বানানের জটিলতা ও তা সংস্কারের উদ্যোগ

গরীব নেওয়াজ

 

গরীব নেওয়াজ

তখন প্রধানত সাধুভাষা ব্যবহৃত হতো। সাধুভাষায় রাজত্ব করত তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত হতে আগত শব্দ। তৎসম শব্দের বানান নিয়ন্ত্রণ করত সংস্কৃত ব্যাকরণ ও অভিধান। ফলে তখন বানান বিভ্রাট অনেক কম ছিল। তবে সেটা ছিল সংস্কৃতের নিয়মে, বাংলার নিয়মে নয়। বাংলা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। এর উচ্চারণ, বানান ও ব্যাকরণ যে সংস্কৃত নিয়মে নয়, বাংলার নিয়মে চলবে তার জন্য রবীন্দ্রনাথ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী প্রমুখ ১৩০৮ বাংলা সনের দিকে বাংলা বানান ও ব্যাকরণ আন্দোলন গড়ে তোলেন। তবে এ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ কম হয়নি।

বিশ শতকের শুরু হতে চলিত ভাষার ব্যবহার চালু হতে থাকে। প্রমথ চৌধুরী এরজন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। ক্রমশ কলকাতা নির্ভর বাঙালি লেখকরা সাধু ছেড়ে চলিত ভাষায় লেখালেখি শুরু করেন। চলিত ভাষার দাপটে সাধু ভাষা পিছু হটতে থাকে। চলিত ভাষায় তদ্ভব ও দেশি শব্দের ব্যবহার অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিদেশি শব্দও অনেক বেশি ঢুকে পড়ে। আর বিশৃঙ্খলা তখন থেকেই প্রকট হতে থাকে। কারণ তদ্ভব বা দেশি ও বিদেশি শব্দের বানান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো নিয়ম নীতি ছিল না। যে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বানান ও বাক্য লিখতে থাকে। স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হয়। ধ্বনিতত্ত্ব অকার্যকর হয়ে যায়। দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের অসামঞ্জস্যতা ও বৈচিত্র। বানান ও বাক্য নিয়ে এক মহা বিশৃঙ্খল ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসলে বাংলা বানান না-ইতিহাস সম্মত, না-বিজ্ঞান সম্মত। সে কারণে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেন : ‘যারা পালি প্রাকৃত ধ্বনিতত্তে¡র সংবাদ রাখেন, তারা স্বীকার করতে বাধ্য যে, বাংলা বানান অনেকটা অবৈজ্ঞানিক, সুতরাং তার সংস্কার দরকার’।

বানানের এই বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য গত শতাব্দীর বিশের দশকে বিশ্বভারতী চলিত ভাষার বানানের একটি নিয়ম স্থির করে দেয়। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এই নিয়ম স্থির করে দেন, আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তা দেখে দেন। কিন্তু তাতে জটিলতা দূর হয়নি। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুরোধে কয়েকজন মনীষীকে নিয়ে ১৯৩৫ সালে গঠিত হয় ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি’। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে ১৯৩৬ সালে ৮ই মে তারিখে। পরবর্তীতে তা কয়েক দফা সংস্কার করা হয়। অবশ্য এসবের পূর্বে জ্ঞানেন্দ্র মোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ (১৯১৭) শুদ্ধ বানান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানানের নিয়মাবলীতে বেশ কিছু সূত্রে বিকল্প বানানের সুপারিশ থাকায় তা বানান বিভ্রাটকে আরও দুর্গম করে তোলে।

বিশ্বভারতী বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা বানানের নিয়মকানুন সর্বজনভাবে গৃহীত হয়নি। সর্বাংশে তা মান্য হয়নি। উল্লেখ্য যে, উভয় প্রতিষ্ঠানের বহু বানানের মধ্যে অনেক গড়মিল দেখা যায়। ফলে বানান বিভ্রাট রয়েই গেল, বরঞ্চ তা আরও জটিল রূপ ধারণ করল। এ পরিস্থিতিতে বাংলা বানানে সমতা বিধানের লক্ষ্যে অধ্যাপক জ্যোতির্ময় ঘোষ ‘বাংলা বানান সমস্যা’ প্রবন্ধে একটি মাঝারি আকারের অভিধান প্রণয়নের তাগিদ দেন। প্রবন্ধটি আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (৮মার্চ, ১৯৩৬)। কিন্তু পণ্ডিতগণ দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছরেও বানান সংক্রান্ত কোনো অভিধান প্রণয়নের দিকে নজর দেননি।

দেশ বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গ সরকার মৌলানা আকরম খাঁ-এর নেতৃত্বে East Bengal Language Committee গঠন করে। এই কমিটির রিপোর্ট পূর্ববঙ্গ সরকার প্রকাশ করা সঙ্গত মনে করেনি। সামরিক সরকার ১৯৫৮ সালে প্রকাশ করলেও তা বিদ্বৎসমাজে মোটেই গৃহীত হয়নি।

