Khurshed Ahmed খুরশেদ আহমেদ: খসড়া লেখা

খুরশেদ আহমেদ
সংযোগ:  https://draminbd.com/khurshed-ahmed-খুরশেদ-আহমেদ-খসড়া-লেখা/
ইংরেজি F, বাংলায় কী
আমাদের বর্ণমালার ফ আর ইংরেজি বর্ণমালার F-এর উচ্চারণ কি একই রকম?
বলার সময় আপনি বাংলা শব্দ ফল ও ফুলের ফ-ধ্বনি আর ইংরেজি শব্দ Fall ও Full-এর F-ধ্বনি কি একইভাবে উচ্চারণ করেন, অথবা ভিন্নভাবে করেন?
সুনির্দিষ্টভাবে, ফ- ও F-ধ্বনি উচ্চারণের শুরুতে – হ্যাঁ, ঠিক শুরুতে – আপনার দুই ঠোঁট কি একসাথে লেগে থাকছে? অথবা দুই ঠোঁটের মাঝে ফাঁক থাকছে? অথবা একটির ক্ষেত্রে দুই ঠোঁট একসাথে লেগে থাকছে আর অন্যটির ক্ষেত্রে দুই ঠোঁটের মাঝে ফাঁক থাকছে? (৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)
 
করিনি না কি করি নি?
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২ নিশ্চিত করেছে না-বাচক নি সমাসবদ্ধ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ করিনি যুক্তভাবেই লিখতে হবে।
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ৩.৩-সহ সংযুক্ত ছবিটি Promito Bangla Bananer Niom_2012.pdf নামের পুরনো একটি ফাইল থেকে নেওয়া দুটি অংশ জুড়ে তৈরি করেছি, যে কারণে বাংলা একাডেমি ওতে ‘একাডেমী’ বানানে লেখা হয়েছে দেখতে পাচ্ছেন।
আমি আজ বাংলা একাডেমি বইমেলা থেকে পুস্তিকাটির পরিমার্জিত সংস্করণ (২০১২)-এর প্রথম পুনর্মুদ্রণ মাঘ ১৪২১/জানুয়ারি ২০১৫-এর একটি কপি কিনেছি, যাতে বাংলা একাডেমি লিখতে হ্রস্ব-ইকার দিয়ে একাডেমি বানানই লেখা হয়েছে, এবং যার প্রচ্ছদ অন্য ছবিতে দেখছেন।
শুবাচের সবাইকে একুশের শুভেচ্ছা! (১লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)
অভ্যন্তরীন?
সংযুক্ত ছবির সাইনপোস্টে দেখুন হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা দন্ত্য-ন দিয়ে ‘অভ্যন্তরীন টার্মিনাল’ লিখে ঐ টার্মিনালের দিকে যাওয়ার পথ-নির্দেশ করছে।
Mohammed Amin
বলেন, শুদ্ধ বানান অভ্যন্তরীণ:
“আভ্যন্তরীণ(ভুল)
অভ্যন্তরীণ (সঠিক)”।
অনেকে শব্দটির বানান লেখেন আভ্যন্তরীণ।
দন্ত্য-ন দিয়ে অভ্যন্তরীন লেখার প্রকাশ্য দীর্ঘস্থায়ী প্রদর্শনী – এবং তা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকত্বে – আমার চোখে এই প্রথম।
আনন্দবাজার পত্রিকা ব্যবহার বিধিমালার বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০০১) পৃষ্ঠা-১৩৪ থেকে পড়ুন:
“১৫.৯ বিতর্কিত শব্দ
অভ্যন্তরীণ না আভ্যন্তরীণ
সংস্কৃতে এই দুটি শব্দের কোনওটিই ব্যাকরণসিদ্ধ নয়। সংস্কৃতে ‘অভ্যন্তর’ থেকে যে বিশেষণ সিদ্ধ তা অণ্‌ যোগে অর্থাৎ ‘আভ্যন্তর’ (অভ্যন্তর+অ)।
আমরা বাংলায় যেমন খ-জাত ‘ঈন’ যোগ অভ্যন্তরীণ লিখতে পারি, তেমনি খঞ্‌ জাত ঈন যোগে আভ্যন্তরীণও লিখতে পারি। এ পর্যন্ত সাহিত্যে ‘আভ্যন্তরীণ’ই চলিত ছিল, এখন ‘অভ্যন্তরীণ’ও চলছে। অভিধানে দুটিই স্বীকৃত।
বঙ্গীয় শব্দকোষ, বাঙ্গালা ভাষার অভিধান ও বাংলাদেশের ব্যবহারিক অভিধানে শুধু ‘আভ্যন্তরীণ’ই গৃহীত।
আভ্যন্তরীণ গৃহীত হয়েছে চলন্তিকাতেও।”
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পরিমার্জিত সংস্করণ (ডিসেম্বর ২০০০)-এর সপ্তদশ পুনর্মুদ্রণ (জানুয়ারি ২০১৪) অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ প্রমিত, আভ্যন্তরীণ অশুদ্ধ কিন্তু প্রচলিত।
মূর্ধন্য-ণ বিবর্জিত অভ্যন্তরীন বানান দীর্ঘস্থায়ীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা কি বানান-বিপ্লবের অগ্রপথিক হলো নাকি বাংলা একাডেমির গৃহীত ও প্রকাশিত প্রমিত বানান না-জানার স্বাক্ষর রাখল?  (১৯শে জানুয়ারি, ২০১৫)
 
