হাসতে হাসতে বাংলা শিখুন: কৌতুকে কৌতূহল

ড. মোহাম্মদ আমীন

অর্ধচন্দ্র-এর জন্মকাহিনি: কৌতুকে কৌতূহল

পূর্ণিমার রাতে দুই বিজ্ঞ পণ্ডিতের মধ্যে বাগ্‌ধারা নিয়ে তর্ক চলছে। বিচারক শ্রীশ্রী মহাপণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় নবকৃষ্ণ চূড়ামণি বাগ্‌বিশারদ তর্করত্ন।
প্রথম পণ্ডিত দ্বিতীয় পণ্ডিতকে প্রথম প্রশ্ন করলেন, উনিশ বিশ মানে কী?
দ্বিতীয় পণ্ডিত হেসে বললেন, যোগ না বিয়োগ? যোগ করলে উনচল্লিশ, বিয়োগ করলে এক। সন্ধি করলে এক হাজার নয়শ বিশ, গুণ করলে তিনশ আশি।
: ঠিক বলেছেন। এবার আপনি প্রশ্ন করুন আমাকে।
দ্বিতীয় পণ্ডিত প্রথম পণ্ডিতকে বললেন, আঠারো মাসে বছর অর্থ কী?
প্রথম পণ্ডিত: বারো মাসে এক বছর। যে বছর গোনার ভুলে দেড় বছর হয়ে যায় সেটিই আঠারো মাসে বছর। ঠিক বলেছি না?
: ঠিক বলেছেন।
প্রথম পণ্ডিত দ্বিতীয় পণ্ডিতকে বললেন: ছানাবড়া মানে কী?
দ্বিতীয় পণ্ডিত: ছানা আর বড়া মিশিয়ে প্রস্তুত এক প্রকার মিষ্টি। এটাতে যখন চিনি খুব বেশি হয় তখন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। বলুন তো – ‘চক্ষু চড়ক গাছ’ অর্থ কী?
প্রথম পণ্ডিত বললেন, আপনার ছানাবড়ায় যখন আপনার পত্নী চিনির পরিবর্তে খুব বেশি লবণ দিয়ে আপনাকে খেতে দেন তখন চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।
বিচারক পণ্ডিত এতক্ষণ চুপচাপ উভয়ের কথা শুনছিলেন। এবার বিরক্ত হয়ে বললেন: আপনারা উভয়ে জ্ঞানী ও মহাপণ্ডিত। ত্রিভুবনে এমন ব্রহ্মজ্ঞান ও দিব্যচোখের অধিকারী পণ্ডিত আর দেখিনি। আপনাদের তর্ক দেখে চন্দ্র পর্যন্ত থেমে গেছে। ওই যে দেখুন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ স্থির হয়ে অবাক নয়নে আপনাদের তর্ক শুনছেন।
পণ্ডিতদ্বয় একসঙ্গে বললেন: কে জিতেছে?
বিচারক পণ্ডিত বললেন: দুজনে সমান নম্বর পেয়েছেন। উভয়ের উনপঞ্চাশ বায়ু। তর্কে আমার কাছে এমন নম্বর এ পর্যন্ত কেউ পায়নি। আপনাদের মতো এমন বিজ্ঞ তার্কিক দেখিনি। তাই আমার বিচারে আকাশের ওই চন্দ্রটিই আপনাদের প্রাপ্য। কিন্তু চন্দ্র মাত্র একটি, দুজনকে কীভাবে দিই? আমার কিছু করার নেই। তাই আপনাদের দুজনকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করতে বাধ্য হচ্ছি।
অতঃপর মহাপণ্ডিত দুই তার্কিককে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দিলেন।
 

