স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম

খুরশেদ আহমেদ
সংযোগ: https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/

স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম

স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১
‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদি রূপভেদের সমস্যা নিয়ে ভাবনা ও সে-সমস্যার সমাধান খোঁজার অনুশীলনে আপনাকে স্বাগতম!
১.১। বোধ করি এমন কোনো বাংলাভাষী পাওয়া যাবে না যিনি কোনো-না-কোনো সময় এবং কোনো-না-কোনোভাবে স্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম ইত্যাদি রূপভেদের মুখোমুখি হননি।
বঙ্গীয় শব্দকোষের এক ‘স্বাগত’ ভুক্তিতেই পাই ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতং’, ‘স্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতম’।
ইন্টারনেটে দেখি:
পশ্চিমবঙ্গ নরেন্দ্র মোদীকে জানাচ্ছে ‘সুস্বাগতম’;
‘আমি যে কে তোমার’ সিনেমায় সাধনা সারগাম গাইছেন ‘সুস্বাগতম’।
১.২। এই রূপভেদগুলোর মধ্যে মূলশব্দ কি ‘স্বাগত’ যা থেকে বিভক্তি- এবং/অথবা উপসর্গ-যোগে নির্মিত হয়েছে বাকি রূপগুলো?
১.৩। আরও গভীরে, ‘স্বাগত’ ইত্যাদি শব্দ কোন ক্রিয়ামূলের বংশে জাত? অর্থাৎ, শব্দরূপটির মূলে ধাতুটি কী?
১.৪। ‘স্বাগত’ শব্দের এতগুলো রূপের মধ্যে বাংলায় কোন রূপটি প্রমিত, কোনটি অপ্রমিত? কোন রূপটি শুদ্ধ? কোনটি অশুদ্ধ? এ-ব্যাপারে বাংলা একাডেমির অভিধানগুলো কী বলে?
১.৫। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] স্পষ্ট করে এমন কিছু বলেছে কি যে কেবল ‘স্বাগত’ প্রমিত এবং ‘স্বাগতম্‌’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম্‌’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদি রূপ অপ্রমিত?
১.৬। বাংলা একাডেমির বাইরের বাংলা রেফারেন্স বইগুলো কী বলে?
১.৭। সাম্প্রতিককালেও, আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়, পত্রপত্রিকায় ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, আমরা কি দেখছি না ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদির ব্যাপকভাবে বিরাজমান বহুরূপতা?
১.৮। সংস্কৃত ভাষা বা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন রূপটি শুদ্ধ? ওই ভাষায় আছে কি সাদর অভ্যর্থনা-জ্ঞাপক এতগুলো রূপ?
১.৯। ‘শুভ আগমন!’ বা ‘Welcome!’ অর্থে যখন ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়—যেমন, “স্বাগতম, হে মহান অতিথি!” এ-রকম বাক্যে—তখন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বাংলা ও সংস্কৃত ব্যাকরণের বিচারে, ‘স্বাগতম’ শব্দটির পদ-পরিচয় কী, এবং, ওই শব্দটিতে নিহিত ব্যাকরণিক বাচ্য, লিঙ্গ, পক্ষ (পুরুষ), বচন ও বিভক্তি কী?
১.১০। বাংলাভাষীদের ঘরোয়া ও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এই শব্দরূপগুলোর উপস্থিতি কতটুকু বিরল বা প্রবল?
১.১১। এ-সিরিজে আমরা এ-প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব। থাকুন আমাদের সঙ্গে, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_২
॥ বাংলা একাডেমি ও বাংলা আকাদেমি এবং ‘স্বাগত’, ‘সুস্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ও ‘সুস্বাগতম’ ॥
২.১। ২০১৪ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান আমাদের জানাচ্ছে:
ক) ১৬০০ সালে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী লিখেছেন:
“ ‘স্বাগত অনুজ্ঞাবাণী দ্বিজ করে বেদধ্বনি।’ ”
খ) ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“ ‘দেবগণ, দেবীগণ, স্বাগত! আপনাদের কুশল?’ ”
গ) নজরুল লিখেছেন, ১৯২২ সালে:
“ ‘স্বাগতম স্বাগতম’ ”;
এবং ১৯২৪ সালে:
“ ‘স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ।’ ”
ঘ) ১৯৬৬ সালে মুনীর চৌধুরী লিখেছেন:
“ ‘স্বাগতম, সুস্বাগতম! দণ্ডকারণ্যে স্বাগতম!’ ”
২.২। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণে ও ১৯৯৩ সালে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণে যথাশব্দ/বাংলাভাষার প্রথম ভাব-অভিধান তার ‘সামাজিকতা’-শীর্ষক পর্যায়সারণিতে ‘স্বাগতম’ রূপটি অন্তর্ভুক্ত করেছে এভাবে:
“ক্রি. … স্বাগতম বা খোশ আমদেদ জানানো”।
২.৩। ১৯৯৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘সুস্বাগত’; এবং বলেছে ‘সুস্বাগত (অশু.)’ অর্থাৎ, অভিধানে ঠাঁই পেলেও, ‘সুস্বাগত’ রূপটি ‘অশুদ্ধ’।
২.৪। ১৯৯৯ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘স্বাগতম’ এবং ওদের উচ্চারণ নির্দেশ করেছে এভাবে:
“স্বাগত … শাগতো”; এবং
“স্বাগতম … শাগতম্‌, শাগোতম্‌”।
২.৫। ২০০০ সংস্করণের বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান শীর্ষশব্দ ‘খোশ’ ভুক্তির অধীনে ‘~ আমদেদ’ উপভুক্তির অর্থ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করেছে ‘স্বাগতম’:
“বি সাদর অভ্যর্থনা; স্বাগতম (সমাগত মেহমানদের খোশ আমদেদ জানাই)।”
২.৬। ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘স্বাগতম’।
২.৫। ২০১২ সংস্করণের বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.১ বলেছে, “এই নিয়মে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের নির্দিষ্ট বানান অপরিবর্তিত থাকবে।”
২.৬।এই পটভূমিতে ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘স্বাগত’, এবং অভিধানের বাইরে রেখেছে শব্দটির অন্য সকল রূপ।
২.৭। ‘স্বাগত’ নিশ্চয়ই বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.১-এ কথিত অন্যতম ‘নির্দিষ্ট বানান’; কিন্তু শব্দটির অন্যান্য রূপের কোনোটিরই বানান কি ‘নির্দিষ্ট বানান’ নয়?