১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, ড. কাজী মোতাহার হোসেন, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, মুনীর চৌধুরী প্রমুখকে নিয়ে বানান সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি বর্ণমালা থেকে ঙ, ঃ, ঈ এবং দীর্ঘ ঈ-কার বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে।

পরবর্তীতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আগ্রহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পর্ষদ ১৯৬৭ সালে আর একটি কমিটি গঠন করে। অন্যান্যদের মধ্যে ড. মুহম্মদ এনামুল হক, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, ড. কাজী দীন মুহম্মদ, মুহম্মদ আব্দুল হাই, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাশেম এই কমিটির সদস্য ছিলেন। জানা যায়, এই কমিটি বর্ণমালা থেকে ঈ, ঊ, ঐ, ঔ, ঙ, ঞ, ণ, ষ এবং ঈ-কার ঊ-কার, ঐ-কার, ঔ-কার বর্জন, যুক্ত বর্ণের উচ্ছেদ; ব-ফলা, ম-ফলা, ও য-ফলার পরিবর্তে বর্ণদ্বিত্ব গ্রহণসহ আরও কিছু সুপারিশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশমালা গ্রহণ করলেও রিপোর্টটি প্রকাশ করেনি। পরে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রস্তাব থেকে সরে গিয়ে এর বিরোধিতা করেন। এছাড়া আমাদের কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী পণ্ডিতরা এই সংস্কার প্রস্তাবের চরম বিরোধিতা করেন।

১৯৮০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাঙলা বানানের নিয়ম সমিতি’ বর্ণমালা থেকে ঙ, ঞ, ণ, ঈ-কার এবং য-ফলা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করে–যাও সফল হয়নি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে গঠিত শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে পাঠ্যপুস্তকে বানানের সমতা বিধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটির রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট বানান নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশের প্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ১৯৮৪ সালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এবং ১৯৮৮ সালে কুমিল্লায় জাতীয় কর্মশিবির আয়োজন করে সুপারিশমালা তৈরি করে। এই সুপারিশমালা অনুযায়ী ১৯৯২ সালে ‘পাঠ্য বইয়ের বানান’ নামে ড. আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড একটি শব্দ সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি লিপি ও সংস্কার, বানান সংস্কার, এবং উচ্চারণ ও পরিভাষা কোষ প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলাপ-আলোচনা ও মত বিনিময় করে এবং শেষে ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত সেমিনারের আলোচনার ভিত্তিতে ‘বাংলা বানান সংস্কার : একটি ভিত্তিপত্র’ প্রণয়ন করে পশ্চিম বঙ্গ ও বাংলাদেশের ভাষাপণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞদের কাছে মতামতের জন্য পাঠায়। তৎপর প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে আকাদেমির বানানবিধি প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে।

অন্যদিকে আনন্দবাজার পাবলিশার্স ১৯৯১ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন’ নামে নিজস্ব বানান বিধি প্রকাশ করে। এটা সম্পাদনা করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এসব ছাড়াও কলকাতার শিশু সাহিত্য সংসদ ও সাহিত্য সংসদ প্রকাশন সংস্থাও নিজস্ব বানানবিধি প্রণয়ন করেছে। এছাড়া উভয় বঙ্গে বেশ কিছু বিদগ্ধজন বানান সংস্কারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

কলকাতার আনন্দবাজার পাবলিশার্স-এর অনুসরণে ঢাকার প্রথমা প্রকাশন প্রথমে প্রকাশ করে ‘প্রথম আলো বানান ও লেখ্যরীতি’, এরপর ২০০৬ সালে প্রকাশ করে ‘প্রথম আলো ভাষারীতি’।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে–যা ১৯৯৮ সালে পরিমার্জন এবং ২০০০ সালে পুনরায় সংশোধন করা হয়। বাংলা একাডেমি তার প্রণীত নিয়ম অনুসরণ করেই ১৯৯৪ সালে প্রকাশ করে ‘বাংলা একাডেমি বাংলা বানান–অভিধান’। বাংলা একাডেমির সকল প্রকাশনা তাদের বানান রীতি অনুযায়ী করা হয়। অবশ্য তাদের বানানরীতি নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম যা যথেষ্ট পরিমাণে অনুসারিত হয়ে আসছে তার সঙ্গেও তাদের বহু বিরোধ দেখা দিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি নিজেই তার প্রকাশনায় তার নিজস্ব বানানরীতি উপেক্ষা যে করে তাও দেখা যায়।

