ম্যারাডোনা নেইমার মেসির চেয়ে সেরা ফুটবলার বাংলাদেশের ছামাদ

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের দেশের ফুটবল খেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং জাদুকরী ক্ষমতার বিষয়ে তেমন ধারণা রাখে বলে মনে হয় না। নইলে তারা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কিংবা বিদেশি ফুটবল খেলা নিয়ে এমন লজ্জাকর চিল্লাচিল্লিতে দেশ সয়লাব করে দিত না। এই চিল্লাচিল্লি যদি দেশের ফুটবলের জন্য করত এবং আমাদের দেশের প্রশাসন ফুটবল খেলার উপযুক্ত পরিচর্যায় দৃষ্টি দিত তাহলে সারা বিশ্বই বাংলাদেশের ফুটবলার নিয়ে এর চেয়ে বেশি মেতে থাকত, যেমন মেতে থাকছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে আমাদের ঐতিহ্যবিশ্রুত আত্মমর্যাদাহীন প্রজন্ম। কারণ আমাদের দেশেই জন্ম নিয়েছে উপমহাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার জাদুকর সামাদ। অবশ্য ইংল্যান্ডের ফুটবলার জ্যাক বারকারের ভাষায়, সামাদ শুধু উপমহাদেশের নয়, সারা বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখে।”

একসময় ফুটবল খেলায় বাঙালিরা ফুটবলের জন্মস্থান ইংল্যান্ডকেও কলাপাতার মতো কাঁপিয়ে ছেড়েছে। কিন্তু নিজেদের প্রতি নিজেদের অবহেলার জন্য আমাদের সেই গৌরব ও ঐতিহ্য ভূ-লুণ্ঠিত।আমাদের ফুটবল ঐতিহ্য কত তেজি, আসধারণ এবং আমাদের ফুটবলারগণ কী অবিশ্বাস্য বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিল বর্তমান প্রজন্ম তা জানে না। এজন্য যতটা তারা দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী আমাদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

উপমহাদেশের ফুটবলকে যিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় আসীন করেছিলেন তিনি হচ্ছেন সৈয়দ আবদুস সামাদ। ফুটবলার এবং সাধারণ জনগণের কাছে তিনি জাদুকর সামাদ এবং ফুটবলের জাদুকর নামে পরিচিত। এই জাদুকর সামাদ ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারতের বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে পিতৃনিবাস ছিল উত্তরবঙ্গ। বর্তমান যুগের মেসি- রোনালদো কিংবা নেইমার, ম্যারাডোনা, ব্যাকম্যান-মারসেলো, রোনালদিনোহো প্রমুখ ফুটবলার প্রচার ছাড়া ক্রীড়া-দক্ষতা বিবেচনায় বাঙালি ফুটবলার সামাদের কাছাকাছিও ছিলেন না। কিন্তু আমরা অনেকে সামাদের নামটা পর্যন্ত জানি না। অথচ তাঁকে বলা হয় উপমহাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার। প্রচার পেলে তিনি পেলের চেয়ে বিখ্যাত হতেন। কিন্তু আমরা তো নিজেদের দিকে তাকাই না, অন্যের হতে অন্যের হাতের ইশারায় কলের পুতুলের মতো নাচি। কিন্তু তাঁর মেধা ও দক্ষতায় ব্রিটিশরা পর্যন্ত বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত। এবার তাঁর কয়েকটি জাদুকরি প্রতিভার কথা উল্লেখ করছি।


