হাইতি (Haiti) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম ( উত্তর আমেরিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

হাইতি (Haiti)

হাইতি পশ্চিম গোলার্ধে ক্যারিবিয় অঞ্চলের হিস্পানওলা দ্বীপপুঞ্জের একটি দরিদ্র রাষ্ট্র। সরকারি নাম রিপাবলিক অব হাইতি। এর প্রাচীন নাম। স্থানীয় টাইনো (Taino) আদিবাসীদের ব্যবহৃত টাইনো ভাষা হতে হাইতি নামের উৎপত্তি।  গবেষকণগণ নিশ্চিত যে, টাইনো ভাষার হ্যাইটি (Hayiti) শব্দ হতে

প্রকাশক: পুথিনিলয়। উত্তর আমেরিক।

হাইতি নামের উদ্ভব।  হাইয়িটি (Hayiti) বা হ্যাইটি (Hayti) শব্দের অর্থ পর্বতময় ভূমি বা উুঁচ পাহাড়ের ভূমি (land of high mountains)। এটি পর্বতময় ছিল বলে স্থানীয় আদিবাসীরা এর নাম দিয়েছিলেন হাইতি।

১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দের  ৫ ডিসেম্বর ক্রিস্টোফার কলম্বাস হাইতিতে অবতরণ করেন। ওখানে তাইনো-ইন্ডিয়ানরা বসবাস করছিল। কিন্তু কলম্বাস এটাকে স্পেনের ভূখণ্ড দাবি করে নাম দেন : হিস্পানিওলা। স্প্যানিশ ল্যাটিনিকরণ শব্দ লা ইস্পানওলা হতে হিস্পানিওলা নামের উৎপত্তি। এর অর্থ স্পেনিশ বা স্পেনিশ আইল্যান্ড। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে রাইসওইক চুক্তির মাধ্যমে স্পেন তার অধিকৃত হিস্পানিওলার পশ্চিমের কিছু অংশ ফ্রান্সের কাছে দিয়ে দেয়। তারা এর নাম দেন সেন্ট ডোমিনিক (Saint-Domingue)। এ সেন্ট ডোমিনিকই বর্তমান হাইতি। হিস্পানওলার বাকি অংশ স্পেনের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। স্পেন নিয়ন্ত্রিত ওই অংেশর নাম ডোমিনিকান রিপাবলিক। হাইতিয়ান সংগ্রামী নেতা জন জ্যাকুইস ডেসালিন্স (Jean-Jacques Dessalines) স্বাধীনতার পর সেন্ট ডোমিনিগ নাম বদলিয়ে পূর্বনাম হাইতি রাখেন। ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দ হতে হাইতি চারটি ফ্ল্যগ ধারণ করতে বাধ্য হয়। হাইতি হচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গ শাসিত প্রথম স্বাধীন উপনিবেশ। ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শাসিত প্রজাতন্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ফ্রেঞ্চ ও হাইতিয়ান ক্রেয়োল সরকারি ভাষা।

হাইতির মোট আয়তন ২৭,৭৫০ বর্গকিলোমিটার বা ১৯, ৭১৪ বর্গমাইল। এর মোট জনসংখ্যা ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের  অনুমিত হিসাবমতে,  ১,০৬,০৪,০০০ জন। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটাওে ৩৫০.২৭ জন লোক বসবাস করেন। আয়তন বিবেচনায় হাইতি পৃথিবীর ১৪০-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ৮৫-তম। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ৩২-তম জনবহুল দেশ। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, হাইতির জিডিপি (পিপিপি) ১৮.৫৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১,৭৭১ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, হাইতির হাইতির জিডিপি (নমিনাল) ৮.৯১৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৮৫২ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম হাইতিয়ান গোর্দ (Haitian gourde)। রাজধানী পোর্ট অও প্রিন্স। সরকারি ভাষা ফ্রেঞ্চ ও হাইতিয়ান ক্রেয়োল। জনসংখ্যার মধ্যে ৯৫% কৃষ্ণাঙ্গ ও ৫% মুলাটি ও শ্বেতাঙ্গ। হাইতির নাগরিকদের হাইতিয়ান বলা হয়। হাইতির জনগণের ৯৫% কৃষ্ণাঙ্গ। কৃষ্ণাঙ্গরা ঔপনিবেশিক আমলে দাস হিসাবে আনা আফ্রিকানদের উত্তরসুরী।