এইভাবে উভয় বাংলার বিভিন্ন সংস্থা ও পণ্ডিতরা ভিন্ন-ভিন্নভাবে বানানের নিয়মনীতি প্রণয়ন করে শৃঙ্খলার পরিবর্তে প্রতিনিয়ত আরও বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছেন। বিভিন্ন অভিধানে একই শব্দের ভিন্ন-ভিন্ন বানান দেখা যায়। বিভিন্ন প্রকাশনা, বই ও সংবাদপত্র ভিন্ন-ভিন্ন নিয়মনীতির উপর চলছে। বানান নিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বিতর্ক বেড়েই চলছে। যারা সঠিকভাবে লিখতে চান তারা বিভ্রান্তির কবলে নিপতিত। ছাত্ররা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত। শুদ্ধ বানান যে কী তাই তো আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। আবার যে সকল বানানে ঐক্যমত হয়েছে তা এত জটিলতায় ভরা যে, তা সাধারণের পক্ষে অনুসরণ করা খুবই দুরূহ। ফলে দেখতে পাই মুদ্রিত গ্রন্থে, সংবাদপত্রে, টেলিভিশনের পর্দায়, পোস্টারে, বিজ্ঞাপনে, সাইনবোর্ডে অসংখ্য ভুল ও বানান বিভ্রাট। (পরের লেখা: বানান বিশৃঙ্খলা ও বর্ণবাদী মানসিকতা)।

উৎস:  বানানের জটিলতা ও তা সংস্কারের উদ্যোগ, গরীব নেওয়াজ, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

গরীব নেওয়াজ

Click edit button to change this text. Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo.

Dr. Mohammed Amin

আমাদের বানানের জটিলতা ও বিভ্রাট দীর্ঘকালের। চর্যাপদের যুগ হতেই এটা লক্ষ করা যায়। তখন সবকিছু পুঁথির ভাষায় অর্থাৎ কবিতায় লিখা হতো, হাতে লিখা হতো। ছাপার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এসব পুঁথিতে ই-ঈ কার, বা উ-ঊ কার ভেদ নেই। ণ-ন বা জ-য বা শ-ষ-স এর ব্যবহারে পার্থক্য নেই। উনিশ শতক থেকে বাংলার আধুনিক যুগ শুরু হয়। গদ্য সাহিত্যের চর্চা শুরু হয়।

Nullam scelerisque erat nisl, eu aliquet quam porttitor et. Aliquam molestie sem augue, non egestas nunc sagittis in. Suspendisse vehicula turpis eget leo sollicitudin, dapibus commodo massa facilisis.

“Class aptent taciti sociosqu ad litora torquent per conubia nostra, per inceptos himenaeos.Aenean non turpis vitae ligula tristique sagittis. Cras varius erat pulvinar eros pretium suscipit. Duis eleifend sit amet sapien sed ultricies.”

Ut ac tortor eget nibh condimentum congue. In facilisis porttitor iaculis. Etiam vestibulum, nisl nec molestie egestas, velit lorem venenatis tellus, pellentesque blandit nulla sapien accumsan velit. Vivamus purus nunc, dictum nec elit viverra, semper iaculis risus.

“Class aptent taciti sociosqu ad litora per conubia nostra, per inceptos himenaeos .Aenean non turpis vitae ligula tristique sagitt isras varius erat pulvinar eros pretium”

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Vivamus quis arcu est. Quisque posuere est arcu, id hendrerit orci pulvinar id. Cras egestas metus sit amet felis accumsan, vitae placerat libero sodales. Morbi efficitur maximus massa et aliquam. Quisque vel viverra augue.

Nullam scelerisque erat nisl, eu aliquet quam porttitor et. Aliquam molestie sem augue, non egestas nunc sagittis in. Suspendisse vehicula turpis eget leo sollicitudin, dapibus commodo massa facilisis.

Ut ac tortor eget nibh condimentum congue. In facilisis porttitor iaculis. Etiam vestibulum, nisl nec molestie egestas, velit lorem venenatis tellus, pellentesque blandit nulla sapien accumsan velit. Vivamus purus nunc, dictum nec elit viverra, semper iaculis risus.

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Vivamus quis arcu est. Quisque posuere est arcu, id hendrerit orci pulvinar id. Cras egestas metus sit amet felis accumsan, vitae placerat libero sodales. Morbi efficitur maximus massa et aliquam. Quisque vel viverra augue.

Nullam scelerisque erat nisl, eu aliquet quam porttitor et. Aliquam molestie sem augue, non egestas nunc sagittis in. Suspendisse vehicula turpis eget leo sollicitudin, dapibus commodo massa facilisis.

“Class aptent taciti sociosqu ad litora torquent per conubia nostra, per inceptos himenaeos.Aenean non turpis vitae ligula tristique sagittis. Cras varius erat pulvinar eros pretium suscipit. Duis eleifend sit amet sapien sed ultricies.”

Ut ac tortor eget nibh condimentum congue. In facilisis porttitor iaculis. Etiam vestibulum, nisl nec molestie egestas, velit lorem venenatis tellus, pellentesque blandit nulla sapien accumsan velit. Vivamus purus nunc, dictum nec elit viverra, semper iaculis risus.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language
error: Content is protected !!