২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের লেখা
 
কিঞ্চিৎ ও অকিঞ্চিৎ, কিঞ্চিৎকর ও অকিঞ্চিৎকর – এই শব্দজুটিগুলো কি সমার্থক, নাকি প্রায় কাছাকাছি অর্থবোধক, নাকি বিপরীতার্থক?
সংযুক্ত লিংকের ‘শিল্পে আধুনিক, উত্তরাধুনিক ও উত্তর-উত্তরাধুনিক প্রসঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধটি আমার মনে চাপা-থাকা অনেক পুরনো এই প্রশ্নটি শুবাচের আসরে উত্থাপনের জন্য প্ররোচিত করেছে।
প্রবন্ধটি থেকে পেয়েছি:
“বিংশ শতাব্দীতে পিকাসো তাঁর ক্যানভাসে এক বিচূর্ণিত পৃথিবী তুলে ধরলেন যেখানে শূন্যদৃষ্টির নিঃসঙ্গ ও হতাশ মানুষেরা ভিড় জমাতে লাগল। অনাকর্ষণীয় ছেঁড়াখোঁড়া পরিবেশে আবেগহীন নারী-পুরুষের দেখা গেল এডওয়ার্ড হুপারের ক্যানভাসে। উইলেম দ্য কুনিংয়ের ‘নারী’ সিরিজের ছবিতে সব হারানোর ভীতি এবং দালির পরাবাস্তববাদি জগতে স্বপ্ন ও বাস্তবের অদ্ভুত দ্বৈরথ লক্ষ করা গেল। অ্যান্ডি ওয়ারহোলের অকিঞ্চিত বা লঘুকরণ পদ্ধতি কিংবা এদুয়ার্দ মুঙ্খ কর্তৃক গভীর শূন্যতার দিকে ধাবমান পৃথিবীতে গুরুত্বহীন হয়ে ওঠার ভীতি মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখাল তার অস্তিত্বের প্রহেলিকা।“
… … …
“তবে সবকিছু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও শিল্পীর নিজস্ব পছন্দ থাকে। তিনি চলমান বৈরাগ্যধর্মিতা, নৈরাশ্য বা আশাবাদের খেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং নিদেনপক্ষে কিঞ্চিত বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করে থাকেন, অথবা পৃথিবীর দিকে একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টি দিয়ে তাকান, কিংবা পূর্বসূরী শিল্পীরা যে দিকগুলো আমাদের সামনে আগেই তুলে ধরেছেন তা পুনঃআবিষ্কারের চেষ্টা করেন। … “ (৬ই নভেম্বর, ২০১৪)
 
‘অশ্বত্থামা হত ইতি গজঃ’ — মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে দ্রোণাচার্যকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য যুধিষ্ঠির এই কথাটি দ্রোণাচার্যকে বলেন।
দ্রোণাচার্য যাতে স্পষ্টভাবে শুনতে পান সেজন্য ‘অশ্বত্থামা হত’ কথাটি তিনি জোরেশোরে বলেন, কিন্তু ‘ইতি গজঃ’ কথাটি বলেন খুবই নিচু স্বরে।
এতে কাজ হলো: পুত্রশোকে দ্রোণাচার্য অস্ত্রত্যাগ করলেন এবং যোগস্থ হয়ে দেহত্যাগ করলেন।
আমার সমস্যা যুধিষ্ঠিরের কথাটিতে ‘ইতি’ শব্দের অর্থ নিয়ে।
শুবাচের আসরের কেউ সাহায্য করবেন, প্লিজ!
 