১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে সামাদ ভারতের জাতীয় দলের হয়ে ফুটবলের জন্মস্থান লন্ডন স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতে গেছেন। প্রতিপক্ষ ব্রিটিশ দলের অধিনায়ক বললেন, ভারতের সঙ্গে কী খেলব? তারা ফুটবল খেলা জানে না কি?
সামাদ বললেন, তোমরা খেলবে কি না জানি না, তবে খেললে তোমাদের একহালি গোল হজম করত হবে। কমও না বেশিও না। তবে তোমরা যদি হালির বেশি দিতে চেষ্টা করো তাহলে আমি কিন্তু কথা রাখতে পারব না। এবার দেখ খেলবে কি না।
ব্রিটিশ দল, সামাদের কথায় অপমানিত বোধ করল। তারা ভারতীয় দলকে গোহারা করার স্পৃহা নিয়ে মাঠে নামল। খেলা শুরু হয়ে গেল। খেলার নব্বই মিনিটে সামাদ একাই চারটা গোল করলেন। ইংল্যান্ড দল করল একটি। আরো কয়েকটি গোলের সুযোগ সামাদ ইচ্ছা করে নষ্ট করল। খেলা শেষে ইংল্যান্ড ৪-১ গোলে হেরে গেল। ভারতের কোচ সামাদকে বলল, তুমি তো আরো তিনটা গোল দিতে পারতে,দিলে না কেন?
সামাদের নিস্পৃহ উত্তর, আমি তো চারটা গোল দেওয়ার কথা বলেছি। কথার বরখেলাপ করি কীভাবে?

১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের কথা। ভারতীয় দলের সঙ্গে শক্তিশালী ইউরোপীয় টিমের খেলা চলছে। ইংল্যান্ডের খ্যাতিমান ফুটবলার জর্জ উইলসন সামাদকে উপহাস করে বললেন, দলে তো খেলোয়াড় মাত্র একজন এবং আমাদের দলে এগার জন। কয়টা গোল দেব? হজম করার শক্তি নিয়ে এসেছ তো?
সামাদে হেসে বললেন, তোমরা কয়টা গোল দিতে পারবে জানি না। তবে তোমরা যতটা দাও আমি তার দ্বিগুণ দেব।
সেই খেলায় সামাদের দল ২-১ গোলে ইউরোপীয় দলকে হারিয়ে দিয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় খেলতে গেছেন সামাদ। খেলা প্রায় শেষ। কোনো দল গোল করতে পারেনি। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট মাত্র বাকি। এসময় সামাদ বেশ দূর থেকে ইন্দোনেশিয়ার গোল বক্সে একটি শর্ট করলেন। গোল হলো না। শটটি কয়েক ইঞ্চির জন্য গোলবারের উপরের পোস্টে লেগে মাঠের বাইরে চলে গেল। এমন কাণ্ড দেখে সৈয়দ আবদুস সামাদ রেফারিকে বললেন, আমার বলটি পোস্টে লাগার কথা নয়।
ইংল্যান্ডের রেফারি বললেন, তাহলে লাগল কেন?
সামাদ বললেন, এই গালপোস্ট অবশ্যই কিছুটা নিচু। তাই গোল হয়নি। আমার শটের জন্য আমি গোল দাবি করছি।
রেফারি, সামাদের দাবি হেসে উড়িয়ে দিলেন। সামাদ কিন্তু নাছোড়বান্দা। অনেক তর্কবিতর্কের পর রেফারি গোলপোস্টটির উচ্চতা মেপে দেখার সিদ্ধান্ত দিলেন। গোলপোস্ট মাপার পর দেখা গেল, সামাদের কথাই ঠিক। গোলবারটি আন্তর্জাতিক মাপের চেয়ে দুই ইঞ্চি খাটো।
অতএব রেফার বাতিল হওয়া গোলটি, গোল হিসেবে ধরে নিতে বাধ্য হলেন। ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশের ফুটবলার সামাদের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেল।

চিনে ফুটবল খেলতে গেছেন জাদুকর সামাদ। তিনি তখন ভারতীয় জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন। মাঠে নেমে খেলা শুরু হওয়ার আগে সামাদ মাঠের চারদিকে পায়চারী করে এসে ক্রীড়া কমিটির কাছে অভিযোগ করে বললেন, আমরা এই মাঠে খেলব না।
ক্রীড়া কমিটির সভাপতি বললেন, কেন?
সামাদ বললেন, এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ থেকে ছোটো।
তাঁর অভিযোগ আমলে নিয়ে মাঠ মাপা হলো। মাপার পর সামাদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলো।
তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের এমন বহু ঘটনা আজো দেশ-বিদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অগণিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়।