২.৮। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির আকাদেমি বানান অভিধান (চতুর্থ সংস্করণ, ২০০৩) অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘সুস্বাগত’; এবং সে-সঙ্গে ওই সংস্করণের ব্যাখ্যাসংকেত ৪(গ)-তে বলেছে, “উল্লেখযোগ্য যে, বানান অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, এমন শব্দমাত্রই অসিদ্ধ নয়।”
প্রিয় শুবাচি, লক্ষ করে থাকবেন, যে-‘সুস্বাগত’-কে আকাদেমি বানান অভিধান সিদ্ধ বলে গ্রহণ করেছে এবং বানান অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সে-‘সুস্বাগত’-কেই বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান তার অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেও বলেছিল ‘অশুদ্ধ’ [দেখুন অনুচ্ছেদ ২.৩] এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তাকে তো আদৌ অন্তর্ভুক্তই করেনি [দেখুন অনুচ্ছেদ ২.৬]
২.৯। ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান—কেবল ‘স্বাগত’ রূপ অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্য কোনো বিকল্প রূপ অন্তর্ভুক্ত না করা সত্ত্বেও—স্পষ্টতই দরকার মনে করেনি আমাদের সতর্ক ও আশ্বস্ত করে দেওয়ার যে, অভিধানে অন্তর্ভুক্ত শব্দের বাইরেও অনেক শব্দ আছে, থাকবে ও সৃষ্টি হবে, যেগুলোও হতে পারে শুদ্ধ, সিদ্ধ ও প্রমিত।
আপাতত এখানেই হোক ইতি।
সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৩
॥ ইদানীন্তন সাহিত্যে ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’ ॥
৩.১। উপন্যাস: ‘স্বাগতম ভালোবাসা’। লিখেছেন: আলাউদ্দিন আল আজাদ। প্রকাশ কাল: ১৯৯০।
৩.২। উপন্যাস: ‘বিদুর’। লিখেছেন: মিহির সেনগুপ্ত। ওই উপন্যাস থেকে পড়ি:
“আমার আত্মার আত্মীয় পরমপ্রাজ্ঞ বিদুর এসেছেন। স্বাগত স্বাগত ভ্রাতঃ।
… স্বাগত ক্ষত্তা, স্বাগত। স্বাগত প্রিয় দেবর, স্বাগত।”
[বিদুর; মিহির সেনগুপ্ত; প্রথম প্রকাশ: ২০০২, সুবর্ণরেখা, পরিবর্ধিত সংস্করণ: ২০১২, সাহিত্য সংসদ – কলকাতা।]
৩.৩। নাটক: ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ (২০০৮)। লিখেছেন: হুমায়ূন আহমেদ।
৩.৪। কবিতার নাম: ‘সুস্বাগতম’। লিখেছেন: সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় (পীযূষ কবি)। প্রকাশিত হয়েছে: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
৩.৫। কবিতার নাম: ‘আজি পঁচিশে বৈশাখে’। লিখেছেন: লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী।
১০ মে ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত তাঁর ওই কবিতাটি থেকে পড়ি:
“আজি পঁচিশে বৈশাখে
দিনের পূণ্য শুভক্ষণে-
সু-স্বাগতম- সুস্বাগতম!
প্রিয় বিশ্ববন্দিত কবি, তুমি বিশ্বকবি।”
৩.৬। কবিতার নাম: ‘ডাক’; লিখেছেন: শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কবিতাটি থেকে পড়ি:
“কেউ বলে সুস্বাগতম আর কেউ বলে মারহাবা”।
আমার মনে হয়, আনুশাসনিক ব্যাকরণের মুখোমুখি আমাদের জন্য শ্রীজাতের পুরো কবিতাটিই প্রযোজ্য:
ভাষা আমার শরীর। যেমন আকাশ মাটি জলও –
তারও আছে শিকড়, তুমি ফুলের কথাই বলো।
‘অ’ বললে তাই অহং বুঝি, ‘আ’ বললে তাই আদর
আমার ভাষায় বসত করে অজস্র বেরাদর।
সবাই মিলে চড়ুইভাতির বর্ণমালা খুলি,
সেখানে কেউ ওঠায় যদি শাসনে অঙ্গুলি
শেখায়, কে কী বলবে এবং বলবে না কোন কথা,
আমার ভাষায় চার অক্ষরে তৈরি নীরবতা
ভাঙতে পারে তখন। জেনো চড়তে পারে গলা।
খোঁপায় শোভা পেলেও সে তো প্রতিবাদের পলাশ –
পথে লুটোয় ইচ্ছেমতো, দিগন্তে তার আভা…
কেউ বলে সুস্বাগতম আর কেউ বলে মারহাবা
এসব ছাড়াও অন্য কথা বলে যে নিন্দুকে
দেখছে না সে ভাষার রেখা, নাগরিকের মুখে?
দেখছে না সে, ভাতের কাছে হার মেনেছে মানুষ?
আবহমান খিদের সামনে ভাষাও নতজানু…
সেই ভাষাতেই ডাকছি তোমায়, ভাতের কাছে এসো
স্পর্শে এবার বরণ করি, সব অভিমান শেষ হোক।
থাকুক কেবল মনের কথা, পড়ন্ত বিশ্রামে
ভিজিয়ে দিক বর্ণমালা, বৃষ্টি যেমন নামে –
তোমার চোখের বানান করি, ভুল হলে তাও বলো
ভাষায় জাগুক এই পৃথিবীর ঘুমন্ত অঞ্চলও
বিস্তৃত সেই উপত্যকার দু’চারটে অক্ষরে
তোমায় যেন ডাকতে পারি, একুশজন্ম পরে!
৩.৭। শিশু সাহিত্যিক সারমিন ইসলাম রত্না তাঁর ‘সূর্যের হাসি’ (২০১৯) গল্পটিতে লিখেছেন:
“সাদা সাদা মেঘগুলো মিষ্টি হেসে বলল, স্বাগতম সুস্বাগতম। কত দিন পর তোমাকে দেখলাম।”
৩.৮। ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’ গ্রীষ্ম ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের ‘শ্রোডিঙ্গারের ঐশ্বরিক বিড়াল’ উপন্যাস থেকে পড়ি:
“ “স্বাগতম, সুস্বাগতম সময় যাত্রীরা। ২০৭৫ সালে আপনাদের সকল স্বাগত জানাচ্ছি। আমি গ্যাম্বলার।”
“২০৭৫!”
“২০৭৫!”
“সময় যাত্রী!” সকলের মধ্যে বিস্ময় মিশ্রিত গুঞ্জন উঠলো।”
৩.৯। আমরা স্পষ্টতই দেখছি, এ-কালের কথাশিল্পীরা তাঁদের সাহিত্যকর্মে অবলীলায় ও শক্তিমানভাবে লিখছেন ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ও ‘সুস্বাগতম’—যার যেভাবে খুশি।
৩.১০। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৪
॥ ব্লগে, ওয়েব ম্যাগাজিনে ও পত্রপত্রিকায় ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’ ॥
ইন্টারনেট থেকে পাই:
৪.১। “স্বাগতম হে মাহে রমজান”, লিখেছে Jagonews24, ১৮ জুন ২০১৫।
৪.২। “বিদায় ২০১৭ : স্বাগত ২০১৮”, লিখেছে একুশে বার্তা, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭।
৪.৩। “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো . . . স্বাগতম, সুস্বাগতম বাংলা নববর্ষ। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।”
লিখেছেন mmushfiqurrahman তাঁর ব্লগে, ১৩ এপ্রিল ২০১৮।
৪.৪। “স্বাগতম, সুস্বাগতম বাংলা নববর্ষ।”
লিখেছেন কাঞ্চন দাশ, ১৪ এপ্রিল ২০২০, পাণ্ডুলিপি ওয়েব ম্যাগাজিনে।
৪.৫। “স্বাগতম ১৪২৭, ঘরে বসেই নববর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছে বাঙালি,” সংবাদ শিরোনামে লিখেছে এই মুহূর্তে চোখের পলকে খবর, ১৪ এপ্রিল ২০২০।
ওদের নিজস্ব প্রতিনিধি বলছেন: “শুভ নববর্ষ। সুস্বাগতম ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।”
৪.৬। “স্বাগত ২০২১, নতুন আশায় উদ্ভাসিত হোক জীবন,” লিখেছে অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪, ১২:৪৩ এএম, ১ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার।
৪.৭। ‘স্বাগতম’, লিখেছে ‘চিন্তাসূত্র – শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওয়েবম্যাগ’, তাদের প্রথম পাতায়, আজ ১১ এপ্রিল ২০২১।
৪.৮। ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’-এর এমন ব্যাপক ও বিচিত্র ব্যবহারের বাস্তবতায় আমরা কীভাবে বলতে পারি এদের একটি রূপ প্রমিত এবং অন্য রূপগুলো অপ্রমিত?
