বাংলা ব্যাকরণ কারক

বাংলা ব্যাকরণ কারক

বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে। কারক প্রধানত ছয় প্রকার। ছয় প্রকার কারকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং নির্ণয়ের সহজ কৌশল নিয়ে এই ছোটো লেখা:

১. কর্তৃকারক: বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
নির্ণয়ের কৌশল: ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই হচ্ছে কর্তৃকারক। যেমন:
ক. ছোটো বন্ধু বার্তা পড়ে। কে পড়ে? ছোটো বন্ধু— কর্তৃকারক।
খ. আমরা গান গাই। কারা গায়? আমরা— কর্তৃকারক।

২. কর্মকারক: যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
নির্ণয়ের কৌশল: ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ কিংবা ‘কার’ যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই হচ্ছে কর্মকারক। যেমন:
ক. তাহাসিন ছবি আঁকছে। কী আঁকছে? ছবি— কর্মকারক।
খ. ছাফিয়াকে বকো না। কাকে বকো না? ছাফিয়াকে— কর্মকারক।
গ. ধোপাকে কাপড় দাও। কাকে দাও? ধোপাকে— কর্মকারক।
ঘ. টমের দেখা পেলাম না। কার দেখা পেলাম না? টমের— কর্মকারক

৩. করণ কারক: যে যন্ত্র বা উপকরণ কিংবা মাধ্যমের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলে।
নির্ণয়ের কৌশল: ক্রিয়াকে ‘কী/কীসের দিয়ে/দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই হচ্ছে করণ কারক। যেমন:
ক. আমি কলম দিয়ে লিখি। কী দিয়ে লিখি? কলম— করণ কারক।
খ. পরিশ্রমে সফলতা মিলে। কীসের দ্বারা সফলতা মিলে? পরিশ্রম— করণ কারক।
গ. টাকায় সব মেলে। কীসের দ্বারা সব মেলে? টাকায়— করণ কারক।
ঘ. আলোয় অন্ধকার দূর হয়। কীসের দ্বারা অন্ধকার দূর হয়/কীসের দ্বারা দূর হয়? আলোর— করণ কারক।

৪. সম্প্রদান কারক:   যখন কাউকে কোনো কিছু স্বত্ব ত্যাগ করে দান করা হয় কিংবা নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করা হয়, তখন ঐ ব্যক্তিকে(যাকে দান বা সাহায্য করা হয়) সম্প্রদান কারক বলে। যেমন: দরিদ্রকে খাদ্য দাও। দরিদ্রকে খাদ্য দিলে তা ফেরত পাওয়ার আশায় দেওয়া যাবে না, স্বত্ব ত্যাগ করে দিতে হবে। তাই এখানে ‘দরিদ্রকে’ হচ্ছে সম্প্রদান করক।

৫. অপাদান কারক: বাক্যে যা থেকে কোনো কিছু গৃহীত, বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত, রক্ষিত ইত্যাদি বোঝায় অথবা যাকে দেখে কেউ ভয় পায়, তা-ই হচ্ছে অপাদান কারক।
নির্ণয়ের কৌশল: ক্রিয়াকে ‘কী/কোথা থেকে/হইতে/হতে’ বা ‘কাকে'(ভয়-এর ক্ষেত্রে) যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যা, তা-ই হচ্ছে অপাদান কারক। যেমন:
ক. গাছ থেকে আম পড়ে। কোথা থেকে আম পড়ে? গাছ থেকে— অপাদান কারক।
খ. বিপদ থেকে রক্ষা করো। কী থেকে রক্ষা করো? বিপদ— অপাদান কারক।
গ) ফ্যান্টমকে সবাই ভয় পায়। কাকে ভয় পায়? ফ্যান্টমকে— অপাদান কারক।

৬. অধিকরণ কারক:   বাক্যে ক্রিয়া সম্পাদনের কাল(সময়) এবং আধার(স্থান)-কে অধিকরণ কারক বলে।
নির্ণয়ের কৌশল: ক্রিয়াকে ‘কোথায়’ বা ‘কখন’ যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই অধিকরণ কারক। যেমন:
ক. সন্ধ্যায় ছোটো বন্ধুকে কারক নির্ণয়ের সহজ কৌশল সম্পর্কে বার্তা পাঠাতে হবে। কখন পাঠাতে হবে? সন্ধ্যায়— অধিকরণ কারক।
খ. ছাফিয়া স্কুলে গিয়েছে। কোথায় গিয়েছে? স্কুলে— অধিকরণ কারক।
গ. পুকুরে মাছ আছে। কোথায় মাছ আছে? পুকুরে— অধিকরণ কারক।

জ্ঞাতব্য: ১. ‘কে’ ও ‘রে’ বিভক্তি সম্প্রদান কারকের ক্ষেত্রে চতুর্থী এবং অন্যান্য কারকের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়া হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
২. নিমিত্তার্থেও সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হবে। যেমন: বেলা যে পড়ে এল জলকে(জলের নিমিত্তে) চল। কীসের নিমিত্তে চল? জলের— নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তি।

এবি ছিদ্দিক, শুবাচ, শুদ্ধ বানান চর্চা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!