১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের কথা। একদিন বিকেলে আবদুস সামাদন কলকাতার ইডেন গার্ডেনের বিপরীত দিকের ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় তাঁর পাশে একটা বিশাল গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে নেমে এলেন তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রান্সিস স্ট্যানলি জ্যাকসন এবং তাঁর কন্যা। গভর্নর ছিলেন একজন ক্রিকেটার। তিনি সোজা এগিয়ে গিয়ে আঁকড়ে ধরলেন সামাদকে। ঘটনার আকস্মিকতায় গভর্নরের সঙ্গী-সাথীরা হতভম্ভ। গভর্নর, সামাদের হাত ধরে বললেন, কেমন আছেন?
গভর্নরের কন্যা বললেন, লোকটা কে?
গভর্নর তাঁর কন্যাকে ডেকে বললেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার সামাদ। এস, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই (Meet the wizard of football.)।
গভর্নরের কন্যা অবাক হয়ে বললেন, ইনিই কী জাদুকর সামাদ?


ফুটবলে যখন সিজন ব্রেক চলতো, তখন সামাদকে তৎকালীন জমিদাররা তাঁদের পক্ষ হয়ে ফুটবল খেলার জন্য ভাড়া করে নিয়ে যেতে আসতেন। যে জমিদার বেশি টাকা দিতেন সামাদ সেই জমিদারের দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলতেন, কয়টা গোল দেব।
জমিদাররা সাধারণত ৫-৬ গোল দেওয়ার কত বলতেন। খেলা শুরু হলে সামাদ পুরো ম্যাচে বল নিয়ে নেচে বেড়াতেন। বিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় বল নিতে পারত না, কিন্তু তিনি গোল দিতেন না। ৭০-৮০ মিনিট কোনো গোল না দিয়ে জমিদারদের উদ্বিগ্ন রাখতেন।
জমিদারগণ গোল দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে আবার খেলা শুরু করতেন এবং ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ৫-৬ গোল দিয়ে চুক্তির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন।

জাদুকর সামাদের গতি ছিল চিতার তুল্য। ড্রিবলিং ছিল অসাধারণ এবং মনোমুগ্ধকর। পূর্ণিয়ার জুনিয়র একাদশে খেলোয়াড় জীবনের প্রথম খেলায় তিনি সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন। অল্প বয়সেই কলকাতার বড়ো বড়ো ক্লাবের কোচ-ম্যানেজাররা তাঁর বাড়িতে ধর্ণা দিতেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি ফুটবল খেলার জন্য তৎকালীন সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও খেলাধুলার পীঠস্থান কলকাতায় গমন করেন।


কলকাতা এরিয়ান্স ক্লাবের দুঃখীরাম মজুমদারের কাছে তিনি ফুটবল খেলা শিখেন। এরিয়ান্স থেকে যান তাজ ক্লাবে যান। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে রংপুরের তাজ ক্লাবের হয়ে কলিকাতায় খেলতে গিয়ে ফুটবল সংগঠকদের নজরে পড়েন। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এরিয়ান্স সামাদকে দলভুক্ত করে। সেবার অনেকটা সামাদের অসাধারণ নৈপুন্যে এরিয়ান্স ক্লাব প্রথম বিভাগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে সামাদ ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ক্লাবে যোগ দেন। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে বার্মা, যুক্তরাজ্য এবং চীন সফর করেন। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকার ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব এবং কলকাতার বিখ্যাত মোহনবাগান ক্লাবে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মাঠে নামেন শক্তিশালী ইংলিশ ক্লাব সামারসেটের হয়ে। তাঁর খেলা দেখে জাত্যাভিমানী ব্রিটিশরাও হতভম্ব হয়ে যেতেন। ১৯২১ থেকে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি খেলেছেন বিখ্যাত ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের হয়ে। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর অসাধারণ এক গোলে ইংল্যান্ডের ম্যাশউড ফরেস্ট দলের বিপক্ষে জয় পায় ইস্ট বেঙ্গল। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হয়। সে সময় তিনি ভারতের হয়ে বার্মা (মিয়ানমার), সিলোন (শ্রীলঙ্কা), সুমাত্রা-জাভা-বোর্নিও (ইন্দোনেশিয়া), মালয় (মালয়েশিয়া), সিঙ্গাপুর, হংকং, চীন ও ইংল্যান্ড সফর করেন। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ভারত ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও জাদুকর সামাদের দেওয়া চারটি গোলে ৪-৩ গোলে অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জণ করে।

