হাতের পাঁচ আঙুল: আঙুলের নামকরণ বৃত্তান্ত

ড. মোহাম্মদ আমীন

হাতের সব আঙুলের নাম নারীবাচক। একসময় সমাজে নারীরাই ছিল প্রধান। এটি তার একটি প্রমাণ। এজন্য নারী শব্দের আদি ও মূল অর্থ ছিল নেত্রী। হাতের সবচেয়ে মোটা আঙুলের নাম হচ্ছে বৃদ্ধা। এটাকে হাতের প্রধান আঙুল বলা হয়।  বাকি চার আঙুল তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তাই বৃদ্ধাঙ্গুলকে আঙুল জাতির নেতা বলা হয়। তবে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল মোটা হলেও এর কোনো মূল্য নেই। নেতা যখন পায়ে নেমে যায় তার আর মূল্য থাকে কীভাবে?
 
বৃদ্ধাঙ্গুলের পর থেকে আঙুলগুলোর নাম যথাক্রমে (২) তর্জনী; (৩) মধ্যমা; (৪) অনামিকা এবং (৫) কনিষ্ঠা। নিচে আঙুলগুলোর নামকরণের কারণ দেওয়া হলো:
 
১. বৃদ্ধাঙ্গুলি
মানুষ ও প্রাইমেট বর্গের প্রাণীর স্থুল ও খর্বাকৃতি আঙুলকে বৃদ্ধাঙ্গুল (বৃদ্ধ+অঙ্গুলি= বৃদ্ধাঙ্গুলি) বলা হয়। এটি আঙ্গুল সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মোটা এবং অন্যান্য চার আঙুল থেকে একটু দূরে অবস্থান করে। কারণ এটি নেতা। তাই সাধারণ আঙুল থেকে তার অবস্থান একটু দূরে। অধিকন্তু, এই আঙ্গুলটি অন্য চার আঙুলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বৃদ্ধাঙ্গুল না থাকলে বা কাজ না করলে বাকি চার আঙুল প্রায় অকেজো হয়ে যায়। তাই তাকে বৃদ্ধাঙ্গুল বা প্রবীণাঙ্গুল বা নেতাঙ্গুল বলা হয়। অবশ্য বাকি চারটি আঙুল বৃদ্ধাঙ্গুলকে সহযোগিতা না করলে বৃদ্ধাঙ্গুল অকেজো হয়ে যায়। এখানে বোঝা যায় নেতা আর অনুসারীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত।
 
 
২. তর্জনী
তর্জন থেকে তর্জনী। বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার মাঝের আঙুলটির নাম তর্জনী। এটাকে শাসক আঙুলও বলা হয়। সে বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে ক্ষমতা এবং মধ্যমা থেকে পরামর্শ নিয়ে শাসন করে। আঙুলটির যেমন দৈহিক উপযোগিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভাষিক উপযোগিতা। কাউকে কলা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বুড়ো আঙুল কিন্তু কাউকে দেখে নেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় তর্জনী।
হাত: মিনহা সিদ্দিকা
তর্জনী নাড়ানোর ভঙ্গি দেখে মেজাজ বোঝা যায়। বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার মাঝখানের আঙুল নেড়ে তর্জনগর্জন করা হয় বলেই এই আঙুলের নাম হয়েছে তর্জনী। তর্জনীর অবস্থান বৃদ্ধাঙ্গুল বা মুরুব্বি আঙুলের পাশে। তাই তার তেজ বেশি। বলা হয়, সূর্যের চেয়ে রোদের তাপ বেশি, নেতার চেয়ে পাতি নেতার তেজ বেশি। হাতের আঙুল ও মধ্যমার মধ্যবর্তী  তর্জনী নেড়ে শাসানো হয়।স.তর্জ+অন+ঈ।মুজিব আমার মুক্তিদাতা রুদ্র অভিলাষ, তর্জনীতে গর্জে উঠে নতুন ইতিহাস (ড. মোহাম্মদ আমীন)।
 
৩. মধ্যমা
মধ্যমা হাতের পাঁচ আঙুলের মধ্যখানে অবস্থিত। তাই এর নাম মধ্যমা। এটি তর্জনী ও অনামিকার মধ্যবর্তী আঙুল। মধ্যস্থতা করার জন্য মধ্যমা সবচেয়ে ক্ষমতাশালী বৃদ্ধাঙ্গুল ও সবচেয়ে ক্ষমতাহীন কনিষ্ঠাঙ্গুল হতে সমদূরত্বে অবস্থান করে। মধ্যস্থতা করার সময় যাতে সহজে চোখে পড়ে এজন্য এটাকে দীর্ঘতম আঙুল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
 
৪. অনামিকা
কনিষ্ঠ বা কড়ে আঙুলের পাশের আঙুলটির নাম অনামিকা। অনামিকা মানে যার নাম নেই। আঙুলসমূহের মধ্যে কার্যক্ষেত্রে এটি তত গুরুত্বপূর্ণ না হলেও হার্দিক বিষয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এ আঙুলে প্রেম-ভালোবাসা ও স্নেহমমতার আংটি পরানো হয়। তাই অনামিকা বিশ্বব্যাপী হার্দিক সম্পর্ক, গভীর প্রেমানুভূতি, প্রবল আবেগ ও মুগ্ধকর রোমাঞ্চের ধ্বজা হিসেবে বিবেচিত। তবে অনামিকা নামের উৎপত্তি প্রেমময় নয়, বরং নৃশংস। কথিত হয়, মহাভারতের অন্যতম চরিত্র মহাদেব শিব একদিন ভীষণ রাগান্বিত হয়ে চুর্তুমুণ্ডু ব্রহ্মার একটি মুণ্ডু ঘাড় থেকে খসিয়ে ফেলেন। ভয়ানক এ কাজটি করতে তিনি কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেননি। শুধু নিজের অনামিকা দিয়ে মুণ্ডটি ভূপাতিত করেছিলেন। ক্রোধ তিরোহিত হওয়ার পর মহাদেব অনুতপ্ত হলেন। তিনি অনুশোচনায় অস্থির হয়ে নিজের আঙুলকে অভিশাপ দিয়ে বললেন: “আজ থেকে তুই নাম গ্রহণের যোগ্যতা হারালি।” এরপর থেকে আঙুলটির নাম হয়ে গেল অনামিকা। এই ঘটনার আগে অনামিকার কী নাম ছিল তা আমি জানি না।
 
 
৫. কনিষ্ঠা
হাতের পাঁচ আঙুলের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোটো। কনিষ্ঠাঙ্গুলটি বৃদ্ধাঙ্গুল বা নেতাঙ্গুল থেকে সর্বদূরত্বে অবস্থিত। তাই কনিষ্ঠা ক্ষমতার স্বাদও পেয়ে থাকে সবচেয়ে কম। এজন্য তার ক্ষমতাও কম। ক্ষমতা কম বলে  সে উপভোগ করতে পারে কম। এজন্য অন্যান্য আঙুলসমূহের তুলনায় চিকন। তাই তার নাম দেওয়া হয়েছে কনিষ্ঠা। এটির অন্য নাম কড়ে আঙুল। কড়ে আঙুল সকলের ছোটো,অনুজা।স.যুবন+ইষ্ঠ।
https://draminbd.com/হাতের-পাঁচ-আঙুল-আঙুলের-না/
error: Content is protected !!