 
সুচরিতাসু বনাম সুচরিতেষু
অনেক হোঁচট খেয়ে খেয়ে অবশেষে শিখেছি: চিঠিতে বা কবিতায় বা গদ্যসাহিত্যে আমরা মেয়ে বন্ধুকে সম্বোধন করে লিখি বা বলি সুচরিতাসু; ছেলে বন্ধুকে – সুচরিতেষু।
আসুন দেখি বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৪) সুচরিত, সুচরিতা, সুচরিতেষু ও সুচরিতাসু সম্পর্কে কী লিখেছে:
“সুচরিত, সুচরিত্র [সুচোরিত্, -ত্‌ত্রো] বি উত্তম চরিত্র; সৎস্বভাব। বিণ সচ্চরিত্র। {স. সু+চরিত, সুপ্‌সুপা; সু+চরিত্র; বহু.}”
“সুচরিতা, সুচরিত্রা [সুচোরিতা, -ত্‌ত্রা] বি স্ত্রী. সৎস্বভাবা। বিণ সচ্চরিত্র। {স. সুচরিত+আ, সুচরিত্র+আ}”
“সুচরিতেষু [সুচোরিতেশু] সুচরিত্রের নিকট চিঠি লেখায় প্রথাসম্মত পাঠ। সুচরিতাসু স্ত্রী.। {স. সু+চরিত, ৭মী বহুব}”
সুচরিত থেকে স্ত্রীলিঙ্গে সুচরিতা – এটুকু বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না।
সুচরিতাকে সম্বোধন করে বলছি সুচরিতাসু – বলা চলে, এটাও সহজভাবে বোঝা যায় এবং মেনে নেওয়া যায়।
কিন্তু সুচরিতকে সম্বোধন করতে গিয়ে আমি থমকে দাঁড়াই, আমাকে বলতে হচ্ছে: সুচরিতেষু।
কেন?
আমি যেভাবে বুঝতে পারছি, সুচরিত শব্দটির সাথে ৭মী বিভক্তি এ যোগ হয়ে সুচরিতে হয়েছে, তারপর সুচরিতাসু-র মতো -সু যুক্ত না হয়ে যুক্ত হলো -ষু, আমরা পেলাম সুচরিতেষু।
প্রশ্নটি থেকে গেল: কেন -ষু? এবং কেন নয় -সু? বিষয়টি কি লিঙ্গবৈষম্য?
আমার মনকে বহুদিন ধরে আলোড়নকারী প্রশ্নটির জবাব পেলাম ড. মাহবুবুল হকের বাংলা বানানের নিয়ম (২০১৪) বই থেকে:
“১০.১.৩ …
“সন্ধিবদ্ধ, সমাসবদ্ধ কিংবা উপসর্গজাত শব্দের পরপদে কখনো /স/ এবং কখনো /ষ/ হয়। …
“খ. সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর /ষ/ হয়। যেমন :
কল্যাণবরেষু কল্যাণীয়েষু প্রীতিভাজনেষু প্রিয়বরেষু শ্রদ্ধাস্পদেষু সুচরিতেষু সুহৃদবরেষু কল্যাণীয়বরেষু প্রিয়ভাজনেষু শ্রদ্ধাভাজনেষু বন্ধুবরেষু শ্রীচরণেষু সুজনেষু স্নেহাস্পদেষু
লক্ষণীয় সম্ভাষণসূচক স্ত্রীবাচক শব্দে আ-কারের পর /স/ হয়। যেমন : কল্যাণীয়াসু।”
“১০.২.৩ …
“ঘ. আ-কারের পর স্ত্রীবাচক সম্ভাষণে /সু/ হয়। যেমন : কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজণীয়াসু, মাননীয়াসু, সুপ্রিয়াসু ইত্যাদি। উল্লেখ্য, পুরুষবাচক সম্ভাষণে /ষু/ হয় …।”
বলে রাখি, ব্যাকরণের পুঙ্খানুপুঙ্খ নিয়ম জানার পরও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সুচরিতেষু ও সুচরিতাসু জাতীয় পদের প্রয়োগে শুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আমার এই নিমোনিক (mnemonic) বা মনে রাখার কৌশলটি আপনার কাজে লাগতে পারে:
পুরুষ-এ ষ আছে, মহিলা-য় ষ নাই; সুতরাং পুরুষকে সম্বোধন করতে ষ দিয়ে -ষু লিখব, -সু নয়: সুচরিতেষু;
মহিলা-য় আ-কার আছে, পুরুষ-এ আ-কার নাই; সুতরাং মহিলাকে সম্বোধন করতে আ-কারসহ -তা- লিখব, -তে- নয়: সুচরিতাসু।
সুচরিতাসু ও সুচরিতেষু, ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে, আপনাদের মনোযোগের জন্য!
 
 
 
 
 
কত কিছু জানি না
তারিখবাচক শব্দ লিখতে গিয়ে বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৪) ঘেঁটে সদ্য আবিষ্কার করলাম এবং অবাক হলাম: ছয়ই শ্রাবণের ‘ছয়ই’ অপ্রমিত, প্রমিত হলো ছউই; আবার, নয়ই শ্রাবণের ‘নয়ই’ অশুদ্ধ, প্রকৃতপক্ষে নয়ই বলতে কোনো শব্দই নেই; আছে প্রমিত নঅই, আর
অপ্রমিত নউই।
কত কিছুই জানি না!
 