আমাদের ভাষা-অনুসন্ধানের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৫
॥ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষাবোর্ডে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাপিডিয়ায়, উপজেলায় এবং চা-বাগানে—‘স্বাগতম’ ॥
ইন্টারনেট থেকে পাই:
৫.১। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন তার ওয়েবসাইটে লিখেছে:
“বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনে স্বাগতম”।
৫.২। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লিখেছে:
“স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ৩৯তম বিসিএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত ডাক্তারদের জন্য এই ওরিয়েন্টশন e-learning প্রশিক্ষণে সকলকে স্বাগতম।”
৫.৩। আজ ১১ এপ্রিল ২০২১ কুমিল্লা বোর্ড তার ওয়েবসাইটে লিখেছে:
“মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা- আপনাকে স্বাগতম”।
৫.৪। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর প্রধান ফটক-সংলগ্ন রাস্তার ওপর আলপনায়-আঁকা স্বাগত-সম্ভাষণ:
“ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগতম”
—রিপোর্ট করেছেন রাইজিংবিডি.কম-এ মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ৩ নভেম্বর ২০১৯ আপডেট ৩১ আগস্ট ২০২০।
৫.৫। বাংলাপিডিয়া তার ওয়েবসাইটের প্রধান পাতায় লিখেছে:
“বাংলাপিডিয়ায় স্বাগতম!”
৫.৬। ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ল্যান্ডিং স্টেশনে স্বাগতম-স্তম্ভে উৎকীর্ণ:
“স্বাগতম
মনপুরা উপজেলা, ভোলা”।
রিপোর্ট করেছে দি বরিশাল ১৮ নভেম্বর ২০২০।
৫.৭। শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাদবেদীতে উৎকীর্ণ স্বাগত-সম্ভাষণ:
“চায়ের দেশে স্বাগতম
জেলা প্রশাসন, মৌলভী বাজার
সৌজন্যে: সাতগাঁও চা বাগান”।
বাংলাভাষীদের রাস্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ‘স্বাগতম’ শব্দটির গভীর ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ব্যবহার অস্বীকার করবেন কীভাবে, সেটাও আবার কেবল অসমর্থিত ও ভিত্তিহীন প্রমিত-অপ্রমিতের বা ব্যাকরণের দোহাই দিয়ে?
সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৬
॥ জগৎসভায় ‘স্বাগতম’ সমাদৃত, অন্য সকল ভাষার অনুরূপ স্বাগত-সম্ভাষণের সঙ্গে, একই কাতারে ॥
৬.১। ফারসি ভাষায় খোশ আমদেদ خوش آمدید মানে স্বাগতম, বলেছে parstoday.com রেডিয়ো প্রোগ্রাম, ১৯ মার্চ ২০২০।
৬.২। Glosbe লিখেছে:
Willkommen মানে স্বাগতম।
৬.৩। সংস্কৃত নিয়মে ‘স্বাগতম্’‌, বাংলায় ‘স্বাগতম’—বলেছে অশোক মুখোপাধ্যায়ের সংসদ বানান অভিধান (২০০৯)।
৬.৪। একই স্বাগত-সম্ভাষণ, অন্যান্য ভাষার মধ্যে, সংস্কৃতে ‘स्वागतम्’, হিন্দিতে ‘स्वागतम’, বাংলায় ‘স্বাগতম’—যেভাবে অনুবাদ করে দেখাচ্ছে translate.translation-services-usa ডট কম:
welkom (Afrikaans)
mirë se vjen (Albanian / shqip)
أهلاً وسهل (Arabic / العربية)
ongi etorri (Basque / euskara)
вiтаем (Belarusian / беларуская)
স্বাগতম (Bengali / বাংলা)
добре дошъл (Bulgarian / български)
ကြိုဆိုပါ၏ (Burmese / မြန်မာဘာသာစကား)
velkommen (Danish / dansk)
dobrodošli (Croatian / hrvatski)
welkom (Dutch / Nederlands) Groet bij de aankomst van iemand.
welcome (English) A greeting used when someone arrives.
bienvenue (French / français) Une expression d’accueil employée à l’arrivée de quelqu’un.
willkommen (German / Deutsch)
καλώς όρισες (Greek / ελληνικά)
בָּרוּךְ הַבָּא (Hebrew / עברית)
स्वागतम (Hindi / हिंदी)
selamat datang (Indonesian / bahasa Indonesia)
fáilte (Irish / Gaeilge)
benvenuto (Italian / italiano) Un saluto che si utilizza quando arriva qualcuno.
ようこそ (Japanese / 日本語)
қош келдіңіз (Kazakh / Қазақ)
잘 오셨습니다 (Korean / 한국어)
salve (Latin / lingua Latina)
selamat datang (Malay / bahasa Melayu)
സ്വാഗതം (Malayalam / മലയാളം)
स्वागत आहे (Marathi / मराठी)
خوش آمدید (Persian / فارسی)
witaj (Polish / polski)
bem-vindo (Portuguese / português)
добро пожаловать (Russian / русский)
fàilte (Scottish Gaelic / Ghàidhlig)
dobrodošli (Serbian)
ආයුබෝවන් (Sinhala / සිංහල)
bienvenido (Spanish / español) Saludo que se utiliza cuando llega alguien.
स्वागतम् (Sanskrit / संस्कृतम्)
karibu (Swahili / Kiswahili)
välkommen (Swedish / svenska) Hälsning vid någons ankomst.
స్వాగతం (Telugu / తెలుగు)
ยินดีต้อนรับ (Thai)
hoşgeldin (Turkish / Türkçe)
ласкаво просимо (Ukrainian / українська)
خوش آمديد (Urdu / اردو)
xush kelibsiz (Uzbek / o’zbekcha)
xin chào (Vietnamese / tiếng Việt)
isibingelelo (Zulu / isiZulu)।
৬.৫। বিশ্বজুড়ে-স্বীকৃত ‘স্বাগতম’ আমাদের ভাষিক-সাংস্কৃতিক সম্পদ, আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার। আমরা কেন ‘স্বাগতম’-কে অপাঙ্‌ক্তেয় করব, আমাদের নিজেদেরকে নিজেরাই বিশ্বসভা থেকে প্রত্যাহার করব?
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৭
॥ ধর্মসংগীতে ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’ ॥
ইন্টারনেট থেকে পাই:
৭.১। গান: স্বাগত স্বাগত স্বাগত জানাই
[কপি-পেস্ট-করা অবিকল টেক্সট; লিংক মন্তব্য জানালায়।]
কথা ও সুরঃ মানিক নাথ
স্বাগত স্বাগত স্বাগত জানাই
তোমাকে খ্রীষ্ট আজি এ পুণ্য রাতে
নিখিল বিশ্ব মুখর হয়েছে তোমারই বন্দনাতে।।
উৎসবময় রজনী প্রহরে
আকাশ বাতাস পুলকে শিহরে।
নব জনমে মহা আনন্দে বসুন্ধরা যে মাতে।।
ধরণী মাঝারে বন্দী মানব পাপে গড়া কারাগারে
স্বর্গের পানে ত্রাতার লাগিয়া চেয়েছিল বারে বারে।
অন্ধ ধরার কালিমা মুছালে, পাপীর মনের ভাবনা ঘুচালে।
গানের প্রণাম লহো গো বন্ধু, অভিনন্দন সাথে।।
৭.২। স্বাগতম, সুস্বাগতম। বাহাই গান।
[লিংক মন্তব্য জানালায়।]
৭.৩। এসো আলো এসো হে,
তোমায় সুস্বাগতম।।
[কপি-পেস্ট-করা অবিকল টেক্সট; লিংক মন্তব্য জানালায়।]
 
এসো আলো এসো হে
Eso Aalo Eso He
ছায়াছবি: আবিষ্কার
কথা: পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর: মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায়
শিল্পী: আশা ভোঁসলে
আ আ আ আ আ আ
আ আ আ আ আ আ
এসো আলো এসো হে,
তোমায় সুস্বাগতম।।
তুমি যে সত্যম,তুমি শিবম
তুমি যে সুন্দরম ;
তোমায় সুস্বাগতম।
এসো আলো এসো হে
তোমায় সুস্বাগতম।
আমার এ অন্ধকারে,
ভাগ্যের বন্ধ দ্বারে।।
তুমি মঙ্গলময়,
তুমি শুভ্র শুভম।।
তোমায় সুস্বাগতম
এসো আলো এসো হে
তোমায় সুস্বাগতম।
সারে মা সারে মা পাগা রে
সারে সাগা পাগা রেগা সা
সারে মা সারে মা পাগা রে
সারে সাগা পাগা রেগা সা
নিরে নিপা নিপা
গাপা গা সারে নিরে।
আমার এ বঞ্চনাতে,
জীবনের যন্ত্রনাতে।।
তুমি শান্তির নিশান
তুমি পূণ্য জনম।।
তোমায় সুস্বাগতম
এসো আলো এসো হে
তোমায় সুস্বাগতম।
তুমি যে সত্যম তুমি শিবম
তুমি যে সুন্দরম
তোমায় সুস্বাগতম
সত্যম শিবম সুন্দরম।
আ আ আ আ আ আ
৭.৪। এ-নমুনা গানগুলো থেকে ‘স্বাগত’ বা ‘স্বাগতম’ বা ‘সুস্বাগতম’ যে-কোনোটি নিষিদ্ধ করে দিলে আমরা কি সাংস্কৃতিকভাবে আরও ঋদ্ধ হব না কি আরও রিক্ত হব?
