হার্ভাড এমআইটি : বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা ও ভর্তি হওয়ার পদ্ধতি  

প্রমিতা দাশ লাবণী

প্রাক যোগ্যতা:  প্রতিবছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আহ্বান করা হয়। আপনি এ বিশ্ববিদ্যালয়েও ওয়েব সাইটে গেলে সে বিষয়ে জানতে পারবেন। তবে তার আগে জেনে নিন, আপনার কী যোগ্যতা থাকতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখবেন, এজন্য আাপনাকে বাংলাদেশের স্বীকৃত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোটামুটি মানের সনদ থাকলে হবে। এজন্য স্টার গোল্ডেন এসবের প্রয়োজন নেই। বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশের এসব গোল্ডকে তেমন একটা পাত্তা দেয় না। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার যোগ্যতাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা বলে গণ্য হবে। 

হার্ভাডে ভর্তির নিশ্চয়তা : আপনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা থাকে, ভালো ইংরেজি জানেন অর্থাৎ  ইংরেজি বোঝা এবং কথোপকথন সেসঙ্গে   দ্রুতগতির ইংরেজি কথা এবং প্রত্যত্তুরে দক্ষ ও সাবলীন হন এবং প্রত্যাশিত বিষয়ে মোটামুটি জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি বৃত্তি পান বা না পান হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন। তবে অধ্যয়নকালীন খরচ করার জন্য কমেবেশি এক কোটি টাকা না-থাকলে যে-কোনো সময় আর্থিক সংকট আপনাকে ঝামেলায় ফেলে দিতে পারে।

ভর্তি হওয়ার নির্দিষ্ট যোগ্যতা:  তাহলে কি এমন যোগ্যতা লাগবে, যা দিয়ে আপনি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন? প্রথম ভালো ইংরেজি জানতে হবে।আপনাকে ভালো ইংরেজি জানতে এবং এবং যে বিষয়ে ভর্তি হতে চাইছেন সে বিষয়ে  ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। তবে আর  একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে এবং সেটি হচ্ছে আর্থিক সামর্থ। এবার ভর্তি হতে হলে কী কী যোগ্যতা লাগবে এবং কী কী করতে হবে তা জেনে নিন।

ভাষা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান:  শুধু হার্ভাড নয়, বিশ্বের ইংরেজভাষী যে-কোনো দেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তি হতে হলে প্রথম যে বিষয়টি  সম্পর্কে আপনার ভালো জানা থাকা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে ইংরেজি ভাষার ওপর দখল। অবশ্য এজন্য যে আপনাকে শেক্সপিয়র-হ্যামিল্টন হতে হবে তা নয়। মোটামুটি এমন ভালো ইংরেজি জানলে হবে, যা দিয়ে আপনি দৈনন্দিন কথোপকথন, ক্লাসের বক্তৃতা, পুস্তকের লেখা ইত্যাদি সাবলীলভাবে বুঝতে পারবেন এবং বোঝাতে পারবেন। হার্ভাড-সহ আমেরিকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছু বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান যাচাই করা হয়। অতএব, আপনি যদি ইংরেজিতে ভালো হন, তাহলে আপনি নিশ্চিত এক ধাপ এগিয়ে থাকলেন

ইংরেজি এবং প্রত্যাশিত বিষয়ে দক্ষ তা কীভাবে প্রমাণ হবে: বিশ্ববিদ্যালয়  কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষা জ্ঞান নিয়ে কোনো পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ করে না। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভর্তির জন্য স্যাট কিংবা একট(রাইটিং সহ) টেস্ট অত্যাবশ্যক। একইসঙ্গে স্যাট-এর দুটি বিষয় টেস্টও অনিবার্য। এ বিষয় দুটি হচ্ছে, আপনি যে বিষয়ে ভর্তি হতে চাইছেন সে বিষয় সম্পর্কিত।   অনেকে মনে করেন দুটি সাবজেক্ট টেস্ট না দিয়ে শুধু English Language Proficiency Test বা ELPT দিলেই হবে। তা ঠিক নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ওয়েবসাইটে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে  শুধু ELPT দিলে হবে না, অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয়ের পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

ভর্তিতে আমেরিকান-নন আমেরিকান বৈষম্য আছে কি না:  হার্ভাড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রথম দেখা হয়, ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থী কোন দেশের নাগরিক। ভর্তীচ্ছু কেউ যদি আমেরিকান হন তাহলে স্বদেশি হিসেবে তার জন্য বিশেষ কোনো  সুবিধা থাকে না। কিন্তু আবেদনকারী যদি নন-আমেরিকান অর্থাৎ আমেরিকার বাইরের অন্য কোনো দেশের নাগরিক হন তাহলে তার জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে  উদার স্কলারশিপ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

 ভর্তি বিষয়ে অগ্রাধিকার ও যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্যের অধিবাসীদের আমেরিকার  হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের বিষয়ে  যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি বা সমঝোতা আছে। এই চুক্তি ১৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দে হার্ভাড বিশ্ববিদালয়  প্রতিষ্ঠার পর থেকে চালু হয়েছে। আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীই হতো যুক্তরাজ্যের। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরা নামমাত্র কিছু যোগ্যতা দেখাতে পারলেই হার্ভার্ডে ভর্তি  হয়ে যেতে পারেন। তবে এ যোগ্যতা নামমাত্র বলা হলেও, যুক্তরাজ্য হতে হার্ভাডে ভর্তীচ্ছুদের মধ্য থেকে অধিকতর যোগ্যদের ভর্তি করানো হয়। অধিকন্তু, ইংরেজভাষী হিসেবে তাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার পরীক্ষা অনাবশ্যক। তাদের কেবল নির্দিষ্ট ভাষাভিত্তিক মোটামুটি জ্ঞান থাকলে চলে।