রুক্মিণী
আপনি কীভাবে রুক্মিণী উচ্চারণ করেন?
আমি করি রুক্‌কিঁনি।
বাংলা একাডেমির দুই সূত্রে দুই রকম উচ্চারণ দেখে আমি আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি!
বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৪) পৃষ্ঠা-১০৩৫ ভুক্তি রুক্মিণী বলছে :
“রুক্মিণী [রুক্‌মিনি] বি বিদর্ভরাজ ভীষ্মকের কন্যা ও কৃষ্ণের প্রধান পত্নী। {স. রুক্ম+ইন্‌(ইনি)+ঈ(ঙীপ্)}”
আর বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান (২০১২)পৃষ্ঠা-৪১০ ভুক্তি রুক্মিণী বলছে :
“রুক্মিণী (দ্বারকাপতি কৃষ্ণের মহিষী বা পত্নী) রুক্‌কিঁনি”।
আমি আশা করব, বাংলা একাডেমি তার সকল বক্তব্যে সর্বত্র ও সর্বদা সংগতি রক্ষা করবে।
কোথাও হাল-নাগাদ বা সংশোধন করার কারণে অসংগতির আশঙ্কা থাকলে, তা এড়ানোর জন্য বাংলা একাডেমি এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এবং বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির কপি রাখবে।
আমরা আমাদের সংশয় দূর করার জন্য বাংলা একাডেমির দ্বারস্থ হই; সেই বাংলা একাডেমিই যদি একই বিষয়ে দুই যায়গায় দুই নীতি অনুসরণ করে আমাদেরকে ধাঁধায় ফেলে, তাহলে আমরা যাই কোথায়!
ধন্যবাদ!
 
 
 
 
 
 
 
প্রিয় শুবাচি,
বলুন দেখি, বাংলা ব্যাকরণে কখন ইংরেজি শব্দ third-এর বাংলা হয় ‘প্রথম’, আর ইংরেজি শব্দ first-এর বাংলা হয় ‘উত্তম’?
[এ ধাঁধাটির জন্ম আজকে (১৭ এপ্রিল ২০১৪) শুবাচের আসরে, Mirza Bayezid Ahmed-এর সাথে আমার কথোককথনের মধ্য দিয়ে।
তবে শুবাচের কৌতূহলী পাঠক, যিনি কোন ইঙ্গিত ছাড়াই এই ধাঁধাটির জবাব বের করতে মাথা ঘামাতে চান, যদি আদৌ চান এবং ইতোমধ্যে জবাব না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আপাতত নীচে নামবেন না!
………………………………………………………………………………………………………
Mirza Bayazid Ahmed জনৈক ইংরেজি-শিক্ষক ক্লাসে ( সনাতন,ঐতিহ্যবাহী, শ্রেণিকক্ষে একনায়কতান্ত্রিক টিচার মেথড পদ্ধতিতে!) ইংরেজি পড়াচ্ছেনঃ “বলতো বাবা গণেশ( ক্লাসের সবচে’ ভাল ছেলে কি না!),
‘আবুল স্কুল-এ যায়’-এর ইংরেজি কী?”
গণেশ-এর দম্ভোক্তি,”(স্যার) আবুল গো টু ইশস্কুল।”
শিক্ষকঃ (অগ্নিমূর্তি হয়ে), “ধ্যাত!!! ব্যাটা গবেট [প্রচলিত আইনের (!) সুসষ্পষ্ট লঙ্ঘণ, যেখানে সময়োচিত গোষ্ঠীর আব্বাজান বলা-ই শ্রেয়], এতোদিনে এইসব কী শিখেছ! ” —আমি কী বলি নি, ‘প্রেজেন্ট ইন্ডেফিনিট টেন্স’-এর সেন্টেন্স-এ সাবজেক্ট থার্ড-পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার থাকলে ‘মূল-ভার্ব’এর প্রেজেন্ট ফর্মের সাথে ‘এস’ বা ‘ইএস’ যোগ করতে হয়। সো একর্ডিং টু দিস্ রুল, আবুল গউস টু ইস্কুল। ইউ সুড নেভার ডু এনি ভুল। আন্ডার-ই-স্ট্যান্ড???? “
পাঠ কার্যক্রম শেষে, সুবোধ-শিক্ষার্থী বাবা গণেশের উপচে পড়া কৌতুহলের কৌতুকাবহ জিজ্ঞাসা,
“এস’ বা ‘ইএস’ যোগ না কল্লে আবুল কি আর ইশকুল-অ যাইতা হার্ত না,স্যার???????”
[ শেষ উদ্ধৃতিটা(প্রমিতরূপ:’এস’ বা ‘ইএস’ যোগ না করলে আবুল কি আর স্কুলে যেতে পারবে না,স্যার?) নেত্রকোনার আঞ্চলিক উপভাষা না কি! (*_*)!]!
পরিশেষে:
‘গ্রামার-কীট’এর উপদ্রবে
‘গ্রামার-কিট’এ অবরুদ্ধ গণেশের বোল
‘গণেশ নেভার গোগউস(!) টু ইশকুল।’
বস্তুত: গ্রামার’র যাঁতাকলে পিষ্ট হবার ভয়ে অনেক গণেশ-ই ভেনিশ হয়ে যায় ইস্কুলের আঙিনা থেকে।
@
উৎসর্গ-
khurshed Ahmed স্যারকে—
যাঁর উদারতা আমার মতো ‘শুবাচ’ শিশুকে, এখনো তারকা মেলার পথ দেখায়।
Khurshed Ahmed বলুন দেখি, Mirza Bayazid Ahmed, বাংলা ব্যাকরণে কখন ইংরেজি শব্দ third-এর বাংলা হয় ‘প্রথম’, আর ইংরেজি শব্দ first-এর বাংলা হয় ‘উত্তম’? [আমাকে উৎসর্গ-করা আপনার মন্তব্য পড়ে প্রশ্নটি আমার মনে তাৎক্ষণিকভাবে উদিত হলো এবং আপনাকে জানাবার ইচ্ছে হলো, Mirza Bayezid Ahmed!
Mirza Bayazid Ahmed এ-তো কঠিন প্রশ্ন আমায় কেনো স্যার! ‘শিশুজনে গুরুখাদ্য,বদহজম অবিসম্ভাব্য! আমার অনুর্বর মস্তিষ্কে ধরছে না। উত্তরটা একটু বলবেন? @খুরশেদ আহমেদ স্যার
Khurshed Ahmed আপনার গল্পে ব্যাকরণের “‘প্রেজেন্ট ইন্ডেফিনিট টেন্স’-এর সেন্টেন্স-এ সাবজেক্ট থার্ড-পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার থাকলে ‘মূল-ভার্ব’এর প্রেজেন্ট ফর্মের সাথে ‘এস’ বা ‘ইএস’ যোগ করতে হয়।” – এই নিয়মটি যেহেতু আমার মনে প্রশ্নটির উদ্রেক করেছে, এই নিয়মের শব্দগুলোর মধ্যেই পাওয়া যাবে প্রশ্নটির উত্তরের চাবি, Mirza Bayazid Ahmed! বিষয়টি আমাকে আমোদিত করেছে, আমি সেই আমোদটুকু আপনার সাথে শেয়ার করছি মাত্র!
Mirza Bayazid Ahmed স্যার@ আপনি কি বাংলা ব্যাকরণের (মহা) পুরুষের ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
Khurshed Ahmed আপনি ঠিক পথেই এগুচ্ছেন, Mirza Bayazid Ahmed!
Khurshed Ahmed প্রশ্নটি এখন আমরা সবার কাছে রাখতে পারি, কী বলেন, Mirza Bayazid Ahmed!
Mirza Bayazid Ahmed চমৎকার! অবশ্যই করা যেতে পারে।তবে,আমি দিব্যি দিলাম,আমার মুখ খুলে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গতে যাব না।]
 
