স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম

খুরশেদ আহমেদ
সংযোগ: https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/

স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম

স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_১
‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদি রূপভেদের সমস্যা নিয়ে ভাবনা ও সে-সমস্যার সমাধান খোঁজার অনুশীলনে আপনাকে স্বাগতম!
১.১। বোধ করি এমন কোনো বাংলাভাষী পাওয়া যাবে না যিনি কোনো-না-কোনো সময় এবং কোনো-না-কোনোভাবে স্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম ইত্যাদি রূপভেদের মুখোমুখি হননি।
বঙ্গীয় শব্দকোষের এক ‘স্বাগত’ ভুক্তিতেই পাই ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতং’, ‘স্বাগতম্‌’ ও ‘স্বাগতম’।
ইন্টারনেটে দেখি:
পশ্চিমবঙ্গ নরেন্দ্র মোদীকে জানাচ্ছে ‘সুস্বাগতম’;
‘আমি যে কে তোমার’ সিনেমায় সাধনা সারগাম গাইছেন ‘সুস্বাগতম’।
১.২। এই রূপভেদগুলোর মধ্যে মূলশব্দ কি ‘স্বাগত’ যা থেকে বিভক্তি- এবং/অথবা উপসর্গ-যোগে নির্মিত হয়েছে বাকি রূপগুলো?
১.৩। আরও গভীরে, ‘স্বাগত’ ইত্যাদি শব্দ কোন ক্রিয়ামূলের বংশে জাত? অর্থাৎ, শব্দরূপটির মূলে ধাতুটি কী?
১.৪। ‘স্বাগত’ শব্দের এতগুলো রূপের মধ্যে বাংলায় কোন রূপটি প্রমিত, কোনটি অপ্রমিত? কোন রূপটি শুদ্ধ? কোনটি অশুদ্ধ? এ-ব্যাপারে বাংলা একাডেমির অভিধানগুলো কী বলে?
১.৫। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] স্পষ্ট করে এমন কিছু বলেছে কি যে কেবল ‘স্বাগত’ প্রমিত এবং ‘স্বাগতম্‌’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম্‌’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদি রূপ অপ্রমিত?
১.৬। বাংলা একাডেমির বাইরের বাংলা রেফারেন্স বইগুলো কী বলে?
১.৭। সাম্প্রতিককালেও, আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়, পত্রপত্রিকায় ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, আমরা কি দেখছি না ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’, ‘সুস্বাগতম’ ইত্যাদির ব্যাপকভাবে বিরাজমান বহুরূপতা?
১.৮। সংস্কৃত ভাষা বা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন রূপটি শুদ্ধ? ওই ভাষায় আছে কি সাদর অভ্যর্থনা-জ্ঞাপক এতগুলো রূপ?
১.৯। ‘শুভ আগমন!’ বা ‘Welcome!’ অর্থে যখন ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়—যেমন, “স্বাগতম, হে মহান অতিথি!” এ-রকম বাক্যে—তখন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বাংলা ও সংস্কৃত ব্যাকরণের বিচারে, ‘স্বাগতম’ শব্দটির পদ-পরিচয় কী, এবং, ওই শব্দটিতে নিহিত ব্যাকরণিক বাচ্য, লিঙ্গ, পক্ষ (পুরুষ), বচন ও বিভক্তি কী?
১.১০। বাংলাভাষীদের ঘরোয়া ও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এই শব্দরূপগুলোর উপস্থিতি কতটুকু বিরল বা প্রবল?
১.১১। এ-সিরিজে আমরা এ-প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব। থাকুন আমাদের সঙ্গে, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_২
॥ বাংলা একাডেমি ও বাংলা আকাদেমি এবং ‘স্বাগত’, ‘সুস্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ও ‘সুস্বাগতম’ ॥
২.১। ২০১৪ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান আমাদের জানাচ্ছে:
ক) ১৬০০ সালে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী লিখেছেন:
“ ‘স্বাগত অনুজ্ঞাবাণী দ্বিজ করে বেদধ্বনি।’ ”
খ) ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“ ‘দেবগণ, দেবীগণ, স্বাগত! আপনাদের কুশল?’ ”
গ) নজরুল লিখেছেন, ১৯২২ সালে:
“ ‘স্বাগতম স্বাগতম’ ”;
এবং ১৯২৪ সালে:
“ ‘স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ।’ ”
ঘ) ১৯৬৬ সালে মুনীর চৌধুরী লিখেছেন:
“ ‘স্বাগতম, সুস্বাগতম! দণ্ডকারণ্যে স্বাগতম!’ ”
২.২। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণে ও ১৯৯৩ সালে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণে যথাশব্দ/বাংলাভাষার প্রথম ভাব-অভিধান তার ‘সামাজিকতা’-শীর্ষক পর্যায়সারণিতে ‘স্বাগতম’ রূপটি অন্তর্ভুক্ত করেছে এভাবে:
“ক্রি. … স্বাগতম বা খোশ আমদেদ জানানো”।
২.৩। ১৯৯৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘সুস্বাগত’; এবং বলেছে ‘সুস্বাগত (অশু.)’ অর্থাৎ, অভিধানে ঠাঁই পেলেও, ‘সুস্বাগত’ রূপটি ‘অশুদ্ধ’।
২.৪। ১৯৯৯ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘স্বাগতম’ এবং ওদের উচ্চারণ নির্দেশ করেছে এভাবে:
“স্বাগত … শাগতো”; এবং
“স্বাগতম … শাগতম্‌, শাগোতম্‌”।
২.৫। ২০০০ সংস্করণের বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান শীর্ষশব্দ ‘খোশ’ ভুক্তির অধীনে ‘~ আমদেদ’ উপভুক্তির অর্থ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করেছে ‘স্বাগতম’:
“বি সাদর অভ্যর্থনা; স্বাগতম (সমাগত মেহমানদের খোশ আমদেদ জানাই)।”
২.৬। ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘স্বাগতম’।
২.৫। ২০১২ সংস্করণের বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.১ বলেছে, “এই নিয়মে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের নির্দিষ্ট বানান অপরিবর্তিত থাকবে।”
২.৬।এই পটভূমিতে ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘স্বাগত’, এবং অভিধানের বাইরে রেখেছে শব্দটির অন্য সকল রূপ।
২.৭। ‘স্বাগত’ নিশ্চয়ই বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.১-এ কথিত অন্যতম ‘নির্দিষ্ট বানান’; কিন্তু শব্দটির অন্যান্য রূপের কোনোটিরই বানান কি ‘নির্দিষ্ট বানান’ নয়?
২.৮। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির আকাদেমি বানান অভিধান (চতুর্থ সংস্করণ, ২০০৩) অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘স্বাগত’ ও ‘সুস্বাগত’; এবং সে-সঙ্গে ওই সংস্করণের ব্যাখ্যাসংকেত ৪(গ)-তে বলেছে, “উল্লেখযোগ্য যে, বানান অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, এমন শব্দমাত্রই অসিদ্ধ নয়।”
প্রিয় শুবাচি, লক্ষ করে থাকবেন, যে-‘সুস্বাগত’-কে আকাদেমি বানান অভিধান সিদ্ধ বলে গ্রহণ করেছে এবং বানান অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সে-‘সুস্বাগত’-কেই বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান তার অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেও বলেছিল ‘অশুদ্ধ’ [দেখুন অনুচ্ছেদ ২.৩] এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তাকে তো আদৌ অন্তর্ভুক্তই করেনি [দেখুন অনুচ্ছেদ ২.৬]
২.৯। ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান—কেবল ‘স্বাগত’ রূপ অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্য কোনো বিকল্প রূপ অন্তর্ভুক্ত না করা সত্ত্বেও—স্পষ্টতই দরকার মনে করেনি আমাদের সতর্ক ও আশ্বস্ত করে দেওয়ার যে, অভিধানে অন্তর্ভুক্ত শব্দের বাইরেও অনেক শব্দ আছে, থাকবে ও সৃষ্টি হবে, যেগুলোও হতে পারে শুদ্ধ, সিদ্ধ ও প্রমিত।
আপাতত এখানেই হোক ইতি।
সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৩
॥ ইদানীন্তন সাহিত্যে ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’ ॥
৩.১। উপন্যাস: ‘স্বাগতম ভালোবাসা’। লিখেছেন: আলাউদ্দিন আল আজাদ। প্রকাশ কাল: ১৯৯০।
৩.২। উপন্যাস: ‘বিদুর’। লিখেছেন: মিহির সেনগুপ্ত। ওই উপন্যাস থেকে পড়ি:
“আমার আত্মার আত্মীয় পরমপ্রাজ্ঞ বিদুর এসেছেন। স্বাগত স্বাগত ভ্রাতঃ।
… স্বাগত ক্ষত্তা, স্বাগত। স্বাগত প্রিয় দেবর, স্বাগত।”
[বিদুর; মিহির সেনগুপ্ত; প্রথম প্রকাশ: ২০০২, সুবর্ণরেখা, পরিবর্ধিত সংস্করণ: ২০১২, সাহিত্য সংসদ – কলকাতা।]