১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলিকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন।নিজের সেরা সময় পার করে আসার পরেও মোহামেডানকে তিনি প্রায় একক কৃতিত্বে টানা পাঁচবার কলকাতা সিনিয়র ডিভিশন লিগে চ্যাম্পিয়ন করেন। এ সময় আইএফএ শিল্ডও ঘরে তুলেছিল মোহামেডান।১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি স্থায়ীভাবে চলে আসেন পূর্ব বাংলায়। পার্বতীপুরে বাড়ি কিনে তিনি শুরু করেন ছিমছাম জীবন এবং যুক্ত হন সংগঠক হিসেবে। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বেতনভুক ফুটবল কোচ হিসেবে চাকরি শুরু করেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান সরকার তাঁকে সম্মানিত করে রাষ্ট্রপতি পদক দিয়ে।


জাদুকর সামাদের খেলা দেখে স্কটিশ এক ফুটবার বলেছিলেন, সামাদ ইউরোপে জন্মগ্রহণ করলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেত।’ কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে পড়ে কখনোই পাদ-প্রদীপের আলোয় আসা হয়নি বাংলার ফুটবল জাদুকর সামাদের।
কলকাতার মাঠে সামাদের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখে ইংল্যান্ডের তৎকালীন সেরা লেফট্ আউট কম্পটন অবাক বিস্ময়ে বলেছিলেন, ‘ধারণা ছিল না এমন খেলোয়াড় এদেশে দেখতে পাব।’
ইংল্যান্ডের মাঠে সামাদের অবিশ্বাস্য ক্রীড়ানৈপূণ্য দেখে কৃতি ফুটবলার এলেক হোসি বলেছিলেন, ‘বিশ্বমানের যে কোনো ফুটবল দলে যে কোনো পরিস্থিতিতে পুরো খেলাকে স্মৃতিময় করে রাখার মতো খেলার যোগ্যতা সামাদের রয়েছে।
তিনি প্রায় ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ফুটবল খেলেছেন। পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল।


জাদুকর সামাদ অর্থের অভাবে একপ্রকার বিনাচিকিৎসায় ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান) সৈয়দপুরে মারা যান। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিঃস্ব ও কপর্দক শূন্য। প্রাপ্য মর্যাদা পেলাম না। ধুঁকে ধুঁকে মরে যাব সেটাই ভালো। কারো করুণা এবং অনুগ্রহের প্রত্যাশী আমি নই।’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর এমন করুণ মৃত্যু সম্পর্কে বলেছিলেন, যাদুকর সামাদের এমন মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে দেয়।

মারা যাবার ২৫ বছর অবহেলিত ও অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে সামাদের খবরের ওপর একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। তাঁর স্মরণে একটি স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার। পার্বতীপুর রেলওয়ে ‘সামাদ মিলনায়তন’ নামের একটি মিলনায়তন করেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ফুটবলের জাদুকর সামাদের সোনার মূর্তি রক্ষিত আছে কিন্তু আমাদের মিউজিয়ামে কিছুই নেই। মনেই নেই যার কথা, সে মিউজিয়ামে থাকবে কীভাবে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!