 
 
বাংলাভাষার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বজনীন বাঙালির অনলাইন অংশগ্রহণের অমিত সম্ভাবনা
বাংলাভাষা বাঙালির মহানতম জাতীয় সম্পদ।
বিশ্বজোড়া অগুনতি বাঙালি তাদের প্রাণের এই ভাষাটিকে আরও ঋদ্ধ করার জন্য তাদের জীবনলব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে উৎসাহী ও প্রস্তুত বলে আমি মনে করি!
বাংলা একাডেমি শুধু একটা ডাক দিয়ে দেখুক, অনলাইন, দেখা যাবে কী পরম আগ্রহ নিয়ে বাঙালি অংশ নিচ্ছে ভাষা উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে, হোক সেটা একটা শব্দের বানান নিয়ে বিতর্ক, আঞ্চলিক গান কবিতা লোকগীতি লোককাহিনী সংগ্রহ, বাগ্‌ধারা প্রবাদ প্রবচন সংগ্রহ, ধাঁধা ঠাট্টাতামাশা (jokes) সংগ্রহ, আঞ্চলিক ভাষার শব্দ মাছ পাখি ফুল লতা বৃক্ষাদির নাম এমনকি গালি সংগ্রহ, অথবা, সাধারণভাবে, বাঙালির সংস্কৃতি ও প্রতিবেশের যে কোন কিছু নিয়ে তথ্য ও মতামত সংগ্রহ!
দেশের ভিতরে বাইরে নির্বিশেষে, কম্পিউটার-সাক্ষর অসংখ্য বাঙালি এ ধরনের প্রজেক্টে পরম উৎসাহ নিয়ে অংশ নিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
শুবাচের মঞ্চে বিপুলসংখ্যক শুবাচ-সদস্যের নিয়মিত উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এ সম্ভাবনারই একটি প্রত্যক্ষ ও বাস্তব লক্ষণ!
প্রয়োজন উদ্যোগের।
বাংলা একাডেমি কবে সেই ডাকটি দিবে?
 
