স্যমন্তক: একবিংশ পর্ব 

ড. মোহাম্মদ আমীন

স্যমন্তক: একবিংশ পর্ব 

‘Influence of English in Bengali Literature’ শিরোনামের রচনা প্রতিযোগিতায় রাকু প্রথম হয়েছে। আয়োজক ব্রিটিশ কাউন্সিল, ঢাকা, বাংলাদেশ। মাত্র ফোন করে জানাল সে। এর আগে প্রতিযোগিতার বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না। সে আমাকে অতর্কিত চমকে দিয়ে ঝটিকানন্দ দিতে পছন্দ করে। আগামী পরশু শৌখিন আড়ম্বর অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। প্রধান আলোচক কবীর চৌধুরী। আমার উপস্থিতি রাকুর প্রার্থনা।
খান স্যারের অনুমতি নিয়ে চলে এলাম ঢাকায়। খান স্যারও খুশি হয়েছেন। ধার্য তারিখ নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পূর্বে ব্রিটিশ কাউন্সিলে পৌঁছে গেলাম। আলোচনা শুরু হয়নি। সব পূর্ব-প্রস্তুতি সম্পন্ন। পরিচিত ও বিখ্যাত আমন্ত্রিতবর্গের অনেকে এসে পড়েছেন।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার স্যার কলিন ইমরে (Sir Colin Imray)। তিনিও এসে পৌঁছাননি। স্যার মানুষ, চামড়াও সাদা, শরীরে ব্রিটিশদের জাতীয় বীর লর্ড ক্লাইভের রক্ত— সময়ের এক মিনিট আগেও আসবেন না, কিন্তু ঠিক সময়ে ঠিকই পৌঁছে যাবেন ঠিক জায়গায়। সারা বিশ্ব কি তারা যুগের পর যুগ এমনি এমনি শাসন করতে পেরেছেন?

কথার ফাঁকে উপস্থিত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে রাকুকে পরিচয় করিয়ে দিলাম— “আমার মেয়ে রাকু। রাকুই রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। এসএসসি এবং এইএসচিতে স্ট্যান্ড। ইংরেজিতে অনর্গল, আরবিও জানে, ফ্রেঞ্চ শিখছে এখন। তারপর

Kabir Chowdhury

শিখবে স্প্যানিশ। গানের গলাও দারুণ।” হায়াৎ মামুদ খুশি হলেন, কাইয়ুম চৌধুরী শাবাশ বলে উৎসাহ দিলেন।অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কিছু বললেন, সামান্য হেসে তার মুগ্ধতা বিলিয়ে দিলেন আমার প্রতি।
অনেকে রাকু আর আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন। এত ছোটো মানুষের এত বড়ো মেয়ে দেখে অনেকের চোখ কপাল ছেড়ে মাথায়—  এ কীরে বাবা! কিন্তু কোনো প্রশ্ন করলেন না— হয়তো ভদ্রতা, নতুবা অবজ্ঞা। তবে ফিসফিস করে আমাদের নিয়ে আলাপ করছিলেন। বুঝতে পারছিলাম— আলাপের সংলাপরাশি আমার জন্য শ্রুতিমধুর হবে না। কান সরিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই করলাম।
খান স্যারের উপদেশ মনে পড়ে গেল— “যে সংলাপ তোমার কুৎসার জন্য রচিত তা শুনিও না, প্রয়োজনে গরম সীসা ঢেলে কান নষ্ট করে দেবে। বদ-কথা শ্রবণ রৌরব নরকে জ্বলার চেয়ে কষ্টকর। অনেকে অনেক কথা বলবে— রাকু আর তোমাকে নিয়ে। তুমি যদি পাত্তা না দাও বেঁচে যাবে, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। বদবক্তারা থেমে যেতে বাধ্য হবে। যদি প্রতিবাদ করতে যাও, তাহলে তুমি

