হারাম, জাদা: হারামজাদা, হারামি ও হারামখোর এবং হারামজাদা: বাঁধা বনাম বাধা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/হারাম-জাদা-হারামজাদা-হার/
 
 
হারাম: হারাম আরবি উৎসের বাংলা অভিধানভুক্ত শব্দ। অর্থ— (বিশেষণে) ইসলাম ধর্মের বিধানমতে নিষিদ্ধ বা অবৈধ এমন। হারামি অর্থ— দুর্জন, অসৎ, জারজ; (বিশেষ্যে) গালিবিশেষ (হারামির বাচ্চা)।
 
-জাদা: -জাদা ফারসি উৎসের বাংলা অভিধানভুক্ত শব্দ। বিশেষ্যে -জাদা শব্দের অর্থ— পুত্র। তবে এর স্বাধীন ব্যবহার বিরল। সাধারণত অন্য শব্দের পরে ব্যবহৃত হয়। যেমন— শাহজাদা, নবাবজাদা, পিরজাদা ইত্যাদি।
 
হারামজাদা: আরবি হারাম ও ফারসি জাদা মিলে হারামজাদা। এর শাব্দিক অর্থ— অবৈধ পুত্র। অভিধানিক অর্থ— (বিশেষণে) বেজন্মা, জারজ এবং (বিশেষ্যে) গালিবিশেষ।
 
হারামখোর:  আরবি হারাম ও ফারসি খোর নিয়ে গঠিত হারামখোর শব্দের অর্থ— (বিশেষণে) নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণকারী; (বিশেষ্যে) গালিবিশেষ।

বাধা বনাম বাঁধা

প্রায় সমোচ্চারিত, কিন্তু ভিন্নার্থক বলে ‘বাধা’ ও ‘বাঁধা’ শব্দের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তির অন্ত নেই। নিচে দেখুন শব্দদুটোর অর্থ এবং সহজে মনে রাখার কৌশল বা নিমোনিক।
বাধা: ‘বাধা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ obstacle/ impediment। এই বাধায় রশি লাগে না, শক্তি ও ইচ্ছা হলে চলে। যেমন: রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, মরতে হবে
পথ জুড়ে কি করবি বড়াই, সরতে হবে।”
কাউকে ‘বাধা’ দিতে রশি অনিবার্য নয়। আমাকে বাধা দিতে এসো না।
মুক্তিযোদ্ধারা সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে গেল।
 
বাঁধা: ‘বাঁধা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ tie. এই কাজটি করতে হলে সাধারণত রশি লাগে। এটি সংস্কৃত বন্ধন শব্দের অতৎসম রূপ। তবে হৃদয়ের বন্ধনজনিত বাঁধায় রশি না লাগলেও চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। চন্দ্রবিন্দু মনে করুন হৃদয়ের স্মারক যেমন: রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“বাঁধন-ছেঁড়ার সাধন হবে
ছেড়ে যাব তীর মাভৈ রবে।”
চোরটাকে রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধ। হাতপা বেঁধে তাকে গুলি করা হয়েছে। প্রেমের বাঁধা ছেঁড়া অত সহজ নয়।
ভালোবাসার বাঁধা কোনো বাধাই মানে না। এই কটি বাঁশ বেঁধে বাধা দেবে নদী জল?
 
নিমোনিক
১. বাঁধতে রশি লাগে। চন্দ্রবিন্দুটাই মনে করুন রশি। কাউকে বাধা দিতে রশি লাগে না। তাই চন্দ্রবিন্দু নেই। হার্দিক বন্ধনে রশি না লাগলেও হৃদয়ের সম্পর্ক আলোকিত রাখার জন্য প্রেম ভালোবাসার বাঁধনেও চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়।
২. বন্ধ্ থেকে বাঁধ, বন্ধন>বাঁধন। দন্ত্য-ন চলে গেছে বলে চন্দ্রবিন্দু এসেছে। কিন্তু বাধ্ থেকে বাধ, বাধা, বাধন। বাঁধ বা বাঁধন ছিঁড়ে ফেলা যায়। বাধাকে অতিক্রম করতে হয়।
—————————————————————————–
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.
 
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
error: Content is protected !!