হালনাগাদ-করা বাংলা শব্দভান্ডার চাই!
বাংলা ভাষায় প্রতিনিয়ত নতুন শব্দ একদিকে এই ভাষার ভেতর থেকে তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে ঢুকছে। এগুলো সামাল দেওয়া, একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা বাংলার অভিভাবকদের, বাংলা একাডেমির, অভিধান প্রণেতাদের কাজ।
আমি দেখি, বিভিন্ন ভাষার অভিভাবকেরা প্রতি বছর সদ্য-স্বীকৃত ও -আত্তীকৃত নতুন শব্দের তালিকা প্রকাশ করেন। Oxford English Dictionary প্রতি বছর তাদের শব্দভাণ্ডার চারবার হালনাগাদ করে। ২০১৪-র মার্চে তাদের অভিধানে নয়শোরও বেশি শব্দ, পদবন্ধ (phrases) ও অর্থ (sense) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাদের পরবর্তী আপডেট আসছে এই জুন ২০১৪-তে। [সংযুক্ত লিংক দেখুন।]
সে তুলনায় আমাদের বাংলা প্রায়-অভিভাবকহীন, যেন খোলা রাস্তায় রোদ-বৃষ্টি-শীত-বসন্তে আপন শক্তিতে টিকে-থাকা টোকাই!
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান আমার কাছে আছে। অভিধানটির প্রথম প্রকাশ : স্বরবর্ণ অংশ─১৯৭৪, ব্যঞ্জনবর্ণ অংশ─১৯৮৪। [লক্ষ করুন, মাঝখানে ১০ বছর।] দ্বিতীয় সংস্করণ : ১৯৯২। [মাঝখানে ৮ বছর।] পরবর্তী সংস্করণ─যাকে বাংলা একাডেমি তৃতীয় সংস্করণ বলা থেকে সংগত কারণেই বিরত থেকেছে, বলেছে পরিমার্জিত সংস্করণ─এর প্রকাশ: ২০০০। [মাঝখানে আবার ৮ বছর।] এই পরিমার্জিত সংস্করণেরই সপ্তদশ পুনর্মুদ্রণ : ২০১৪। অর্থাৎ ১৯৭৪ থেকে ২০১৪─এই ৪০ বছরে─আমরা পেয়েছি এই অভিধানটির দুটি সংস্করণ এবং একটি পরিমার্জিত সংস্করণ। তৃতীয় সংস্করণ কবে বের হবে আমরা কেউ জানি না।
ভাষা নিয়ে আমাদের─আপামর মানুষের─দরদ ও ভূমিকা ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ হয়ে আজও প্রশ্নাতীত; বাংলার অভিভাবকদের ভূমিকা এই একটি অভিধানের প্রকাশনার ইতিহাসের মধ্য দিয়ে বিবৃত।
বাংলার অভিভাবকদের আমি গতিশীল দেখতে চাই! মুদ্রিত না হোক, অনলাইন আপডেট চাই বাংলা শব্দভাণ্ডারের─বছরে অন্তত এক বার! শব্দসংক্রান্ত অনলাইন অন্তর্বতীকালীন বিজ্ঞপ্তি থাকতে পারে অনেক বার এবং যখনই দরকার।
এ কাজের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করে ও লোকবল নিয়োগের অনুমতি দিয়ে আপামর মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি করবেন বলে আশা করি। সরকারের সক্রিয় (proactive) উদ্যোগ না থাকলে বাংলা অভিধানের আগামি ৪০ বছরের ইতিহাস গত ৪০ বছরের ইতিহাস থেকে খুব বেশি উন্নততর হবে বলে মনে করার কোনো কারণ দেখি না।
 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণের প্রথম লেখক
আমার মনে হয়, বাংলাভাষার ব্যাকরণ বাংলাভাষীরা লিখেননি, বাংলা যাঁদের মাতৃভাষা তারা লিখেননি; লিখেছেন ভিনদেশিরা, বা ভিনভাষার পণ্ডিতরা যাঁরা তাঁদের ভাষার নিয়মাবলির কাঠামোতে বাংলার প্রমিত লিখিত রূপ দাঁড় করিয়ে রেখে গেছেন।
২১ ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সৃষ্টির বৈশ্বিক গৌরব আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু ওই বিদেশিদের বানানো বাংলা ব্যাকরণের প্রাণহীন ও বাস্তবতার-সাথে-সম্পর্কহীন শাসন-ত্রাসন থেকে আমরা এখনও মুক্ত হতে পারিনি, এখনও আমাদের গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে আছে বাংলা ব্যাকরণ নামের শ্বাসরুদ্ধকর স্ট্রেইটজ্যাকেট।
আমরা আমাদের পদ্মাকে পদ্দা নামে ডাকলেও পদ্দা লিখতে পারিনা, আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে আকাংখা লিখা যাবে না, আকাংখার গলায় মূর্ধন্য-ষ-এর ফাঁস পেঁচিয়ে লিখতে হবে আ-কা-ঙ্-ক্-ষা যদিও উচ্চারণ করব আ-কাং-খা!
আমি এখন অপেক্ষা করছি সেই সাহসী বাংলাভাষী ভাষাবিদের যে অন্ধভাবে মানবে না আর বাংলা ব্যাকরণের উপর বিদেশি ভাষার ব্যাকরণের চলমান ঔপনিবেশিকতা, বরং যে দ্রুত আনবে প্রমিত মুখের ভাষা আর প্রমিত লিখিত ভাষার মধ্যে ধ্বনিগত ও বানানগত অভিন্নতা।
শুবাচ কেবল পুথিগত শুদ্ধ বানান চর্চার মধ্যেই আটকে থাকতে পারে না।
আজকের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও দাবির সাথে সাযুজ্য রেখে আমাদের মুখের ভাষার প্রমিত উচ্চারণের সহজতম বানানটি শুদ্ধ বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শুবাচের দর্শন ও কর্মযজ্ঞকে ঢেলে সাজানো জরুরি বলে মনে করি।
 