মমতাজ উদ্দিন আহমেদ

শেষ। গালি, কুৎসা, বিরূপ সমালোচনা মনুষ্যমলের মতো দুর্বিষহ। যারা গালি দেয়, বদকথা বলে তারা যেন গুহ্যদ্বারের গু মুখে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যারা মুখে মল নিয়ে তোমার দিকে ছুড়ে দিতে আসে তাদের দেখামাত্র কান বন্ধ করে ফেলবে। মলের গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য যেমন নাক বন্ধ করে ফেলা হয়।”
কাইয়ুম চৌধুরী বললেন, কোথায় পড়ে আপনার মেয়ে?
আমি বললাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।
: এত ভালো রেজাল্ট- মেডিক্যাল-বুয়েট নয় কেন?
: তার পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
: কোন সাবজেক্ট পড়বে, মা?
রাকু বলল, বাংলা।
পাশেই ছিলেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ। সহজ মনের বিরল মানুষ তিনি। রাকুর কথা শুনে হেসে উঠলেন ঠিক যেভাবে হেসেছিলাম আমি। “বাংলা আবার পড়তে হয় না কি গো?” হায়াৎ মামুদ তার স্বভাবজাত মধুর বাক্যে বললেন।
আমি বললাম, আপনি স্যার বাংলার শিক্ষক হয়ে এমন কথা বললেন?
হায়াৎ মামুদ বললেন, আমি তো বাবা অন্য সাবজেক্ট পাইনি বলেই বাংলায় ভর্তি হয়েছি। বাংলায় পড়লে সবাই অবজ্ঞার চোখে দেখে। বাংলা নাকি হ্যাংলারা পড়ে। এজন্য মেধাবীদের অনেকে ইচ্ছা থাকলেও বাংলায় ভর্তি হয় না। ভর্তি হলেও অনেকে ভাবে মেধাহীন বলেই বাংলা পড়ছে। সন্তান বাংলা পড়ে এটি বলতে অনেক মা-বাবা লজ্জা পায়। বাঙালির মতো মাতৃভাষাবিদ্বেষী এমন

কাইয়ুম চৌধুরী

বর্বর জাতি পৃথিবীতে আর নেই।
রাকু বলল, মেধাবীরাই কিন্তু লিটারেচার পড়ে এবং এটাই হওয়া উচিত। ন্যাচার থেকে লিটারেচার। সাহিত্য মানে প্রকৃতি, প্রকৃতি মানে জীবন। জীবনের জন্য বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের জন্য জীবন নয়। জীবন একটি সাহিত্য। বিজ্ঞান সাহিত্যের উৎকর্ষের জন্য সৃষ্ট সাহিত্যের অধস্তন একটি অতি খুদে অংশ। কম মেধার কেউ কোনো কারণে সাহিত্য পড়া শুরু করলে ক্রমশ সেও মেধাবী হয়ে যায়। পুরো ব্রহ্মাণ্ডই সাহিত্য।
হায়াৎ মামুদ বললেন, বাঙালির মতো এমন স্ববিরোধী ও আত্মপ্রবঞ্চক জাতি পৃথিবীতে নেই। নিজের মাতৃভাষাকে পর্যন্ত অবজ্ঞা করে, অপমান করে। বিদঘুটে মানসিকতায় আচ্ছন্ন আত্মমর্যাদাহীন ভাবনাই তাদের দিন দিন নিকৃষ্ট করে দিচ্ছে। আরে বাবা তুমি সব ভাষা শিখ, কিন্তু কুলাঙ্গারের মতো মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে কেন? মায়ের প্রতি অপমান পাশব প্রাণীর কাজ।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বললেন, হায়াৎ ভাই তোমাকে পড়াবেন না। তুমি বরং আমার ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়ে যাও। বাংলা সাহিত্যের অধিকাংশ তারকা অন্য ডিসিপ্লিনের। ইংরেজি সব ভাষার মিলন ক্ষেত্র। বিখ্যাত হতে হলে ইংরেজি ছাড়া উপায় নেই।
আমি বললাম, আমিও বলছি ইংরেজি পড়তে, সে বাংলাই পড়বে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বললেন, বাংলা বাঙালির জন্য, কিন্তু ইংরেজি পৃথিবীর সবার জন্য। আমাদের দেশে ইংরেজি জানা লোকের