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৮
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৮
॥ ‘স্বাগতং’, ‘স্বাগতম্‌’, ‘স্বাগতম’—এদের মধ্যে পদগত বা অর্থগত কোনো পার্থক্য আছে কি? ॥
৮.১। সুকুমার রায়ের নাটক ‘চলচিত্ত-চঞ্চরি’ থেকে একটি সংলাপ:
“আসুন, আসুন। স্বাগতং, স্বাগতম্‌।”
একই পদের পুনরাবৃত্তি নয়, যথা, “স্বাগতং, স্বাগতং” নয়, বা “স্বাগতম্‌, স্বাগতম্‌” নয়; বরং, আমরা দেখছি, কাছাকাছি-অথচ-ভিন্ন দুটি পদের সমাহার—“স্বাগতং, স্বাগতম্‌”।
প্রিয় শুবাচি, কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন এই প্রয়োগটি এবং কীভাবে অর্থ-পার্থক্য নির্দেশ করবেন এ-দুটি পদের?
৮.২। উইলিয়াম ব্লেইক থেকে অনুবাদ করে ‘মুখর শ্যামলিমা’-শীর্ষক কবিতায় সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ লিখেছেন: “ঘণ্টার টংটং/বসন্ত স্বাগতং, …।”
ধারণা করি, এখানে ‘স্বাগতম্‌’-এর পরিবর্তে ‘স্বাগতং’ এসেছে কবিতায় অনুপ্রাসের স্বার্থে, টংটং-এর সঙ্গে মিল রেখে।
পুরো কবিতাটি পড়ুন, যদি পড়তে চান:
 
মুখর শ্যামলিমা
ভোরের সূর্য উঠল,
আকাশে পুলক ফুটল,
ঘণ্টার টংটং
বসন্ত স্বাগতং,
দোয়েল কোয়েল সব
পাখি করে কলরব,
মেলায় মুহুর্মুহু
ঘণ্টার টং-এ কুহু,
আমরা মাতি খেলায়
মুখর শ্যামলিমায়।
হাসে বুড়ো হরিদাস,
মাথা-ভরা সাদা কাশ,
পিঁপুল-গাছের তলে
বুড়োর আড্ডা চলে,
আমাদের দেখে হাসে,
কত ছবি মনে আসে,
তারাও তো শৈশবে
এম্নি মেতেছে সবে
সারাটা-দিন খেলায়
মুখর শ্যামলিমায়।
আমরা শ্রান্ত হই,
ক’মে আসে হৈচৈ,
সূর্য অস্তে নামে,
আমাদেরও খেলা থামে,
মায়ের কোলের কোণ
খোঁজে সব ভাই-বোন,
পাখি যথা যায় ফিরে
তন্দ্রা-আঢুল নীড়ে:
আয় ঘুম, ঘুম আয়,
তিমির শ্যামলিমায়।
৮.৩। Damodarashtaka থেকে পাই:
“দত্তাত্রেয়স্ত্রোতম্‌ ০১ (স্বাগতং তব স্বাগতম্‌)।”
এখানে কী অর্থে ‘স্বাগতং’ এবং কী অর্থে ‘স্বাগতম্‌’? যদি ওদের অর্থ অভিন্ন হয়, তাহলে দুটি রূপ কেন?
৮.৪। ক) পুরোহিত-দর্পণ পৃষ্ঠা-১৯৪ থেকে পড়ি:
“উদ্যতে পরমেশান স্বাগতং স্বাগতং ভবেৎ। … শ্রীভগবন্‌ কৃষ্ণদেব স্বাগতং সুস্বাগতম্‌।”
খ) পুরোহিত-দর্পণ পৃষ্ঠা-২০১ থেকে পড়ি:
“ ‘গোবিন্দ ইহ স্বাগতম্ সুস্বাগতম্‌’ বলিয়া এই মন্ত্র পাঠ করিবে।
“ওঁ যস্য দর্শনমিচ্ছন্তি দেবাঃ স্বাভীষ্টসিদ্ধয়ে। তস্মৈ তে পরমেশায় স্বাগতং স্বাগতঞ্চ মে॥—ইদং স্বাগতম্‌। … —সুস্বাগতম্‌।”
৮.৫। অনুচ্ছেদ ৮.৪-এ উদ্ধৃত পাঠে ‘স্বাগতম্’, ‘সুস্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতং’ তিনটি পদই ব্যঞ্জনান্ত; ‘স্বাগতম্’ ও ‘সুস্বাগতম্‌’ শেষ হয়েছে হস-চিহ্ন দিয়ে, আর ‘স্বাগতং’ অনুস্বার দিয়ে। অনুস্বার তো হস-যুক্ত ঙ-ই, অর্থাৎ, ং=ঙ্‌। সুতরাং, ‘স্বাগতম্’, ‘সুস্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতং’ তিনটি রূপই হস-যুক্ত। সংস্কৃত ভাষায় শব্দের রূপে হস-চিহ্নের বহুল ব্যবহার আমরা দেখতে পাই।
৮.৬। বাংলায় হস-চিহ্ন যথাসম্ভব পরিহার করা হয়।
উল্লেখযোগ্য, হস-চিহ্ন রাখা-না-রাখা বিষয়ে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের ২.১০ নম্বর নিয়মটি কেবল অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
‘অতৎসম শব্দ’-শীর্ষক দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত ওই নিয়মে বলা হয়েছে: “হস-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করা হবে।”
তৎসম শব্দকে ওই নিয়মের আওতায় আনা না-হলেও, বাংলায় আত্তীকৃত অনেক তৎসম শব্দই এখন হস-চিহ্ন-বর্জিত, যেমন ‘পরিষদ’, ‘মাল্যবান’, ‘শ্রীমান’, ‘শ্রেয়ান’ ইত্যাদি।
সংস্কৃতে সে-রূপগুলো অবশ্যই হস-চিহ্ন-যুক্ত, যথা, ‘পরিষদ্‌’, ‘মাল্যবান্‌’, ‘শ্রীমান্‌’, ‘শ্রেয়ান্‌’ ইত্যাদি।
এ-অবস্থায়, আমি যেভাবে বুঝি, প্রত্যক্ষ- বা পরোক্ষ-ভাবে হস-যুক্ত ‘স্বাগতম্’, ‘সুস্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতং’ অবশ্যই সংস্কৃত রূপ; তবে, হস-যুক্ত ওই তিনটি রূপ পরিহার করা এখন আধুনিক বাংলার প্রবণতা।
৮.৭। মূলধারার বাংলা-বাংলা অভিধানগুলোতে আমি পাই না হস-যুক্ত ‘স্বাগতম্’, ‘সুস্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতং’; সম্ভবত এজন্য যে এ-রূপগুলো এখন বাংলায় হস-চিহ্ন-মুক্ত ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম’ ও ‘স্বাগতম’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত।
৮.৮। সংস্কৃত জানেন এমন কোনো শুবাচি অনুগ্রহ করে আমাদের বলবেন ‘স্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতং’ এ-দুটি রূপের মধ্যে অর্থগত কোনো পার্থক্য আসলেই আছে কি?
