হল হল হল হলো এবং ছাত্রাবাস; হল বনাম ছাত্রাবাসা; ছাত্রাবাস কিন্তু ছাত্রীবাস নয় কেন: ছাত্র থেকে ছাত্রা

ড. মোহাম্মদ আমীন

হল হল হল হলো ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস

সংযোগ:https://draminbd.com/হল-হল-হল-হলো-এবং-ছাত্রাবাস/

 

হল: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে হল শব্দের তিনটি পৃথক  ভুক্তি পাওয়া যায়।

প্রকাশক: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

১. সংস্কৃত হল (√হল্+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) ভূমি কর্ষণের হাতিয়ারবিশেষ, লাঙল। কৃষক দল, জমি চষে দিয়ে হল।

২. আরবি হল অর্থ— (বিশেষ্যে) দ্রবীকরণ, সোনার প্রলেপ, সমাধান।
৩. ইংরেজি হল (Hall) অর্থ (বিশেষ্যে)— বৈঠক সভাসমিতি প্রভৃতি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে নির্মিত বৃহদাকার ঘর, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাস।
তিনটির উচ্চারণই হল্।
হলো:  হলো বাংলা শব্দ। বাংলা হলো অর্থ (ক্রিয়াবিশেষ্যে)— হইল শব্দের চলিত রূপ। হইল অর্থে হল লেখার কোনো ভুক্তিশব্দ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে নেই।
তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা- – -। (রবীন্দ্রনাথ)
ছাত্রাবাস: তৎসম ছাত্রাবাসা (ছাত্র+আবাস) অর্থ (বিশেষ্যে)—  বিদ্যার্থীর বাসস্থান, ছাত্রনিবাস, এমন হল যেখানে ছাত্ররা বসবাস করে। স্ত্রীলিঙ্গে— ছাত্রীনিবাস। ছাত্রাবাসে কেবল ছাত্রগণ বাস করে।
হল বনাম ছাত্রাবাস: আভিধানিক অর্থ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসস্থান অর্থদ্যোতিত হল অর্থ বৈঠক সভাসমিতি প্রভৃতি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে নির্মিত বৃহদাকার ঘর, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাস। কিন্তু ছাত্রাবাসা অর্থ  কেবল বিদ্যার্থীর বাসস্থান। সুতরাং, সকল হল ছাত্রাবাস, কিন্তু সকল ছাত্রাবাস হল নয়। যে হলে কেবল ছাত্রদের বাসস্থান হিসেব ব্যবহৃত হয়, কেবল সে হলেই ছাত্রাবাস।
আমাদের দেশে সাধারণত স্কুল বা কলেজের ছাত্রাবাসকে বলা হয় ‘হোস্টেল’, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তাকে বলা হয় ‘হল’৷ কর্মজীবী পুরুষ বা মহিলাদের থাকার আবাসকেও বলা হয় ‘হোস্টেল’৷ পশ্চিমা দেশে সবচেয়ে নিম্ন ক্যাটাগরির হোটেলকে বলা হয় ‘হোস্টেল’৷
ছাত্রাবাস কিন্তু ছাত্রীবাস নয় কেন? ছাত্র থেকে ছাত্রা: ধরে নিন কৌতুক
ছাত্রী+আবাস= ছাত্রীবাস হতে পারে না। হতে পারে ছাত্র্যাবাস। যেমন: ইতি+ আদি= ইত্যাদি। কিন্তু এই সন্ধি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ হলেও শ্রুতিমধুর নয়। উচ্চারণেও বিদঘুটে। তাই ছাত্রীদের আবাসকে ছাত্রীনিবাস বলা হয়, ছাত্র্যানিবাস বলা হয় না। ছাত্রীনিবাস সমাসসাধিত শব্দ। এটিই শ্রুতিমধুর এবং বহুল প্রচলিত। তাহলে ছাত্রীবাস লিখলে কি ভুল হবে? দেখা যাক, ভুল হবে কি না।
পৃথিবীতে কোনো কিছু অনিবার্য নয়। সন্ধি যেখানে অসন্ধির কাজ করে কিংবা অকার্যকর সেখানে সমাস এগিয়ে আসে। যদি ব্যাকরণের কোনো কারণই কাজ না-করে তাহলে অকারণই হয়ে যায় ব্যাকরণ। নিম্নের সমাস সম্পাদনে কোনো ব্যাকরণিক ভুল হয়েছে কি?
ছাত্রদের আবাস = ছাত্রাবাস।
ছাত্রীদের আবাস = ছাত্রীবাস
সেনাদের নিবাস = সেনানিবাস।
ছাত্রাবাস ঠিক হলে ছাত্রীবাস শব্দও ঠিক। সেনাবাসও ভুল হবে না, কিন্তু সেনাবাস লেখা হয় না। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, সবখানে ব্যাকরণ অযথা এবং আসলেই অকারণ। প্রচলনই আসল। তাই একদিকে ছাত্রাবাস লেখা হলেও অন্যদিকে প্রবল প্রতাপশালী সেনারা যেখানে থাকেন সেটি সেনানিবাস, সেনাবাস নয়।
কিন্তু কেন?
মেয়েরা পুরুষদের ওপর সেনাবাহিনীর মতো প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তারক এক শক্তি। এজন্য মেয়েদেরটা ছাত্রীনিবাস আর ছাত্রদেরটা ছাত্রাবাস। এখানে সন্ধি করে ছাত্রদের ছাত্রা করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রী আর সেনারা সন্ধিকে উপেক্ষা করে সমাসে গিয়ে নিজেদের মৌলিকত্ব নিবাসেও অক্ষুণ্ন রেখেছে। এটিই ব্যাকরণের কারণ আর কারণের অকারণ। ধরে নিন কৌতুক।
error: Content is protected !!