৩.৩। নাটক: ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ (২০০৮)। লিখেছেন: হুমায়ূন আহমেদ।
৩.৪। কবিতার নাম: ‘সুস্বাগতম’। লিখেছেন: সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় (পীযূষ কবি)। প্রকাশিত হয়েছে: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
৩.৫। কবিতার নাম: ‘আজি পঁচিশে বৈশাখে’। লিখেছেন: লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী।
১০ মে ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত তাঁর ওই কবিতাটি থেকে পড়ি:
“আজি পঁচিশে বৈশাখে
দিনের পূণ্য শুভক্ষণে-
সু-স্বাগতম- সুস্বাগতম!
প্রিয় বিশ্ববন্দিত কবি, তুমি বিশ্বকবি।”
৩.৬। কবিতার নাম: ‘ডাক’; লিখেছেন: শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কবিতাটি থেকে পড়ি:
“কেউ বলে সুস্বাগতম আর কেউ বলে মারহাবা”।
আমার মনে হয়, আনুশাসনিক ব্যাকরণের মুখোমুখি আমাদের জন্য শ্রীজাতের পুরো কবিতাটিই প্রযোজ্য:
ভাষা আমার শরীর। যেমন আকাশ মাটি জলও –
তারও আছে শিকড়, তুমি ফুলের কথাই বলো।
‘অ’ বললে তাই অহং বুঝি, ‘আ’ বললে তাই আদর
আমার ভাষায় বসত করে অজস্র বেরাদর।
সবাই মিলে চড়ুইভাতির বর্ণমালা খুলি,
সেখানে কেউ ওঠায় যদি শাসনে অঙ্গুলি
শেখায়, কে কী বলবে এবং বলবে না কোন কথা,
আমার ভাষায় চার অক্ষরে তৈরি নীরবতা
ভাঙতে পারে তখন। জেনো চড়তে পারে গলা।
খোঁপায় শোভা পেলেও সে তো প্রতিবাদের পলাশ –
পথে লুটোয় ইচ্ছেমতো, দিগন্তে তার আভা…
কেউ বলে সুস্বাগতম আর কেউ বলে মারহাবা
এসব ছাড়াও অন্য কথা বলে যে নিন্দুকে
দেখছে না সে ভাষার রেখা, নাগরিকের মুখে?
দেখছে না সে, ভাতের কাছে হার মেনেছে মানুষ?
আবহমান খিদের সামনে ভাষাও নতজানু…
সেই ভাষাতেই ডাকছি তোমায়, ভাতের কাছে এসো
স্পর্শে এবার বরণ করি, সব অভিমান শেষ হোক।
থাকুক কেবল মনের কথা, পড়ন্ত বিশ্রামে
ভিজিয়ে দিক বর্ণমালা, বৃষ্টি যেমন নামে –
তোমার চোখের বানান করি, ভুল হলে তাও বলো
ভাষায় জাগুক এই পৃথিবীর ঘুমন্ত অঞ্চলও
বিস্তৃত সেই উপত্যকার দু’চারটে অক্ষরে
তোমায় যেন ডাকতে পারি, একুশজন্ম পরে!
৩.৭। শিশু সাহিত্যিক সারমিন ইসলাম রত্না তাঁর ‘সূর্যের হাসি’ (২০১৯) গল্পটিতে লিখেছেন:
“সাদা সাদা মেঘগুলো মিষ্টি হেসে বলল, স্বাগতম সুস্বাগতম। কত দিন পর তোমাকে দেখলাম।”
৩.৮। ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’ গ্রীষ্ম ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের ‘শ্রোডিঙ্গারের ঐশ্বরিক বিড়াল’ উপন্যাস থেকে পড়ি:
“ “স্বাগতম, সুস্বাগতম সময় যাত্রীরা। ২০৭৫ সালে আপনাদের সকল স্বাগত জানাচ্ছি। আমি গ্যাম্বলার।”
“২০৭৫!”
“২০৭৫!”
“সময় যাত্রী!” সকলের মধ্যে বিস্ময় মিশ্রিত গুঞ্জন উঠলো।”
৩.৯। আমরা স্পষ্টতই দেখছি, এ-কালের কথাশিল্পীরা তাঁদের সাহিত্যকর্মে অবলীলায় ও শক্তিমানভাবে লিখছেন ‘স্বাগত’, ‘স্বাগতম’ ও ‘সুস্বাগতম’—যার যেভাবে খুশি।
৩.১০। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৪
॥ ব্লগে, ওয়েব ম্যাগাজিনে ও পত্রপত্রিকায় ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’ ॥
ইন্টারনেট থেকে পাই:
৪.১। “স্বাগতম হে মাহে রমজান”, লিখেছে Jagonews24, ১৮ জুন ২০১৫।
৪.২। “বিদায় ২০১৭ : স্বাগত ২০১৮”, লিখেছে একুশে বার্তা, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭।
৪.৩। “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো . . . স্বাগতম, সুস্বাগতম বাংলা নববর্ষ। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।”
লিখেছেন mmushfiqurrahman তাঁর ব্লগে, ১৩ এপ্রিল ২০১৮।
৪.৪। “স্বাগতম, সুস্বাগতম বাংলা নববর্ষ।”
লিখেছেন কাঞ্চন দাশ, ১৪ এপ্রিল ২০২০, পাণ্ডুলিপি ওয়েব ম্যাগাজিনে।
৪.৫। “স্বাগতম ১৪২৭, ঘরে বসেই নববর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছে বাঙালি,” সংবাদ শিরোনামে লিখেছে এই মুহূর্তে চোখের পলকে খবর, ১৪ এপ্রিল ২০২০।
