ধর্ষণ অবহেলিত একটি কারণ

ড. মোহাম্মদ আমীন

‘ধর্ষণ’ এক ধরনের যৌন আক্রমণ।  বাংলাদেশে ইদানীং এই আক্রমণটা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে ধর্ষণের সঙ্গে হত্যা। ধর্ষনের প্রকৃতিও নিষ্ঠুর, ছাত্র ধর্ষণ করছে শিক্ষার্থীদের। ধর্ষণের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর হচ্ছে শিশুধর্ষণ। বাংলাদেশের গত  এক বছরে এমন একটা দিন যাইনি, যেদিন এক বা একাধিক শিশু ধর্ষিত হয়নি। নারীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশের ১৪ টি দৈনিক পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে বলছে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ১০৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর আগের বছর সংখ্যাটা ছিল আরো বেশি। তবে, পত্রিকায় আসেনি এমন ধর্ষণের সংখ্যা আরো বেশি। কারণ, ধর্ষণের বিষয়টি অধিকাংশ লোকই সামাজিক কারণে গোপন রাখতে চায়। প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে মোট ১ হাজার ২৫১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তন্মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ২২৪ জন নারী ও শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে।  ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনের মোট ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ২৩৫টি।

একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি করে ধর্ষণ হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিঘণ্টায় ১২ জন, প্রতিদিন ২৮৮ জন এবং প্রতিবছর ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯২ জন ধর্ষিত হচ্ছে। ধর্ষণ শুধু ধর্ষিতকে নয়,  একই সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনের জীবনেও নানা মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।  প্রতিধর্ষণের সঙ্গে ধর্ষিতের পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজন মিলে গড়ে ৬৭ জন আত্মীয় নানাভাবে নানা প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। সে হিসেবে বছরে ৭ কোটি ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৪ ব্যক্তিকে একটি ধর্ষণের জন্য লজ্জিত, আক্রান্ত, অপদস্থ বা সামাজিক হয়রানির শিকার হতে হয়। সুতরাং, ধর্ষণ যে, সমাজের জন্য একটি অত্যন্ত মারাত্মক হুমকি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড়ো আজব বিষয় হলো, ধর্ষণ-অপরাধে ধর্ষিতা নিরপরাধ হলেও তাকে এমনভাবে থাকতে হয়, যেন সেই অপরাধী। কোনো মেয়ে ধর্ষিত হলে পুরুষের চেয়ে মেয়েটাকে  বেশি লজ্জায় পড়তে হয়। এ এক উদ্ভট সমাজ, উদ্ভট ব্যবস্থা। ধর্ষণের অনেকগুলো কারণ আছে, তবে  যে কারণটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনার দাবি রাখে, সেটিই নানা কারণে উপেক্ষিত। এটি ধর্ষণ-অপরাধ বিস্তারের অন্যতম কারণ।

যেসব দেশে বৈধ যৌনালয় নেই বা প্রয়োজনের তুলনায় কম সেসব দেশে ধর্ষণ বেশি হয়। মধ্যপ্রাচ্যেও এখন প্রচুর বৈধ যৌনালয় আছে। যে জনপদে পায়খানা থাকে না, সেই জনপদ পুরোটাই মলে মলে মলে ভরে যায়। অসহনীয় হয়ে উঠে মানুষের জীবন। তাই যৌন ব্যবসায় পৃথিবীর আদিম ব্যবসায় হিসেবে গড়ে উঠেছিল। যে লোক যৌনালয়-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়, দেখা গেছে- সেই প্রথম এর প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়। যৌন-তাড়না অনেক সময় মল-ত্যাগের তাড়নার চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠে। বৈধ ও নির্দিষ্ট যৌনালয়ের অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এখন অসংখ্য বাসাবাড়ি যৌনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত, বাড়ছে যৌনাপরাধ।যৌন অপরাধকে কমিয়ে আনার লক্ষে  বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রচলন আছে। এ প্রসঙ্গে  মুতাহ বিবাহের কথা উল্লেখ করা যায়। 

মানুষ নিশ্চিত মনে পবিত্র হয়ে প্রার্থনা গৃহে যায়। তাই প্রার্থনা গৃহ নির্মাণের আগে প্রযোজন পায়খানা গৃহ এবং ধৌতস্থান নির্মাণ। সাধারণত এটিই করা হয়ে থাকে।  নিবিষ্ট প্রার্থনার জন্য প্রত্যেককে মলের চাপমুক্ত হয়ে প্রার্থনা গৃহে ঢুকতে হয়। নইলে নিজের সঙ্গে সঙ্গে অন্যের প্রার্থনায়, এমনকি প্রার্থনাগৃহও অপবিত্র হয়ে যাওয়া আশঙ্কা থাকে। যৌন আবেগ প্রবল হয়ে গেলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়, ঠিক যেমন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে  পেটে প্রকৃতির ডাক পড়লে।  এসময় উপযুক্ত জায়গা না-থাকলে হিতাহিত মানুষ যত্রতত্র মল ত্যাগ করতে পারে। তখন দূষিত হয়ে পড়ে পরিবেশ।  বিষয়টি আমাদের খুব গভীরভাবে চিন্তা করে দেখা এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!