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

খুব অভাব। দেশে কমপক্ষে দশ হাজার অনুবাদক প্রয়োজন। আছে মাত্র ডজন খানেক। অভাবটা কত তীব্র বুঝতে পারছ? তো মা তুমি কেন বাংলা পড়তে চাইছ?
রাকু বলল, একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে ভাষার গান গেয়ে প্রথম হয়েছিলাম। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের চ্যেয়ারম্যান আমাকে পুরস্কার দিয়েছিলেন। ওইটি ছিল জীবনের প্রথম বড়ো পুরস্কার। তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই, বাংলা নিয়েই পড়ব।
কোন গানটি গেয়েছিলে? কাইয়ুম চৌধুরী জানতে চাইলেন।
“ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা- – -”
আমি বললাম, সে নাকি লিঙ্গুয়িস্ট হবে।
 সিরাজুল ইসলাম চৌধুলী বললেন, লিঙ্গুয়িস্ট হলে তুমি মা ইংরেজিতেই ভর্তি হও। ইংরেজি জানলে পৃথিবীর সব ভাষা জানা হয়ে যাবে।
রাকু বলল, স্যার, ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা বিশ্বভাষা। কিন্তু আমার ভিত মাতৃভাষা। মাতৃভাষা আয়ত্তের পর বিশ্বভাষা। মায়ের দুগ্ধে পুষ্ট হয়ে সন্তান অন্য খাদ্যে যায়। আমি মাতৃভাষায় পুষ্ট হয়ে বিশ্বভাষায় নিষ্ঠ হব।
আমি বোকার মতো বলে ফেললাম, তোমাকে মেয়ে, আরও মূল্যবান দেখতে চাইছি। বাংলা-ফাংলা পড়ে কী হবে? বাংলাদেশের বাইরে গেলে এক পয়সা যার দাম নেই। অপভ্রংশ থেকে বাংলা, অপভ্রংশ মানে কী জানো?
হায়াৎ মামুদ বললেন, বাংলা পড়লে কি মূল্য কমে যায়?
আমতা আমতা করে বললাম, ঠিক তা নয়। সবাই বলে তো এজন্য …।
রাকু বলল, এজন্য বাংলা পড়লে অনেকে নাক সিঁটকায়।
হায়াৎ মামুদ বললেন, কবি আবদুল হাকিম এদের খারাপ গালি দিয়েছিলেন। রচনা-মা, কবিতাটা তোমার মনে আছে?
: “যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।”
আমি লজ্জায় বিচলিত হয়ে বললাম, ঠিক আছে বাংলায় পড়ো।
রাকু বলল, আমি আমার মত জানালাম। আপনার কথাই শেষ কথা।
মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বললেন, আমার বিভাগে চলে এসো, নাটক করবে। তোমার চেহারাটাই যেন একটা নাট্যকলা। এমন নাট্যশৈলী চোখ আর দেখিনি। চোখ কীভাবে এত গভীর হয় রে মা? কী জানি ঈশ্বর কত অযুত বছর খনন করে এত গভীরতা দিয়েছে তোমার চোখে।
স্যার- – -, রাকুর বাক্য শেষ হওয়ার আগে সভাকক্ষে ঢুকলেন কবীর চৌধুরী। সঙ্গে সৈয়দ শামসুল হক এবং আরও কয়েকজন। কবীর চৌধুরী সামনের সারির একটা খালি চেয়ারে বসে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
রাকু আমাকে নিয়ে এগিয়ে গেল, স্যার, আমিই প্রথম হয়েছি। নাম রাকু।
কবীর চৌধুরী বললেন, তোমার রচনা পড়লাম। বাংলার মতো সাবলীল, বাক্যের গাঁথুনি নিপাট। গদ্যেও কাব্যিক আকর্ষণ, আমি অভিভূত হয়েছি। তোমার মাতৃভাষা কি ইংরেজি?
না।
তুমি কি ব্রিটেনে লেখাপড়া করেছ?
না।
কোথায় শিখেছ এমন ইংরেজি?
পুরানো বইয়ের দোকান থেকে কেনা পুরানো বইয়ের  পুরানো পাতার নতুন লেখায়।

পুরানো বইয়ের নতুন পাতা মানে? কবির চৌধুরী বললেন।

স্যার, বইয়ে পৃষ্ঠা পুরানো হতে পারে, পাঠকের জন্য বই কখনো পুরানো হয় না।

:  তোমার রচনার শব্দে শব্দে আমি নিষ্ঠা পেয়েছি মুগ্ধ মেধার।  The merit of originality is not novelty; it is sincerity.
কবীর চৌধুরীর কথা শুনে আমি রোমাঞ্চিত হয়ে উঠি, স্যার ও নাকি বাংলা ছাড়া পড়বে না। আমি বলছি ইংরেজি পড়তে।
: সে আমার চেয়ে ভালো ইংরেজি জানে। তার ইংরেজি বিষয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। সনদের জন্য পড়লে অন্যকথা। বাংলা পড়ুক। বাংলা পড়ে ইংরেজিতে অপরাজেয় হয়ে উঠুক।
আমি বললাম, আপনি তার উত্তরপত্রে একশতে আটানব্বই দিয়েছিলেন।
কখন?
আমি উত্তর দিতে যাওয়ার আগে বলে ওঠলেন কবীর চৌধুরী, মনে পড়েছে। আবদুল হামিদ খানের সেই মেয়েটি নাকি? পুরো শরীর যার মাথা?
জি, স্যার।
তো সে ফার্স্ট না হয়ে কে হবে? এই মেয়ে তুমি এসে আমার পাশে বসো।
আমি সাধারণত আমার ওপর নির্ভরশীল কারও স্বাধীনতায় বাধ সাধি না। যদি বুঝতে পারি, লক্ষ্য প্রতীতির সঙ্গে এগোচ্ছে