 
 
কোনটি বা কোনগুলি শুদ্ধ?
প্রশ্ন-১
ক) ফরমালিন ও ভেজাল মুক্ত
খ) ফরমালিন ও ভেজালমুক্ত
গ) ফরমালিন ও ভেজাল-মুক্ত
ঘ) ফরমালিন- ও ভেজাল- মুক্ত
ঙ) ফরমালিন ও ভেজাল -মুক্ত
প্রশ্ন-২
ক) কাঁচা বাজার
খ) কাঁচাবাজার
গ) কাঁচা-বাজার
প্রশ্ন-৩
ক) শুভ উদ্ধোধন
খ) শুভ উদ্বোধন
প্রশ্ন-৪
ক) ষ্টেশন সদর দপ্তর, ঢাকা
খ) স্টেশন সদর দপ্তর, ঢাকা
গ) স্টেশন সদরদপ্তর, ঢাকা
(সংযুক্ত ছবিটি আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ বিকেলে আমি অকুস্থল থেকে তুলেছি। স্পষ্টতঃই উদ্বোধনের ঘোষণাটি বাজারটির সামনে সদর রাস্তা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ২৫ অক্টোবর ২০১১ থেকে। বলা বাহুল্য, ওখানে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ‘কাকতাড়ুয়া’-দের অভাব দারুণভাবে অনুভব করছিলাম!)
 
 
 
প্রত্যয়ন প্রত্যায়ন
এক সময়ে এক সরকারি কর্মকর্তা ‘দলিল-দস্তাবেজ প্রত্যয়ন করিবার ক্ষমতা’ কথাটির ‘প্রত্যয়ন’-কে এডিট করে ‘প্রত্যায়ন’ করেছিলেন। সেই থেকে আমি নিশ্চিত হতে চাইছি এই কাজে কোন শব্দ বা বানানটি ঠিক, কিন্তু এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি শুবাচের সাহায্যপ্রার্থী!
আমার সমস্যাটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কিছু রেফারেন্স:
১। ‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ (২০০০) অনুযায়ী:
ক) প্রত্যয়ন – বি. প্রত্যয় করণ; প্রত্যয়িত করা।
খ) প্রত্যায়ন – বি. বিশ্বাস বা প্রত্যয় উৎপাদন; attestation।
২। সংসদ বাংলা অভিধান (২০১১) অনুযায়ী:
ক) প্রত্যয়ন – বি. প্রতিপন্নকরণ; প্রতিষ্ঠা করা, (প্রমাণ হিসাবে) দাঁড় করানো। প্রত্যয়িত – বিণ. যার দ্বারা প্রত্যয়ন বা বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, দায়িত্বশীল ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরযুক্ত, attested. প্রত্যয়িত-নকল – attested copy.
খ) প্রত্যায়ন – বি. ১ বিশ্বাস উৎপাদন, প্রত্যয় উৎপাদন; ২ সূচনা, উদ্বোধন।
৩। SAMSAD ENGLISH-BENGALI DICTIONARY (২০০০) অনুযায়ী:
attest – …(পরি.) প্রত্যায়ন বা তসদিক করা;…attestation – প্রত্যায়ন; স্বাক্ষ্য।
৪। বাংলা লেখার নিয়মকানুন (২০১১), হায়াৎ মামুদ, পৃষ্ঠা-১৭০ অনুযায়ী:
ক) অশুদ্ধ বা বর্জনীয় – প্রত্যয়ণ/প্রত্যায়ন; শুদ্ধ – প্রত্যয়ন।
খ) অশুদ্ধ বা বর্জনীয় – প্রত্যয়ন পত্র; শুদ্ধ – প্রত্যয়নপত্র/প্রত্যয়ন-পত্র।
গ) অশুদ্ধ বা বর্জনীয় – প্রত্যায়িত; শুদ্ধ – প্রত্যয়িত (কিন্তু সত্যায়িত)।
 
