মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গল

মনসামঙ্গল
সর্পের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসার কাহিনী নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল কাব্য। ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের মতে, কমপক্ষে ৬২ জন কবি ‘মনসামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেছেন। নারায়ণ দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, ষোড়শ শতকের কবি গঙ্গাদাস সেন, সপ্তদশ সতকের রামজীবন বিদ্যাভূষণ, বাণেশ্বর, জীবন মৈত্র প্রমূখ মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবি।

মনসামঙ্গল ধারার আদিকবি
কানা হরিদত্ত ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি। চতুর্দশ শতকের প্রথম দিকে পূর্ববঙ্গে কবি কানা হরিদত্ত জন্মগ্রহণ করেন। পঞ্চদশ শতকের শেষভাগের কবি বিজয়গুপ্ত কানা হরিদত্তকে মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি
মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ণ দেব। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার বোরগ্রামে পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কাব্যের নাম ‘পদ্মপুরাণ’। কাব্যগ্রন্থটি তিন খ-ে বিভক্ত। তাঁকে মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।

সুস্পষ্ট সনযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্য
বাংলা সাহিত্যে সুস্পষ্ট সনযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয়গুপ্ত। তিনি গৌড়েশ্বর সুলতান হুসেন শাহের আমলে ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। বরিশাল জেলার গৈলা গ্রামে কবি বিজয়গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। মনসামঙ্গল কাব্যের আরেক জন কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। তার রচিত কাব্য ‘মনসাবিজয়’ ১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

বিপ্রদাস পিপিলাই
বিজয়গুপ্তের সামসময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর ১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘মনসাবিজয়’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন। কথিত হয় যে, বিপ্রদাস পিপিলাই স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের আমলে ‘মনাসবিজয়’ কাব্য রচনা করেন।

দ্বিজ বংশীদাস
কবি চন্দ্রাবতীর পিতা দ্বিজ বংশীদাস সপ্তদশ শতকের শেষভাগে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘মনসামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেছিলেন। কাব্যে কবি দ্বিজ বংশী, বংশীধর, বংশীবাদন প্রভৃতি ভণিতা ব্যবহার করেছেন।

মঙ্গলকাব্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!