ড. মোহাম্মদ আমীন

যথাদিকে, অধ্যবসায়ের সঙ্গে লড়ছে মনের তাড়না- রাকুর মধ্যে সব আছে। তার ইচ্ছাকে আমি আমার মতো চালিত করতে পারি, কিন্তু পারব বলে করব না; তার ইচ্ছে তার মতোই চলুক, তার চিন্তা তার কালের, আমার কালের নয়। তার লক্ষ্য তার চোখে, আমার চোখে নয়।
কবীর চৌধুরী বললেন, তুমি কি ইংরেজি পছন্দ কর না?
রাকু বলল, আমি সব ভাষা পছন্দ করি। প্রত্যেক জাতি মানব জাতির অংশ। সে হিসাবে প্রত্যেক ভাষা মানুষের প্রিয়। তবে মাতৃভাষার প্রতি আলাদা টান আছে। প্রত্যেকের ভাষা প্রত্যেকের কাছে প্রিয়, ঠিক জন্মদাত্রীর মতো। আমি ইংরেজি জানি, আরবিও জানি।
এসময় অরুণাভ সরকার ঢুকে সবার সামনে একটা পত্রিকা মেলে ধরলেন, আজকের তাজা খবর?
কী? কবীর চৌধুরী সামান্য বিরক্ত হয়ে জানতে চাইলেন। অরুণাভ সরকারের কাজই মাঝখানে অপ্রাসঙ্গিক কিছু  ঢুকিয়ে দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
 আফগানিস্তানের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৩৭ জন মুসল্লি নিহত।
হায়াৎ মামুদ বললেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্কোন্দল দিন দিন কেন জানি বেড়ে যাচ্ছে। সবখানে অযথা ধর্ম টেনে নিয়ে আসে। লেশমাত্র বিবেচনা খুঁজে পাই না।
মমতাজ উদ্দিন বললেন, অনেকে ভাষাতেও ধর্ম নিয়ে আসে। অভিজাত চিহ্নিত সংস্কৃত নিষিদ্ধ ছিল শ্রমজীবীদের মুখে। এখনও অনেকে শব্দেও ধর্ম পায়।  জল-পানি, চাচা-কাকা, মাংস-গোস্ত; স্নান-গোসল। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সর্বস্তরে বিষয়টি মারাত্মক।
কবীর চৌধুরী বললেন, ধর্মীয় গোঁড়ামিই পৃথিবীর সব অশান্তির মূল। ধার্মিকেরা মনে করে, অন্য ধর্মকে ঘৃণা করাই বড়ো পুণ্য। এভাবে গড়ে ওঠে মানসিকতা। এজন্য ধর্ম নিয়ে এত হানাহানি। ধার্মিকেরাই ধার্মিকের শত্রু।
রাকু বলল, God made so many different kinds of people. Why would he allow only one way to serve him? ?
কবীর চৌধুরী রাকুকে বললেন, সময় থাকলে আমার সঙ্গে অনুবাদের কাজ করতে পার। অভিজ্ঞতা হবে, কিছু হাত-খরচও পাবে।

সৈয়দ শামসুল হক

করবে?
রাকু আমার দিকে তাকাল।
আমি বললাম, স্যার, আপনার এ প্রস্তাব রাকুর একটি বড়ো প্রাপ্তি। এ বয়সে এমন স্বীকৃতি অবিশ্বাস্য। রাকু আসলেই ভাগ্যবান।
কবীর চৌধুরী বললেন, ভাগ্যবান নয়, যোগ্যবান। সি ডিজার্ভস ইট।
প্রধান অতিথি আসার পরপরই আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
রাকুর রচনার প্রশংসায় বক্তারা পঞ্চমুখ।
আমি খুশি আর গর্বে আকাশ। রাকু যখন প্রধান অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছিল, তখন আমার অজান্তে চোখ ভরে গেল জলে। মুছতে গিয়ে বোধ হলো, সব জল বুকের পাঁজর ভেদ করে মিশে গেছে পুরো শরীরে আপাদমস্তক।

স্যমন্তক: একবিংশ পর্ব (শুবাচ লিংক)
=============== অন্যান্য==================

সাম্প্রতিক জানা প্রমিত বানান: সাধারণ শব্দ অসাধারণ ভুল

ইদানীং ও ইদানীং-এর বিপরীতার্থক শব্দ

ফলজ অর্থ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ

————————————————————
————————————————————–
error: Content is protected !!