মার্কিন শব্দের উদ্ভব

ড. মোহাম্মদ আমীন

ইউনাইটেড্ স্টেইটস অফ্ আমেরিকা (United States of America ) বা সংক্ষেপে ইউনাইটেড স্টেটস বা ইউ.এস (US) বা ইউএসএ (USA) নামে পরিচিত উত্তর আমেরিকার দেশটি ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’ বা শুধু ‘যুক্তরাষ্ট্র’ নামে পরিচিত। ১৫০৭ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার বিশ্বের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ওই মানচিত্রে তিনি ইতালীয় আবিষ্কারক ও মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে পশ্চিম গোলার্ধের নামকরণ করেন “আমেরিকা”। অর্থাৎ আমেরিকা হচ্ছে একজন ব্যক্তির নাম।
১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা জুলাই “unanimous Declaration of the thirteen united States of America” নামের একটি ঘোষণাপত্র “Representatives of the united States of America” কর্তৃক গৃহীত হয়। ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে আর্টিকলস অফ কনফেডারেশন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ‘আমেরিকা’ নামটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। এই আর্টিকেলে বলা হয়েছে: “The Stile of this Confederacy shall be ‘The United States of America.'” সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে the United States নামটি প্রামাণ্য। অন্যান্য প্রচলিত নামগুলো হচ্ছে : the U.S., the USA, ও America। দেশটির কথ্য নামগুলো হলো the U.S. of A. ও the States।

আমরা দেখলাম, ব্যক্তিনাম ‘আমেরিকা’ থেকে দেশটির নাম চয়িত হয়েছে। কিন্তু ‘আমেরিকা’ নামটি কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ‘মার্কিন’ হয়ে গেল তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আমেরিকান শব্দটি ইংরেজি American হতে উদ্ভূত একটি স্থাননাম। গবেষণায় দেখা যায়, আমেরিকান শব্দের ‘আ’ ঝরে গিয়ে ষোড়শ শতক থেকে শব্দটি মেরিকান’ রূপে উচ্চারিত হতে থাকে। যার অপভ্রংশ হচ্ছে মার্কিন Markin. এটি এখন বাংলায় বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। এবার বাংলায় মার্কিন শব্দের অর্থ কী তা দেখা যাক।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে স্থাননাম হিসেবে শ্রেণিকৃত  ‘মার্কিন’ শব্দের অর্থ বিশেষ্যে  : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কোরা সুতোর তৈরি মোটা কাপড়বিশেষ প্রভৃতি। অন্যদিকে বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে ‘মার্কিন’ শব্দটির অর্থ হয় : যুক্তরাষ্ট্র সম্বন্ধীয়, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত প্রভৃতি।  অভিধানে স্থাননাম হিসেবে চিহ্নিত হলেও আমেরিকা বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র  প্রকাশে ‘মার্কিন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। 

 দেশনাম হিসেবে মার্কিন শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে গিয়েছে। ফলে সে এখন বাংলায় আমেরিকার মতোই প্রভাবশালী একটি শব্দ।  যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন প্রায় ৯৮.৩ লাখ বর্গকিলোমিটার (৩৭.৯ লক্ষ বর্গমাইল) এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি।  সামগ্রিক আয়তনের হিসেবে এটি বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। আবার স্থলভূমির আয়তন ও জনসংখ্যার হিসেবে  বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী দেশ। বিশ্বে এমন লোক খুব কম আছেন যিনি আমেরিকা চেনেন না  বা ‘আমেরিকা’ নাম শুনেননি। প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, মার্কিনদেশ শব্দের অর্থ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিনি অর্থ আমেরিকার অধিবাসী বা ওই দেশ উৎপাদিত কাপড়। 

সূত্র : বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।
কীভাবে হলো দেশের নাম (উত্তর আমেরিকা), ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!