ধ্বনিগতভাবে অবশ্যই পার্থক্য আছে; কেননা, স্বনিম ম্‌ এবং স্বনিম ঙ্‌ নিশ্চয়ই পৃথক।
৮.৯। একই লেখকের লেখায় একই পদবন্ধে বা একই বাক্যে বা একই অনুচ্ছেদে কেন থাকছে রূপগত মিশ্রণ:
“স্বাগতং, স্বাগতম্‌” (দ্র. ৮.১);
“স্বাগতং তব স্বাগতম্‌” (দ্র. ৮.৩);
“স্বাগতং, স্বাগতং” ও “স্বাগতং, সুস্বাগতম্‌” (দ্র. ৮.৪ক); “স্বাগতম্‌, সুস্বাগতম্‌” এবং “তস্মৈ তে পরমেশায় স্বাগতং স্বাগতঞ্চ মে॥—ইদং স্বাগতম্‌।” (দ্র. ৮.৪খ)?
৮.১০। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
[দৃষ্টি আকর্ষণ করছি: শুবাচি Bidhubhushan Bhattacharjee-র, শুবাচে ‘স্বাগতম’ ইত্যাদি রূপের আলোচনায় যাঁর মন্তব্য থেকে পুরোহিত-দর্পণের রেফারেন্সটি আমি প্রথম জানতে পেরেছিলাম ১৭ মে ২০১৮।
Bidhubhushan Bhattacharjee-র মন্তব্যটি এখানে কপি-পেস্ট করছি:
Bidhubhushan Bhattacharjee
Khurshed Ahmed
দেবদেবীর ষোড়শোপচারে (ষোড়শোপচার = আসনং স্বাগতং পাদ্যমর্ঘ্যমাচমনীয়কম্‌। মধুপর্কাচমন স্নানং বসনাভরণানিচ গন্ধপুস্প ধূপ দীপ নৈবেদ্যং বন্দনং তথা।) পূজায় স্বাগত, স্বাগতম্, সুস্বাগতম্ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।
ষোলটি উপচারের ২য় উপচার স্বাগত (অর্থাৎ স্বাগত জানানো)। উদাহরণস্বরূপ গোবিন্দদেবের পূজায় বলা হবে ‘গোবিন্দ ইহ স্বাগতম্ সুস্বাগতম্।’ “ওঁ যস্য দর্শনমিচ্ছন্তি দেবাঃ স্বাভীষ্টসিদ্ধয়ে। তস্মৈ তে পরমেশায় স্বাগতং স্বাগতঞ্চ মে॥—ইদং স্বাগতম। ওঁ কৃতার্থোহমুগৃহীতোহস্মি সফলং জীবিতং মম। আগতো দেবদেবেশ সুস্বাগতমিদং বপুঃ॥—সুস্বাগতম্।” আমার জানামতে স্বাগত, স্বাগতম্, সুস্বাগতম্ শব্দগুলোর প্রধান উৎস এটাই।]
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৯
॥ ‘স্বাগত’ ‘সুস্বাগত’ উচ্চারণ প্রসঙ্গ ॥
৯.১। ক) বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৯৯)] ‘স্বাগত’ ও ‘সুস্বাগত’ উচ্চারণ নির্দেশ করেছে এভাবে:
“স্বাগত … শাগতো” এবং
“সুস্বাগত … শুশাগতো”।
খ) অথচ, এই একই উচ্চারণ অভিধান তার [একচল্লিশ] পৃষ্ঠায় ১২খ. অনুচ্ছেদে বলেছে:
“বাঙলা উচ্চারণের রীতি-অনুসারে পদের মধ্যে কিংবা শেষে ‘ব’ ফলা থাকলে সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণ-দ্বিত্ব ঘটে থাকে। যথা : দ্বিত্ব (দিত্‌তো), বিশ্ব (বিশ্‌শো), বিদ্বান (বিদ্‌দান), পক্ব (পক্‌কো), রাজত্ব (রাজত্‌তো/রাজোত্‌তো), বিধ্বস্ত (বিদ্‌ধস্‌তো), পৃথ্বী (পৃত্‌থি), দাসত্ব (দাশত্‌তো/দাশোত্‌তো), প্রজ্বলিত (প্রোজ্‌জোলিতো), অদ্বিতীয় (অদ্‌দিতিয়ো), অশ্ব (অশ্‌শো), আশ্বিন (আশ্‌শিন্‌) ইত্যাদি।”
গ) তাহলে ‘সুস্বাগত’ কেন আমরা উচ্চারণ করব না ‘শুশ্‌শাগতো’?
৯.২। ‘স্বাগতম সুস্বাগতম’ বাহাই গানটিতে শুনি ‘শাগতম্‌ শুশ্‌শাগতম্‌’ [লিংক: ৭.২]; অন্যদিকে, ‘এসো আলো এসো হে/তোমায় সুস্বাগতম’ গানটিতে আশা ভোঁসলে উচ্চারণ করছেন ‘শুশাগতম্‌’ [লিংক: ৭.৩]
তাহলে কি ‘সুস্বাগতম’-এর উচ্চারণ দুটোই সিদ্ধ: ‘শুশ্‌শাগতম্‌’ ও ‘শুশাগতম্‌’?
৯.৩। ক) ড. মোহাম্মদ আমীন ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তাঁর ব্লগে প্রকাশিত “বর্গীয়-ব ও অন্তঃস্থ-ব এর পার্থক্য”-শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন:
“স্বাগতম [শাগতম্‌] কিন্তু সুস্বাগতম [শুশ্‌ শাগতম]”।
খ) আমার বোধে, ‘সুস্বাগতম’-এর ‘শুশ্‌শাগতম্‌’ উচ্চারণে অভ্যর্থনাকারীর হৃদ্যতা আরও জোরালোভাবে প্রকাশিত হয়।
৯.৪। প্রসঙ্গত, ড. মোহাম্মদ আমীন Welcome-অর্থে ‘স্বাগতম’ ও ‘সুস্বাগতম’ নির্মাণগুলো বিধেয় নয় বলে শুবাচে একসময় মতপ্রকাশ করলেও, ৯.৩ অনুচ্ছেদের রেফারেন্স থেকে মনে হয় তিনি ওই রূপগুলো একেবারে বাতিল করে দেননি।
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১০
॥ ‘স্বাগত’ ‘সুস্বাগত’ ইত্যাদি কোন ক্রিয়ামূলের বংশে জাত? ॥
১০.১। মূলধারার অভিধানগুলো থেকে ব্যুৎপত্তি দেখে, যেমন বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধান দেখে, এবং আমাদের স্বাভাবিক ব্যাকরণ-বোধ ব্যবহার করে আমরা বলতে পারি, ‘স্বাগত’ ‘সুস্বাগত’ ইত্যাদি রূপ এসেছে ক্রিয়ামূল ‘গম্‌’ থেকে একাধিক পর্যায়ে প্রত্যয়- ও উপসর্গ-যোগে:
√গম্‌>গত>আগত>স্বাগত।
১০.২। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ (ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক শব্দার্থের অভিধান) প্রথম খণ্ড (চৈত্র ১৪১৭) গম্ (গঞ্জ্) ক্রিয়ামূলের বংশে জনিত শব্দসমূহের তালিকায় [২৬২-৬৩ পৃষ্ঠায়] “আগত, আগম, … স্বাগত, স্বাগতম” অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের সে-ধারণাকে সমর্থন করেছে।
১০.৩। কিন্তু হোঁচট খাই যখন দেখি, কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ (ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক শব্দার্থের অভিধান) দ্বিতীয় খণ্ড (প্রথম প্রকাশ পৌষ ১৪১৭) সু ক্রিয়ামূলের বংশে জনিত শব্দসমূহের তালিকায় [৬৬৭ পৃষ্ঠায়] অন্তর্ভুক্ত করেছে “… স্বাগত, স্বাগতম্ … ।”
১০.৪। এটা কৌতূহলজনক যে, বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ অনুযায়ী:
(ক) ‘স্বাগতম’ জন্মেছে গম্‌ ক্রিয়ামূলের বংশে;
(খ) ‘স্বাগতম্‌’ জন্মেছে সু ক্রিয়ামূলের বংশে; এবং
(গ) ‘স্বাগত’ জন্মেছে গম্‌ ও সু উভয় ক্রিয়ামূলের বংশে!