ভর্তিকালীন বৃত্তিপ্রাপ্তির শর্ত : হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকালীন  এই স্কলারশিপ পেতে হলে পূর্ব থেকে হার্ভাড ইউনিভার্সিটির  কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি যদি ভর্তির বিষয়টি অগ্রায়ন করেন এবং এমন সনদ দেন যে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত বিষয়ে ভর্তি হওয়ার একজন যোগ্য প্রার্থী। তাহলে তার জন্য ভর্তি হওয়া এবং বৃত্তি পাওয়া দুটোই সহজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থী হলে প্রায় একশ ভাগ বৃত্তিও পাওয়া যায়।  তাহলে যারা কোনো অধ্যাপকের সনদ নিতে পারবেন না, তারা কি ভর্তি হতে পারবেন না? পারবেন, তবে এ ক্ষেত্রে তাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো পুরো বেতন পরিশোধ করে ভর্তি হতে হবে। তবে ভর্তির পর যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারলে যে-কোনো সময় বৃত্তির আবেদন করা যাবে। এবং সেক্ষত্রে যোগ্যতা থাকলে  সমর্থন ও সনদ প্রদানের জন্য অধ্যাপকের অভাব হবে না।

আবেদনপত্র:  হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দুই প্রকার আবেদনপত্র চালু আছে। প্রথমটি হলো: অভ্যন্তরীণ বা আমেরিকান নাগরিকদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি বিদেশি বা আমেরিকা ছড়া অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে উভয়ক্ষেত্রে ভর্তির সাধারণ যোগ্যতা অভিন্ন। এ ক্ষেত্রে ইংরেজভাষী দেশের শিক্ষার্থীরা বা ইংরেজি জানা শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকেন।

আবেদনপত্রের সঙ্গে যা দিতে হবে: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আবেদন করার জন্য যেসব দক্ষতা থাকা দরকার তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইংরেজী ভাষার দক্ষতা।  ইংরেজি ভাষায় ভর্তীচ্ছুর দক্ষতা যাচাই করার জন্য Test of English as a Foreign Language (TOEFL)পরীক্ষায় প্রাপ্ত মার্ক আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করতে হবে।

সনদ ও ডকুমেন্ট প্রেরণ: বাংলাদেশের সমস্যা ইংরেজি জ্ঞান এবং কীভাবে তা উতরে  উঠতে তা নিয়ে। অনেক ভর্তীচ্ছু বিভিন্ন অনলাইন ট্রান্সলেটরের সাহায্য নিয়ে ডকুমেন্টগুলো অনুবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। কেউ যদি এভাবে তার সনদ ও অন্যান্য কাগপত্র প্রেরণ করেন, তাহলে তাকে যে ট্রান্সলেটর দিয়ে অনুবাদ  করা হয়েছে তার নামও উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে অনুবাদ  না-করা মূল কপিও পাঠাতে হবে।

ইন্টারভিউ:  অনেক সময় হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তীচ্ছুদের ইন্টারভিউ প্রদানের আহ্বান করেন। তবে এটি এমন বাধ্যতামূলক নয় যে, দিতে না পারলে ভর্তি হওয়া যাবে না। কেউ যদি দূরত্ব বা কোনো অনিবার্য কারণে অনুপস্থিত থাকে তবে সে ভর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কত টাকা লাগবে: হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশিন ফি তুলনামূলকভাবে অত্যধিক। এখানে পড়তে হলে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। তাই ভর্তির তোড়জোড় শুর করার আগে প্রত্যেকের উচিত আর্থি সামর্থ বিবেচনা করা। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের হিসেবমতে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে  একজন শিক্ষার্থী সে যে দেশের হোক না কেন, অধ্যয়ন বাবদ ৬৬ হাজার ডলার  বা প্রায় ৫৬ লাখ টাকা খরচ হবে। এছাড়া থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ তো আছে। তবে, টাকার অঙ্ক শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ৬০ ভাগই বৃত্তি পায়। বৃত্তি পেলে এ খরচ প্রায় বাংলাদেশে অধ্যয়নের সমান পর্যায়ে চলে আসে।

বৃত্তি পেতে হলে যা করতে হবে: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফিন্যান্সিয়াল এইড প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করে বিধিমোতাবেক বৃত্তি দেবে। তবে এ বৃত্তির আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে  আই-২০ নামের একটি পরীক্ষায় পাস হতে হবে। আর একটা কথা, প্রত্যেক ভর্তীচ্ছুকে আই-২০ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবেদন করতে হবে। তা না করে কেবল ভর্তির জন্য আবেদন করলে হবে না,  এমনকি আমেরিকা গমনের ভিসাও পাওয়া যাবে না। 

ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রায় একই কথা এবং একই পদ্ধতি ও যোগ্যতা আবশ্যক। এখানে অধ্যয়নের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এছাড়া অন্যান্য খরচ তো আছেই। 

———————————————————————————————————–

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বৃত্তি টিউশন ফি 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

কীভাবে হলো দেশের নাম

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান লিংক

শব্দের ফাঁকফোকড় : ফাঁক অফাঁক : কখন সেঁটে কখন দূরে

সহজসূত্রে বাংলা বানান : বাংলা বানান শেখার নিয়ম/১

সহজসূত্রে বাংলা বানান : বাংলা বানান শেখার নিয়ম/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

error: Content is protected !!