কিউবা ও ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের প রহাইতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। ১৯১৫ হতে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হাইতি যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। ১৮০৪-১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হাইতি ৭০জন একনায়ক দ্বারা শাসিত হয়েছে। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ১ জানুয়ারি হাইতি ফ্রান্স হতে স্বাধীনতা লাভ করে

প্রকাশক: পুথিনিলয়। আফ্রিকা

এবং পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাধীন দেশে পরিণত হয়। হাইতি পশ্চিম গোলার্ধের হিস্পানিওলা দ্বীপুঞ্জে অবস্থিত একটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপ। এর সরকারি নাম রিপাবলিক অব হাইতি।

 ৫০০ বছর আগে ইউরোপিয়ানরা হাইতিতে বারবিকিউ (নধৎনবপঁব) দেখতে পায়। পশ্চিম গোলার্ধের দেশসমূহের মধ্যে হাইতি সবচেয়ে জনবহুল এবং সবচেয়ে অনুন্নত। চিনি রিফাইনিং, আটা, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, কফি, আম, ইক্ষু, চাল, কাঠ, প্রভৃতি জাতীয় আয়ের উৎস। প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কফি, তেল ও কোকো। হাইতির ১% লোক জাতীয় সম্পদের মোট ৫০% এর অধিকারী। পশ্চিম গোলার্ধে ক্যারিবিয় অঞ্চলের হিস্পানওলা দ্বীপপুঞ্জের একটি দরিদ্র রাষ্ট্র। সরকারি নাম রিপাবলিক অব হাইতি। যুক্তরাষ্ট্র হাইতির বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। হাতিয়ার আমদানি পণ্যের অর্ধেক আস যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবার হাইতির রপ্তানির ৮০% যায় যুক্তরাষ্ট্রে। হাইতিতে একটি দ্বীপ আছে। নাম ইলি-অ্যা-ভেচে (ওষব-ধ-ঠধপযব)। এর নাম গরুর দ্বীপ (পড়ি রংষধহফ)।  এ দ্বীপে প্রচুর গরু জন্মাত। আমেরিকানরা হাইতির এ দ্বীপের মাধ্যমে প্রথম গরুর সঙ্গে পরিচিত হয়। এর আগে গরু সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।


উত্তর আমেরিকা (North America) : ইতিহাস ও নামকরণ

এন্টিগুয়া এন্ড বারবুডা (Antigua and Barbuda) : ইতিহাস ও নামকরণ

 দি বাহামাস (Bahamas) : ইতিহাস ও নামকরণ

বার্বাডোস (Barbados ) : ইতিহাস ও নামকরণ

বেলিজ (Belize) : ইতিহাস ও নামকরণ

কানাডা (Canada) : ইতিহাস ও নামকরণ

কোস্টারিকা (Costa Rica) : ইতিহাস ও নামকরণ

কিউবা ( Cuba) : ইতিহাস ও নামকরণ

ডোমিনকা (Dominica) : ইতিহাস ও নামকরণ

 ডোমিনিকান রিপাবলিক (Dominican Republic) : ইতিহাস ও নামকরণ

এল স্যালভেডর (El Salvador) : ইতিহাস ও নামকরণ

গ্রেনাডা (Grenada) : ইতিহাস ও নামকরণ

গুয়েতেমালা (Guatemala) : ইতিহাস ও নামকরণ

ইউনাইটেড স্টেটস (United States) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

আফ্রিকা মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

এশিয়া মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

error: Content is protected !!