আমরা কেন বলছি না ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম্‌’, ‘স্বাগতম’ সবগুলো রূপেরই ব্যুৎপত্তি নির্দেশ করা সম্ভব আলাদাভাবে দুটি ক্রিয়ামূলের প্রতিটিকেই উৎস ধরে?
কেন বলছি না ‘স্বাগতম্‌’ যেভাবে ব্যুৎপন্ন, ‘স্বাগতম’-ও ঠিক সেভাবেই ব্যুৎপন্ন; এবং ‘স্বাগতম’ যেভাবে ব্যুৎপন্ন, ‘স্বাগতম্‌’-ও ঠিক সেভাবেই ব্যুৎপন্ন?
১০.৫। ‘সু’ ধাতু থেকে কীভাবে ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম্‌’, ‘স্বাগতম’ ইত্যাদি শব্দ নির্মিত হয়েছে, তা আমি জানি না এবং তার ব্যাখ্যা আমি কোথাও পাই না।
১০.৬। সংস্কৃতজ্ঞ শুবাচি আপনাদের উদারতায় এ-বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারেন এবং আমাদের আলোকিত করতে পারেন।
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১১
॥ ‘খোশ আমদেদ’ বা Welcome-অর্থে বাংলায় ‘স্বাগতম’ বা ‘স্বাগতম্‌’ এলো কীভাবে? ॥
আমি যেভাবে বুঝি:
১১.১। ‘স্বাগতম্‌’ বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ; ওটা বাংলায় এসেছে ওই রূপেই, প্যাকেট-করা দুধ-চিনি-মিশ্রিত ইন্‌স্ট্যান্ট কফির মতো, রেডিমেড।
১১.২। বাংলায় আমরা ‘স্বাগতম্‌’ নির্মাণ করিনি। যেটা করেছি সেটা হল আমরা অনেকেই ওই ‘স্বাগতম্‌’ থেকে ম-এর সঙ্গে যুক্ত হস-চিহ্নটি মুছে দিয়েছি।
১১.৩। ফলে, ‘স্বাগতম্‌’ রূপটি থেকে গেল বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ হিসেবে; আর বাংলায় তার অতৎসম রূপ সৃষ্টি হল ‘স্বাগতম’ [দেখুন ৬.৩]।
১১.৪। Abu Saleh Mohammad Sultan ১৭ মে ২০১৮ শুবাচে তাঁর মন্তব্যে লিখেছিলেন, “স্বাগতম শব্দটি একদম সংস্কৃত। তৎসমও নয়। তবে বানান ভুলে লেখি আমরা। স্বাগতম্ লিখলে ঠিক হতো।”
১১.৫। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১) বইটির সন্ধি প্রকরণে লিখেছেন:
“সু-আগতম্‌, স্বাগতম্‌”।
১১.৬। শ্রীদেবকুমার চক্রবর্তী তাঁর প্রবেশিকা সংস্কৃত ব্যাকরণ ও রচনা (১৯৪৯) বইটিতে লিখেছেন:
“উ+আ—সু+আগতম্‌ (উ স্থানে ব্‌) = স্ব্‌+আগতম্ ‌= স্বাগতম্‌”।
১১.৭। আগতম্‌-ও বিশুদ্ধ সংস্কৃত: আগত+(সংস্কৃত বিভক্তি) অম্‌=আগতম্‌।
১১.৮। সংস্কৃত ভাষায় ‘আগত’ সকল লিঙ্গে, শব্দরূপে এবং ক্রিয়ারূপে এবং নানা পদ-পরিচয়ে ব্যবহৃত হতে পারে।
আমাদের আলোচ্য ‘স্বাগতম্‌’ শব্দটির ক্ষেত্রে ‘আগত’ ক্লীবলিঙ্গ; একবচনে দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে তার রূপটি দাঁড়িয়েছে ‘আগতম্‌’।
পরবর্তী ধাপে সু+আগতম্‌ সন্ধির ফলে নির্মিত হয়েছে ‘স্বাগতম্‌’।
১১.৯। ক) Wisdom Library মনে হয় ওই ‘আগতম্‌’-এর বিশেষ্য ক্লীবলিঙ্গ রূপটিকেই বলেছে ‘accusative single’।
• āgatam –
āgata (noun, masculine); (2 der.)
āgatam (adverb)
āgatam (accusative single)
āgata (noun, neuter); (3 der.)
āgatam (adverb)
āgatam (nominative single)
āgatam (accusative single)
āgatā (noun, feminine); (1 der.)
āgatam (adverb)
√ag (verb class 1); (1 der.)
āgatam (imperfect active second dual)
খ) সংস্কৃত.সেগাল.নেটে-দেখানো অগ্‌ ধাতুর Imperfect পরস্মৈপদ ক্রিয়ারূপ থেকে তৈরি-করা সংযুক্ত কোলাজে দেখুন মধ্যমপুরুষ দ্বিবচনে ‘আগতম্‌’।
১১.১০। সমান্তরালভাবে সম্ভবত বলা যায়, সু+আগত=স্বাগত শব্দের সঙ্গে বিভক্তি ‘অম্‌’ যুক্ত হয়ে নির্মিত হয়েছে ‘স্বাগতম্‌’।
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১২
॥ কালিদাসে ‘স্বাগতং’ ও ‘স্বাগতম্‌’ ॥
১২.১। সংস্কৃত সাহিত্যের চিরায়ত কবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’-এর কাহিনি-বর্ণনায় যক্ষের পক্ষে বলছেন:
“প্রীতঃ প্রীতিপ্রমুখবচনং স্বাগতং ব্যাজহার”
—যে-কথাটি অনুবাদ করে বাংলা কবিতায় প্রকাশ করেছেন বুদ্ধদেব বসু:
“স্বাগত-সম্ভাষ জানালে মেঘবরে মোহন, প্রীতিময় বচনে।”
১২.২। ক) কালিদাসের ‘কুমারসম্ভব’ দ্বিতীয় সর্গ ১৮ নম্বর শ্লোকে ব্রহ্মার-কাছে-আসা দেবতাদের উদ্দেশে ব্রহ্মা বলছেন:
स्वागतं स्वानधीकारान्प्रभावैरवलम्ब्य वः|
युगपद्युगबाहुभ्यः प्राप्तेभ्यः प्राज्यविक्रमाः॥ २-१८
svāgataṁ svānadhīkārānprabhāvairavalambya vaḥ |
yugapadyugabāhubhyaḥ prāptebhyaḥ prājyavikramāḥ || 2-18
খ) জ্যোতিভূষণ চাকী-সম্পাদিত কালিদাস সমগ্রে ড. মুরারিমোহন সেন এই শ্লোকটি অনুবাদ করে লিখেছেন:
“ হে অমিত বলশালী দেবগণ! তোমরা আপন প্রভাবে স্বাধিকার রক্ষা করছ। আজানুলম্বিত বাহুবলে তোমরা বলীয়ান। তোমরা সকলে আজ একসঙ্গে এখানে উপস্থিত। তোমাদের অভ্যর্থনা জানাই।”
গ) Kumarasambhava Cantos I-VII – Sanskrit Commentary, English Translation & Notes-এ M. R. Kale বলেছেন, “स्वागतं—May be an adv. (निपात) or a noun.”