সুপার ম্যান কৌতুক

মুষ্টিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলি একদিন উড়োজাহাজে করে লন্ডন যাচ্ছিলেন। আবহাওয়া ভালো না। উড়োজাহাজ ছাড়ার আগে একজন বিমানবালা এসে মুহাম্মদ আলিকে সিল্টবেল্ট বেঁধে নেওয়ার অনুরোধ করলেন।
মুহাম্মদ আলী বললেন, আমি সুপার ম্যান। আমার সিটবেল্ট বাঁধার কোনো প্রয়োজন নেই।
বিমানবালা বললেন, তাহলে তো স্যার সুপার ম্যানদের বিমানে চড়ারও প্রয়োজন নেই।
মুহাম্মদ আলী বিমানবালার কথা শুনে তাড়াতাড়ি সিটবেল্ট বেঁধে নিলেন।
 
ছাত্র থেকে ছাত্রা : ধরে নিন কৌতুক
পৃথিবীতে কোনো কিছু অনিবার্য নয়। সন্ধি যেখানে অসন্ধির কাজ করে কিংবা অকার্যকর সেখানে সমাস এগিয়ে আসে। যদি ব্যাকরণের কোনো কারণই কাজ না-করে তাহলে অকারণই হয়ে যাবে ব্যাকরণ। নিম্নের সমাস সম্পাদনে কোনো ব্যাকরণিক ভুল হয়েছে কি?
ছাত্রদের আবাস = ছাত্রাবাস।
ছাত্রীদের আবাস = ছাত্রীবাস
সেনাদের নিবাস = সেনানিবাস।
ছাত্রাবাস ঠিক হলে ছাত্রীবাস শব্দও ঠিক। সেনাবাসও ভুল হবে না, কিন্তু সেনাবাস লেখা হয় না। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, সবখানে ব্যাকরণ অযথা এবং আসলেই অকারণ। প্রচলনই আসল। তাই একদিকে ছাত্রাবাস লেখা হলেও অন্যদিকে প্রবল প্রতাপশালী সেনারা যেখানে থাকেন সেটি সেনানিবাস, সেনাবাস নয়।
কিন্তু কেন?
মেয়েরা পুরুষদের ওপর সেনাবাহিনীর মতো প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তারক এক শক্তি। এজন্য মেয়েদেরটা ছাত্রীনিবাস আর ছাত্রদেরটা ছাত্রাবাস। এখানে সন্ধি করে ছাত্রদের ছাত্রা করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রী আর সেনারা সন্ধিকে উপেক্ষা করে সমাসে গিয়ে নিজেদের মৌলিকত্ব নিবাসেও অক্ষুণ্ন রেখেছে। এটিই ব্যাকরণের কারণ আর কারণের অকারণ।
 
ব্যাকরণের কৌতুক
 
শিক্ষক বললেন, যিনি ‘খেলায় পটু’ তিনি ‘খেলোয়াড়’। তাহলে যিনি ‘জানায় পটু’ তাকে কী বলা হবে?
একজন ছাত্র বলল, জানোয়ার স্যার, জানোয়ার।
শিক্ষক বললেন, তুমি আমাকে জানোয়ার ডাকলে?
ছাত্র বলল, আপনি জানোয়ার নন স্যার।
শিক্ষক বললেন, তাহলে জানোয়ার কে?
ছাত্র বলল, যিনি জানেন তিনিই জানোয়ার স্যার।
শিক্ষক বলল, তুমি কী বলতে চাও আমি জানি।
ছাত্র বলল, জানলে তো স্যার আপানি জানোয়ারই।
শিক্ষক রেগে বলল, কে বলেছে আমি জানোয়ার?
ছাত্র বলল, ব্যাকরণ।
 
 
সূত্র: বিখ্যাতদের কৌতুক হাস্যরস ও প্রজ্ঞাযশ, ড. মোহাম্মদ আমীন
 
সূত্র:  ড. মোহাম্মদ আমীন,  বাঙালির বাংলা হাসি, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার।
লিংক: https://draminbd.com/হাসতে-হাসতে-বাংলা-শিখুন-ক/
 
শুবাচ কৌতুক: কয়েকটি
 যে দেশে পুরুষ সন্তান প্রসব করে
 
error: Content is protected !!