CU Alumni Association সি ইউ যার এলেম নাই, ভুলের ওপর দাঁড়িয়ে ঠাঁই।

মিনহা সিদ্দিকা অথই
এলামনাই এসোসিয়েশন : বাংলার মধ্যে ইংরেজি, কিন্তু কেন? ‘Alumni Association’- এর খুব সুন্দর, গ্রহণযোগ্য এবং বহুলপ্রচলিত ও জনপ্রিয় বাংলা প্রতিশব্দ রয়েছে। এলামনাই না কি অ্যালামনাই? উচ্চারণানুগ প্রতিবর্ণীকরণের মতো প্রাজ্ঞ একজন শিক্ষার্থীও কি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই?
অংশীদারিত্ব : এটি একটি অশুদ্ধ প্রয়োগ। অংশীদার(partner) থেকে অংশীদারত্ব (partnership)। অংশীদারি অর্থ partnership. এখানে ‘অংশীদারি’ শব্দের সঙ্গে পুনরায় ‘-ত্ব’ যোগ করা বাহুল্য। সুতরাং ‘অংশীদারি’ বা ‘অংশীদারত্ব’ লেখাই সমীচীন ছিল।
কর্মচারী সহ : ‘-সহ’ শব্দাংশটি জীবনে এই প্রথম পৃথক থাকতে দেখলাম। শুদ্ধ হবে ‘কর্মচারী-সহ’।
কল্যানে : শুদ্ধ বানান হবে ‘কল্যাণে’। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েছি ‘কল্যাণ’ শব্দের বানানে কোনো সূত্র ছাড়াই মূর্ধন্য-ণ হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের সভাপতি মহোদয় ‘ণত্ব বোধ’ ভুলে গিয়েছেন কি?
এবার লেখকের নামে চলে আসি।
মো ঃ আব্দুল করিম : ‘মো’ লেখার পর ফাঁক দিয়ে লেখা হয়েছে ‘বিসর্গ’। সে ক্ষেত্রে উচ্চারণ হবে ‘মো বিসর্গ আব্‌দুল করিম।’ আমার জানামতে, তাঁর নাম-এর উচ্চারণ মো আবদুল করিম।
সাবেক : অবসরপ্রাপ্ত কারো নামের আগে ‘সাবেক’ লেখা অশোভন। কেননা, সাবেক বলতে যারা আগে চাকুরি করত বা কোনো দায়িত্বে ছিল, কিন্তু এখন নেই তাদের সবাইকে নির্দেশ করে। তন্মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত, মৃত, শারীরিকভাবে অক্ষম, বরখাস্তকৃত এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী-সহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে চাকুরি হতে চ্যুত চাকুরে কিংবা রাজনীতিক নেতৃবর্গও অন্তর্ভুক্ত। যারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাকুরি করার পর বয়স/সময়ের কারণে স্বাভাবিকভাবে চাকুরি হতে চলে যায়, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত লেখা হয়, ‘অবসরপ্রাপ্ত’। আমার জানামতে ‘আব্দুল করিম’ অবসরপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব। তাই তাঁর ক্ষেত্রে ‘সাবেক’ লেখা শোভনীয় হয়নি।
গনপ্রজাতন্ত্রী : শুদ্ধ হবে — ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’।   দেখুন : শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ);
বাক্যবিন্যাসেও রয়েছে ভুল।‘সি.ইউ এলামনাই (অ্যালামনাই) এসোসিয়েশন’-এর সভাপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব সাহেবের এমন ভুলভর্তি বাণী আমরা, জুনিয়রদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।
মাহবুবুল আলম সাহেবের ছবির সঙ্গে কত ভুল আছে তা ক্যাপশন বর্ণনায় গিয়ে দেখুন। গিয়াস উদ্দিন সাহেবের ছবির সঙ্গেও রয়েছে অনেকগুলো ভুল। মনে হয় তিনি বাংলা জানেন না।
৪ নম্বর ছবি হচ্ছে প্রচারপত্র। দেখুন তাতে কয়টি ভুল রয়েছে। বাক্যগুলোও সমন্বিত নয়। বাহুল্য দোষে পুরো প্রচারপত্রটাই হাস্যকর মনে হয়।
৫ নম্বর ছবিটা রেজিস্ট্রার সাহেবের প্রত্যয়নপত্র। এই প্রত্যয়নপত্রেও রয়েছে ভুল বানান। কয়েক লাইনের একটি পত্রে এতগুলো ভুল, তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রেজিস্ট্রারের – লজ্জা হয়।
৬ নম্বর চিত্রে ‘গুলো’ শব্দটিকে ফাঁক করে লেখা হয়েছে। রয়েছে আরও কয়েকটি জঘন্য প্রকৃতির ভুল।
৭ নম্বর ছবিটির লেখায় যেন বানার ভুলের মহোৎসব চলছে । মাতৃভাষায় এত ভুল মেনে নেওয়া যায় না।
ভ্যানু কোথায় ? venue- এর উচ্চারণ ‘ভেন্যু’ কীভাবে হয়? venue- আসলে কোথায়? ভিন্ন স্থানে ভিন্ন নাম লেখা হয়েছে। ‘অফ’ না ‘অব’ না অভ্‌? সাধারণ, পুনর্মিলনী, উদ্‌যাপন প্রভৃতি সহজ বানান পর্যন্ত ভুল লেখা হয়েছে।
নিমন্ত্রণপত্রের অনুষ্ঠানসূচি দেখুন। মনে হবে কোনো চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়ে এটি লেখিয়ে নিয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়ে সংশোধন করে ছাপানো হয়েছে।
পোস্টে আমার ভুল? হবেই, থাকবেই। তাতে কিছু আসে যায় না। আমি তো আর ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদ’-এর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক নই। অধিকন্তু, তাঁদের মতো উচ্চ-সনদধারী লোকের যদি ভুল হয়, আমার হবে না কেন? আমি তো তাঁদের উত্তরসূরি।
ছবি-সূত্র : মিনহা সিদ্দিকা অথই, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ); এখানে ক্লিক করলে সবগুলো ছবি এবং বিস্তারিত জানা যাবে।
আরো জানার জন্য :  শুবাচ লিংক/২  এবং শুবাচ লিংক/১
error: Content is protected !!