হোটেল রেস্টুরন্টে মোটেল এবং সরাইখানা

ড. মোহাম্মদ আমীন

রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরাঁ:  রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরাঁ পরস্পর সমার্থক। ফরাসি রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরাঁ অর্থ (বিশেষ্যে) যে দোকানে অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে পছন্দমতো আহার্য পরিবেশন করা হয়। রেস্টুরেন্ট বা রেস্তোরাঁয় থাকার কিংবা স্বল্প সময়ের জন্যও বিশ্রামের কোনো  আলাদা ব্যবস্থা নেই। গাড়ি পার্কিং-এর ব্যবস্থা থাকতে পারে আবার নাও পারে। তবে অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট-রেস্তোরাঁয় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা দেখা যায় না।  রেস্টুরেন্ট বো রেস্তোরাঁর জন্য গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা অত্যাবশ্যক কোনো শর্ত নয়। রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরাঁ দুটোর ইংরেজি বানান অভিন্ন- restaurant। তবে বাংলায় ভিন্ন। যে বানানে দন্ত্য-ন নেই সে বানানে চন্দ্রবিন্দু প্রয়োজন। যেমন রেস্তোরাঁ।

হোটেল ফরাসি হোটেল অর্থ (বিশেষ্য) যে গৃহে অর্থের বিনিময়ে অতিথি ও পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ অন্যান্য পরিষেবা পাওয়া যায়, পান্থশালা। হোটেল হওয়ার জন্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকা অত্যাবশ্যক।  থাকা-খাওয়া ছাড়াও হোটেলসমূহে মান অনুযায়ী পার্কিং, সুইমিংপুল, জিম, লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট, শপিং, বার, স্পা,  সভাগৃহ, ক্যাসিনো ইত্যাদি-সহ  প্রয়োজনীয় প্রায় সব ব্যবস্থা থাকে। তবে সাধারণ মানের হোটেলে কেবল থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় তারকাচিহ্ন দ্বারা  আন্তর্জাতিকভাবে হোটেলের মান নির্ধারিত হয়। যেমন: তিন তারকা, পাঁচতারকা, সাত তারকা ইত্যাদি। 

সরাইখানা: সরাই ফারসি শব্দ। এর অর্থ (বিশেষ্যে) পান্থশালা, পথিনিবাস। সরাইখানা ও সরাই সমার্থক। সরাইখানাকে অনেকটা আধুনিক যুগের মোটেল বলা যায়। 

মোটেল: মোটেল শব্দটি মোটর ও হোটেল শব্দের খিচুড়ি। Motor+Hotel = Motel। অর্থাৎ  মোটর রাখার ব্যবস্থা সমন্বিত হোটেলই মোটেল।  হোটেল হওয়ার অনিবার্য শর্ত থাকা- খাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু মোটেলের অনিবার্য শর্ত থাকা ও খাওয়ার সঙ্গে গাড়ি পার্কিঙের সুব্যবস্থা। গাড়ি পার্কিঙের ব্যবস্থা ছাড়া হোটেল হতে পারে কিন্তু মোটেল হতে পারে না। সাধারণত স্বল্প সময়ে থাকার জন্য মহাসড়কের পাশে দূরপাল্লার যাত্রীদের স্বল্পকালীন বিশ্রামাবাস হিসেবে মোটেল গড়ে তোলা হয়। অনেকটা আগের দিনের সরাইখানার মতো। 

হোটেল ও মোটেলের পার্থক্য:  হোটেলে কমপক্ষে একটা লাউঞ্জ থাকে, আর রুমগুলোতে ঢুকার জন্য ভিতরে করিডোর থাকে, মোটেলে থাকে না। অর্থাৎ যে আবাসিক হোটেলে আবশ্যিকভাবে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে সেগুলো Motel. মোটেল সাধারণত এক বা দুইতলা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। তবে হোটেল বহুলতলবিশিষ্ট হয়। হোটেল যেখানে থাকা যায়।  মোটেল যেখানে থাকাও যায় আর সাথে গাড়ি রাখার ব্যাবস্থা আছে।  মগবাজার বা ফকিরাপুলে অনেক হোটেল আছে। সেগুলি মোটেল না। সব মোটেলই হোটেল কিন্ত সব হোটেল মোটেল না। মোটেলগুলো সাধারণত হাইওয়ের পাশে থাকে, এগুলো মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হয়। যারা লং ড্রাইভে যান তারা রাতের সময়টুকু কাটাতে মোটেলে উঠে থাকেন।হোটেলে একজন পর্যটকের যতো রকমের সুযোগ-সুবিধা দরকার পড়ে তার সবকিছুই থাকে। তাই হোটেলগুলো সাধারণত শহরের কেন্দ্রে বা ট্যুরিস্ট স্পটে স্থাপিত হয়ে থাকে। আর হোটেল-মোটেল উভয়েই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকে তবে মোটেলগুলোতে পার্কিয়ের এরিয়া ও সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকে। লম্বা সময় থাকা যায় বলে হোটেলে সেবার পরিমাণ বিশেষ করে ফাইভ স্টার অথবা সেভেন স্টার মানের হোটেলে বেশি থাকে।

হোটেলে একজন পর্যটকের যতো রকমের সুযোগ-সুবিধা দরকার পড়ে তার সবকিছুই থাকে। তাই হোটেলগুলো সাধারণত শহরের কেন্দ্রে বা ট্যুরিস্ট স্পটে স্থাপিত হয়ে থাকে।হোটেল মূলত বহুতল বিশিষ্ট হয়ে থাকে।মোটেলের খরচ হোটেলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। মোটেলে কারপার্কিং থেকে সরাসারি প্রতিটা রুমে  প্রবেশের ব্যবস্থা থাকে। এখানে লাউঞ্জ, ক্লাব, দোকান, হল ইত্যাদি থাকে না। মূলত বেশ কিছুদিন থাকার জন্য হোটেল। লম্বা যাত্রার মাঝে বিরতি দিতে এক দুইদিন থাকার জন্য মোটেল; যেখানে নিজস্ব গাড়ি থাকলে তা পার্কিং এর সুব্যবস্থা থাকবে । 

হোটেল রেস্টুরন্টে মোটেল এবং সরাইখানা

All Link : শুবাচে প্রকাশিতগুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Links/1

Language
error: Content is protected !!