ওদের নিজস্ব প্রতিনিধি বলছেন: “শুভ নববর্ষ। সুস্বাগতম ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।”
৪.৬। “স্বাগত ২০২১, নতুন আশায় উদ্ভাসিত হোক জীবন,” লিখেছে অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪, ১২:৪৩ এএম, ১ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার।
৪.৭। ‘স্বাগতম’, লিখেছে ‘চিন্তাসূত্র – শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওয়েবম্যাগ’, তাদের প্রথম পাতায়, আজ ১১ এপ্রিল ২০২১।
৪.৮। ‘স্বাগত’-‘স্বাগতম’-‘সুস্বাগতম’-এর এমন ব্যাপক ও বিচিত্র ব্যবহারের বাস্তবতায় আমরা কীভাবে বলতে পারি এদের একটি রূপ প্রমিত এবং অন্য রূপগুলো অপ্রমিত?
আমাদের ভাষা-অনুসন্ধানের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
স্বাগত, সুস্বাগত, স্বাগতং, স্বাগতম্‌, স্বাগতম, সুস্বাগতম্‌, সুস্বাগতম_৫
॥ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষাবোর্ডে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাপিডিয়ায়, উপজেলায় এবং চা-বাগানে—‘স্বাগতম’ ॥
ইন্টারনেট থেকে পাই:
৫.১। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন তার ওয়েবসাইটে লিখেছে:
“বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনে স্বাগতম”।
৫.২। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লিখেছে:
“স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ৩৯তম বিসিএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত ডাক্তারদের জন্য এই ওরিয়েন্টশন e-learning প্রশিক্ষণে সকলকে স্বাগতম।”
৫.৩। আজ ১১ এপ্রিল ২০২১ কুমিল্লা বোর্ড তার ওয়েবসাইটে লিখেছে:
“মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা- আপনাকে স্বাগতম”।
৫.৪। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর প্রধান ফটক-সংলগ্ন রাস্তার ওপর আলপনায়-আঁকা স্বাগত-সম্ভাষণ:
“ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগতম”
—রিপোর্ট করেছেন রাইজিংবিডি.কম-এ মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ৩ নভেম্বর ২০১৯ আপডেট ৩১ আগস্ট ২০২০।
৫.৫। বাংলাপিডিয়া তার ওয়েবসাইটের প্রধান পাতায় লিখেছে:
“বাংলাপিডিয়ায় স্বাগতম!”
৫.৬। ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ল্যান্ডিং স্টেশনে স্বাগতম-স্তম্ভে উৎকীর্ণ:
“স্বাগতম
মনপুরা উপজেলা, ভোলা”।
রিপোর্ট করেছে দি বরিশাল ১৮ নভেম্বর ২০২০।
৫.৭। শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাদবেদীতে উৎকীর্ণ স্বাগত-সম্ভাষণ:
“চায়ের দেশে স্বাগতম
জেলা প্রশাসন, মৌলভী বাজার
সৌজন্যে: সাতগাঁও চা বাগান”।
বাংলাভাষীদের রাস্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ‘স্বাগতম’ শব্দটির গভীর ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ব্যবহার অস্বীকার করবেন কীভাবে, সেটাও আবার কেবল অসমর্থিত ও ভিত্তিহীন প্রমিত-অপ্রমিতের বা ব্যাকরণের দোহাই দিয়ে?
সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
 
খুরশেদ আহমেদের লেখা
https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/
https://draminbd.com/তৎসম-শব্দের-কণ্টকারণ্যে/
https://draminbd.com/স্বাগত-সুস্বাগত-স্বাগতং/
https://draminbd.com/ব্যবহারিক-বা-ব্যাবহারিক/
 
https://draminbd.com/বাংলা-একাডেমি-আধুনিক-বাং/
সংযোগ:https://draminbd.com/স্বরযন্ত্র-নিয়ে-দুঃখকথা/
সংযোগ: https://draminbd.com/লাট্টু-লাটিম-লেতি-লেত্তি/
সংযোগ: https://draminbd.com/কৃষান-কৃকেট-ক্রিকেট-কৃষা/

https://draminbd.com/এক-ভরি-বা-এক-তোলা-মানে-কত-গ্/
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
 
 
 
 
error: Content is protected !!