 
 
পূর্বাহ্ণে জানিনি, ওটা ছিল অহ্নের
পূর্বাহ্ণে জানিনি, ওটা ছিল অহ্নের (অথবা সংস্কৃত অহনের?) দন্ত্য-ন, হ-এর পিঠ থেকে নিচে নেমে হয়েছে মূর্ধন্য-ণ; এখন সায়াহ্নে পৌঁছে জানলাম, এখানে র নেই বলে পিঠেই সমাসীন দন্ত্য-ন !
র-এর পর ব+হ+ন বা হ+ন আছে, তাই: পূর্বাহ্ণ ও অপরাহ্ণ; র নেই, এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তাই: মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন।
ণত্ব বিধানের রক্তচক্ষু !
আমার স্কুলজীবনে অহ্নের এই চারটি বানান অন্ধভাবে আয়ত্ত রাখার চেষ্টায় আমার যারপরনাই কষ্ট হয়েছে।
আমি নিশ্চিত, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও একই যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন।
কি ক্ষতি ছিল, বা কি ক্ষতি হয়, বাংলার ও বাঙালির, যদি লিখতাম বা লিখি: পূর্বাহ্ন, মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ন, সায়াহ্ন?
আমি পূর্বাহ্ন ও অপরাহ্ন লিখলে আপনি কি সংস্কৃত পণ্ডিতের পূর্বাহ্ণ ও অপরাহ্ণকেই বোঝেন না? এখানে কি অর্থ-বিভ্রান্তির বিন্দুমাত্র অবকাশ আছে?
শুদ্ধ বানান আন্দোলনের পাশাপাশি, আসুন, আমরা দ্ব্যর্থতার অবকাশহীন সহজ বানানের আন্দোলনও করি !
 
 
বিভ্রান্তির আশংকা না থাকলে
বিভ্রান্তির আশংকা না থাকলে সহজতম বানানটি হোক প্রমিত বানান, যেমন ‘আশঙ্কা’র পরিবর্তে ‘আশংকা’ ! আমার আকাংখাটি যদি সহজতম ভাষায় সহজতম বানানে আপনাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে বোঝাতে পেরে থাকি, তাহলে সংস্কৃত বা বাংলা ব্যাকরণের নিগড়ে কেন আমাকে শৃংখলিত থাকতে হবে?
আমার কাছে ‘আকাঙ্ক্ষা’ বা ‘আকাঙ্খা’র চেয়ে ‘আকাংখা’ বানান সহজতর; তিনটি বানানে তিনটি শব্দ একই ধ্বনি প্রকাশ করে এবং তিনটিই শব্দ হিসেবে অভিন্ন (identical)।
আমি বাংলার অভিভাবকদের কাছে এই স্বীকৃতি চাই যে, ‘শৃংখলিত’ বানান ‘শৃঙ্খলিত’ বানানের সাথে সমভাবে গ্রহণযোগ্য, শৃংখলিত=শৃঙ্খলিত ! বাংলার মানুষের মুখের ভাষাকে মুক্তি দিন, স্বীকৃতি দিন ! (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)
 
 
নিক্বণ’? না কি ‘নিক্কণ’? বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে (২০০০) ‘নিক্বণ’, বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে (২০১০) ‘নিক্কণ’। কি বিপদ, কাকে অনুসরণ করব?
সম্পাদনার সুযোগ নিয়ে আমার আরেকটু সমস্যা যোগ করি: হায়াৎ মামুদের ‘বাংলা লেখার নিয়মকানুন’ (২০১১) বইয়ের ৯ পৃষ্ঠায় লিখা আছে ‘নিক্বণ’, একই বইয়ের ৪২ পৃষ্ঠায় ‘নিক্কণ’ !
একটা শব্দ নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকতেই পারে।
কিন্তু আমাদের আলোচ্য একটি শব্দের বানান একই মুনি হায়াৎ মামুদ যদি দুভাবে উপস্থাপন করে থাকেন, তাহলে সেই ভিত্তিতে আমরা কি এটা বলতে পারি যে দুটো বানানই সিদ্ধ, অর্থাৎ, ‘নিক্বণ’=’নিক্কণ’? ( ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪) 

 

 
 
 
খুরশেদ আহমেদের লেখা
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
error: Content is protected !!