মাকাল ফল মাকাল শিব ও মহাকাল

ড. মোহাম্মদ আমীন
মাকাল ফল কী?
বর্ষাকালে ফোটে এমন ঘণ্টাকৃতির রোমশ সাদা ফুল ও হালকা সবুজাভ দাগযুক্ত উজ্জ্বল লাল রঙের ডিম্বাকার এবং দেখতে আকর্ষণীয়, কিন্তু বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ফল। খাঁজকাটা পাতাবিশিষ্ট বীরুৎশ্রেণির লতানো উদ্ভিদে এই ফলটি জন্মায়। তাই ওই লতাটিও মাকাল নামে পরিচিত। উপাধি ‘ফল’ হলেও এটি এমন একটি ‘ফল’ যা কেউ খায় না। তবু ফল উপাধি নিয়ে টিকে আছে, যদিও ফলের কোনো ভালো গুণ তার নেই। মানুষের মধ্যেও এমন কিছু লোক দেখা যায়, যারা এমন পদবি-পদক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, অথচ তা ধারণের যোগ্যতা আদৌ তাদের নেই।
 
‘মাকাল ফল’ কথাটির অন্য একটি অর্থ আছে। সেই অর্থটি হচ্ছে — সুদর্শন কিন্তু অন্তঃসারশূন্য ব্যক্তি। বস্তুত, এই অর্থ প্রকাশে ‘মাকাল ফল’ শব্দজোড়টি সমধিক প্রচলিত ও ব্যবহৃত হয়। তাই ফলের গুণ না-থাকা সত্ত্বেও বাংলা সাহিত্যে ‘মাকাল ফল’ বাগ্‌ধারাটির বেশ প্রভাব লক্ষণীয়।
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, “সংস্কৃত ‘মহাকাল’ শব্দ থেকে ‘মাকাল’ শব্দের উদ্ভব।”মহাকাল হচ্ছে ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত মহাদেব ‘শিব’-এর রুদ্র রূপ। শিব, রুদ্র রূপ ধারণ করলে তাঁর বাহ্যিকরূপ আকর্ষণীয় থাকলেও ভেতরের রূপ প্রচণ্ড ক্ষতিকর, ঘৃণার্হ আর বীভৎস হয়ে যায়। যার সঙ্গে মাকাল ফলের তুলনা চলে। তাই মহাকালের রুদ্র রূপের সঙ্গে মাকাল-এর অর্থকে দ্যোতিত করে ফলটির বাংলা নাম রাখা হয়েছে ‘মাকাল ফল’।
 
‘মাকাল ফল’ কথাটির আলংকরিক অর্থ “সুদর্শন কিন্তু অন্তঃসারশূন্য ব্যক্তি”। কেন এমন অর্থ ? কারণ আছে। মাকাল ফল দেখতে খুবই সুন্দর, কিন্তু খাওয়ার অযোগ্য। এটি বেশ আকর্ষণীয়, তবে দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত। তাই কেউ তাকে পছন্দ করে না। মাকাল ফলের বাহ্যিক অবয়ব অতীব সুন্দর, কিন্তু ভেতরের অংশ এত কুৎসিত যে, সে অংশের দিকে তাকালে মন বিতৃষ্ণায় ঘৃণার্হ হয়ে ওঠে। তাই এর  আলংকরিক অর্থ – “সুদর্শন কিন্তু অন্তঃসারশূন্য ব্যক্তি”।
 
আমাদের চারিপাশে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা দেখতে মাকাল ফলের মতো 
সুন্দর, পরিপাটি ও আকর্ষণীয়, কিন্তু মনোভাবের দিক থেকে ভেতরটা বিষাক্ত, দুর্গন্ধময় এবং কুৎসিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!