১২.৩। কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্‌’ নাটকে শকুন্তলার দুই সখী রাজা দুষ্যন্তকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলছে:
“স্বাগতম্‌ অবিলম্বিনো মনোরথস্য”
[অবিলম্বেই উপস্থিত আমাদের মনোবাসনার প্রতিমূর্ত্তি আপনাকে অভ্যর্থনা জানাই]।
১২.৪। সংস্কৃত ভাষায় ‘স্বাগতং’ ও ‘স্বাগতম্‌’ মনে হয় একই শব্দের উচ্চারণভেদ, ওই ভাষায় পদের ভেতরে ও পদের বাইরে সন্ধির প্রতিবেশের কারণে।
আবার, ওই উচ্চারণভেদ কেউ মানেন, কেউ-বা আবার মানেন না।
অষ্টাঙ্গ ডট ইয়োগা থেকে পাই (লিংক মন্তব্য-জানালায়):
“Anusvāra at the end of a word
“According to one of the Sandhi rules, in Sanskrit, an m at the end of a word which is followed by a word starting with a consonant, turns into an Anusvara. The pronunciation does change alongside according the previous explained rules.
“Merke: After applying these roles the pronunciation as m for an Anusvāra is only used in front of vowels, semivowel and labial plosives. Otherwise, as shown above, the respective class nasal is used.
“Notice: Some speakers of Sanskrit pronounce the Anusvāra at any endings of a word as an “m”. Others even pronounce it within all words as “m” and therefore don’t use the above explained pronunciation rules at all.”
এ-ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় কেন সুকুমার রায় তাঁর নাটক ‘চলচিত্ত-চঞ্চরি’-র সংলাপে লিখেছেন, “আসুন, আসুন। স্বাগতং, স্বাগতম্‌।”
(দেখুন ৮.১।)
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১৩
॥ Brihad-bhagavatamrita ও Srimad-Bhagavatam এবং स्वागतं/svāgataṃ/svāgatam/svāgataṁ ॥
১৩.১। Brihad-bhagavatamrita শ্লোক ২.৪.৮১ থেকে পড়ি:
“श्री-भगवान् उवाच—
स्वागतं स्वागतं वत्स दिष्ट्या दिष्ट्या भवान् मया ।
śrī-bhagavān uvāca—
svāgataṃ svāgataṃ vatsa diṣṭyā diṣṭyā bhavān mayā |”
যেখানে
“śrī-bhagavān–the Lord; uvāca–said; svāgatam svāgatam–a hearty welcome; vatsa–O my child”।
এখানে লক্ষ করবেন, বলা হয়েছে, “svāgatam svāgatam”—’svāgatam’ শব্দটি দুবার।
১৩.২। Srimad-Bhagavatam শ্লোক ৯.১৪.১৯ থেকে পড়ি:
“TEXT 19
śrī-rājovāca
svāgataṁ te varārohe …
“SYNONYMS
śrī-rājā uvāca—the King (Purūravā) said; svāgatam—welcome; te—unto you; varārohe—O best of beautiful women; …
“TRANSLATION
King Purūravā said: O most beautiful woman, you are welcome.”
১৩.৩। দুটি ধর্মগ্রন্থ মিলে একই स्वागतं-এর বিপরীতে svāgataṃ, svāgataṁ, svāgatam—রূপ কেন তিনটি?
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১৪
॥ ‘स्वागतं ते’ পদবন্ধে स्वागतं কি svāgata শব্দের accusative single রূপ নয়? ॥
১৪.১। “The English phrase ‘You are welcome’ is used in two contexts: The first is when you have to welcome somebody to a place, on an occasion etc.; the second being when someone thanks you or appreciates your idea or action and you reply with this phrase.
“In the Sanskrit language, you can use this phrase similarly. The phrase, like in the English language, can be used for both singular and plural cases.”
সংযুক্ত ছবিতে দেখুন: সংস্কৃতে You are welcome = स्वागतं ते [Svāgataṁ Te]।
ছবি ও তথ্যসূত্রের লিংক মন্তব্য-জানালায়।
১৪.২। svāgata শব্দরূপে একবচন কর্তৃকারক ও কর্মকারক—উভয়ক্ষেত্রেই—অভিন্ন রূপ svāgatam।
Declension table of svāgata
Neuter Singular Dual Plural
Nominative svāgatam svāgate svāgatāni
Vocative svāgata svāgate svāgatāni
Accusative svāgatam svāgate svāgatāni
Instrumental svāgatena svāgatābhyām svāgataiḥ
Dative svāgatāya svāgatābhyām svāgatebhyaḥ
Ablative svāgatāt svāgatābhyām svāgatebhyaḥ
Genitive svāgatasya svāgatayoḥ svāgatānām
Locative svāgate svāgatayoḥ svāgateṣu
Compound svāgata –
Adverb -svāgatam -svāgatāt
শব্দরূপ-সূত্র মন্তব্য-জানালায়।
১৪.৩। আমরা আগে দেখেছি:
ক) (রেফারেন্স ১১.৯ক) “√ag (verb class 1); (1 der.)
āgatam (imperfect active second dual)”;
খ) (রেফারেন্স ১১.৯খ) अग् ag ধাতুর অসমাপিকা পরস্মৈপদ দ্বিবচন দ্বিতীয় পুরুষ রূপ “आगतम् āgatam”; এবং
গ) (রেফারেন্স ১১.৫, ১১.৬) সু+আগতম্‌=স্বাগতম্‌।
১৪.৪। এখন প্রশ্ন, Welcome- বা You are welcome-অর্থে যখন বলা হয় स्वागतं ते, তখন সে-পদবন্ধে स्वागतं ১১.৯ক-এ-বলা āgatam-এর মতো svāgata শব্দের accusative single রূপ নয় কি?
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১৫
॥ লিপিভেদে অনুস্বার বর্ণ বা প্রতীকের রকমফের: ং; ं; ṃ; ṁ ইত্যাদি ॥
১৫.১। বর্ণ বা প্রতীক অনুস্বার একেক লিপিতে একেক রকম:
বাংলায় ং; দেবনাগরীতে ं; International Alphabet of Sanskrit Transliteration (IAST)-তে ṃ; ISO 15919-এ ṁ।
১৫.২। এ-থেকে ধারণা করি, যে শব্দটি দেবনাগরীতে स्वागतं, তা বাংলায় স্বাগতং, IAST-তে svāgataṃ, তা-ই আবার ISO 15919-এ svāgataṁ।
১৫.৩। সে-অবস্থায়, প্রশ্ন থেকে যায়: কোন লিপিতে লেখা হল svāgatam, যেখানে m ফুটকিহীন, ১৩.১ বা ১৩.২ রেফারেন্সের একই টেক্সটে যথাক্রমে svāgataṃ বা svāgataṁ-এর সঙ্গে?
