হ-কাহিনি, গয়সাল, কাঁথা নকশি ও নকশিকাঁথা; তল্পি তল্পা তল্পিতল্পা ও তল্পকীট

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/হ-কাহিনি-গয়সাল-কাঁথা-নকশি/
সাধারণত ‘হ’-এর সঙ্গে কোনো ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্ত হলে যুক্তবর্ণটি উল্টোক্রমে উচ্চারিত হয় ৷ অর্থাৎ ‘হ+ব্যঞ্জনবর্ণ’ -এর উচ্চারণ ‘ব্যঞ্জনবর্ণ+হ’ রূপে
উচ্চারিত হয় ৷ যেমন :
১. হ্ণ=হ্+ণ: পূর্বাহ্ণ (উচ্চারণ – পুর্ বান্ হো) ৷
২. হ্ন=হ্+ন: মধ্যাহ্ন (উচ্চারণ -মোদ্ ধান্ হো) ৷
৩.হ্ম=হ্+ম: ব্রহ্মপুত্র (উচ্চারণ – ব্রোম্ হোপুত্ ত্রো) ৷
৪. হ্ল=হ্+ল: আহ্লাদ (উচ্চারণ -আল্হাদ্) ৷
৫. হ্য=হ্+য: ‘য’, ‘হ’-এর আগে উচ্চারিত হয় এবং ‘হ’, ‘ঝ’ রূপে পরে উচ্চারিত হয় ৷ হ্য=হ্+য: সহ্য (উচ্চারণ -সোজ্ ঝো)
৬. হ্ব=হ্+ব: ‘ব’, ‘হ’-এর আগে ‘ও /উ’ রূপে উচ্চারিত হয় এবং ‘,হ’ ‘ভ’ রূপে পরে উচ্চারিত হয় ৷ ‘ব’-এর ‘ও/উ’ উচ্চারণ অন্তঃস্থ ব-এর উচ্চারণ কিনা কে জানে ৷
হ্ব=হ্+ব: আহ্বান (উচ্চারণ -আওভান্), জিহ্বা (উচ্চারণ – জিউভা) ৷
অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এবং হ-যুক্তবর্ণটি শব্দের আদিতে থাকলে স্বাভাবিক নিয়মে উচ্চারিত হবে ৷ যেমন- হ্লাদ(হ্লাদ্),হ্রদ(হ্রোদ্),হ্রাস(হ্রাশ্), হ্রস্ব(হ্রোশ্ শো) ,হৃদয় (হৃদয়্), হৃৎপিণ্ড(হৃত্ পিন্ ডো), হ্যাজাক(হ্যাজাক্) ৷

গয়সাল

গয়সাল দেশি শব্দ। উচ্চারণ গয়্‌শাল। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত গয়সাল অর্থ— ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হিন্দুধর্মত্যাগী ব্যক্তি। যারা হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তাদের গয়সাল বলা হয়।

কাঁথা নকশি ও নকশিকাঁথা
সংস্কৃত ‘কন্থা’ থেকে উদ্ভূত কাঁথা অর্থ (বিশেষ্যে) শীত নিবারণের জন্য পুরানো বা ছেঁড়া কাপড় শাড়ি প্রভৃতি একত্রে সেলাই করে তৈরি চাদরবিশেষ। নকশি ও কাঁথা মিলে নকশিকাঁথা। আরবি নক্্শ্্ থেকে উদ্ভূত নকশি অর্থ নকশাবিশিষ্ট। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, নকশি ফারসি উৎসের শব্দ। সাধারণ কাঁথার উপর বিভিন্ন ধরনের রঙিন সুতা দিয়ে নকশা তুলে যে বিশেষ ধরনের কাঁথা বানানো হয়, তাই নকশিকাঁথা। সাধারণত শাড়ি বা পুরাতন কাপড়ের পাড় থেকে রঙিন সুতা তুলে এই কাঁথা সেলাই করা হয়।

তল্পি তল্পা তল্পিতল্পা ও তল্পকীট
সংস্কৃত তল্প(√তল্+প) অর্থ (বিশেষ্যে) বিছানা, শয্যা, খাট; গৃহ, ঘর। ‘তল্প’ থেকে উদ্ভূত তল্পি অর্থ: বিছানাপত্র বা বিবিধ জিনিসের বেঁাচকা, গাঁটরি, কাপড়—চোপড়ের ছোটো পোঁটলা বা পুঁটলি। তল্পি ও তল্পা মিলে তল্পিতল্পা। এর অর্থ (বিশেষ্যে) বিছানাপত্র কাপড়চোপড় প্রভৃতির বোঁচকা। প্রয়োগ: সাতচল্লিশের পর পরিবারটি তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে গেলেন। বাক্যটির অর্থ: সাতচল্লিশের পর পরিবারটি বিছানাপত্র কাপড়চোপড় এবং বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যাদি বোঁচকায় বেঁধে নিয়ে চলে গেলেন। তল্পি থেকে এসেছে তল্পিদার ও তল্পিবাহক। ‘তল্পিদার’ ও ‘তল্পিবাহক’ মানে মোটবাহী ভৃত্য বা মুটে। ‘মোট’ শব্দটি বাংলায় এসেছে তামিল ‘ মোট্টই’ শব্দ থেকে। মোট বহনকারীকে বলা হয় ‘মুটিয়া, মুটে’। তল্পকীট মানে ছাড়পোকা। তল্পে বসবাস করে বলে ছাড়পোকার অপর নাম তল্পকীট।

জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!