরকারের মূল উদ্দেশ্য থাকে, মানুষের চলাফেরা সীমিত করে দেওয়া; যাতে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্বাভাবিক সময়ের মতো অবাধে বিচরণ না করতে পারে বা না করে। লকডাউনে সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে জনগণের স্বতস্ফুর্ত সহায়তার সমন্বয় করা হয়।
 
ফুল লকডাউনের সময় মানুষ নিজের ঘর কিংবা নির্ধারিত এলাকা থেকে অনিবার্য চিকিৎসাগত প্রয়োজন বা অত্যন্ত দরকারি কিছু না হলে কোনমতেই ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। যে-কারণেই হোক না, ফুল লকডাউনের সময় ঘর থেকে বের হতে হলে প্রশাসনের পূর্বানুমতি নিতে হয়। প্রধানত রোগজীবাণুর বিস্তার রোধের জন্য লকডাউন আদেশ জারি করা হয়। এতে জনগণের সায় থাকে। এসময় জনগণের স্বাভাবিক চলাচলকে কাঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
 
————————————————————————————————————
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
 
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
 
 
 
 
 
 
 
 
error: Content is protected !!