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১৬
॥ সংস্কৃত ‘स्वागतं’ প্রায়োগিকভাবে interjection বা আবেগ-শব্দ; সংস্কৃত ‘स्वागत’ ঠিক তা নয় ॥
১৬.১। Monier-Williams-এর A Sanskrit-English Dictionary (1899) থেকে পাই:
Ā’-gata পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ-ক্লীবলিঙ্গ; Ā’-gatam কেবল ক্লীবলিঙ্গ।
১৬.২। Monier-Williams-এর একই অভিধান থেকে পাই:
“स्वागत sv-āgata, mfn. … (am) n. welcome, greeting, salutation (svāgataṃ te with or without astu, ‘I wish you welcome’), …”
যেখানে mfn মানে masculine, feminine ও neuter।
১৬.৩। ‘svāgataṃ te’ [আপনাকে স্বাগতম] পদবন্ধে ‘te’ হল সংস্কৃত সর্বনাম তুমি বা আপনি ‘युष्मद’-এর একবচন চতুর্থী বিভক্তিযুক্ত সম্প্রদান কারক রূপ।
১৬.৪। Vaman Shivram Apte-র The Practical Sanskrit-English Dictionary থেকে পাই:
“स्वागतं [सुखेन आगतं सुष्ठु आगतं वा] Welcome, happy arrival (used chiefly in greeting a person who is put in the dative case); स्वागतं देव्यै M.1; (तस्मै) प्रीतः प्रीति- प्रमुखवचनं स्वागतं व्याजहार Me.4; स्वागतं स्वानधीकारान् प्रभावै- रवलम्ब्य वः । युगपद् युगबाहुभ्यः प्राप्तेभ्यः प्राज्यविक्रमाः Ku.2. 18. -a. 1 Welcome.”
১৬.৫। Vaman Shivram Apte-র The Student’s English-Sanskrit Dictionary লিখেছে:
“Welcome, a. स्वागत. … —interj. स्वागतं (with dat.)”
১৬.৬। ব্যাকরণিক সকল লিঙ্গ বৈচিত্র্যে অর্থাৎ পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ বা ক্লীবলিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য ‘स्वागत’ একটি সাধারণ শব্দ এবং মূলশব্দ যার একটি বিশেষ রূপ ‘स्वागतं’।
১৬.৭। আমি যেভাবে বুঝি, বাংলায় আমরা যখন উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলি ‘স্বাগতম!’—অথবা নগর-তোরণে উৎকীর্ণ করে লিখি বা মানপত্রে পাঠ করি ‘স্বাগতম, হে মহান অতিথি!’—তখন আমরা সংস্কৃত interjection বা আবেগ-শব্দ ‘स्वागतं’ রূপটিই ব্যবহার করি, সাধারণ ‘स्वागत’ রূপটি নয়।
১৬.৮। আমার বোধে, সাধারণ ‘स्वागत’ রূপটির প্রয়োগ অন্যত্র, সাধারণ বিবৃতিমূলক বাক্যে; তার প্রয়োগ আবেগ-বাক্যে আবেগ-শব্দ হিসেবে নয়!
১৬.৯। স্বাগত-তোরণ-শীর্ষে ঝলমল-করা ‘স্বাগতম’ দেখে আমি অভ্যস্ত আমার হাতেখড়ির শৈশব থেকে; ওখানে ওই রূপটির বদলে ‘স্বাগত’ কল্পনা করা আমার জন্য একান্তই অস্বস্তিকর।
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১৭
॥ সংস্কৃত ভাষায় আছে কি ‘সুস্বাগতম্‌’? ॥
১৭.১। Monier-Williams-এর A Sanskrit-English Dictionary (প্রথম প্রকাশ ১৮৯৯; পুনর্মুদ্রণ ১৯৮৬) ‘Su’ ভুক্তিতে মহাভারত ও রামায়ণের রেফারেন্স দিয়ে Susvāgataṃ অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বলেছে:
Su (to be similarly prefixed to the following): … ꟷsvāgata, n. a hearty welcome (৺taṃ te’ stu, a hearty w° to thee!), MBh.; R.; mf(ā)n. attended with a hearty w°, R.”
[সূত্র: পৃষ্ঠা১২৩৮ কলাম১ থেকে পৃষ্ঠা১২৩৯ কলাম২]
এখানে:
ꟷsvāgata=Susvāgata;
n.=neuter, ক্লীবলিঙ্গ;
taṃ=Susvāgataṃ;
w°=welcome;
MBh=মহাভারত;
R=রামায়ণ।
১৭.২। Sanskrit Haiku संस्कृत हाइकु তাঁদের ফেসবুকে লিখেছেন:
“सुस्वागतम् सुस्वागतम्
तव आगमनं सुखदायकम् || सुस्वा…”।
[সুস্বাগতম্‌ সুস্বাগতম্‌
তব আগমনং সুখদায়কম্‌ || সুস্বা…]
১৭.৩। Learn Sanskrit Online লিখেছে:
“susvaagatam (सुस्वागतम्) means ‘welcome’.”
১৭.৪। “सुस्वागतं भो !”—সংস্কৃত পাঠের ক্লাশে ‘সুস্বাগতম্‌ ভো’ বলে স্বাগত জানাচ্ছে সংস্কৃত টিউটোরিয়্যাল ডট ইন্ডিয়া।
১৭.৫। সংস্কৃত টিউটোরিয়্যাল তার ভিডিয়োতে এবং পাঠ্যপুস্তকে (मणिका १० पाठ्यपुस्तकम्. 10.1 सुस्वागतं भो!) বলছে:
“सुस्वागतम = इत्यत्र सु + स्वागतम इति विग्रहः अस्ति।
सु इति उपसर्ग वर्तते। सम्यक-रूपेण इत्यर्थं बोधयति।
स्वागतम् इत्यत्र स्वागत-इति अकारान्तनपुंसकलिङ्गशब्दस्य प्रथमाविभक्तिः, एकवचनम् अस्ति। अर्थात् अभिनन्दनम् / शुभागमनम् इति अर्थः। ।
भो ! इति सम्बोधनपदम् अस्मि। अर्थात् अहो छात्राः!
इत्यर्थः।
सुस्वागतम…..अर्थात्…….शुभागमनम्।
किम् अस्ति ?
स्वागतम् अस्ति।”
১৭.৬। সংস্কৃত টিউটোরিয়্যাল থেকে আমার জন্য নতুন তথ্য:
ক) সুস্বাগতম্‌=সু+স্বাগতম্‌;
খ) স্বাগতম্‌ অ-কারান্ত নপুংসকলিঙ্গ [ক্লিবলিঙ্গ] স্বাগত শব্দের প্রথমা বিভক্তিযুক্ত একবচন রূপ [যদিও, সংস্কৃত-না-জানা আমার সহজাত ব্যাকরণ-বোধ থেকে আমি মনে করেছি ওটা কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত রূপ]; এবং
গ) সংস্কৃতে বলা সম্ভব:
“किम् अस्ति ?
स्वागतम् अस्ति।”
আমার আক্ষরিক অনুবাদ:
—কী হচ্ছে?
—স্বাগতম হচ্ছে।
বাংলায় আমরা ওভাবে বলি না; আমরা বলি না, ‘স্বাগতম হচ্ছে’। আমরা হয়তো বলি, ‘স্বাগত জানানো হচ্ছে’ বা ‘স্বাগত-অনুষ্ঠান হচ্ছে’।
 
 
 
খুরশেদ আহমেদের লেখা
https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/
https://draminbd.com/তৎসম-শব্দের-কণ্টকারণ্যে/
https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/
https://draminbd.com/ব্যবহারিক-বা-ব্যাবহারিক/
 
https://draminbd.com/বাংলা-একাডেমি-আধুনিক-বাং/
সংযোগ:https://draminbd.com/স্বরযন্ত্র-নিয়ে-দুঃখকথা/
সংযোগ: https://draminbd.com/লাট্টু-লাটিম-লেতি-লেত্তি/
সংযোগ: https://draminbd.com/কৃষান-কৃকেট-ক্রিকেট-কৃষা/

https://draminbd.com/এক-ভরি-বা-এক-তোলা-মানে-কত-গ্/
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
 
 
 
 
Language
error: Content is protected !!